أَوۡ يَكُونَ لَكَ بَيۡتࣱ مِّن زُخۡرُفٍ أَوۡ تَرۡقَىٰ فِي ٱلسَّمَآءِ وَلَن نُّؤۡمِنَ لِرُقِيِّكَ حَتَّىٰ تُنَزِّلَ عَلَيۡنَا كِتَٰبࣰ ا نَّقۡرَؤُهُۥۗ قُلۡ سُبۡحَانَ رَبِّي هَلۡ كُنتُ إِلَّا بَشَرࣰ ا رَّسُولࣰ ا٩٣
৯৩. ‘অথবা তোমার একটি সোনার তৈরি ঘর হবে অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে, কিন্তু তোমার আকাশ আরোহণে আমরা কখনো ঈমান আনবো না যতক্ষণ তুমি আমাদের প্রতি এক কিতাব নাযিল না করবে যা আমরা পাঠ করব।’ বলুন, ‘পবিত্র মহান আমার রব! আমি তো হচ্ছি শুধু একজন মানুষের রাসুল।’
দাজ্জালের আসল পরিচয়: মদিনার কিশোর ইবনে সাইয়্যাদ
৬০ ফুট লম্বা দানবের গুজব কিংবা ‘দাজ্জাল মানে শুধুই আধুনিক টেকনোলজি’ থিওরি ভুলে যান। দেখুন মদিনার অলিগলিতে ইবনে সাইয়্যাদকে পরখ করতে গিয়ে নবীজি ﷺ আমাদের কী কী ক্লু দিয়ে গেছেন।
- প্রকাশিত
- ১৬ মিনিট লাগবে
দাজ্জাল কি কোনো অতিকায় দানব, কোনো অদৃশ্য সিস্টেম বা টেকনোলজি, নাকি রক্ত-মাংসের একজন মানুষ? এর সবচেয়ে পরিষ্কার উত্তর লুকিয়ে আছে সহীহ বুখারী ও মুসলিমের এক দারুণ ঘটনায়: যখন নবীজি ﷺ উমর (রা.)-কে সাথে নিয়ে মদিনার খেজুর বাগানের আড়াল থেকে ইবনে সাইয়্যাদ নামের এক রহস্যময় কিশোরকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
দাজ্জাল দেখতে কেমন? এই প্রশ্নটা যদি দশজন মানুষকে করেন, দেখবেন অর্ধেক মানুষ বলবে সে আকাশছোঁয়া বিশাল এক দানব। আর বাকি অর্ধেক হয়তো বলবে, ‘আরে ভাই, দাজ্জাল কোনো মানুষই না! এটা হলো আধুনিক টেকনোলজি, এআই (AI) বা গ্লোবাল সিস্টেমের রূপক নাম।’
মজার ব্যাপার হলো, এই দুই দলই নবীজির ﷺ আসল কথাটা মিস করেছে।
সহীহ হাদীসের আলোকে আল-মাসীহ আদ-দাজ্জাল হলো আদম (আ.)-এর বংশধর রক্ত-মাংসের একজন সাধারণ মানুষ। সে খাবার খায়, বাজারে হাঁটে, কথা বলে এবং শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনের ‘বাবে লুদ’ নামক স্থানে ঈসা (আ.)-এর হাতে মারা যাবে। কিন্তু তার নামের সাথে ‘মাসীহ’ শব্দটা কেন আছে? ইমাম নববী (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন, ঈসা (আ.) হলেন হেদায়াতের মাসীহ (যাঁর ছোঁয়ায় আল্লাহর হুকুমে অন্ধ ও কুষ্ঠরোগী ভালো হতো), আর দাজ্জাল হলো গোমরাহীর মাসীহ। কারণ তার একটি চোখ ‘মামসূহ’ (মোছা বা অন্ধ) এবং সে মাত্র চল্লিশ দিনে পুরো পৃথিবী চষে বেড়াবে।
দ্বীপের হাদীসে (সহীহ মুসলিম ২৯৪২) তামীম আদ-দারী (রা.) বন্দি মানুষটিকে ‘আ’যামু ইনসানিন রাআইনাহু খালকান’ বা ‘আমাদের দেখা সবচেয়ে বিশাল গড়নের মানুষ’ বলেছিলেন। এর মানে কিন্তু ৬০ ফুট লম্বা কোনো দৈত্য নয়! আরবিতে এর মানে হলো অত্যন্ত চওড়া কাঁধ ও শক্তিশালী পেশিবহুল দেহের মানুষ, ঠিক যেমন আমরা কোনো হেভিওয়েট কুস্তিগীরকে দেখে বলি। কীভাবে আমরা এত নিশ্চিত হলাম? তার প্রমাণ আছে খোদ মদিনার অলিগলির এক ঘটনায়!
মদিনার ইহুদি পাড়ায় সাফ (ইবনে সাইয়্যাদ) নামে এক অদ্ভুত কিশোর বাস করত। সে মদিনার আর দশটা ছেলের মতোই রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াত, কিন্তু তার মধ্যে কিছু রহস্যময় আচরণ ছিল। সে গণকদের মতো বিড়বিড় করে কথা বলত এবং দাবি করত তার কাছে গায়েবি খবর আসে।
একদিন নবীজি ﷺ উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে সাথে নিয়ে বের হলেন। বনু মাগালা দুর্গের কাছে গিয়ে দেখলেন ইবনে সাইয়্যাদ অন্য ছেলেদের সাথে খেলছে। নবীজি ﷺ চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকা ইবনে সাইয়্যাদের বিড়বিড়ানি শোনার জন্য খেজুর গাছের গুঁড়ির আড়ালে পা টিপে টিপে এগোলেন, যেন ছেলেটি তাঁকে আগেভাগে দেখে না ফেলে (সহীহ বুখারী ১৩৫৪, সহীহ মুসলিম ২৯৩০)।
খেজুর বাগানে সেই রুদ্ধশ্বাস প্রশ্নোত্তর
নবীজি ﷺ কাছে গিয়ে তার পিঠে হাত রাখলেন। এরপর তাদের মধ্যে এক টানটান কথোপকথন হলো:
- গোপন পরীক্ষা: নবীজি ﷺ মনে মনে সূরা দুখানের ১০ নম্বর আয়াত (‘অপেক্ষা করো সেদিনের, যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে’) গোপন রেখে ইবনে সাইয়্যাদকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বলো তো, আমি তোমার জন্য মনে কী লুকিয়ে রেখেছি?’
- অর্ধেক উত্তর: ইবনে সাইয়্যাদ পুরো আয়াতটি বলতে পারল না। জ্বিন-সাধক গণকরা যেমন ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দ শোনে, সেভাবে তোতলাতে তোতলাতে বলল: ‘আদ-দুখ!’
- নবীজির ﷺ ধমক: নবীজি ﷺ তাকে কড়া ভাষায় বললেন: ‘দূর হও! তুমি কখনোই তোমার সীমা (গণকের স্তর) পেরোতে পারবে না!’
- উমর (রা.)-এর প্রতিক্রিয়া: উমর (রা.) সাথে সাথে তলোয়ারে হাত রেখে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এর গর্দান উড়িয়ে দিই!’ নবীজি ﷺ তাঁকে থামিয়ে এক ঐতিহাসিক মূলনীতি জানিয়ে দিলেন: ‘সে যদি সত্যিই দাজ্জাল হয়, তবে তুমি তাকে হত্যা করতে পারবে না (কারণ তাকে হত্যা করবেন ঈসা আ.)। আর সে যদি দাজ্জাল না হয়, তবে তাকে হত্যা করায় তোমার কোনো কল্যাণ নেই।’
পরবর্তীতে ইবনে সাইয়্যাদের কী পরিণতি হয়েছিল?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, মদিনার সেই কিশোর ইবনে সাইয়্যাদ শেষ পর্যন্ত কী করল? সহীহ মুসলিমে (২৯২৭) সাহাবী আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.)-এর সাথে তার এক হৃদয়স্পর্শী সফরের বর্ণনা আছে। তাঁরা দুজনে একসাথে হজের সফরে যাচ্ছিলেন। মানুষ ইবনে সাইয়্যাদকে দেখে কানাঘুষা করছিল আর দূরে সরে যাচ্ছিল।
ইবনে সাইয়্যাদ তখন কেঁদে ফেলে আবু সাঈদ (রা.)-কে বলেছিল: ‘মানুষের কথায় আমার গলায় দড়ি দিতে ইচ্ছে করছে! আপনারা কি নবীজির হাদিস শোনেননি যে দাজ্জালের কোনো সন্তান হবে না? অথচ মদিনায় আমার সন্তান আছে! নবীজি কি বলেননি দাজ্জাল মক্কা ও মদিনায় ঢুকতে পারবে না? অথচ আমি মদিনা থেকে বের হয়ে এই যে মক্কায় হজে যাচ্ছি! আর নবীজি বলেছেন দাজ্জাল কাফির হবে, অথচ আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি!’
আবু সাঈদ (রা.) বলেন, তার এই যুক্তি শুনে আমার খুব মায়া হলো। কিন্তু কথার একদম শেষে ইবনে সাইয়্যাদ আবার এক রহস্যময় কথা বলে বসল: ‘তবে আল্লাহর কসম! আমি জানি আসল দাজ্জাল কোথায় আছে, এবং তার মা-বাবা কে!’ এতে আবু সাঈদ (রা.) আবার অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন। পরবর্তীতে ৬৩ হিজরীতে মদিনার ঐতিহাসিক ‘হাররার যুদ্ধে’ ইবনে সাইয়্যাদ অংশগ্রহণ করে এবং যুদ্ধের ময়দানে নিখোঁজ হয়ে যায়; এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নবীজি ﷺ কেন দাজ্জালের চেহারা, চুল, চোখ আর হাঁটার স্টাইল এত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বর্ণনা করেছেন? কারণ দাজ্জাল যখন আসবে, তখন সে মানুষের চোখ ধাঁধানো সব ভেলকি দেখাবে: আকাশ থেকে বৃষ্টি নামাবে, মরুভূমিতে ফসল ফলাবে, এমনকি শয়তানদের সাহায্যে মৃত মানুষের রূপ ধরে ধোঁকা দেবে। তখন মানুষ যদি তার ‘অলৌকিক ক্ষমতা’ দেখতে যায়, তবে ধোঁকা খেয়ে যাবে। তাই নবীজি ﷺ আমাদের হাতে এমন এক ভিজ্যুয়াল ‘আইডি কার্ড’ ধরিয়ে দিয়েছেন যা দাজ্জাল শত চেষ্টা করেও এডিট করতে বা লুকাতে পারবে না:
- ১. দেহের গড়ন ও গায়ের রঙ: সে হবে যুবক (শাব্ব), উচ্চতায় খাটো (কাসীর), কিন্তু দেখতে অত্যন্ত চওড়া ও ভারী পেশিবহুল দেহের অধিকারী (জাসীম)। তার গায়ের রঙ হবে লালচে ফর্সা (আহমার)।
- ২. চুলের ধরন: তার মাথার চুল হবে প্রচণ্ড কোঁকড়ানো ও ঘন (কাতাত), দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন সাপের কুণ্ডলী।
- ৩. হাঁটার স্টাইল: তার দুই পায়ের পাতা ও হাঁটুর মাঝখানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ফাঁক থাকবে (আফহাজ), অর্থাৎ সে পা ফাঁক করে বাঁকা হয়ে হাঁটবে।
- ৪. অন্ধ চোখ ও ফোলা আঙুরের মতো দাগ: তার একটি চোখ থাকবে একদম সমান ও জ্যোতিহীন (মামসূহ), আর অন্য চোখটি থাকবে ফোলা আঙুরের মতো বেরিয়ে আসা (ইনাবাহ তাফিয়াহ), যার কোণায় মোটা চামড়ার পর্দা থাকবে। নবীজি ﷺ সবচেয়ে সহজ পাসওয়ার্ডটি শিখিয়ে দিয়েছেন: ‘জেনে রেখো, তোমাদের রব কিন্তু একচোখা (কানা) নন!’ (সহীহ বুখারী ৭১৩১)।
- ৫. কপালের লেখা (কা-ফা-রা): তার দুই ভ্রুর মাঝখানে কপালে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা থাকবে ك ف ر (কাফির)। সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা হলো, যে মুমিন লেখাপড়া জানে সেও এটি পড়তে পারবে, আবার যে মুমিন অক্ষরজ্ঞানহীন সেও পরিষ্কার পড়তে পারবে (সহীহ মুসলিম ২৯৩৩)!
- ৬. নিঃসন্তান: সে নিজেকে খোদা দাবি করবে, অথচ তার কোনো সন্তান হবে না (লা ইউলাদু লাহু)। সে হবে সম্পূর্ণ বন্ধ্যা (সহীহ মুসলিম ২৯২৭)।
ইউটিউব শর্টস বা অনেক ওয়াজে আপনি নিশ্চয়ই এই গল্পটা শুনেছেন: ‘দাজ্জালের বাবা-মা ৩০ বছর নিঃসন্তান থাকবে, তার বাবা হবে লম্বা ও পাখির ঠোঁটের মতো নাকওয়ালা, মা হবে স্থূলদেহী, আর দাজ্জাল জন্মের পর চোখ খোলা রেখে ঘুমাবে...’
একটু থামুন! এই বর্ণনাটি কি আসলেই সহীহ?
এই বর্ণনাটি জামে তিরমিযী (২২৪৮) এবং মুসনাদে আহমদে এসেছে। কিন্তু হাদীস বিশারদদের মতে এর সনদ যঈফ (দুর্বল)। কারণ এই হাদীসটির সনদে আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জুদআন নামের একজন বর্ণনাকারী আছেন। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আবু যুরআহ এবং আধুনিক যুগের মুহাদ্দিস শায়খ আলবানী (রহ.) সবাই তাঁকে স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে ‘যঈফ’ বলেছেন।
তাহলে তার বংশ ও পরিবার সম্পর্কে সহীহ হাদীসে কী প্রমাণিত?
- সে ইহুদি বংশোদ্ভূত হবে (সহীহ মুসলিমে ইবনে সাইয়্যাদের ঘটনা এবং ইসফাহানের ৭০ হাজার শাল পরিহিত ইহুদি অনুসারীর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, সহীহ মুসলিম ২৯৪৪)।
- প্রচণ্ড কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা রাগের (গাদবাহ ইয়াগদাবুহা) ঘটনা থেকে তার প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ ঘটবে (সহীহ মুসলিম ২৯৩২)।
- তার নিজের কোনো সন্তান হবে না (সহীহ মুসলিম ২৯২৭)।
বিংশ শতাব্দীতে কিছু আধুনিকতাবাদী লেখক (যেমন মুহাম্মদ আসাদ ও কিছু যুক্তিবাদী ব্যাখ্যাকার) অলৌকিক ভবিষ্যদ্বাণীগুলোকে রূপক অর্থে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁরা একটি থিওরি দিলেন: ‘একচোখা দাজ্জাল আসলে কোনো মানুষ নয়; এটি হলো আধুনিক বস্তুবাদী সভ্যতা, টিভি চ্যানেল বা টেকনোলজি, যা শুধু দুনিয়াবি এক চোখ দিয়ে দেখে কিন্তু আধ্যাত্মিক চোখে অন্ধ।’
শুনতে বেশ কাব্যিক ও স্মার্ট মনে হয়, তাই না? কিন্তু আপনি যখনই মূল হাদীসগুলো খুলবেন, দেখবেন এই থিওরি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে।
কেন এই ‘রূপক থিওরি’ হাদীসের সামনে এক মুহূর্তও টেকে না?
১. মদিনার এক কিশোরকে দেখে কি ‘সভ্যতা’ মনে করা যায়? নবীজি ﷺ খেজুর গাছের আড়ালে লুকিয়ে ইবনে সাইয়্যাদকে পরীক্ষা করেছিলেন সে দাজ্জাল কি না। দাজ্জাল যদি ‘পশ্চিমা সভ্যতা বা টেকনোলজি’ হতো, তবে মদিনার এক ইহুদি কিশোরকে দেখে নবীজি ﷺ কেন সন্দেহ করবেন?
২. কোনো ‘সিস্টেম’-এর কি কোঁকড়ানো চুল আর বাঁকা পা থাকে? নবীজি ﷺ দাজ্জালের চুলের ভাঁজ, কপালের চামড়া, চোখের আঙুরের মতো ফোলা দাগ এবং তার নিঃসন্তান হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন।
৩. কোনো ‘টেকনোলজি’-কে কি বর্শা দিয়ে হত্যা করা যায়? সহীহ মুসলিমে (২৯৩৭) বর্ণিত হয়েছে, ফিলিস্তিনের বাবে লুদে ঈসা (আ.)-কে দেখে দাজ্জাল পানিতে লবণের মতো গলতে শুরু করবে এবং ঈসা (আ.) তাঁকে বর্শা দিয়ে হত্যা করে বর্শার ডগায় লেগে থাকা দাজ্জালের রক্ত মুমিনদের দেখাবেন! কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বা সভ্যতার কি বর্শার আঘাতে রক্ত বের হয়?
৪. যুবক শহীদের হাদীস: সহীহ মুসলিমে (২৯৩৮) এসেছে, দাজ্জাল এক সাহসী মুমিন যুবককে করাত দিয়ে চিরে দুই টুকরো করে মাঝখান দিয়ে হাঁটবে, এরপর তাকে জীবিত করে বলবে, ‘এখন কি আমাকে রব বলে মানছ?’ সেই যুবক তার মুখের ওপর বলে দেবে, ‘এখন তো আমার আরও শতভাগ বিশ্বাস হয়েছে যে তুই-ই সেই কানা দাজ্জাল!’
۞কুরআনুল কারীমের প্রাসঙ্গিক আয়াত
📜প্রামাণ্য হাদীস শরীফ
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُمَرَ انْطَلَقَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي رَهْطٍ قِبَلَ ابْنِ صَيَّادٍ، حَتَّى وَجَدُوهُ يَلْعَبُ مَعَ الصِّبْيَانِ عِنْدَ أُطُمِ بَنِي مَغَالَةَ، وَقَدْ قَارَبَ ابْنُ صَيَّادٍ الْحُلُمَ فَلَمْ يَشْعُرْ حَتَّى ضَرَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ لاِبْنِ صَيَّادٍ " تَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ ". فَنَظَرَ إِلَيْهِ ابْنُ صَيَّادٍ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ الأُمِّيِّينَ. فَقَالَ ابْنُ صَيَّادٍ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَرَفَضَهُ وَقَالَ آمَنْتُ بِاللَّهِ وَبِرُسُلِهِ. فَقَالَ لَهُ " مَاذَا تَرَى ". قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ يَأْتِينِي صَادِقٌ وَكَاذِبٌ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " خُلِّطَ عَلَيْكَ الأَمْرُ " ثُمَّ قَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي قَدْ خَبَأْتُ لَكَ خَبِيئًا ". فَقَالَ ابْنُ صَيَّادٍ هُوَ الدُّخُّ. فَقَالَ " اخْسَأْ، فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ ". فَقَالَ عُمَرُ ـ رضى الله عنه ـ دَعْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَضْرِبْ عُنُقَهُ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنْ يَكُنْهُ فَلَنْ تُسَلَّطَ عَلَيْهِ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْهُ فَلاَ خَيْرَ لَكَ فِي قَتْلِهِ ". وَقَالَ سَالِمٌ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ انْطَلَقَ بَعْدَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ إِلَى النَّخْلِ الَّتِي فِيهَا ابْنُ صَيَّادٍ وَهُوَ يَخْتِلُ أَنْ يَسْمَعَ مِنِ ابْنِ صَيَّادٍ شَيْئًا قَبْلَ أَنْ يَرَاهُ ابْنُ صَيَّادٍ فَرَآهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُضْطَجِعٌ، يَعْنِي فِي قَطِيفَةٍ لَهُ فِيهَا رَمْزَةٌ أَوْ زَمْرَةٌ، فَرَأَتْ أُمُّ ابْنِ صَيَّادٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَتَّقِي بِجُذُوعِ النَّخْلِ فَقَالَتْ لاِبْنِ صَيَّادٍ يَا صَافِ ـ وَهْوَ اسْمُ ابْنِ صَيَّادٍ ـ هَذَا مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم. فَثَارَ ابْنُ صَيَّادٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَوْ تَرَكَتْهُ بَيَّنَ ". وَقَالَ شُعَيْبٌ فِي حَدِيثِهِ فَرَفَصَهُ رَمْرَمَةٌ، أَوْ زَمْزَمَةٌ. وَقَالَ إِسْحَاقُ الْكَلْبِيُّ وَعُقَيْلٌ رَمْرَمَةٌ. وَقَالَ مَعْمَرٌ رَمْزَةٌ.
রাবী সালিম (রহ.) বলেন, আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) ঐ খেজুর বাগানের দিকে গমন করলেন যেখানে ইবনু সাইয়াদ ছিল। ইবনু সাইয়াদ তাকে দেখে ফেলার পূর্বেই ইবনু সাইয়াদের কিছু কথা তিনি শুনে নিতে চাচ্ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে দেখলেন। যার ভিতর হতে তার গুনগুন আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। ইবনু সাইয়াদের মা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখতে পেল যে, তিনি খেজুর (গাছের) কান্ডের আড়ালে আত্মগোপন করে চলছেন। সে তখন ইবনু সাইয়াদকে ডেকে বলল, ও সাফ! (এটি ইবনু সাইয়াদের ডাক) নাম। এই যে, মুহাম্মাদ! তখন ইবনু সাইয়াদ লাফিয়ে উঠল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ সে (ইবনু সাইয়াদের মা) তাকে (যথাবস্থায়) থাকতে দিলে (ব্যাপারটি) স্পষ্ট হয়ে যেত। শু‘আইব (রহ.) তাঁর হাদীসে فَرَفَضَهُ বলেন, এবং সন্দেহের সাথে বলেন, رَمْرَمَةُ অথবা زَمْزَمَةُ এবং উকাইল (রহ.) বলেছেন, رَمْرَمَةُ আর মা‘মার বলেছেন رَمْزَةُ। (২৬৩৮, ৩০৩৩, ৩০৫৬, ৬১৭৪, মুসলিম ৫২/১৯, হাঃ ২৯৩০, ২৯৩১, আহমাদ ৬৩৬৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১২৬৫ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১২৭২ শেষাংশ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي النَّاسِ فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ ذَكَرَ الدَّجَّالَ فَقَالَ " إِنِّي لأُنْذِرُكُمُوهُ، وَمَا مِنْ نَبِيٍّ إِلاَّ وَقَدْ أَنْذَرَهُ قَوْمَهُ، وَلَكِنِّي سَأَقُولُ لَكُمْ فِيهِ قَوْلاً لَمْ يَقُلْهُ نَبِيٌّ لِقَوْمِهِ، إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ ".
‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোক সমাবেশে দাঁড়ালেন এবং মহান আল্লাহর প্রশংসা করলেন। এরপর তিনি দাজ্জাল প্রসঙ্গে বললেনঃ তার সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে সতর্ক করছি। এমন কোন নবী নেই যিনি তাঁর কাওমকে এ বিষয়ে সতর্ক করেননি। তবে তার সম্পর্কে আমি তোমাদের এমন একটি কথা বলব যা কোন নবীই তাঁর জাতিকে বলেননি। তা হল যে, সে কানা হবে আর আল্লাহ্ অবশ্যই কানা নন।[1] [৩০৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬২৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
দুর্বল (যঈফ) বর্ণনা। গবেষণার জন্য দেখানো হয়েছে, প্রামাণ্য দলিল হিসেবে নয়।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَمْكُثُ أَبُو الدَّجَّالِ وَأُمُّهُ ثَلاَثِينَ عَامًا لاَ يُولَدُ لَهُمَا وَلَدٌ ثُمَّ يُولَدُ لَهُمَا غُلاَمٌ أَعْوَرُ أَضَرُّ شَيْءٍ وَأَقَلُّهُ مَنْفَعَةً تَنَامُ عَيْنَاهُ وَلاَ يَنَامُ قَلْبُهُ " . ثُمَّ نَعَتَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَوَيْهِ فَقَالَ " أَبُوهُ طِوَالٌ ضَرْبُ اللَّحْمِ كَأَنَّ أَنْفَهُ مِنْقَارٌ وَأُمُّهُ امْرَأَةٌ فَرْضَاخِيَّةٌ طَوِيلَةُ الْيَدَيْنِ " . فَقَالَ أَبُو بَكْرَةَ فَسَمِعْنَا بِمَوْلُودٍ فِي الْيَهُودِ بِالْمَدِينَةِ فَذَهَبْتُ أَنَا وَالزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى أَبَوَيْهِ فَإِذَا نَعْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهِمَا فَقُلْنَا هَلْ لَكُمَا وَلَدٌ فَقَالاَ مَكَثْنَا ثَلاَثِينَ عَامًا لاَ يُولَدُ لَنَا وَلَدٌ ثُمَّ وُلِدَ لَنَا غُلاَمٌ أَعْوَرُ أَضَرُّ شَيْءٍ وَأَقَلُّهُ مَنْفَعَةً تَنَامُ عَيْنَاهُ وَلاَ يَنَامُ قَلْبُهُ . قَالَ فَخَرَجْنَا مِنْ عِنْدِهِمَا فَإِذَا هُوَ مُنْجَدِلٌ فِي الشَّمْسِ فِي قَطِيفَةٍ لَهُ وَلَهُ هَمْهَمَةٌ فَكَشَفَ عَنْ رَأْسِهِ فَقَالَ مَا قُلْتُمَا قُلْنَا وَهَلْ سَمِعْتَ مَا قُلْنَا قَالَ نَعَمْ تَنَامُ عَيْنَاىَ وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ .
আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকরা (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাজ্জালের পিতা-মাতার ত্রিশ বছর পর্যন্ত কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করবে না। তারপর একটি কানা ছেলে জন্ম নেবে। সে হবে খুবই ক্ষতিকর এবং অত্যন্ত অনুপকারী। তার দুই চোখ ঘুমালেও তার অন্তর ঘুমাবে না। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকটে তার পিতা-মাতার বিবরণ দিলেন। তিনি বললেনঃ তার পিতার দৈহিক আকৃতি হবে লম্বাটে, হালকা-পাতলা গড়নের এবং তার নাকটা হবে পাখীর ঠোটের মত লম্বা। আর তার মা হবে স্থূলকায়, মোটা ও লম্বা হস্তবিশিষ্টা। আবূ বাকরা (রাঃ) বলেন, তারপর এক সময় আমরা শুনতে পেলাম যে, মাদীনার ইয়াহুদী পরিবারে একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। তখন আমি ও যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) সেখানে গেলাম। আমরা তার পিতা-মাতার নিকট উপস্থিত হলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণিত বিবরণ তাদের মাঝে দেখতে পেলাম। আমরা প্রশ্ন করলাম, আপনাদের কোন সন্তান আছে কি? তারা বলল, আমাদের ত্রিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করেনি। অবশেষে আমাদের একটি কানা পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, কিন্তু সে অধিক ক্ষতিকর এবং কম উপকারী। তার দু'চোখ ঘুমায় কিন্তু তার অন্তর ঘুমায় না। রাবী বলেন, আমরা তাদের নিকট হতে বের হয়ে এসে দেখলাম সে রোদে চাঁদর মুড়ি দিয়ে পড়ে আছে এবং বিড়বিড় করছে। সে তার চাঁদর হতে মাথা বের করে প্রশ্ন করল, তোমরা কি বলেছ? আমরা বললাম, তুমি কি আমাদের কথা শুনতে পেরেছ? সে বলল, হ্যাঁ। কেননা আমার দু'চোখ ঘুমিয়ে থাকলেও আমার অন্তর ঘুমায় না। যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী (৫৫০৩) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। শুধুমাত্র হাম্মাদ ইবনু সালমার সূত্রেই আমরা এ হাদীস জেনেছি।
দাজ্জালের পরিচয়: ভাইরাল গুজব বনাম সহীহ সুন্নাহ
সোশ্যাল মিডিয়ায় যা ভাইরাল হয় বনাম সহীহ হাদীস ও ইতিহাসে যা প্রমাণিত।
দাজ্জাল ৬০ ফুট লম্বা বিশাল এক দানব, যে এক পায়ে সাগর পার হতে পারে।
সহীহ হাদীসে তাকে খাটো কিন্তু অত্যন্ত চওড়া ও শক্তিশালী দেহের যুবক বলা হয়েছে। এমনকি নবীজি ﷺ ও উমর (রা.) মদিনার স্বাভাবিক আকৃতির কিশোর ইবনে সাইয়্যাদকে দাজ্জাল কি না তা যাচাই করেছিলেন (সহীহ মুসলিম ২৯৩০)।
দাজ্জাল কোনো মানুষই না; এটি মূলত এআই (AI), টিভি বা আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার রূপক নাম।
সহীহ বুখারী ও মুসলিম অনুযায়ী দাজ্জাল আদম সন্তানের অন্তর্ভুক্ত একজন রক্ত-মাংসের মানুষ, যার কোঁকড়ানো চুল ও অন্ধ চোখ থাকবে এবং বাবে লুদে ঈসা (আ.)-এর বর্শার আঘাতে তার রক্ত প্রবাহিত হবে (সহীহ মুসলিম ২৯৩৭)।
দাজ্জালের বাবা-মা ৩০ বছর নিঃসন্তান থাকবে এবং সে চোখ খোলা রেখে ঘুমাবে, এই হাদীসটি শতভাগ সহীহ।
তিরমিযীর (২২৪৮) এই বর্ণনাটিকে ইমাম আহমদ, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ও শায়খ আলবানী (রহ.) ‘যঈফ’ (দুর্বল) বলেছেন, কারণ এর সনদে আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জুদআন নামের দুর্বল রাবী রয়েছেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও সরাসরি উত্তর
তরুণদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও সহীহ দলীলভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তর
দাজ্জাল কি কোনো রক্ত-মাংসের মানুষ নাকি আধুনিক সিস্টেম বা টেকনোলজি?
সহীহ বুখারী ও মুসলিমের দ্ব্যর্থহীন বর্ণনা অনুযায়ী দাজ্জাল আদম সন্তানের অন্তর্ভুক্ত একজন রক্ত-মাংসের মানুষ। সে খাবার খাবে, বাজারে হাঁটবে এবং ফিলিস্তিনের বাবে লুদে ঈসা (আ.) তাকে বর্শা দিয়ে হত্যা করে তার রক্ত মুমিনদের দেখাবেন। কোনো রূপক সভ্যতা বা এআই সিস্টেমের বর্শার আঘাতে রক্ত প্রবাহিত হতে পারে না।
মদিনার কিশোর ইবনে সাইয়্যাদ কে ছিলেন? তিনি কি আসল দাজ্জাল ছিলেন?
ইবনে সাইয়্যাদ ছিলেন মদিনার এক ইহুদি বংশোদ্ভূত কিশোর, যার মধ্যে গণকদের মতো বিড়বিড় করা ও রহস্যময় বৈশিষ্ট্য ছিল। নবীজি ﷺ তাকে পরখ করেছিলেন কিন্তু নিশ্চিত করেননি যে তিনিই সেই প্রতিশ্রুত বড় দাজ্জাল। পরবর্তীতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং মদিনার হাররার যুদ্ধে নিখোঁজ হন।
সহীহ হাদিস অনুযায়ী দাজ্জালের চেহারা ও শারীরিক গঠন কেমন হবে?
নবীজি ﷺ স্পষ্ট করেছেন: সে হবে খাটো কিন্তু অত্যন্ত চওড়া ও পেশিবহুল দেহের যুবক, গায়ের রঙ লালচে ফর্সা, চুল অত্যন্ত কোঁকড়ানো, পা ফাঁক করে হাঁটবে, এক চোখ অন্ধ ও অন্য চোখ ফোলা আঙুরের মতো, কপালে 'কা-ফা-রা' (কাফির) লেখা থাকবে এবং সে সম্পূর্ণ নিঃসন্তান হবে।
দাজ্জালের বাবা-মা ৩০ বছর নিঃসন্তান থাকবে এবং সে চোখ খুলে ঘুমাবে, এই হাদিস কি সহীহ?
না। জামে তিরমিযী (২২৪৮) ও মুসনাদে আহমদের এই বর্ণনাটি 'যঈফ' (দুর্বল)। ইমাম আহমদ, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আধুনিক মুহাদ্দিস শায়খ আলবানী (রহ.) একমত যে এর সনদে আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জুদআন নামের দুর্বল স্মৃতিশক্তির বর্ণনাকারী রয়েছেন।
কোনো ভুল চোখে পড়েছে?
হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।