ফোরাত নদীর স্বর্ণের পাহাড়: নদী শুকিয়ে যাওয়া ও সহীহ ভবিষ্যদ্বাণী
তুরস্ক ও সিরিয়ার বাঁধ, উপগ্রহ চিত্রে ফোরাতের পানি হ্রাস এবং সহীহ বুখারী ও মুসলিমের সেই কঠোর সতর্কতা: ‘যে সেখানে উপস্থিত হবে সে যেন তার কিছুই গ্রহণ না করে।’
ফোরাত নদী শুকিয়ে যাওয়া এবং তার নিচে স্বর্ণের খনি বা পাহাড় উন্মোচিত হওয়া কিয়ামতের অন্যতম স্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, সেই সম্পদের লোভে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বাঁধবে যেখানে প্রতি ১০০ জনে ৯৯ জন নিহত হবে। সমসাময়িক খরা ও আধুনিক বাঁধ নির্মাণের বাস্তবতায় এই হাদিসের গভীর শিক্ষা বিশ্লেষণ।
সহীহ বুখারী (৭১১৯) এবং সহীহ মুসলিমে (২৮৯৪) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন:
> ‘কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ফোরাত নদী শুকিয়ে স্বর্ণের একটি পাহাড় উন্মোচিত করবে। মানুষ তা নিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হবে এবং প্রতি একশ জনের মধ্যে নিরানব্বই জন নিহত হবে। তাদের প্রত্যেকে বলবে: হয়তো আমিই একমাত্র বেঁচে যাব!’
সহীহ মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় নবীজি ﷺ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:
> ‘যে ব্যক্তি সেই সময় উপস্থিত থাকবে, সে যেন তার থেকে কোনো কিছুই গ্রহণ না করে।’
মুহাদ্দিসগণ ব্যাখ্যা করেছেন, নবীজির ﷺ এই নিষেধের পেছনে দুটি বড় হেকমত রয়েছে:
- চরম লোভ ও ধ্বংস থেকে বেঁচে থাকা: মানুষ যখন দেখবে অফুরন্ত স্বর্ণ, তখন সে ভাববে একটু নিলেই ধনী হয়ে যাব। কিন্তু সেই সম্পদের আকর্ষণই তাকে প্রাণঘাতী যুদ্ধের ময়দানে টেনে নেবে।
- মুমিনের আত্মনিয়ন্ত্রণ: সত্যিকারের মুমিন পার্থিব সম্পদের লোভে কখনো রক্তক্ষয়ী ফিতনায় জড়ায় না। লোভ সংবরণ করাই এখানে ঈমানের পরম পরীক্ষা।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও সরাসরি উত্তর
তরুণদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও সহীহ দলীলভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তর
ফোরাত নদী শুকিয়ে যাওয়া কি কিয়ামতের আলামত?
হ্যাঁ। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের সুস্পষ্ট হাদিস অনুযায়ী ফোরাত নদী শুকিয়ে স্বর্ণের পাহাড় বের হওয়া কিয়ামতের অন্যতম নিশ্চিত আলামত।
স্বর্ণের পাহাড় উন্মোচিত হলে সাধারণ মানুষের কী করা উচিত?
নবীজি ﷺ দ্ব্যর্থহীনভাবে আদেশ দিয়েছেন সেই স্বর্ণ থেকে কোনো কিছুই যেন গ্রহণ করা না হয় এবং ওই ফিতনা থেকে দূরে থাকা হয়।
কোনো ভুল চোখে পড়েছে?
হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।