আল ফিতান

এগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন

অনুসন্ধান ও ভূ-রাজনীতিড্রাফট, এখনো রিভিউ হয়নি

৫টি লাল গরু ও থার্ড টেম্পল: মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা

তোরাহর ৩,০০০ বছরের পুরোনো পবিত্রকরণ বিধানে কেন দুটি সাদা লোমও থাকা চলবে না, কীভাবে টেক্সাস থেকে বিশেষ বিমানে ৫টি লাল বকনা গরু তেল আবিবে আনা হলো, আর রাব্বিদের ম্যাগনিফাইং গ্লাসের নিচে শেষ পর্যন্ত কী ধরা পড়ল?

মূল প্রশ্নথার্ড টেম্পল পন্থীদের কেন একটি নিখুঁত লাল বকনা গরুর ছাই এত জরুরি, আর টেক্সাস থেকে আনা সেই ৫টি গরুর বর্তমান অবস্থাই বা কী?

এক নজরে সারসংক্ষেপ

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এক খামার থেকে ৫টি লাল রঙের বকনা গরু এসে নামে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে। সাধারণ মানুষের চোখে এটি নিছক পশু আমদানি মনে হলেও, ‘টেম্পল মাউন্ট’ অ্যাক্টিভিস্টদের কাছে এই ৫টি গরু ছিল ২,০০০ বছরের এক ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা খোলার চাবি!

পর্ব ১ · ২,০০০ বছরের আইনি গেরো

রাব্বিরা কেন আল-আকসা চত্বরে পা রাখতে নিষেধ করেন, আর কোন একটিমাত্র রীতি সেই নিষেধাজ্ঞা খুলতে পারে?

টেক্সাসের পাঁচটি গরু কেন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার ব্রেকিং নিউজে পরিণত হলো, তা বুঝতে হলে আপনাকে প্রথমে ইহুদি ধর্মীয় আইনের (হালাখা) ২,০০০ বছরের পুরোনো একটি জটিল গেরো বুঝতে হবে।

তোরাহর ‘বুক অব নাম্বারস’ (১৯ নম্বর অধ্যায়) অনুযায়ী, কোনো মানুষ যদি কখনো মৃতদেহ স্পর্শ করে, কবরের পাশ দিয়ে হাঁটে বা মৃতদেহ আছে এমন ছাদের নিচেও দাঁড়ায়, তবে তার ওপর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অপবিত্রতা আরোপিত হয়, যাকে হিব্রুতে বলা হয় ‘তামে মেত’ (Tamei Met)। ৭০ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় মন্দির ধ্বংস হওয়ার পর থেকে আজ পৃথিবীর প্রতিটি ইহুদিই এই অপবিত্র অবস্থায় রয়েছে বলে গণ্য হয়! আর এই অপবিত্র অবস্থায় পবিত্র চত্বরে প্রবেশ করার শাস্তি তাদের আইনে ভয়াবহ (কারেৎ)।

কিন্তু এই অপবিত্রতা দূর করার উপায় কী? সাধারণ পানি দিয়ে অজু বা গোসল করলে এটি দূর হয় না! তোরাহতে এর জন্য পুরো পৃথিবীতে মাত্র একটিই সমাধান বলা আছে: সম্পূর্ণ নিখুঁত ও দাগহীন একটি লাল বকনা গরু (Parah Adumah) পুড়িয়ে তার ছাই ঝরনার প্রবহমান পানির সাথে মিশিয়ে ছিটিয়ে দেওয়া! ইহুদি ধর্মগ্রন্থ মিশনাহ (Parah 3:5) অনুযায়ী, মূসা (আ.)-এর যুগ থেকে শুরু করে ৭০ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় মন্দির ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত হাজার বছরের ইতিহাসে মাত্র ৯টি লাল গরু এভাবে উৎসর্গ করা হয়েছিল। আর মধ্যযুগের বিখ্যাত রাব্বি মাইমনিদেস (রামবাম) লিখে গেছেন যে ১০ম লাল গরুটির ছাই প্রস্তুত করা হবে মসীহের যুগে!

যুগ / সংখ্যাদায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান পুরোহিতঐতিহাসিক তাৎপর্য
১ম গাভীহযরত মূসা ও পুরোহিত ইলিয়াজারমরুভূমির তাবুর যুগ; যার ছাই সুলাইমানের প্রথম মন্দিরের যুগ পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়।
২য় গাভীনবী ইযরা (হযরত উযাইর)ব্যাবিলনীয় বন্দিদশা থেকে ফিরে দ্বিতীয় মন্দির প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে তৈরি।
৩য় থেকে ৯ম গাভীদ্বিতীয় মন্দিরের প্রধান পুরোহিতগণ (সায়মন দ্য জাস্ট, ইয়োহানান)৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান ধ্বংসযজ্ঞের পূর্ব পর্যন্ত ৪২০ বছরে ক্রমান্বয়ে প্রস্তুত।
১০ম গাভীমসীহ বাদশাহ (মায়মোনাইডসের ভবিষ্যদ্বাণী)মায়মোনাইডস লিখেছেন: 'দশম গাভীটি মসীহ বাদশাহ প্রস্তুত করবেন; তিনি যেন দ্রুত আবির্ভূত হন।'

সূত্র: মিশনা পারা ৩:৫; মায়মোনাইডস, মিশনেহ তাওরাত, হিলখত পারা আদুমা ৩:৪।

টেম্পল মাউন্টে প্রবেশের ওপর ঐতিহাসিক রব্বানীয় নিষেধাজ্ঞা

৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমানদের হাতে দ্বিতীয় মন্দির ধ্বংসের পর প্রাচীন লাল গাভীর ছাই বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে গোঁড়া ইহুদি আইন অনুযায়ী বর্তমান বিশ্বের সকল মানুষ জন্মগতভাবেই মৃতদেহের অপবিত্রতায় (তূমাই মেত) আক্রান্ত। এই কারণেই ইসরায়েলের প্রধান রাব্বানীয় পরিষদ (Chief Rabbinate) টেম্পল মাউন্টের প্রবেশপথে সতর্কবার্তা ঝুলিয়ে রেখেছে: 'তাওরাতের বিধান মতে এই পবিত্র চত্বরে প্রবেশ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।' লাল গাভীর ছাই তৈরি হওয়া মাত্রই এই শতবর্ষী ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা রাতারাতি ভেঙে পড়বে।

পর্ব ২ · ‘২টি লোমের’ কঠিন শর্ত

মাত্র দুটি সাদা লোম বা কানের একটি ছিদ্র থাকলেই কেন গরুটি বাতিল হয়ে যায়?

হাজার বছরে মাত্র ৯টি গরু কেন এই শর্ত পূরণ করতে পেরেছিল? কারণ মিশনাহর ‘পারাহ’ অধ্যায়ে এই গরুটির জন্য যে শর্তগুলোর তালিকা দেওয়া আছে, তা প্রকৃতিতে পাওয়া প্রায় অসম্ভব:

  • দুটি লোমের কঠিন শর্ত (The Two-Hair Rule): গরুটির চোখের পাপড়ি, নাক ও কান থেকে শুরু করে লেজের ডগা পর্যন্ত প্রতিটি পশম হতে হবে প্রাকৃতিক লাল রঙের। রাব্বিরা ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে পরীক্ষা করার সময় যদি গায়ে মাত্র দুটি সাদা বা কালো লোমও পাশাপাশি খুঁজে পান, তবে সাথে সাথে গরুটি বাতিল বলে গণ্য হবে!
  • কখনো জোয়াল বা বোঝা চাপানো যাবে না: জন্মের পর থেকে গরুটির পিঠে কখনো কোনো দড়ি, জিন বা ভারী কাপড়ও রাখা যাবে না এবং তাকে দিয়ে এক মুহূর্তের জন্যও কোনো কাজ করানো যাবে না।
  • কানে কোনো ট্যাগ বা ক্ষত থাকা চলবে না: আধুনিক খামারগুলোতে জন্মের পরই গরুর কানে ছিদ্র করে প্লাস্টিকের আইডি ট্যাগ পরানো হয়। কিন্তু কানে সামান্য ছিদ্র বা ক্ষুরে আঁচড় থাকলেও সেই গরু লাল গরু হিসেবে চিরতরে অযোগ্য হয়ে যায়!
Red Angus Heifer
রেড অ্যাঙ্গাস বকনা গরু: রাব্বিনিক শর্ত অনুযায়ী পুরো শরীরে একরঙা লালচে-বাদামি লোম থাকতে হয়।

সবচেয়ে চমৎকার বিষয় হলো, কুরআনুল কারীমের সবচেয়ে বড় সূরাটির নামই হলো ‘সূরা আল-বাকারাহ’ (গাভীর সূরা)! সেখানে (আয়াত ৬৭-৭১) আল্লাহ তাআলা তুলে ধরেছেন কীভাবে বনী ইসরাঈল একটি সাধারণ গরু জবাই করার সহজ নির্দেশকে বারবার প্রশ্ন করে করে তার বয়স, রঙ ও নিখুঁত হওয়ার এক কঠিন শর্তের জালে পরিণত করেছিল:

আল-বাকারাসূরা ২ · আয়াত ৬৭–৭১سورة البقرة
  1. وَإِذۡ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوۡمِهِۦٓ إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُكُمۡ أَن تَذۡبَحُواْ بَقَرَةࣰۖ قَالُوٓاْ أَتَتَّخِذُنَا هُزُوࣰ اۖ قَالَ أَعُوذُ بِٱللَّهِ أَنۡ أَكُونَ مِنَ ٱلۡجَٰهِلِينَ۝٦٧

    ৬৭. আর স্মরন কর, যখন মূসা তার জাতিকে বললেন, ‘আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে একটি গাভী যবেহ করার আদেশ দিয়েছেন’ , তারা বলল, ‘তুমি কি আমাদের সঙ্গে ঠাট্টা করছো ?’ মূসা বললেন, ‘আমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আল্লাহ্‌র আশ্রয় চাই’।

  2. قَالُواْ ٱدۡعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِيَۚ قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةࣱ لَّا فَارِضࣱ وَلَا بِكۡرٌ عَوَانُۢ بَيۡنَ ذَٰلِكَۖ فَٱفۡعَلُواْ مَا تُؤۡمَرُونَ۝٦٨

    ৬৮. তারা বলল, ‘আমাদের জন্য তোমার রবকে আহ্বান কর তিনি যেন আমাদেরকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সেটা কিরুপ ?’ মূসা বললেন, ‘আল্লাহ্‌ বলছেন, সেটা এমন গাভী যা বৃদ্ধও নয়, অল্পবয়স্কও নয়, মধ্যবয়সী। অতএব, তোমাদেরকে যে আদেশ করা হয়েছে তা পালন কর’।

  3. قَالُواْ ٱدۡعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا لَوۡنُهَاۚ قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةࣱ صَفۡرَآءُ فَاقِعࣱ لَّوۡنُهَا تَسُرُّ ٱلنَّٰظِرِينَ۝٦٩

    ৬৯. তারা বলল, ‘আমাদে জন্য তোমার রব কে ডাকো, সেটার রঙ কী, তা যেন আমাদেরকে বলে দেন’। মূসা বললেন, তিনি বলেছেন, সেটা হলুদ বর্ণের গাভী, উজ্জ্বল গাঢ় রঙ বিশিষ্ট, যা দর্শকদের আনন্দ দেয়’।

  4. قَالُواْ ٱدۡعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِيَ إِنَّ ٱلۡبَقَرَ تَشَٰبَهَ عَلَيۡنَا وَإِنَّآ إِن شَآءَ ٱللَّهُ لَمُهۡتَدُونَ۝٧٠

    ৭০. তারা বলল, ‘তোমার রবকে আহ্বান করো, তিনি যেন আমাদেরকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, সেটা কোনটি ? নিশ্চয় গাভীটি আমদের জন্য সন্দেহ পূর্ণ হয়ে গেছে। আর আল্লাহ্‌ ইচ্ছে করলে আমরা নিশ্চয় দিশা পাবো’।

  5. قَالَ إِنَّهُۥ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةࣱ لَّا ذَلُولࣱ تُثِيرُ ٱلۡأَرۡضَ وَلَا تَسۡقِي ٱلۡحَرۡثَ مُسَلَّمَةࣱ لَّا شِيَةَ فِيهَاۚ قَالُواْ ٱلۡـَٰٔنَ جِئۡتَ بِٱلۡحَقِّۚ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُواْ يَفۡعَلُونَ۝٧١

    ৭১. মূসা বললেন, ‘তিনি বলেছেন, সেটা এমন এক গাভি যা জমি চাষে ও ক্ষেতে পানি সেচের জন্য ব্যবহৃত হয়নি, সুস্থ ও নিখুঁত’। তারা বলল, ‘এখন তুমি সত্য নিয়ে এসেছ’। অবশেষে তারা সেটাকে যবেহ করলো, যদিও তারা তা করতে প্রস্তুত ছিলো না।

পর্ব ৩ · টেক্সাস থেকে তেল আবিব এয়ারলিফট

আইনের ফাঁক গলে যেভাবে টেক্সাস থেকে ৫টি লাল গরু উড়িয়ে আনা হলো তেল আবিবে

দশকের পর দশক ধরে জেরুজালেমের ‘টেম্পল ইনস্টিটিউট’ এবং ‘বোনেহ ইসরায়েল’ (যার নেতৃত্বে আছেন তযাহি মামো) নামের সংগঠন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের খামারে এমন বাছুর খুঁজে বেড়াচ্ছিল, যার গায়ে দুটি সাদা লোমও নেই এবং যার কানে সরকারি আইডি ট্যাগ পরিয়ে ছিদ্র করা হয়নি।

অবশেষে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টান সংগঠনের সহায়তায় তারা টেক্সাসের এক খামারে ৫টি রেড অ্যাঙ্গাস (Red Angus) জাতের লাল বকনা গরু খুঁজে পায়, যেগুলোর কানে কখনো ট্যাগ লাগানো হয়নি। কিন্তু তখন সামনে আসে এক আইনি বাধা: ইসরায়েলের কৃষি আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাণিজ্যিক গবাদিপশু হিসেবে জীবিত গরু আমদানি করা নিষিদ্ধ ছিল!

তারা কীভাবে এই নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটাল জানেন? আইনের এক অদ্ভুত ফাঁক ব্যবহার করে তারা এই ৫টি গরুকে গবাদিপশুর বদলে ‘পোষা প্রাণী’ (Domestic Pets) হিসেবে নিবন্ধন করায়! অবশেষে ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রায় ৫ লাখ ডলার খরচ করে বিশেষ ফ্লাইটে গরু পাঁচটিকে নিউ ইয়র্ক থেকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে উড়িয়ে আনা হয়।

আটলান্টিক মহাসাগরভূমধ্যসাগরটেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র (রেড অ্যাঙ্গাস খামার)তেল আবিব (সেপ্টেম্বর ২০২২ অবতরণ)
২০২২ সালের ট্রান্স-আটলান্টিক লাল গাভী ফ্লাইট: যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঁচটি টেক্সান রেড অ্যাঙ্গাস বাছুরকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নিয়ে আসার রুট।
তথ্যের তারিখ 2026-10-28
  • টেক্সাস থেকে পাঁচটি রেড অ্যাঙ্গাস বাছুর বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছায় এবং সঙ্গী প্রাণী হিসেবে ছাড়পত্র পায়।

    CBS News & Al Jazeera ↗
  • খ্রিষ্টান জায়নবাদী গোষ্ঠী বোনেহ ইসরায়েল ও বায়রন স্টিনসন এই পশু অনুসন্ধান ও পরিবহনের পুরো খরচ ও সমন্বয় সম্পন্ন করে।

    Religion News Service ↗
  • বাছুরগুলোকে প্রদর্শন ও নিয়মিত তদারকির জন্য ঐতিহাসিক প্রাচীন শাইলোর একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

    The Times of Israel ↗
পর্ব ৪ · জয়তুন পাহাড়ের জমি ও পাথরের পাত্র

গোল্ডেন গেটের মুখোমুখি জয়তুন পাহাড়ের জমি, পাথরের পাত্র এবং সিডার কাঠের প্রস্তুতি

মিশনাহর বিধান অনুযায়ী এই লাল গরু জবাই ও পোড়ানোর অনুষ্ঠানটি কোথায় করতে হয় জানেন? এটি কিন্তু আল-আকসা বা টেম্পল মাউন্টের ভেতরে করা যায় না! বুক অব নাম্বারস (১৯:৩) এবং মিশনাহ পারাহ (৩:৯) অনুযায়ী এটি করতে হয় প্রাচীরের বাইরে ঠিক পূর্ব দিকে কিদরন উপত্যকার ওপারে জয়তুন পাহাড়ের (Mount of Olives) ওপর, এমন একটি নির্দিষ্ট উঁচু স্থানে, যেখান থেকে পুরোহিত সরাসরি পূর্ব ফটক (গোল্ডেন গেট বা বাব আর-রাহমাহ)-এর ওপর দিয়ে মূল চত্বরের দিকে সোজা তাকাতে পারেন।

Mount of Olives Vantage to Golden Gate
জয়তুন পাহাড় (Mount of Olives) থেকে পশ্চিম দিকে গোল্ডেন গেট ও ডোম অব দ্য রকের সরাসরি দৃশ্য।

গরুগুলো টেক্সাস থেকে আনার কয়েক বছর আগেই অ্যাক্টিভিস্ট রাব্বিরা জয়তুন পাহাড়ের ঢালে ঠিক ওই কোণ ও উচ্চতায় একটি ব্যক্তিগত জমি কিনে রাখেন এবং সেখানে অনুষ্ঠানের জন্য সাদা রঙের একটি মঞ্চ বা বেদি প্রস্তুত করেন।

তাদের আরও একটি শর্ত পূরণ করতে হয়েছে: তাদের ধর্মীয় আইনে মাটি, লোহা বা তামার পাত্র অপবিত্র হতে পারে, কিন্তু খোদাই করা নিরেট পাথরের পাত্র (Kelei Even) কখনো অপবিত্র হয় না! তাই জেরুজালেমের কারিগরদের দিয়ে চুনাপাথর কুঁদে বিশেষ পাত্র ও পেয়ালা বানানো হয়েছে, আর আগুনের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে সিডার কাঠ, পাহাড়ি হিসোপ গুল্ম এবং ওক গাছের পোকা থেকে তৈরি লাল রঙের পশম।

Ancient Jewish Stone Vessels
চুনাপাথর খোদাই করে তৈরি পাত্র (Kelei Even), যা তাদের ধর্মীয় আইনে কখনো অপবিত্র হয় না।
ভূমধ্যসাগরমৃত সাগরবেন গুরিয়ন বিমানবন্দর (আগমনের স্থান)প্রাচীন শাইলো (পর্যবেক্ষণ ও কোয়ারেন্টাইন)জেরুজালেম (জলপাই পর্বতের বেদি ও আল-আকসা)বাব-ই লুদ (হাদীসে বর্ণিত দাজ্জাল বধের স্থান)
  • গাভী পর্যবেক্ষণ / শাইলো
  • বলিদানের বেদি ও পবিত্র চত্বর
  • বিমানবন্দর ও হাদীসে বর্ণিত স্থান
পবিত্র ভূগোল ও সমসাময়িক অবস্থান: বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আগমন থেকে শাইলোর গবেষণা কেন্দ্র এবং আল-আকসার মুখোমুখি জলপাই পর্বতের বেদি।
পর্ব ৫ · ‘পবিত্র পুরোহিত’ খোঁজার চ্যালেঞ্জ

কিন্তু আজ সব পুরোহিতই যদি অপবিত্র হয়, তবে গরুটি জবাই করবে কে?

এখানেই সামনে আসে সবচেয়ে বড় আইনি ধাঁধা, যা নিয়ে খোদ অর্থোডক্স রাব্বিদের মধ্যেই তীব্র বিতর্ক চলছে: আজ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই যদি ‘তামে মেত’ (মৃতের ছোঁয়ায় অপবিত্র) হয়ে থাকে, তবে প্রথম লাল গরুটি জবাই করার জন্য সম্পূর্ণ পবিত্র একজন পুরোহিত (কোহেন) পাওয়া যাবে কীভাবে?

প্রাচীনকালে (মিশনাহ পারাহ ৩:২ অনুযায়ী) পুরোহিত পরিবারের গর্ভবতী নারীদের জেরুজালেমের ফাঁপা পাথরের খিলানের ওপর নির্মিত বিশেষ চত্বরে রাখা হতো, যেন মাটির নিচের কোনো পুরোনো কবরের অপবিত্রতাও শিশুটিকে স্পর্শ না করে! সেই শিশু বড় হওয়া পর্যন্ত কখনো কবরস্থান বা হাসপাতালের ধারেকাছেও যেত না।

আজ টেম্পল ইনস্টিটিউট দাবি করছে তারা হারুন (আ.)-এর বংশধর (কোহেন) এমন কিছু তরুণকে প্রস্তুত করেছে, যাদের জন্ম কোনো হাসপাতালে হয়নি (কারণ হাসপাতালে মর্গ ও মৃতদেহ থাকে, তাই বাড়িতে জন্ম হয়েছে) এবং যারা জীবনে কখনো কবরস্থানের পাশ দিয়েও হাঁটেনি! তবে মূলধারার কট্টর অর্থোডক্স (হারেদি) রাব্বিরা বলছেন, এই কৌশল দিয়ে প্রাচীন শর্ত পূরণ হয় না।

পর্ব ৬ · শিলোতে ম্যাগনিফাইং গ্লাস পরীক্ষা

শিলোতে গরুগুলোর বয়স ৩ বছর হওয়ার পর ম্যাগনিফাইং গ্লাসের নিচে কী ধরা পড়ল? (২০২৪-২০২৬ আপডেট)

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে যখন গরু পাঁচটিকে আনা হয়, তখন সেগুলোর বয়স ছিল কম (তোরাহর আইন অনুযায়ী গরুর বয়স কমপক্ষে তৃতীয় বছরে পড়তে হয়)। তাই সেগুলোকে পশ্চিম তীরের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা শিলোতে (Tel Shiloh) শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘেরা বিশেষ খামারে রাখা হয়, যেন কেউ গরুগুলোর গায়ে হাত দিয়ে ভরও না দেয়!

Ancient Shiloh Heritage Site
পশ্চিম তীরের প্রাচীন শিলো (Tel Shiloh), যেখানে টেক্সাস থেকে আনা লাল গরুগুলোকে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল।

এরপর ২০২৪ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে (পাসওভার উৎসবের সময়) গরুগুলোর বয়স তৃতীয় বছরে পা রাখতেই সারা বিশ্বের মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয় যে এই বুঝি গরু জবাই হতে যাচ্ছে! কিন্তু ঠিক তখনই কাজ শুরু করে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। গরুর বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার নাক, গলা ও লেজের দিকে স্বাভাবিকভাবেই দুই-একটি সাদা বা কালো লোম গজাতে থাকে। শিলোতে রাব্বিরা যখন হাই-পাওয়ার ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে ইঞ্চি ইঞ্চি করে গরুগুলোর লোম পরীক্ষা করলেন, তখন দেখা গেল ৫টি গরুর বেশ কটির গায়েই একাধিক সাদা ও কালো লোম গজিয়ে গেছে, যার ফলে ‘দুটি লোমের শর্তে’ সেগুলো একে একে বাতিল হয়ে যায়!

Rabbinic Examination of the Red Heifer
একজন অর্থোডক্স রাব্বি ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে লাল গরুটির গায়ে দুটি সাদা বা কালো লোম আছে কি না তা পরীক্ষা করছেন।

২০২৫-২০২৬ সাল পর্যন্ত জয়তুন পাহাড়ে কোনো বৈধ বা স্বীকৃত লাল গরু জবাইয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়নি (২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে কেবল একটি বাতিল হয়ে যাওয়া গরু দিয়ে মহড়া বা প্র্যাকটিস চালানো হয়েছিল), আর তারা এখন স্থানীয়ভাবে বাছুর প্রজননের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পর্ব ৭ · ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মুমিনের করণীয়

৫টি গরু কেন পুরো অঞ্চলের রাজনীতি কাঁপিয়ে দিল, এবং আতঙ্কিত না হয়ে একজন মুমিন কীভাবে এই খবর দেখবে?

শিলোর খামারে থাকা ৫টি গরু কেন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তার আলোচনায় চলে এল? কারণ এর পেছনে জড়িয়ে আছে জেরুজালেমের আল-আকসা চত্বরের বাস্তব সমীকরণ।

গত একশো বছর ধরে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ ইহুদি যে আল-আকসা চত্বরে ঢুকে পড়েনি, তার সবচেয়ে বড় বাধা ছিল তাদের নিজেদের চিফ রাব্বিনেটের ফতোয়া, যে লাল গরুর ছাই দিয়ে পবিত্র না হয়ে ভেতরে পা রাখা নিষিদ্ধ। এখন টেম্পল মাউন্ট অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপগুলো যদি কোনোভাবে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে পারে যে তারা লাল গরুর ছাই তৈরি করে ফেলেছে এবং নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে, তবে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রতিদিন অল্প কিছু অনুপ্রবেশকারীর বদলে লাখো মানুষের ঢল নামানোর দাবি তোলা হবে!

এমনকি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে (গাজা যুদ্ধের ১০০তম দিনে) এক আনুষ্ঠানিক ভাষণে আল-আকসার বিরুদ্ধে হুমকির কথা বলতে গিয়ে সরাসরি ‘লাল গরু (আল-বাকারাত আল-হুমর) আমদানির’ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু একটু থামুন, একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের ঈমান কিংবা কিয়ামতের আলামতের টাইমলাইন কি শিলোর কোনো অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ দুটি সাদা লোমহীন গরু পেল কি না তার ওপর নির্ভর করে? একদমই না!

ইসলামী আকীদা অনুযায়ী, গরু জবাইয়ের বিধান ছিল মূসা (আ.)-এর যুগের শরীয়তের একটি ঘটনা, যা তখনই শেষ হয়ে গেছে এবং শেষ নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর শরীয়ত আসার পর তা রহিত হয়ে গেছে। আমাদের কাছে শেষ জামানার টাইমলাইন, বাইতুল মুকাদ্দাসের আবাদ, ইমাম মাহদীর আগমন, দাজ্জালের ফিতনা এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.)-এর অবতরণ, সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ফয়সালা এবং নবীজির ﷺ সহীহ হাদীস অনুযায়ী ঘটবে, কোনো উগ্র সংগঠনের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নয়।

তাই আমাদের কাজ হলো গুজবে কান দিয়ে আতঙ্কিত না হওয়া, যাচাই না করে ভাইরাল পোস্ট শেয়ার না করা, আল-আকসার মর্যাদা ও ইনসাফের পক্ষে অবিচল থাকা এবং নবীজির ﷺ শেখানো আমলগুলো নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা।

সুনানে আবু দাউদহাদীস নং ৪২৯৪হাসানسنن أبي داودرقم ٤٢٩٤

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ عُمْرَانُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ خَرَابُ يَثْرِبَ وَخَرَابُ يَثْرِبَ خُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ وَخُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ فَتْحُ قُسْطَنْطِينِيَّةَ وَفَتْحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ خُرُوجُ الدَّجَّالِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى فَخِذِ الَّذِي حَدَّثَ - أَوْ مَنْكِبِهِ - ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذَا لَحَقٌّ كَمَا أَنَّكَ هَا هُنَا أَوْ كَمَا أَنَّكَ قَاعِدٌ ‏.‏ يَعْنِي مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ ‏.‏

মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল মাকদিসে বসতি স্থাপন ইয়াসরিবের বিপর্যয়ের কারণ হবে এবং ইয়াসরিবের বিপর্যয় সংঘাতের কারণ হবে। যুদ্ধের ফলে কুসতুনতীনিয়া বিজিত হবে এবং কুসতুনতীনিয়া বিজয় দাজ্জালের আবির্ভাবের আলামত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন তার ঊরুতে বা কাঁধে নিজের হাত দ্বারা মৃদু আঘাত করে বলেন, এটা নিশ্চিত সত্য, যেমন তুমি এখানে উপস্থিত, যেমন তুমি এখানে বসা আছো। অর্থাৎ তিনি মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে লক্ষ করে বলেন।[1] হাসান।

সহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৯৩৭aসহিহবর্ণনাকারী: নাওওয়াস ইবনু সাম’আন (রাযিঃ)صحيح مسلمرقم ٢٩٣٧a

حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ جَابِرٍ الطَّائِيُّ، قَاضِي حِمْصَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ، جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ الْحَضْرَمِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ النَّوَّاسَ بْنَ سَمْعَانَ الْكِلاَبِيَّ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ الطَّائِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ، نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ، قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الدَّجَّالَ ذَاتَ غَدَاةٍ فَخَفَّضَ فِيهِ وَرَفَّعَ حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ فَلَمَّا رُحْنَا إِلَيْهِ عَرَفَ ذَلِكَ فِينَا فَقَالَ ‏"‏ مَا شَأْنُكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَكَرْتَ الدَّجَّالَ غَدَاةً فَخَفَّضْتَ فِيهِ وَرَفَّعْتَ حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ غَيْرُ الدَّجَّالِ أَخْوَفُنِي عَلَيْكُمْ إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ وَإِنْ يَخْرُجْ وَلَسْتُ فِيكُمْ فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ إِنَّهُ شَابٌّ قَطَطٌ عَيْنُهُ طَافِئَةٌ كَأَنِّي أُشَبِّهُهُ بِعَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قَطَنٍ فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأْ عَلَيْهِ فَوَاتِحَ سُورَةِ الْكَهْفِ إِنَّهُ خَارِجٌ خَلَّةً بَيْنَ الشَّأْمِ وَالْعِرَاقِ فَعَاثَ يَمِينًا وَعَاثَ شِمَالاً يَا عِبَادَ اللَّهِ فَاثْبُتُوا ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا لَبْثُهُ فِي الأَرْضِ قَالَ ‏"‏ أَرْبَعُونَ يَوْمًا يَوْمٌ كَسَنَةٍ وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَسَنَةٍ أَتَكْفِينَا فِيهِ صَلاَةُ يَوْمٍ قَالَ ‏"‏ لاَ اقْدُرُوا لَهُ قَدْرَهُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا إِسْرَاعُهُ فِي الأَرْضِ قَالَ ‏"‏ كَالْغَيْثِ اسْتَدْبَرَتْهُ الرِّيحُ فَيَأْتِي عَلَى الْقَوْمِ فَيَدْعُوهُمْ فَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَجِيبُونَ لَهُ فَيَأْمُرُ السَّمَاءَ فَتُمْطِرُ وَالأَرْضَ فَتُنْبِتُ فَتَرُوحُ عَلَيْهِمْ سَارِحَتُهُمْ أَطْوَلَ مَا كَانَتْ ذُرًا وَأَسْبَغَهُ ضُرُوعًا وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ ثُمَّ يَأْتِي الْقَوْمَ فَيَدْعُوهُمْ فَيَرُدُّونَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ فَيَنْصَرِفُ عَنْهُمْ فَيُصْبِحُونَ مُمْحِلِينَ لَيْسَ بِأَيْدِيهِمْ شَىْءٌ مِنْ أَمْوَالِهِمْ وَيَمُرُّ بِالْخَرِبَةِ فَيَقُولُ لَهَا أَخْرِجِي كُنُوزَكِ ‏.‏ فَتَتْبَعُهُ كُنُوزُهَا كَيَعَاسِيبِ النَّحْلِ ثُمَّ يَدْعُو رَجُلاً مُمْتَلِئًا شَبَابًا فَيَضْرِبُهُ بِالسَّيْفِ فَيَقْطَعُهُ جَزْلَتَيْنِ رَمْيَةَ الْغَرَضِ ثُمَّ يَدْعُوهُ فَيُقْبِلُ وَيَتَهَلَّلُ وَجْهُهُ يَضْحَكُ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ فَيَنْزِلُ عِنْدَ الْمَنَارَةِ الْبَيْضَاءِ شَرْقِيَّ دِمَشْقَ بَيْنَ مَهْرُودَتَيْنِ وَاضِعًا كَفَّيْهِ عَلَى أَجْنِحَةِ مَلَكَيْنِ إِذَا طَأْطَأَ رَأَسَهُ قَطَرَ وَإِذَا رَفَعَهُ تَحَدَّرَ مِنْهُ جُمَانٌ كَاللُّؤْلُؤِ فَلاَ يَحِلُّ لِكَافِرٍ يَجِدُ رِيحَ نَفَسِهِ إِلاَّ مَاتَ وَنَفَسُهُ يَنْتَهِي حَيْثُ يَنْتَهِي طَرْفُهُ فَيَطْلُبُهُ حَتَّى يُدْرِكَهُ بِبَابِ لُدٍّ فَيَقْتُلُهُ ثُمَّ يَأْتِي عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ قَوْمٌ قَدْ عَصَمَهُمُ اللَّهُ مِنْهُ فَيَمْسَحُ عَنْ وُجُوهِهِمْ وَيُحَدِّثُهُمْ بِدَرَجَاتِهِمْ فِي الْجَنَّةِ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أَوْحَى اللَّهُ إِلَى عِيسَى إِنِّي قَدْ أَخْرَجْتُ عِبَادًا لِي لاَ يَدَانِ لأَحَدٍ بِقِتَالِهِمْ فَحَرِّزْ عِبَادِي إِلَى الطُّورِ ‏.‏ وَيَبْعَثُ اللَّهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ فَيَمُرُّ أَوَائِلُهُمْ عَلَى بُحَيْرَةِ طَبَرِيَّةَ فَيَشْرَبُونَ مَا فِيهَا وَيَمُرُّ آخِرُهُمْ فَيَقُولُونَ لَقَدْ كَانَ بِهَذِهِ مَرَّةً مَاءٌ ‏.‏ وَيُحْصَرُ نَبِيُّ اللَّهُ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ حَتَّى يَكُونَ رَأْسُ الثَّوْرِ لأَحَدِهِمْ خَيْرًا مِنْ مِائَةِ دِينَارٍ لأَحَدِكُمُ الْيَوْمَ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ فَيُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهُمُ النَّغَفَ فِي رِقَابِهِمْ فَيُصْبِحُونَ فَرْسَى كَمَوْتِ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمَّ يَهْبِطُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى الأَرْضِ فَلاَ يَجِدُونَ فِي الأَرْضِ مَوْضِعَ شِبْرٍ إِلاَّ مَلأَهُ زَهَمُهُمْ وَنَتْنُهُمْ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى اللَّهِ فَيُرْسِلُ اللَّهُ طَيْرًا كَأَعْنَاقِ الْبُخْتِ فَتَحْمِلُهُمْ فَتَطْرَحُهُمْ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ مَطَرًا لاَ يَكُنُّ مِنْهُ بَيْتُ مَدَرٍ وَلاَ وَبَرٍ فَيَغْسِلُ الأَرْضَ حَتَّى يَتْرُكَهَا كَالزَّلَفَةِ ثُمَّ يُقَالُ لِلأَرْضِ أَنْبِتِي ثَمَرَتَكِ وَرُدِّي بَرَكَتَكِ ‏.‏ فَيَوْمَئِذٍ تَأْكُلُ الْعِصَابَةُ مِنَ الرُّمَّانَةِ وَيَسْتَظِلُّونَ بِقِحْفِهَا وَيُبَارَكُ فِي الرِّسْلِ حَتَّى أَنَّ اللِّقْحَةَ مِنَ الإِبِلِ لَتَكْفِي الْفِئَامَ مِنَ النَّاسِ وَاللِّقْحَةَ مِنَ الْبَقَرِ لَتَكْفِي الْقَبِيلَةَ مِنَ النَّاسِ وَاللِّقْحَةَ مِنَ الْغَنَمِ لَتَكْفِي الْفَخِذَ مِنَ النَّاسِ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً فَتَأْخُذُهُمْ تَحْتَ آبَاطِهِمْ فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ وَكُلِّ مُسْلِمٍ وَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ يَتَهَارَجُونَ فِيهَا تَهَارُجَ الْحُمُرِ فَعَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ ‏"‏ ‏.‏

আবু খাইসামাহ, যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রাযী (রহঃ) ..... নাওওয়াস ইবনু সাম’আন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। আলোচনার সময় তিনি তার ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেন। পরে অনেক গুরুত্ব সহকারে উপস্থিত করেন যাতে তাকে আমরা ঐ বৃক্ষরাজির নির্দিষ্ট এলাকায় (আবাসস্থল সম্পর্কে) ধারণা করতে লাগলাম। এরপর আমরা সন্ধ্যায় আবার তার কাছে গেলাম। তিনি আমাদের মধ্যে এর প্রভাব দেখতে পেয়ে বললেন, তোমাদের ব্যাপার কি? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি সকালে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এতে আপনি কখনো ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেছেন, আবার কখনো তার ব্যক্তিত্বকে বড় করে তুলে ধরেছেন। ফলে আমরা মনে করেছি যে, দাজ্জাল বুঝি এ বাগার মধ্যেই বিদ্যমান। এ কথা শুনে তিনি বললেন, দাজ্জাল নয়, বরং তোমাদের ব্যাপারে অন্য কিছুর আমি অধিক ভয় করছি। তবে শোন, আমি তোমাদের) মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। তোমাদের প্রয়োজন হবে না। আর যদি আমি তোমাদের মাঝে না থাকাবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয়, তবে প্রত্যেক মুমিন লোক নিজের পক্ষ হতে তাকে প্রতিহত করবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহ তা’আলাই হলেন আমার পক্ষ হতে তত্ত্বাবধানকারী। দাজ্জাল যুবক এবং ঘন চুল বিশিষ্ট হবে, চোখ আঙ্গুরের ন্যায় হবে। আমি তাকে কাফির ‘আবদুল উয্যা ইবনু কাতান এর মতো মনে করছি। তোমাদের যে কেউ দাজ্জালের সময়কাল পাবে সে যেন সূরা আল-কাহফ-এর প্রথমোক্ত আয়াতসমূহ পাঠ করে। সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপথ হতে আবির্ভূত হবে। সে ডানে-বামে দুর্যোগ সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা অটল থাকবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে পৃথিবীতে কয়দিন অবস্থান করবে? উত্তরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, চল্লিশদিন পর্যন্ত। এর প্রথম দিনটি এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের দিনসমূহের মতই হবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! যেদিন এক বছরের সমান হবে, সেটাতে এক দিনের সালাতই কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? উত্তরে তিনি বললেন, না, বরং তোমরা এদিন হিসাব করে তোমাদের দিনের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে নিবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! দুনিয়াতে দাজ্জালের অগ্রসরতা কি রকম বৃদ্ধি পাবে? তিনি বললেন, বাতাসের প্রবাহ মেঘমালাকে যে রকম হাকিয়ে নিয়ে যায়। সে এক কাওমের কাছে এসে তাদেরকে কুফুরীর দিকে ডাকবে। তারা তার উপর ঈমান আনবে এবং তার আহ্বানে সাড়া দিবে। অতঃপর সে আকাশমণ্ডলীকে আদেশ করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং ভূমিকে নির্দেশ দিবে, ফলে ভূমি গাছ-পালা ও শস্য উৎপন্ন করবে। তারপর সন্ধ্যায় তাদের গবাদি পশুগুলো পূর্বের চেয়ে বেশি লম্বা কুজ, প্রশস্ত স্তন এবং পেটভর্তি অবস্থায় তাদের কাছে ফিরে আসবে। তারপর দাজ্জাল অপর এক কাওমেরর কাছে আসবে এবং তাদেরকে কুফুরীর প্রতি ডাকবে। তারা তার কথাকে উপেক্ষা করবে। ফলে সে তাদের নিকট হতে প্রত্যাবর্তন করবে। আমনি তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও পানির অনটন দেখা দিবে এবং তাদের হাতে তাদের ধন-সম্পদ কিছুই থাকবে না। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে সেটাকে সম্বোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন জমিনের ধন-ভাণ্ডার বের হয়ে তার চতুষ্পার্শে একত্রিত হতে থাকবে, যেমন মধু মক্ষিকা তাদের সর্দারের চারপাশে সমবেত হয়। অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে তীরের লক্ষ্যস্থলের ন্যায় দুটুকরো করে ফেলবে। তারপর সে আবার তাকে আহবান করবে। যুবক আলোকময় হাস্যোজ্জল চেহারায় তার সম্মুখে এগিয়ে আসবে। এ সময় আল্লাহ রববুল আলামীন ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) কে প্রেরণ করবেন। তিনি দু' ফেরেশতার কাঁধের উপর ভর করে ওয়ারস ও জাফরান রং এর জোড়া কাপড় পরিহিত অবস্থায় দামেশক নগরীর পূর্ব দিকের উজ্জ্বল মিনারে অবতরণ করবেন। যখন তিনি তার মাথা ঝুঁকবেন তখন ফোটা ফোটা ঘাম তার শরীর থেকে গড়িয়ে পড়বে। তিনি যে কোন কফিরের কাছে যাবেন সে তার শ্বাসের বাতাসে ধ্বংস হয়ে যাবে। তার দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত যাবে তাঁর শ্বাসও ততদূর পর্যন্ত পৌছবে। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করতে থাকবেন। অবশেষে তাকে বাবে লুদ নামক স্থানে গিয়ে পাকড়াও করবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর ঈসা (আঃ) ঐ সম্প্রদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। ঈসা (আঃ) তাদের কাছে গিয়ে তাদের চেহারায় হাত বুলিয়ে জান্নাতে তাদের স্থানসমূহের ব্যাপারে খবর দিবেন। এমন সময় আল্লাহ তা’আলা ঈসা (আঃ) এর প্রতি এ মর্মে ওয়াহী অবতীর্ণ করবেন যে, আমি আমার এমন বান্দাদের আবির্ভাব ঘটেয়েছি, যাদের সঙ্গে কারোই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তুমি আমার মুমিন বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও। তখন আল্লাহ তা’আলা ইয়াজুজ-মাজুজ কাওমকে পাঠাবেন। তারা ছাড়া পেয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলটি "বুহাইরায়ে তাবরিয়া"র (ভূমধ্যসাগর) উপকূলে এসে এর সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে দিবে। তারপর তাদের সর্বশেষ দলটি এ স্থান দিয়ে যাত্রাকালে বলবে, এ সমুদ্রে কোন সময় পানি ছিল কি? তারা আল্লাহর নবী ঈসা (আঃ) এবং তার সাথীদেরকে অবরোধ করে রাখবে। ফলে তাদের নিকট একটি বলদের মাথা বর্তমানে তোমাদের নিকট একশ দীনারের মূল্যের চেয়েও অধিক মূল্যবান প্রতিপন্ন হবে। তখন আল্লাহর নবী ঈসা (আঃ) এবং তার সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। ফলে আল্লাহ তা’আলা ইয়া'জুজ-মা'জুজ সম্প্রদায়ের প্রতি আযাব পাঠাবেন। তাদের ঘাড়ে এক প্রকার পোকা হবে। এতে একজন মানুষের মৃত্যুর মতো তারাও সবাই মরে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তারপর ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ পাহাড় হতে জমিনে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু তারা অর্ধ হাত জায়গাও এমন পাবেন না যথায় তাদের পচা লাশ ও লাশের দুর্গন্ধ নেই। অতঃপর ‘ঈসা (আঃ) এবং তার সঙ্গীগণ পুনরায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। তখন আল্লাহ তা’আলা উটের ঘাড়ের মতো লম্বা এক ধরনের পাখি পাঠাবেন। তারা তাদেরকে বহন করে আল্লাহর ইচ্ছানুসারে কোন স্থানে নিয়ে ফেলবে। এরপর আল্লাহ এমন মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যার ফলে কাঁচা-পাকা কোন গৃহই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এতে জমিন বিধৌত হয়ে উদ্ভিদ শূন্য মৃত্তিকায় পরিণত হবে। অতঃপর পুনরায় জমিনকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হবে যে, হে জমিন! তুমি আবার শস্য উৎপন্ন করো এবং তোমার বারাকাত ফিরিয়ে দাও। সেদিন একদল মানুষ একটি ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর বাকলের নীচে লোকেরা ছায়া গ্রহণ করবে। দুধের মধ্যে বারাকাত হবে। ফলে দুগ্ধবতী একটি উটই একদল মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে, দুগ্ধবতী একটি গাভী একগোত্রীয় মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে এবং যথেষ্ট হবে দুগ্ধবতী একটি বকরী এক দাদার সন্তানদের (একটি ছোট গোত্রের) জন্য। এ সময় আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রেরণ করবেন। এ বায়ু সকল মুমিন লোকদের বগলে গিয়ে লাগবে এবং সমস্ত মুমিন মুসলিমদের রূহ কবয করে নিয়ে যাবে। তখন একমাত্র মন্দ লোকেরাই এ পৃথিবীতে বাকী থাকবে। তারা গাধার ন্যায় পরস্পর একে অন্যের সাথে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। এদের উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১০৬. ইসলামিক সেন্টার)

⚖️

লাল গরু (Red Heifer): ভাইরাল আতঙ্ক বনাম যাচাইকৃত সত্য

ভাইরাল গুজব থেকে আসল তথ্য আলাদা করে দেখুন।

❌ ভাইরাল দাবি #1

লাল গরু (Red Heifer) ইসলামের কিয়ামতের আলামতগুলোর একটি, যার জন্য মুসলিমরাও অপেক্ষা করছে।

✅ আসল সত্য

মোটেও না! লাল গরু পোড়ানোর রীতিটি তোরাহর ‘বুক অব নাম্বারস’ (১৯ অধ্যায়)-এর একটি প্রাচীন বিধান, যা আজ মূলত ‘টেম্পল ইনস্টিটিউট’-এর মতো নির্দিষ্ট কিছু সংগঠন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। কুরআন বা সহীহ হাদীসে বর্ণিত কিয়ামতের আলামতের তালিকায় এর কোনো স্থান নেই।

❌ ভাইরাল দাবি #2

টেক্সাস থেকে আনা ৫টি লাল গরু ২০২৪ সালের এপ্রিলেই জয়তুন পাহাড়ে জবাই করা হয়ে গেছে।

✅ আসল সত্য

ভুল। ২০২৪-২০২৫ সালে শিলোতে গরুগুলোর বয়স বাড়ার সাথে সাথে রাব্বিদের ম্যাগনিফাইং গ্লাস পরীক্ষায় সেগুলোর গায়ে একাধিক সাদা ও কালো লোম ধরা পড়ে, ফলে ‘দুটি লোমের শর্তে’ সেগুলো অযোগ্য হয়ে যায়।

🛡️ এই ফিতনা থেকে বাঁচতে নবীজি ﷺ আমাদের কী করতে বলেছেন

সূরা আল-কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করুন

'যে ব্যক্তি সূরা আল-কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জাল থেকে রক্ষা পাবে।'

Muslim 809a

প্রতি সালাতে আশ্রয় চান

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

শেষ তাশাহহুদের পর: 'হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামের শাস্তি থেকে, কবরের শাস্তি থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে।'

Muslim 588a

সাধারণ জিজ্ঞাসা ও সরাসরি উত্তর

তরুণদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও সহীহ দলীলভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তর

থার্ড টেম্পল পন্থীদের কেন একটি নিখুঁত লাল বকনা গরুর ছাই এত জরুরি, আর টেক্সাস থেকে আনা সেই ৫টি গরুর বর্তমান অবস্থাই বা কী?

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এক খামার থেকে ৫টি লাল রঙের বকনা গরু এসে নামে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে। সাধারণ মানুষের চোখে এটি নিছক পশু আমদানি মনে হলেও, ‘টেম্পল মাউন্ট’ অ্যাক্টিভিস্টদের কাছে এই ৫টি গরু ছিল ২,০০০ বছরের এক ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা খোলার চাবি!

কোনো ভুল চোখে পড়েছে?

হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।

সংশোধনের প্রস্তাব বা ভুল রিপোর্ট করুন

হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।

বিষয়