আল ফিতান

এগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন

ইতিহাস ও ভবিষ্যদ্বাণীড্রাফট, এখনো রিভিউ হয়নি

বাইতুল মুকাদ্দাস ও থার্ড টেম্পল: ৩,০০০ বছরের ঐতিহাসিক বিতর্ক

সুলাইমান (আ.)-এর দুআ এবং বখতে নসর ও রোমান সেনাপতি টিটাসের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে শুরু করে যেদিন উমর (রা.) নিজের চাদর দিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার করেছিলেন, আর জেরুজালেমের ভবিষ্যৎ নিয়ে নবীজি ﷺ কী বলে গেছেন।

মূল প্রশ্নজেরুজালেমের একটিমাত্র পাহাড় কীভাবে দুটি প্রাচীন ধ্বংসযজ্ঞ, উমর (রা.)-এর হাতে পুনর্জাগরণ এবং আজকের ‘থার্ড টেম্পল’ আন্দোলনের সাক্ষী হলো, আর এ বিষয়ে সহীহ হাদীস কী বলে?

এক নজরে সারসংক্ষেপ

জেরুজালেমের বুকে মাত্র ৩৫ একরের একটি পাথুরে চত্বর আজ পুরো পৃথিবীর রাজনীতি ও ধর্মীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আজকের খবরের কাগজে ‘থার্ড টেম্পল’ বা তৃতীয় মন্দিরের যে আলোচনা দেখেন, তা বুঝতে হলে আপনাকে প্রথমে আল-আকসার গত ৩,০০০ বছরের রোমাঞ্চকর ইতিহাসের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হবে।

পর্ব ১ · গোড়াপত্তন ও সুলাইমান (আ.)

কাবা ঘরের ৪০ বছর পর: আল-আকসা প্রথম কে বানিয়েছিলেন এবং সুলাইমান (আ.) কী করেছিলেন?

অনেকেই ধারণা করেন আল-মসজিদুল আকসার ইতিহাস বুঝি খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দে নবী সুলাইমান (আ.)-এর হাতে শুরু হয়েছে। কিন্তু একটু থামুন! সহীহ বুখারী (৩৩৬৬) এবং সহীহ মুসলিমে (৫২০) সাহাবী আবু যর গিফারী (রা.) নবীজিকে ﷺ যে প্রশ্নটি করেছিলেন তা দেখুন:

আবু যর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন: ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল?’ নবীজি ﷺ বললেন: ‘মসজিদুল হারাম (মক্কার কাবা)।’ আবু যর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন: ‘এরপর কোনটি?’ তিনি বললেন: ‘আল-মসজিদুল আকসা।’ আবু যর (রা.) আবার জিজ্ঞেস করলেন: ‘এই দুই মসজিদ নির্মাণের মাঝখানে কত বছরের ব্যবধান ছিল?’ নবীজি ﷺ বললেন: ‘মাত্র চল্লিশ বছর!’

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ফাতহুল বারী-তে ব্যাখ্যা করেছেন, দাউদ ও সুলাইমান (আ.) আসার হাজার বছর আগেই আদম (আ.) বা ইবরাহীম (আ.)-এর যুগে এক আল্লাহর ইবাদতের জন্য আল-আকসার মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।

এরপর খ্রিস্টপূর্ব দশম শতাব্দীতে আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) এবং তাঁর পুত্র সুলাইমান (আ.) যখন জেরুজালেমের শাসক হন, তখন সুলাইমান (আ.) সেই প্রাচীন ভিত্তির ওপর বিশাল ও রাজকীয় আকারে বাইতুল মুকাদ্দাস পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করেন। আল্লাহর হুকুমে জ্বিন জাতিও এই বিশাল নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিল (সূরা সাবা ৩৪:১২-১৩)। আর নির্মাণ শেষ করে সুলাইমান (আ.) আল্লাহর কাছে ৩টি বিশেষ দুআ করেছিলেন, যার একটি ছিল, যে ব্যক্তি শুধুমাত্র নামাজের নিয়তে এই মসজিদে আসবে, সে যেন মায়ের পেট থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে বের হয় (সুনানে নাসাঈ ৬৯৩)।

সাবাসূরা ৩৪ · আয়াত ১২–১৪سورة سبأ
  1. وَلِسُلَيۡمَٰنَ ٱلرِّيحَ غُدُوُّهَا شَهۡرࣱ وَرَوَاحُهَا شَهۡرࣱۖ وَأَسَلۡنَا لَهُۥ عَيۡنَ ٱلۡقِطۡرِۖ وَمِنَ ٱلۡجِنِّ مَن يَعۡمَلُ بَيۡنَ يَدَيۡهِ بِإِذۡنِ رَبِّهِۦۖ وَمَن يَزِغۡ مِنۡهُمۡ عَنۡ أَمۡرِنَا نُذِقۡهُ مِنۡ عَذَابِ ٱلسَّعِيرِ۝١٢

    ১২. আর সুলাইমানের অধীন করেছিলাম বায়ুকে যা ভোরে একমাসের পথ অতিক্রম করত ও সন্ধ্যায় একমাসের পথ অতিক্রম করত। আমরা তার জন্য গলিত তামার এক প্রস্রবণ প্রবাহিত করেছিলাম এবং তার রবের অনুমতিক্রমে জিনদের কিছু সংখ্যক তার সামনে কাজ করত। আর তাদের মধ্যে যে আমাদের নির্দেশ অমান্য করে, তাকে আমরা জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি আস্বাদন করাব।

  2. يَعۡمَلُونَ لَهُۥ مَا يَشَآءُ مِن مَّحَٰرِيبَ وَتَمَٰثِيلَ وَجِفَانࣲ كَٱلۡجَوَابِ وَقُدُورࣲ رَّاسِيَٰتٍۚ ٱعۡمَلُوٓاْ ءَالَ دَاوُۥدَ شُكۡرࣰ اۚ وَقَلِيلࣱ مِّنۡ عِبَادِيَ ٱلشَّكُورُ۝١٣

    ১৩. তারা সুলাইমানের ইচ্ছানুযায়ী তার জন্য প্রাসাদ, ভাস্কৰ্য, হাউজসদৃশ বৃহদাকার পাত্ৰ এবং সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত ডেগ নির্মাণ করত। 'হে দাউদ পরিবার! কৃতজ্ঞতার সাথে তোমরা কাজ করতে থাক। আর আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পই কৃতজ্ঞ!’

  3. فَلَمَّا قَضَيۡنَا عَلَيۡهِ ٱلۡمَوۡتَ مَا دَلَّهُمۡ عَلَىٰ مَوۡتِهِۦٓ إِلَّا دَآبَّةُ ٱلۡأَرۡضِ تَأۡكُلُ مِنسَأَتَهُۥۖ فَلَمَّا خَرَّ تَبَيَّنَتِ ٱلۡجِنُّ أَن لَّوۡ كَانُواْ يَعۡلَمُونَ ٱلۡغَيۡبَ مَا لَبِثُواْ فِي ٱلۡعَذَابِ ٱلۡمُهِينِ۝١٤

    ১৪. অতঃপর যখন আমরা সুলাইমানের মৃত্যু ঘটালাম, তখন জিনদেরকে তার মৃত্যুর খবর জানাল শুধু মাটির পোকা, যা তার লাঠি খাচ্ছিল। অতঃপর যখন তিনি পড়ে গেলেন তখন জিনরা -বুঝতে পারল যে, যদি তারা গায়েব জানত, তাহলে তারা লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তিতে আবদ্ধ থাকত না।

সুনানে নাসাঈ ↗হাদীস নং ৬৯৩সহিহسنن النسائيرقم ٦٩٣

لَمَّا فَرَغَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ مِنْ بِنَاءِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ سَأَلَ اللَّهَ ثَلاَثًا: حُكْمًا يُصَادِفُ حُكْمَهُ، وَمُلْكًا لاَ يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ بَعْدِهِ، وَأَلاَّ يَأْتِيَ هَذَا الْمَسْجِدَ أَحَدٌ لاَ يُرِيدُ إِلاَّ الصَّلاَةَ فِيهِ إِلاَّ خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ

সুলাইমান ইবনে দাউদ যখন বায়তুল মাকদিস নির্মাণ সমাপ্ত করলেন, তিনি আল্লাহর কাছে তিনটি দোয়া করলেন: তাঁর ফয়সালার মতো বিচারশক্তি, অতুলনীয় রাজত্ব, এবং যে ব্যক্তি কেবল সালাতের উদ্দেশ্যে এখানে আসবে সে যেন নবজাতকের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফেরে।

সহিহ বুখারি ↗হাদীস নং ৩৩৬৬সহিহصحيح البخاريرقم ٣٣٦٦

قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ مَسْجِدٍ وُضِعَ فِي الأَرْضِ أَوَّلُ قَالَ ‏"‏ الْمَسْجِدُ الْحَرَامُ ‏"‏‏.‏ قَالَ قُلْتُ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ ‏"‏ الْمَسْجِدُ الأَقْصَى ‏"‏‏.‏ قُلْتُ كَمْ كَانَ بَيْنَهُمَا قَالَ ‏"‏ أَرْبَعُونَ سَنَةً ‏"

আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! পৃথিবীতে প্রথম কোন মসজিদ নির্মিত হয়েছিল? তিনি বললেন: আল-মাসজিদুল হারাম। আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: আল-মাসজিদুল আকসা। আমি বললাম: এ দুটির মাঝে কত ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন: চল্লিশ বছর।

পর্ব ২ · খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ অব্দ: প্রথম ধ্বংসযজ্ঞ

ব্যাবিলনের সম্রাট বখতে নসর যখন প্রথম উপাসনালয়টি পুড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিল

সুলাইমান (আ.)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর রাজ্য দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী যেতে যেতে সেখানকার শাসক ও প্রভাবশালীদের অনেকেই মূর্তিপূজা, দুর্নীতি এবং নবী-সংস্কারকদের হত্যার মতো জঘন্য পাপে জড়িয়ে পড়ে। সূরা বনী ইসরাঈলে (১৭:৪-৭) আল্লাহ তাআলা যেমনটা জানিয়েছেন, তাদের প্রথম সীমালঙ্ঘনের সময় যখন পূর্ণ হলো, তখন আল্লাহ তাদের ওপর পাঠিয়ে দিলেন প্রচণ্ড শক্তিশালী এক যোদ্ধা বাহিনীকে।

খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ অব্দে ব্যবিলনের সম্রাট দ্বিতীয় নেবুকাদনেজার (ইতিহাসে যিনি ‘বখতে নসর’ নামে পরিচিত) জেরুজালেম অবরোধ করেন। তাঁর বাহিনী শহরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে, সুলাইমান (আ.)-এর নির্মিত উপাসনালয়টি আগুনে পুড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয় এবং বেঁচে থাকা অভিজাতদের শিকলে বেঁধে ব্যবিলনে বন্দি করে নিয়ে যায়।

আর সেই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের সময়ই আসল ‘তাবুতে সাকীনা’ (Ark of the Covenant) ইতিহাসের পাতা থেকে চিরতরে হারিয়ে যায়, যা পরবর্তীকালের দ্বিতীয় উপাসনালয়েও আর কখনোই ফিরে পাওয়া যায়নি।

আল-ইসরাসূরা ১৭ · আয়াত ৪–৫سورة الإسراء
  1. وَقَضَيۡنَآ إِلَىٰ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ فِي ٱلۡكِتَٰبِ لَتُفۡسِدُنَّ فِي ٱلۡأَرۡضِ مَرَّتَيۡنِ وَلَتَعۡلُنَّ عُلُوࣰّ ا كَبِيرࣰ ا۝٤

    ৪. আর আমরা কিতাবে বনী ইসরাঈলকে জানিয়েছিলাম, যে, ‘অবশ্যই তোমরা পৃথিবীতে দুবার বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমরা অতিশয় অহংকারস্ফীত হবে।’

  2. فَإِذَا جَآءَ وَعۡدُ أُولَىٰهُمَا بَعَثۡنَا عَلَيۡكُمۡ عِبَادࣰ ا لَّنَآ أُوْلِي بَأۡسࣲ شَدِيدࣲ فَجَاسُواْ خِلَٰلَ ٱلدِّيَارِۚ وَكَانَ وَعۡدࣰ ا مَّفۡعُولࣰ ا۝٥

    ৫. অতঃপর এ দুটির প্রথমটির নির্ধারিত সময় যখন উপস্থিত হল তখন আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলাম, যুদ্ধে অত্যন্ত শক্তিশালী আমাদের বান্দাদেরকে; অতঃপর তারা ঘরে ঘরে প্রবেশ করে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। আর এটা ছিল এমন প্রতিশ্রুতি যা কার্যকর হওয়ারই ছিল।

পর্ব ৩ · দ্বিতীয় উপাসনালয় ও হেরোড

ব্যাবিলন থেকে ফেরা এবং রাজা হেরোডের বিশাল পাথুরে সম্প্রসারণ

সত্তর বছর পর পারস্যের সম্রাট সাইরাস যখন ব্যবিলন জয় করেন, তখন নির্বাসিত ইহুদিদের জেরুজালেমে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং খ্রিস্টপূর্ব ৫১৬ অব্দের দিকে তারা সেখানে তুলনামূলক ছোট আকারে দ্বিতীয় উপাসনালয় (Second Temple) নির্মাণ করে। এর কয়েক শতাব্দী পর (খ্রিস্টপূর্ব ২০ অব্দের দিকে) রোমানদের নিযুক্ত রাজা হেরোড (Herod the Great) এক বিশাল নির্মাণযজ্ঞ শুরু করেন। তিনি পাহাড়ের চারপাশ ঘিরে বিশাল বিশাল পাথরের দেয়াল (যার একটি অংশ আজকের বুরাক দেয়াল বা Western Wall) তুলে পুরো চত্বরটিকে বিশাল সমতল প্লাজায় রূপ দেন।

এই দ্বিতীয় উপাসনালয়ের প্রাঙ্গণেই হেঁটেছেন আল্লাহর তিনজন মহান নবী: যাকারিয়া (আ.), ইয়াহইয়া (আ.) এবং ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.), আর এখানেই ইবাদত করতেন পবিত্রা নারী মারইয়াম (আ.)।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই নবীদের সাথে কী আচরণ করা হয়েছিল? আল্লাহর নবী ইয়াহইয়া (আ.)-কে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো! আর ঈসা (আ.) যখন তৎকালীন ধর্মব্যবসায়ী ও ভণ্ড পুরোহিতদের মুখোশ খুলে দিলেন, তখন তারা রোমান গভর্নরের সাথে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করার চেষ্টা করল, যদিও আল্লাহ তাআলা ঈসা (আ.)-কে নিরাপদে আসমানে তুলে নিলেন (সূরা নিসা ৪:১৫৭-১৫৮)।

পর্ব ৪ · ৭০ খ্রিস্টাব্দ: রোমানদের হাতে দ্বিতীয় ধ্বংসযজ্ঞ

৭০ খ্রিস্টাব্দ: রোমান সেনাপতি টিটাসের বাহিনী যেভাবে দ্বিতীয় উপাসনালয়টি ধুলোয় মিশিয়ে দিল

আল্লাহ তাআলা ঈসা (আ.)-কে আসমানে তুলে নেওয়ার মাত্র কয়েক দশকের মাথায় নেমে এল দ্বিতীয় মহাবিপর্যয়। ৬৬ খ্রিস্টাব্দে রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে জেরুজালেমে তীব্র বিদ্রোহ শুরু হয়। চার বছর পর, ৭০ খ্রিস্টাব্দের গ্রীষ্মকালে রোমান সেনাপতি টিটাস (Titus) চারটি বিশাল রোমান লিজিয়ন নিয়ে জেরুজালেম অবরোধ করেন।

অবরুদ্ধ শহরের ভেতরে বিদ্রোহী উপদলগুলো নিজেরাই নিজেদের শস্যভাণ্ডার পুড়িয়ে ফেলেছিল! অবশেষে ৭০ খ্রিস্টাব্দের আগস্টে রোমান বাহিনী প্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে দ্বিতীয় উপাসনালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনের প্রচণ্ড তাপে উপাসনালয়ের সোনার পাতগুলো গলে পাথরের খাঁজে খাঁজে ঢুকে গিয়েছিল। আর সেই গলিত সোনা বের করার লোভে রোমান সৈন্যরা শাবল দিয়ে খুঁচিয়ে প্রতিটি পাথর একটির ওপর থেকে আরেকটি আলাদা করে ফেলে!

এর পঁয়ষট্টি বছর পর (১৩৫ খ্রিস্টাব্দে) বার কোখবা বিদ্রোহের পর রোমান সম্রাট হাদ্রিয়ান জেরুজালেমের ধ্বংসস্তূপের ওপর লাঙল চালিয়ে সমান করে দেন, শহরের নাম বদলে রাখেন ‘ইলিয়া ক্যাপিটোলিনা’ এবং সেখানে ইহুদিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

আর এর পরই ঘটে ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য ঘটনা! ৩৬৩ খ্রিস্টাব্দে পৌত্তলিক রোমান সম্রাট জুলিয়ান (Julian the Apostate) খ্রিস্টানদের জব্দ করার জন্য এবং ঈসা (আ.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা প্রমাণ করার জেদে জেরুজালেমে তৃতীয় মন্দির নির্মাণের সরকারি আদেশ দেন ও বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেন। কিন্তু শ্রমিকরা যখনই পুরোনো ভিত্তি খুঁড়তে শুরু করল, তখন কী ঘটল? খোদ সম্রাট জুলিয়ানের বন্ধু ও অ-খ্রিস্টান রোমান ইতিহাসবিদ অ্যামিয়ানাস মার্সেলিনাস (Ammianus Marcellinus) লিখে গেছেন: মাটির নিচের ভিত্তি থেকে হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিগোলক ও ভূমিকম্পের বিস্ফোরণ শুরু হয়, যা শ্রমিকদের যন্ত্রপাতি গলিয়ে দেয় এবং আগুনের ঝলকে কাজ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়!

আল-ইসরাসূরা ১৭ · আয়াত ৭سورة الإسراء
  1. إِنۡ أَحۡسَنتُمۡ أَحۡسَنتُمۡ لِأَنفُسِكُمۡۖ وَإِنۡ أَسَأۡتُمۡ فَلَهَاۚ فَإِذَا جَآءَ وَعۡدُ ٱلۡأٓخِرَةِ لِيَسُـُٔواْ وُجُوهَكُمۡ وَلِيَدۡخُلُواْ ٱلۡمَسۡجِدَ كَمَا دَخَلُوهُ أَوَّلَ مَرَّةࣲ وَلِيُتَبِّرُواْ مَا عَلَوۡاْ تَتۡبِيرًا۝٧

    ৭. তোমরা সৎকাজ করলে সৎকাজ নিজেদের জন্য করবে এবং মন্দকাজ করলে তাও করবে নিজেদের জন্য। তারপর পরবর্তী নির্ধারিত সময় উপস্থিত হলে (আমি আমার বান্দাদের পাঠালাম) তোমাদের মুখমণ্ডল কালিমাচ্ছন্ন করার জন্য, প্রথমবার তারা যেভাবে মসজিদে প্রবেশ করেছিল আবার সেভাবেই তাতে প্রবেশ করার জন্য এবং তারা যা অধিকার করেছিলো তা সম্পুর্ণভাবে ধ্বংস করার জন্য।

পর্ব ৫ · মিরাজের রাত ও উমর (রা.)-এর ঝাড়ু

আবর্জনার স্তূপ থেকে যেভাবে উমর (রা.)-এর নিজের হাতে আবার পবিত্র মসজিদে রূপ নিল আল-আকসা

বাইজেন্টাইন খ্রিস্টান শাসনামলে শত শত বছর ধরে জেরুজালেমের এই পবিত্র চত্বরটিকে পরিত্যক্ত ফেলে রাখা হয়েছিল, এমনকি শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছিল! এরপর এল সেই মহিমান্বিত ইসরা ও মিরাজের রাত, যে রাতে আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মদ ﷺ-কে মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে আল-মসজিদুল আকসায় নিয়ে আসেন এবং সেখানে তিনি ইবরাহীম, মূসা, দাউদ, সুলাইমান ও ঈসা (আলাইহিমুস সালাম)-সহ সমস্ত নবী-রাসূলের নামাজের ইমামতি করেন (সহীহ মুসলিম ১৭২)।

একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন এই ঘটনার অর্থ কী: ইবরাহীম, দাউদ, সুলাইমান ও ঈসা (আলাইহিমুস সালাম)-এর তাওহীদের উত্তরাধিকার ও এই পবিত্র মসজিদের আমানত আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হলো শেষ নবী মুহাম্মদ ﷺ ও তাঁর উম্মতের হাতে!

এরপর ১৫ হিজরীতে (৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে) যখন মুসলিম বাহিনী এক ফোঁটা রক্তপাত ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে জেরুজালেম বিজয় করে, তখন খ্রিস্টানদের প্রধান বিশপ সফ্রোনিয়াস শর্ত দেন যে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) নিজে এসে যেন চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। উমর (রা.) জেরুজালেমে এসে ঐতিহাসিক নিরাপত্তা চুক্তি (আল-উহদাতুল উমারিয়্যাহ) স্বাক্ষর করার পর দাউদ (আ.)-এর মেহরাব ও আল-আকসা চত্বর দেখতে চান।

সেখানে গিয়ে উমর (রা.) দেখলেন পুরো পবিত্র চত্বরটি বাইজেন্টাইনদের ফেলা ময়লা-আবর্জনার স্তূপে ঢাকা পড়ে আছে। তখন আমীরুল মুমিনীন কী করলেন জানেন? তিনি স্থানীয় কাউকে হুকুম দেননি; উমর (রা.) নিজে হাঁটু গেড়ে বসে নিজের গায়ের চাদর বিছিয়ে দুই হাত দিয়ে আবর্জনা তুলে নিজের কাঁধে করে বাইরে ফেলতে শুরু করলেন! খলিফাকে এই কাজ করতে দেখে সাহাবীরা ও মুসলিম সৈন্যরা সাথে সাথে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং পুরো আল-আকসা চত্বর পরিষ্কার করে দক্ষিণ প্রান্তে নামাজের মসজিদ নির্মাণ করলেন।

পর্ব ৬ · আজকের ‘থার্ড টেম্পল’ আন্দোলন ও হাদীসের ভবিষ্যদ্বাণী

আজকের ‘থার্ড টেম্পল’ আন্দোলনের ভেতরের খবর, এবং জেরুজালেম নিয়ে নবীজির ﷺ ভবিষ্যদ্বাণী

এখন প্রশ্ন হলো, আজ যারা ‘থার্ড টেম্পল’ বা তৃতীয় মন্দির নির্মাণের কথা বলছে, তাদের ব্যাপারে সাধারণ ইহুদি রাব্বিদের মত কী আর উগ্র অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপগুলোর মত কী?

এখানে এমন একটি জরুরি তথ্য আছে যা বেশিরভাগ ইউটিউব ভিডিওতে আপনাকে বলা হয় না: শত শত বছর ধরে মূলধারার অর্থোডক্স ইহুদি রাব্বিদের সর্বসম্মত ফতোয়া (যা ইমাম মাইমনিদেস লিপিবদ্ধ করেছেন এবং যা আজও আল-আকসার প্রবেশপথে চিফ রাব্বিনেটের সাইনবোর্ডে লেখা আছে) অনুযায়ী বর্তমানে কোনো ইহুদির জন্য টেম্পল মাউন্ট বা আল-আকসা চত্বরে পা রাখাও ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ (হারাম)! কারণ তাদের ধর্মীয় আইন অনুযায়ী বর্তমানে সবাই ‘মৃতের অশুচিতায়’ (Tamei Met) অপবিত্র এবং লাল বকনা গরুর ছাই ছাড়া কেউ সেখানে প্রবেশ করলে মহাপাপ হবে।

কিন্তু ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকে কয়েকটি নির্দিষ্ট আদর্শিক সংগঠন, বিশেষ করে জেরুজালেমে ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘দ্য টেম্পল ইনস্টিটিউট’ (Machon HaMikdash), ‘বোনেহ ইসরায়েল’ (Boneh Israel) এবং কিছু রিলিজিয়াস জায়নিস্ট অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ, রাব্বিদের সেই প্রাচীন নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ফেলার জন্য জোরেশোরে কাজ শুরু করেছে। তারা ইতিমধ্যেই তোরাহর বর্ণনা অনুযায়ী ৬০টিরও বেশি পূজার পাত্র (সোনার মেনোরাহ, রুপার শিঙা, বীণা ও পুরোহিতদের পোশাক) তৈরি করে রেখেছে, কোহেন বংশের তরুণদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং পবিত্রকরণের অনুষ্ঠানের জন্য টেক্সাস থেকে লাল বকনা গরু আমদানি করেছে।

তাহলে শেষ জামানায় বাইতুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম) সম্পর্কে আমাদের নবীজি ﷺ কী ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন? সুনানে আবু দাউদ (৪২৯৪) এবং মুসনাদে আহমদে (২২০২৩) মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে নবীজি ﷺ বলেছেন:
> ‘বাইতুল মুকাদ্দাসের আবাদ ও সমৃদ্ধি হবে ইয়াসরিব (মদিনা) জনশূন্য হওয়ার আলামত; ইয়াসরিব জনশূন্য হওয়া হবে মহাযুদ্ধ (আল-মালহামাহ) শুরু হওয়ার আলামত; মহাযুদ্ধ শুরু হওয়া হবে কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের আলামত; আর কনস্টান্টিনোপল বিজয় হবে দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের আলামত!’

আর দাজ্জাল যখন বের হয়ে বাইতুল মুকাদ্দাসে মুমিনদের অবরুদ্ধ করবে, তখনই আকাশ থেকে ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) অবতরণ করবেন, কাছেই ‘বাবে লুদ’-এ দাজ্জালকে বধ করবেন এবং এই বরকতময় ভূমি থেকেই পৃথিবীতে পূর্ণ ইনসাফ কায়েম করবেন। তাই বাইতুল মুকাদ্দাসের চূড়ান্ত ফয়সালা আল্লাহর হাতেই নির্ধারিত।

সুনানে আবু দাউদহাদীস নং ৪২৯৪হাসানسنن أبي داودرقم ٤٢٩٤

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ عُمْرَانُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ خَرَابُ يَثْرِبَ وَخَرَابُ يَثْرِبَ خُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ وَخُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ فَتْحُ قُسْطَنْطِينِيَّةَ وَفَتْحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ خُرُوجُ الدَّجَّالِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى فَخِذِ الَّذِي حَدَّثَ - أَوْ مَنْكِبِهِ - ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذَا لَحَقٌّ كَمَا أَنَّكَ هَا هُنَا أَوْ كَمَا أَنَّكَ قَاعِدٌ ‏.‏ يَعْنِي مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ ‏.‏

মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল মাকদিসে বসতি স্থাপন ইয়াসরিবের বিপর্যয়ের কারণ হবে এবং ইয়াসরিবের বিপর্যয় সংঘাতের কারণ হবে। যুদ্ধের ফলে কুসতুনতীনিয়া বিজিত হবে এবং কুসতুনতীনিয়া বিজয় দাজ্জালের আবির্ভাবের আলামত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন তার ঊরুতে বা কাঁধে নিজের হাত দ্বারা মৃদু আঘাত করে বলেন, এটা নিশ্চিত সত্য, যেমন তুমি এখানে উপস্থিত, যেমন তুমি এখানে বসা আছো। অর্থাৎ তিনি মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে লক্ষ করে বলেন।[1] হাসান।

সহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৯৩৭aসহিহবর্ণনাকারী: নাওওয়াস ইবনু সাম’আন (রাযিঃ)صحيح مسلمرقم ٢٩٣٧a

حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ جَابِرٍ الطَّائِيُّ، قَاضِي حِمْصَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ، جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ الْحَضْرَمِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ النَّوَّاسَ بْنَ سَمْعَانَ الْكِلاَبِيَّ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ الطَّائِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ، نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ، قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الدَّجَّالَ ذَاتَ غَدَاةٍ فَخَفَّضَ فِيهِ وَرَفَّعَ حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ فَلَمَّا رُحْنَا إِلَيْهِ عَرَفَ ذَلِكَ فِينَا فَقَالَ ‏"‏ مَا شَأْنُكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَكَرْتَ الدَّجَّالَ غَدَاةً فَخَفَّضْتَ فِيهِ وَرَفَّعْتَ حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ غَيْرُ الدَّجَّالِ أَخْوَفُنِي عَلَيْكُمْ إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ وَإِنْ يَخْرُجْ وَلَسْتُ فِيكُمْ فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ إِنَّهُ شَابٌّ قَطَطٌ عَيْنُهُ طَافِئَةٌ كَأَنِّي أُشَبِّهُهُ بِعَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قَطَنٍ فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأْ عَلَيْهِ فَوَاتِحَ سُورَةِ الْكَهْفِ إِنَّهُ خَارِجٌ خَلَّةً بَيْنَ الشَّأْمِ وَالْعِرَاقِ فَعَاثَ يَمِينًا وَعَاثَ شِمَالاً يَا عِبَادَ اللَّهِ فَاثْبُتُوا ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا لَبْثُهُ فِي الأَرْضِ قَالَ ‏"‏ أَرْبَعُونَ يَوْمًا يَوْمٌ كَسَنَةٍ وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَسَنَةٍ أَتَكْفِينَا فِيهِ صَلاَةُ يَوْمٍ قَالَ ‏"‏ لاَ اقْدُرُوا لَهُ قَدْرَهُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا إِسْرَاعُهُ فِي الأَرْضِ قَالَ ‏"‏ كَالْغَيْثِ اسْتَدْبَرَتْهُ الرِّيحُ فَيَأْتِي عَلَى الْقَوْمِ فَيَدْعُوهُمْ فَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَجِيبُونَ لَهُ فَيَأْمُرُ السَّمَاءَ فَتُمْطِرُ وَالأَرْضَ فَتُنْبِتُ فَتَرُوحُ عَلَيْهِمْ سَارِحَتُهُمْ أَطْوَلَ مَا كَانَتْ ذُرًا وَأَسْبَغَهُ ضُرُوعًا وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ ثُمَّ يَأْتِي الْقَوْمَ فَيَدْعُوهُمْ فَيَرُدُّونَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ فَيَنْصَرِفُ عَنْهُمْ فَيُصْبِحُونَ مُمْحِلِينَ لَيْسَ بِأَيْدِيهِمْ شَىْءٌ مِنْ أَمْوَالِهِمْ وَيَمُرُّ بِالْخَرِبَةِ فَيَقُولُ لَهَا أَخْرِجِي كُنُوزَكِ ‏.‏ فَتَتْبَعُهُ كُنُوزُهَا كَيَعَاسِيبِ النَّحْلِ ثُمَّ يَدْعُو رَجُلاً مُمْتَلِئًا شَبَابًا فَيَضْرِبُهُ بِالسَّيْفِ فَيَقْطَعُهُ جَزْلَتَيْنِ رَمْيَةَ الْغَرَضِ ثُمَّ يَدْعُوهُ فَيُقْبِلُ وَيَتَهَلَّلُ وَجْهُهُ يَضْحَكُ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ فَيَنْزِلُ عِنْدَ الْمَنَارَةِ الْبَيْضَاءِ شَرْقِيَّ دِمَشْقَ بَيْنَ مَهْرُودَتَيْنِ وَاضِعًا كَفَّيْهِ عَلَى أَجْنِحَةِ مَلَكَيْنِ إِذَا طَأْطَأَ رَأَسَهُ قَطَرَ وَإِذَا رَفَعَهُ تَحَدَّرَ مِنْهُ جُمَانٌ كَاللُّؤْلُؤِ فَلاَ يَحِلُّ لِكَافِرٍ يَجِدُ رِيحَ نَفَسِهِ إِلاَّ مَاتَ وَنَفَسُهُ يَنْتَهِي حَيْثُ يَنْتَهِي طَرْفُهُ فَيَطْلُبُهُ حَتَّى يُدْرِكَهُ بِبَابِ لُدٍّ فَيَقْتُلُهُ ثُمَّ يَأْتِي عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ قَوْمٌ قَدْ عَصَمَهُمُ اللَّهُ مِنْهُ فَيَمْسَحُ عَنْ وُجُوهِهِمْ وَيُحَدِّثُهُمْ بِدَرَجَاتِهِمْ فِي الْجَنَّةِ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أَوْحَى اللَّهُ إِلَى عِيسَى إِنِّي قَدْ أَخْرَجْتُ عِبَادًا لِي لاَ يَدَانِ لأَحَدٍ بِقِتَالِهِمْ فَحَرِّزْ عِبَادِي إِلَى الطُّورِ ‏.‏ وَيَبْعَثُ اللَّهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ فَيَمُرُّ أَوَائِلُهُمْ عَلَى بُحَيْرَةِ طَبَرِيَّةَ فَيَشْرَبُونَ مَا فِيهَا وَيَمُرُّ آخِرُهُمْ فَيَقُولُونَ لَقَدْ كَانَ بِهَذِهِ مَرَّةً مَاءٌ ‏.‏ وَيُحْصَرُ نَبِيُّ اللَّهُ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ حَتَّى يَكُونَ رَأْسُ الثَّوْرِ لأَحَدِهِمْ خَيْرًا مِنْ مِائَةِ دِينَارٍ لأَحَدِكُمُ الْيَوْمَ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ فَيُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهُمُ النَّغَفَ فِي رِقَابِهِمْ فَيُصْبِحُونَ فَرْسَى كَمَوْتِ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمَّ يَهْبِطُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى الأَرْضِ فَلاَ يَجِدُونَ فِي الأَرْضِ مَوْضِعَ شِبْرٍ إِلاَّ مَلأَهُ زَهَمُهُمْ وَنَتْنُهُمْ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى اللَّهِ فَيُرْسِلُ اللَّهُ طَيْرًا كَأَعْنَاقِ الْبُخْتِ فَتَحْمِلُهُمْ فَتَطْرَحُهُمْ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ مَطَرًا لاَ يَكُنُّ مِنْهُ بَيْتُ مَدَرٍ وَلاَ وَبَرٍ فَيَغْسِلُ الأَرْضَ حَتَّى يَتْرُكَهَا كَالزَّلَفَةِ ثُمَّ يُقَالُ لِلأَرْضِ أَنْبِتِي ثَمَرَتَكِ وَرُدِّي بَرَكَتَكِ ‏.‏ فَيَوْمَئِذٍ تَأْكُلُ الْعِصَابَةُ مِنَ الرُّمَّانَةِ وَيَسْتَظِلُّونَ بِقِحْفِهَا وَيُبَارَكُ فِي الرِّسْلِ حَتَّى أَنَّ اللِّقْحَةَ مِنَ الإِبِلِ لَتَكْفِي الْفِئَامَ مِنَ النَّاسِ وَاللِّقْحَةَ مِنَ الْبَقَرِ لَتَكْفِي الْقَبِيلَةَ مِنَ النَّاسِ وَاللِّقْحَةَ مِنَ الْغَنَمِ لَتَكْفِي الْفَخِذَ مِنَ النَّاسِ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً فَتَأْخُذُهُمْ تَحْتَ آبَاطِهِمْ فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ وَكُلِّ مُسْلِمٍ وَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ يَتَهَارَجُونَ فِيهَا تَهَارُجَ الْحُمُرِ فَعَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ ‏"‏ ‏.‏

আবু খাইসামাহ, যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রাযী (রহঃ) ..... নাওওয়াস ইবনু সাম’আন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। আলোচনার সময় তিনি তার ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেন। পরে অনেক গুরুত্ব সহকারে উপস্থিত করেন যাতে তাকে আমরা ঐ বৃক্ষরাজির নির্দিষ্ট এলাকায় (আবাসস্থল সম্পর্কে) ধারণা করতে লাগলাম। এরপর আমরা সন্ধ্যায় আবার তার কাছে গেলাম। তিনি আমাদের মধ্যে এর প্রভাব দেখতে পেয়ে বললেন, তোমাদের ব্যাপার কি? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি সকালে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এতে আপনি কখনো ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেছেন, আবার কখনো তার ব্যক্তিত্বকে বড় করে তুলে ধরেছেন। ফলে আমরা মনে করেছি যে, দাজ্জাল বুঝি এ বাগার মধ্যেই বিদ্যমান। এ কথা শুনে তিনি বললেন, দাজ্জাল নয়, বরং তোমাদের ব্যাপারে অন্য কিছুর আমি অধিক ভয় করছি। তবে শোন, আমি তোমাদের) মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। তোমাদের প্রয়োজন হবে না। আর যদি আমি তোমাদের মাঝে না থাকাবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয়, তবে প্রত্যেক মুমিন লোক নিজের পক্ষ হতে তাকে প্রতিহত করবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহ তা’আলাই হলেন আমার পক্ষ হতে তত্ত্বাবধানকারী। দাজ্জাল যুবক এবং ঘন চুল বিশিষ্ট হবে, চোখ আঙ্গুরের ন্যায় হবে। আমি তাকে কাফির ‘আবদুল উয্যা ইবনু কাতান এর মতো মনে করছি। তোমাদের যে কেউ দাজ্জালের সময়কাল পাবে সে যেন সূরা আল-কাহফ-এর প্রথমোক্ত আয়াতসমূহ পাঠ করে। সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপথ হতে আবির্ভূত হবে। সে ডানে-বামে দুর্যোগ সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা অটল থাকবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে পৃথিবীতে কয়দিন অবস্থান করবে? উত্তরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, চল্লিশদিন পর্যন্ত। এর প্রথম দিনটি এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের দিনসমূহের মতই হবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! যেদিন এক বছরের সমান হবে, সেটাতে এক দিনের সালাতই কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? উত্তরে তিনি বললেন, না, বরং তোমরা এদিন হিসাব করে তোমাদের দিনের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে নিবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! দুনিয়াতে দাজ্জালের অগ্রসরতা কি রকম বৃদ্ধি পাবে? তিনি বললেন, বাতাসের প্রবাহ মেঘমালাকে যে রকম হাকিয়ে নিয়ে যায়। সে এক কাওমের কাছে এসে তাদেরকে কুফুরীর দিকে ডাকবে। তারা তার উপর ঈমান আনবে এবং তার আহ্বানে সাড়া দিবে। অতঃপর সে আকাশমণ্ডলীকে আদেশ করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং ভূমিকে নির্দেশ দিবে, ফলে ভূমি গাছ-পালা ও শস্য উৎপন্ন করবে। তারপর সন্ধ্যায় তাদের গবাদি পশুগুলো পূর্বের চেয়ে বেশি লম্বা কুজ, প্রশস্ত স্তন এবং পেটভর্তি অবস্থায় তাদের কাছে ফিরে আসবে। তারপর দাজ্জাল অপর এক কাওমেরর কাছে আসবে এবং তাদেরকে কুফুরীর প্রতি ডাকবে। তারা তার কথাকে উপেক্ষা করবে। ফলে সে তাদের নিকট হতে প্রত্যাবর্তন করবে। আমনি তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও পানির অনটন দেখা দিবে এবং তাদের হাতে তাদের ধন-সম্পদ কিছুই থাকবে না। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে সেটাকে সম্বোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন জমিনের ধন-ভাণ্ডার বের হয়ে তার চতুষ্পার্শে একত্রিত হতে থাকবে, যেমন মধু মক্ষিকা তাদের সর্দারের চারপাশে সমবেত হয়। অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে তীরের লক্ষ্যস্থলের ন্যায় দুটুকরো করে ফেলবে। তারপর সে আবার তাকে আহবান করবে। যুবক আলোকময় হাস্যোজ্জল চেহারায় তার সম্মুখে এগিয়ে আসবে। এ সময় আল্লাহ রববুল আলামীন ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) কে প্রেরণ করবেন। তিনি দু' ফেরেশতার কাঁধের উপর ভর করে ওয়ারস ও জাফরান রং এর জোড়া কাপড় পরিহিত অবস্থায় দামেশক নগরীর পূর্ব দিকের উজ্জ্বল মিনারে অবতরণ করবেন। যখন তিনি তার মাথা ঝুঁকবেন তখন ফোটা ফোটা ঘাম তার শরীর থেকে গড়িয়ে পড়বে। তিনি যে কোন কফিরের কাছে যাবেন সে তার শ্বাসের বাতাসে ধ্বংস হয়ে যাবে। তার দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত যাবে তাঁর শ্বাসও ততদূর পর্যন্ত পৌছবে। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করতে থাকবেন। অবশেষে তাকে বাবে লুদ নামক স্থানে গিয়ে পাকড়াও করবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর ঈসা (আঃ) ঐ সম্প্রদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। ঈসা (আঃ) তাদের কাছে গিয়ে তাদের চেহারায় হাত বুলিয়ে জান্নাতে তাদের স্থানসমূহের ব্যাপারে খবর দিবেন। এমন সময় আল্লাহ তা’আলা ঈসা (আঃ) এর প্রতি এ মর্মে ওয়াহী অবতীর্ণ করবেন যে, আমি আমার এমন বান্দাদের আবির্ভাব ঘটেয়েছি, যাদের সঙ্গে কারোই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তুমি আমার মুমিন বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও। তখন আল্লাহ তা’আলা ইয়াজুজ-মাজুজ কাওমকে পাঠাবেন। তারা ছাড়া পেয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলটি "বুহাইরায়ে তাবরিয়া"র (ভূমধ্যসাগর) উপকূলে এসে এর সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে দিবে। তারপর তাদের সর্বশেষ দলটি এ স্থান দিয়ে যাত্রাকালে বলবে, এ সমুদ্রে কোন সময় পানি ছিল কি? তারা আল্লাহর নবী ঈসা (আঃ) এবং তার সাথীদেরকে অবরোধ করে রাখবে। ফলে তাদের নিকট একটি বলদের মাথা বর্তমানে তোমাদের নিকট একশ দীনারের মূল্যের চেয়েও অধিক মূল্যবান প্রতিপন্ন হবে। তখন আল্লাহর নবী ঈসা (আঃ) এবং তার সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। ফলে আল্লাহ তা’আলা ইয়া'জুজ-মা'জুজ সম্প্রদায়ের প্রতি আযাব পাঠাবেন। তাদের ঘাড়ে এক প্রকার পোকা হবে। এতে একজন মানুষের মৃত্যুর মতো তারাও সবাই মরে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তারপর ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ পাহাড় হতে জমিনে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু তারা অর্ধ হাত জায়গাও এমন পাবেন না যথায় তাদের পচা লাশ ও লাশের দুর্গন্ধ নেই। অতঃপর ‘ঈসা (আঃ) এবং তার সঙ্গীগণ পুনরায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। তখন আল্লাহ তা’আলা উটের ঘাড়ের মতো লম্বা এক ধরনের পাখি পাঠাবেন। তারা তাদেরকে বহন করে আল্লাহর ইচ্ছানুসারে কোন স্থানে নিয়ে ফেলবে। এরপর আল্লাহ এমন মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যার ফলে কাঁচা-পাকা কোন গৃহই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এতে জমিন বিধৌত হয়ে উদ্ভিদ শূন্য মৃত্তিকায় পরিণত হবে। অতঃপর পুনরায় জমিনকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হবে যে, হে জমিন! তুমি আবার শস্য উৎপন্ন করো এবং তোমার বারাকাত ফিরিয়ে দাও। সেদিন একদল মানুষ একটি ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর বাকলের নীচে লোকেরা ছায়া গ্রহণ করবে। দুধের মধ্যে বারাকাত হবে। ফলে দুগ্ধবতী একটি উটই একদল মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে, দুগ্ধবতী একটি গাভী একগোত্রীয় মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে এবং যথেষ্ট হবে দুগ্ধবতী একটি বকরী এক দাদার সন্তানদের (একটি ছোট গোত্রের) জন্য। এ সময় আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রেরণ করবেন। এ বায়ু সকল মুমিন লোকদের বগলে গিয়ে লাগবে এবং সমস্ত মুমিন মুসলিমদের রূহ কবয করে নিয়ে যাবে। তখন একমাত্র মন্দ লোকেরাই এ পৃথিবীতে বাকী থাকবে। তারা গাধার ন্যায় পরস্পর একে অন্যের সাথে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। এদের উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১০৬. ইসলামিক সেন্টার)

⚖️

আল-আকসা ও থার্ড টেম্পল: ভাইরাল গুজব বনাম ঐতিহাসিক সত্য

ভাইরাল গুজব থেকে আসল তথ্য আলাদা করে দেখুন।

❌ ভাইরাল দাবি #1

আল-মসজিদুল আকসা মানে শুধু দক্ষিণ দিকের রুপালি গম্বুজের মসজিদটি, অথবা শুধু সোনালি গম্বুজের ডোম অব দ্য রক।

✅ আসল সত্য

ইসলামী শরীয়ত ও ইতিহাস অনুযায়ী চারপাশের দেয়াল ঘেরা পুরো ১৪৪ দুনাম (৩৫ একর) চত্বরটিই হলো ‘আল-মসজিদুল আকসা’, যার ভেতরে কিবলী মসজিদ, কুব্বাতুস সাখরা (ডোম অব দ্য রক) এবং খোলা চত্বর সবই অন্তর্ভুক্ত।

❌ ভাইরাল দাবি #2

সব ইহুদি ধর্মীয় আলেম বা রাব্বি আজ আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ এবং তৃতীয় মন্দির নির্মাণের ব্যাপারে একমত।

✅ আসল সত্য

সনাতন অর্থোডক্স রাব্বিদের ফতোয়া অনুযায়ী অপবিত্রতার (Tamei Met) কারণে বর্তমানে ওই চত্বরে পা রাখাও নিষিদ্ধ। সেখানে প্রবেশ ও মন্দির নির্মাণের তৎপরতা চালাচ্ছে মূলত ‘টেম্পল ইনস্টিটিউট’ ও ‘বোনেহ ইসরায়েল’-এর মতো নির্দিষ্ট কিছু অ্যাক্টিভিস্ট সংগঠন।

🛡️ এই ফিতনা থেকে বাঁচতে নবীজি ﷺ আমাদের কী করতে বলেছেন

সূরা আল-কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করুন

'যে ব্যক্তি সূরা আল-কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জাল থেকে রক্ষা পাবে।'

Muslim 809a

প্রতি সালাতে আশ্রয় চান

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

শেষ তাশাহহুদের পর: 'হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামের শাস্তি থেকে, কবরের শাস্তি থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে।'

Muslim 588a

সাধারণ জিজ্ঞাসা ও সরাসরি উত্তর

তরুণদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও সহীহ দলীলভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তর

জেরুজালেমের একটিমাত্র পাহাড় কীভাবে দুটি প্রাচীন ধ্বংসযজ্ঞ, উমর (রা.)-এর হাতে পুনর্জাগরণ এবং আজকের ‘থার্ড টেম্পল’ আন্দোলনের সাক্ষী হলো, আর এ বিষয়ে সহীহ হাদীস কী বলে?

জেরুজালেমের বুকে মাত্র ৩৫ একরের একটি পাথুরে চত্বর আজ পুরো পৃথিবীর রাজনীতি ও ধর্মীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আজকের খবরের কাগজে ‘থার্ড টেম্পল’ বা তৃতীয় মন্দিরের যে আলোচনা দেখেন, তা বুঝতে হলে আপনাকে প্রথমে আল-আকসার গত ৩,০০০ বছরের রোমাঞ্চকর ইতিহাসের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হবে।

কোনো ভুল চোখে পড়েছে?

হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।

সংশোধনের প্রস্তাব বা ভুল রিপোর্ট করুন

হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।

বিষয়