আল ফিতান

এগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন

শেষ জামানার অনুসন্ধানআলেম দ্বারা যাচাইকৃত

দাজ্জাল ও জাস্সাসার হাদীস: আস্তোলা দ্বীপের রহস্য

সাহাবী তামীম আদ-দারী (রা.) এক অচেনা দ্বীপে কী দেখেছিলেন, কেন নবীজি ﷺ মিম্বরে দাঁড়িয়ে সেই ঘটনা শুনিয়েছিলেন, আর সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল 'আস্তোলা দ্বীপ' থিওরি হাদীসের কষ্টিপাথরে কতটা টেকে?

  • প্রকাশিত
  • ১৪ মিনিট লাগবে
এক নজরে সারসংক্ষেপ

মদিনার এক দুপুরে নবীজি ﷺ হঠাৎ সবাইকে মসজিদে ডেকে পাঠালেন। কারণটা ছিল চমকে যাওয়ার মতো: তামীম আদ-দারী নামের এক নওমুসলিম সাহাবী সমুদ্রে ঝড়ের কবলে পড়ে এক দ্বীপে শিকলে বাঁধা এক অদ্ভুত বন্দির দেখা পেয়েছেন। আজ ইন্টারনেটে দাবি করা হয় সেই দ্বীপটি পাকিস্তানের 'আস্তোলা'। চলুন, হাদীসের ক্লুগুলো মিলিয়ে দেখা যাক।

পর্ব ১ · মসজিদে নববীর খুতবা

মসজিদে নববীতে সমাবেশ ও তামীম আদ-দারী (রা.)-এর সাক্ষ্য

দৃশ্যটা কল্পনা করুন। নবম হিজরীর মদিনা। যোহরের নামাজের সময় হঠাৎ মসজিদে ঘোষণা দেওয়া হলো: ‘আস-সালাতু জামিয়াহ’ (সবাই নামাজের জন্য সমবেত হোন)। সাধারণ আযান নয়, জরুরি কোনো খবর থাকলে এভাবে ডাকা হতো। মদিনার মানুষ কাজকর্ম ফেলে দ্রুত মসজিদে ছুটে এলেন। পেছনের কাতারে নারীদের সাথে বসেছিলেন ফাতিমা বিনতে কাইস (রা.)। তিনি সেদিন নবীজির ﷺ প্রতিটি কথা অক্ষরে অক্ষরে মনে রেখেছিলেন।

নবীজি ﷺ হাসিমুখে মিম্বরে উঠলেন। সবাইকে যার যার জায়গায় বসতে বললেন। এরপর এমন এক কথা বললেন যা কেউ কল্পনাও করেনি। তিনি জানালেন, কোনো যুদ্ধের খবর বা ভয়ের কারণে তিনি সবাইকে ডাকেননি। ডেকেছেন কারণ তামীম আদ-দারী নামের এক খ্রিস্টান ব্যক্তি মাত্রই মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, আর নিজের চোখে দেখা এমন এক সমুদ্রযাত্রার ঘটনা বলেছেন যা দাজ্জাল সম্পর্কে নবীজির ﷺ আগের সব ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে হুবহু মিলে গেছে!

হাদীস শাস্ত্রে এই ঘটনাকে খুবই বিরল ও স্পেশাল ধরা হয়। কারণ এখানে স্বয়ং আল্লাহর রাসূল ﷺ মিম্বরে বসে একজন সাহাবীর প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ বর্ণনা করেছেন। চলুন সহীহ মুসলিমের সেই বিখ্যাত হাদীসটি দেখে নিই:

সহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৯৪২aসহিহবর্ণনাকারী: আমির ইবনু শারাহীল শা’বী (রহঃ)صحيح مسلمرقم ٢٩٤٢a

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ عَبْدِ الْوَارِثِ، وَحَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، كِلاَهُمَا عَنْ عَبْدِ الصَّمَدِ، - وَاللَّفْظُ لِعَبْدِ الْوَارِثِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ جَدِّي، عَنِ الْحُسَيْنِ، بْنِ ذَكْوَانَ حَدَّثَنَا ابْنُ بُرَيْدَةَ، حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ شَرَاحِيلَ الشَّعْبِيُّ، شَعْبُ هَمْدَانَ أَنَّهُ سَأَلَ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ أُخْتَ الضَّحَّاكِ بْنِ قَيْسٍ وَكَانَتْ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ الأُوَلِ فَقَالَ حَدِّثِينِي حَدِيثًا سَمِعْتِيهِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ تُسْنِدِيهِ إِلَى أَحَدٍ غَيْرِهِ فَقَالَتْ لَئِنْ شِئْتَ لأَفْعَلَنَّ فَقَالَ لَهَا أَجَلْ حَدِّثِينِي ‏.‏ فَقَالَتْ نَكَحْتُ ابْنَ الْمُغِيرَةِ وَهُوَ مِنْ خِيَارِ شَبَابِ قُرَيْشٍ يَوْمَئِذٍ فَأُصِيبَ فِي أَوَّلِ الْجِهَادِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا تَأَيَّمْتُ خَطَبَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَخَطَبَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مَوْلاَهُ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ وَكُنْتُ قَدْ حُدِّثْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ مَنْ أَحَبَّنِي فَلْيُحِبَّ أُسَامَةَ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا كَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ أَمْرِي بِيَدِكَ فَأَنْكِحْنِي مَنْ شِئْتَ فَقَالَ ‏"‏ انْتَقِلِي إِلَى أُمِّ شَرِيكٍ ‏"‏ ‏.‏ وَأُمُّ شَرِيكٍ امْرَأَةٌ غَنِيَّةٌ مِنَ الأَنْصَارِ عَظِيمَةُ النَّفَقَةِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَنْزِلُ عَلَيْهَا الضِّيفَانُ فَقُلْتُ سَأَفْعَلُ فَقَالَ ‏"‏ لاَ تَفْعَلِي إِنَّ أُمَّ شَرِيكٍ امْرَأَةٌ كَثِيرَةُ الضِّيفَانِ فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ يَسْقُطَ عَنْكِ خِمَارُكِ أَوْ يَنْكَشِفَ الثَّوْبُ عَنْ سَاقَيْكِ فَيَرَى الْقَوْمُ مِنْكِ بَعْضَ مَا تَكْرَهِينَ وَلَكِنِ انْتَقِلِي إِلَى ابْنِ عَمِّكِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ ‏"‏ ‏.‏ - وَهُوَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي فِهْرٍ فِهْرِ قُرَيْشٍ وَهُوَ مِنَ الْبَطْنِ الَّذِي هِيَ مِنْهُ - فَانْتَقَلْتُ إِلَيْهِ فَلَمَّا انْقَضَتْ عِدَّتِي سَمِعْتُ نِدَاءَ الْمُنَادِي مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنَادِي الصَّلاَةَ جَامِعَةً ‏.‏ فَخَرَجْتُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَصَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكُنْتُ فِي صَفِّ النِّسَاءِ الَّتِي تَلِي ظُهُورَ الْقَوْمِ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَتَهُ جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَضْحَكُ فَقَالَ ‏"‏ لِيَلْزَمْ كُلُّ إِنْسَانٍ مُصَلاَّهُ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَتَدْرُونَ لِمَ جَمَعْتُكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنِّي وَاللَّهِ مَا جَمَعْتُكُمْ لِرَغْبَةٍ وَلاَ لِرَهْبَةٍ وَلَكِنْ جَمَعْتُكُمْ لأَنَّ تَمِيمًا الدَّارِيَّ كَانَ رَجُلاً نَصْرَانِيًّا فَجَاءَ فَبَايَعَ وَأَسْلَمَ وَحَدَّثَنِي حَدِيثًا وَافَقَ الَّذِي كُنْتُ أُحَدِّثُكُمْ عَنْ مَسِيحِ الدَّجَّالِ حَدَّثَنِي أَنَّهُ رَكِبَ فِي سَفِينَةٍ بَحْرِيَّةٍ مَعَ ثَلاَثِينَ رَجُلاً مِنْ لَخْمٍ وَجُذَامَ فَلَعِبَ بِهِمُ الْمَوْجُ شَهْرًا فِي الْبَحْرِ ثُمَّ أَرْفَئُوا إِلَى جَزِيرَةٍ فِي الْبَحْرِ حَتَّى مَغْرِبِ الشَّمْسِ فَجَلَسُوا فِي أَقْرُبِ السَّفِينَةِ فَدَخَلُوا الْجَزِيرَةَ فَلَقِيَتْهُمْ دَابَّةٌ أَهْلَبُ كَثِيرُ الشَّعَرِ لاَ يَدْرُونَ مَا قُبُلُهُ مِنْ دُبُرِهِ مِنْ كَثْرَةِ الشَّعَرِ فَقَالُوا وَيْلَكِ مَا أَنْتِ فَقَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ ‏.‏ قَالُوا وَمَا الْجَسَّاسَةُ قَالَتْ أَيُّهَا الْقَوْمُ انْطَلِقُوا إِلَى هَذَا الرَّجُلِ فِي الدَّيْرِ فَإِنَّهُ إِلَى خَبَرِكُمْ بِالأَشْوَاقِ ‏.‏ قَالَ لَمَّا سَمَّتْ لَنَا رَجُلاً فَرِقْنَا مِنْهَا أَنْ تَكُونَ شَيْطَانَةً - قَالَ - فَانْطَلَقْنَا سِرَاعًا حَتَّى دَخَلْنَا الدَّيْرَ فَإِذَا فِيهِ أَعْظَمُ إِنْسَانٍ رَأَيْنَاهُ قَطُّ خَلْقًا وَأَشَدُّهُ وِثَاقًا مَجْمُوعَةٌ يَدَاهُ إِلَى عُنُقِهِ مَا بَيْنَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى كَعْبَيْهِ بِالْحَدِيدِ قُلْنَا وَيْلَكَ مَا أَنْتَ قَالَ قَدْ قَدَرْتُمْ عَلَى خَبَرِي فَأَخْبِرُونِي مَا أَنْتُمْ قَالُوا نَحْنُ أُنَاسٌ مِنَ الْعَرَبِ رَكِبْنَا فِي سَفِينَةٍ بَحْرِيَّةٍ فَصَادَفْنَا الْبَحْرَ حِينَ اغْتَلَمَ فَلَعِبَ بِنَا الْمَوْجُ شَهْرًا ثُمَّ أَرْفَأْنَا إِلَى جَزِيرَتِكَ هَذِهِ فَجَلَسْنَا فِي أَقْرُبِهَا فَدَخَلْنَا الْجَزِيرَةَ فَلَقِيَتْنَا دَابَّةٌ أَهْلَبُ كَثِيرُ الشَّعَرِ لاَ يُدْرَى مَا قُبُلُهُ مِنْ دُبُرِهِ مِنْ كَثْرَةِ الشَّعَرِ فَقُلْنَا وَيْلَكِ مَا أَنْتِ فَقَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ ‏.‏ قُلْنَا وَمَا الْجَسَّاسَةُ قَالَتِ اعْمِدُوا إِلَى هَذَا الرَّجُلِ فِي الدَّيْرِ فَإِنَّهُ إِلَى خَبَرِكُمْ بِالأَشْوَاقِ فَأَقْبَلْنَا إِلَيْكَ سِرَاعًا وَفَزِعْنَا مِنْهَا وَلَمْ نَأْمَنْ أَنْ تَكُونَ شَيْطَانَةً فَقَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ نَخْلِ بَيْسَانَ قُلْنَا عَنْ أَىِّ شَأْنِهَا تَسْتَخْبِرُ قَالَ أَسْأَلُكُمْ عَنْ نَخْلِهَا هَلْ يُثْمِرُ قُلْنَا لَهُ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ أَمَا إِنَّهُ يُوشِكُ أَنْ لاَ تُثْمِرَ قَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ بُحَيْرَةِ الطَّبَرِيَّةِ ‏.‏ قُلْنَا عَنْ أَىِّ شَأْنِهَا تَسْتَخْبِرُ قَالَ هَلْ فِيهَا مَاءٌ قَالُوا هِيَ كَثِيرَةُ الْمَاءِ ‏.‏ قَالَ أَمَا إِنَّ مَاءَهَا يُوشِكُ أَنْ يَذْهَبَ ‏.‏ قَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ عَيْنِ زُغَرَ ‏.‏ قَالُوا عَنْ أَىِّ شَأْنِهَا تَسْتَخْبِرُ قَالَ هَلْ فِي الْعَيْنِ مَاءٌ وَهَلْ يَزْرَعُ أَهْلُهَا بِمَاءِ الْعَيْنِ قُلْنَا لَهُ نَعَمْ هِيَ كَثِيرَةُ الْمَاءِ وَأَهْلُهَا يَزْرَعُونَ مِنْ مَائِهَا ‏.‏ قَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ نَبِيِّ الأُمِّيِّينَ مَا فَعَلَ قَالُوا قَدْ خَرَجَ مِنْ مَكَّةَ وَنَزَلَ يَثْرِبَ ‏.‏ قَالَ أَقَاتَلَهُ الْعَرَبُ قُلْنَا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ كَيْفَ صَنَعَ بِهِمْ فَأَخْبَرْنَاهُ أَنَّهُ قَدْ ظَهَرَ عَلَى مَنْ يَلِيهِ مِنَ الْعَرَبِ وَأَطَاعُوهُ قَالَ لَهُمْ قَدْ كَانَ ذَلِكَ قُلْنَا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ أَمَا إِنَّ ذَاكَ خَيْرٌ لَهُمْ أَنْ يُطِيعُوهُ وَإِنِّي مُخْبِرُكُمْ عَنِّي إِنِّي أَنَا الْمَسِيحُ وَإِنِّي أُوشِكُ أَنْ يُؤْذَنَ لِي فِي الْخُرُوجِ فَأَخْرُجَ فَأَسِيرَ فِي الأَرْضِ فَلاَ أَدَعَ قَرْيَةً إِلاَّ هَبَطْتُهَا فِي أَرْبَعِينَ لَيْلَةً غَيْرَ مَكَّةَ وَطَيْبَةَ فَهُمَا مُحَرَّمَتَانِ عَلَىَّ كِلْتَاهُمَا كُلَّمَا أَرَدْتُ أَنْ أَدْخُلَ وَاحِدَةً أَوْ وَاحِدًا مِنْهُمَا اسْتَقْبَلَنِي مَلَكٌ بِيَدِهِ السَّيْفُ صَلْتًا يَصُدُّنِي عَنْهَا وَإِنَّ عَلَى كُلِّ نَقْبٍ مِنْهَا مَلاَئِكَةً يَحْرُسُونَهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَطَعَنَ بِمِخْصَرَتِهِ فِي الْمِنْبَرِ ‏"‏ هَذِهِ طَيْبَةُ هَذِهِ طَيْبَةُ هَذِهِ طَيْبَةُ ‏"‏ ‏.‏ يَعْنِي الْمَدِينَةَ ‏"‏ أَلاَ هَلْ كُنْتُ حَدَّثْتُكُمْ ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ النَّاسُ نَعَمْ ‏"‏ فَإِنَّهُ أَعْجَبَنِي حَدِيثُ تَمِيمٍ أَنَّهُ وَافَقَ الَّذِي كُنْتُ أُحَدِّثُكُمْ عَنْهُ وَعَنِ الْمَدِينَةِ وَمَكَّةَ أَلاَ إِنَّهُ فِي بَحْرِ الشَّامِ أَوْ بَحْرِ الْيَمَنِ لاَ بَلْ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ ما هُوَ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَا هُوَ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَا هُوَ ‏"‏ ‏.‏ وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى الْمَشْرِقِ ‏.‏ قَالَتْ فَحَفِظْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

আবদুল ওয়ারিস ইবনু আবদুস্ সামাদ ইবনু ‘আবদুল ওয়ারিস ও হাজ্জাজ ইবনু শাইর (রহঃ) ..... আমির ইবনু শারাহীল শা’বী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যাহহাক ইবনু কায়স এর বোন ফাতিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করলেন। যে সকল মহিলাগণ প্রথমে হিজরত করেছিলেন, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বলেন, আপনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যে হাদীস শুনেছেন, অন্যের দিকে সম্বোধন করা ছাড়া, এমন একটি হাদীস আপনি আমার কাছে পেশ করুন। তিনি বললেন, তবে তুমি যদি শুনতে চাও, অবশ্যই আমি তা বর্ণনা করব। সে বলল, হ্যাঁ, আপনি বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আমি ইবনু মুগীরাকে বিয়ে করেছিলাম। তিনি কুরাইশী যুবকদের উত্তম ব্যক্তি ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে প্রথম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেই তিনি শাহীদ হয়ে যান। আমি বিধবা হয়ে যাবার পর আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাযিঃ) আমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আরো কতিপয় সহাবারাও প্রস্তাব পাঠান। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও তার আযাদকৃত গোলাম উসামাহ্ ইবনু যায়দ এর জন্য প্রস্তাব পাঠান। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ হাদীসটি আমি আগেই শুনেছিলাম যে, তিনি বলেছেন, যে লোক আমাকে ভালবাসে সে যেন উসামাকেও ভালবাসে। ফাতিমাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে আমার সাথে আলোচনা করার পর আমি তাকে বললাম, আমার বিষয়টি আপনার ইচ্ছামাফিক ছেড়ে দিলাম। আপনি যার সঙ্গে ইচ্ছা আমাকে বিবাহ দিয়ে দিন। তারপর তিনি বললেন, তুমি উম্মু শারীক এর কাছে চলে যাও। উম্মু শারীক একজন আনসার ধনবান মহিলা, আল্লাহর রাস্তায় সে বেশি খরচ করে এবং তার কাছে অনেক অতিথি আসে। এ কথা শুনে আমি বললাম, আমি তা-ই করব। তখন তিনি বললেন, তুমি উম্মু শারীকের নিকট যেয়ো না। কেননা উম্মু শারীক আপ্যায়নপ্রিয় মহিলা এবং আমি এটাও পছন্দ করি না যে, তোমার উড়না পড়ে যাক বা তোমার পায়ের গোছা বস্ত্রহীন হয়ে যাক আর লোকেরা তোমার শরীরের এমন স্থান দেখে নিক যা তুমি কক্ষনো পছন্দ করো না। তবে তুমি তোমার চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ ইবনু উম্মু মাকতুম এর নিকট চলে যাও। তিনি বানী ফিহর এর এক ব্যক্তি। ফিহর কুরাইশেরই একটি শাখা গোত্র। ফাতিমাহ যে খান্দানের লোক তিনিও সে খান্দানেরই লোক। আমি তার কাছে চলে গেলাম। তারপর আমার ইদ্দত শেষ হলে আমি এক আহ্বানকারীর আওয়াজ শুনতে পেলাম। বস্তুতঃ তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত আহ্বানকারী ছিলেন। তিনি এ মর্মে আহবান করছিলেন যে, সালাতের উদ্দেশে তোমরা সমবেত হয়ে যাও। এরপর আমি মসজিদের দিকে অগ্রসর হলাম এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি বলেন, সম্প্রদায়ের পেছনে যে কাতারে মহিলাগণ ছিলেন আমি সে কাতারেই ছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায়ন্তে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় মিম্বারে বসে গেলেন। অতঃপর বললেন, প্রত্যেকেই আপন আপন স্থানে বসে যাও। তারপর তিনি বললেন, তোমরা কি জান, আমি কি জন্য তোমাদেরকে সমবেত করেছি? সহাবায়ে কিরাম বললেন, আল্লাহ ও তার রসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ আমি তোমাদেরকে কোন আশা বা ভয়-ভীতির জন্য জমায়েত করিনি। তবে আমি তোমাদেরকে কেবল এজন্য জমায়েত করেছি যে, তামীম আদ দারী (রাযিঃ) প্রথমে খ্রীস্টান ছিল। সে আমার কাছে এসে বাই’আত গ্রহণ করেছে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। সে আমার নিকট এমন একটি কাহিনী বর্ণনা করেছে যদ্বারা আমার সে বর্ণনার সত্যায়ন হয়ে যায়, যা আমি দাজ্জালের ব্যাপারে তোমাদের নিকট বর্ণনা করেছিলাম। সে আমাকে বলেছে যে, একবার সে লাখ্‌ম ও জুযাম গোত্রের ত্রিশজন লোকসহ একটি সামুদ্রিক জাহাজে আরোহণ করেছিল। সামুদ্রিক ঝড় এক মাস পর্যন্ত তাদেরকে নিয়ে খেলা করতে থাকে। অতঃপর সূর্যাস্তের সময় তারা সমুদ্রের এক দ্বীপে আশ্রয় গ্রহণ করে। তারপর তারা ছোট ছোট নৌকায় বসে ঐ দ্বীপে প্রবেশ করে। দ্বীপে নামতেই জন্তুর ন্যায় একটি জিনিস তাদের দেখতে পায়। তার পূর্ণ দেহ পশমে ভরা ছিল। পশমের কারণে তার আগা-পাছা চেনার উপায় ছিল না। লোকেরা তাকে বলল, হতভাগা, তুই কে? সে বলল, আমি জাস্‌সা-সাহ। লোকেরা বলল, “জাস্‌সা-সাহ! আবার কি? সে বললঃ ঐ যে গীর্জা দেখা যায়, সেখানে চলো। সেখানে এক লোক গভীর আগ্রহে তোমাদের অপেক্ষা করছে। তামীম আদ দারী (রাযিঃ) বলেন, তার মুখে এক লোকের কথা শুনে আমরা ভয়ে শঙ্কিত হলাম যে, সে আবার শাইতান (শয়তান) তো নয়! আমরা দ্রুত পদব্রজে গীর্জায় প্রবেশ করতেই এক দীর্ঘাকৃতির এক লোককে দেখতে পেলাম। যা ইতোপূর্বে এমন আমরা আর কক্ষনো দেখিনি। লোহার শিকলে বাঁধা অবস্থায় দু' হাটুর মধ্য দিয়ে তার উভয় হাত ঘাড়ের সাথে মিলানো। আমরা তাকে বললাম, তোর সর্বনাশ হোক, তুই কে? সে বলল, তোমরা আমার সন্ধান কিছু না কিছু পেয়েই গেছ। এখন তোমরা বলো, তোমাদের পরিচয় কি? তারা বলল, আমরা আরবের বাসিন্দা। আমরা সমুদ্রে নৌকায় চড়ে ভ্রমণ করছিলাম। আমরা সমুদ্রকে উত্তাল তরঙ্গে উদ্বেলিত অবস্থায় পেয়েছি। এক মাস পর্যন্ত ঝড়ের কবলে থেকে অবশেষে আমরা তোমার এ দ্বীপে এসে পৌছেছি। অতঃপর ছোট ছোট নৌকায় আরোহণ করে এ দ্বীপে আমরা প্রবেশ করেছি। এখানে আমরা একটি সর্বাঙ্গ পশমে আবৃত জন্তুকে দেখতে পেয়েছি। পশমের মাত্রাতিরিক্তের কারণে আমরা তার আগা-পাছা চিনতে পারছি না। আমরা তাকে বলেছি, তোর সর্বনাশ হোক! তুই কে? সে বলেছে, সে নাকি জাসসা-সাহ। আমরা বললাম, জাসসা-সাহ! আবার কি? তখন সে বলেছে, ঐ যে গীর্জা দেখা যায়, তোমরা সেখানে চলো। সেখানে এক লোক গভীর আগ্রহে তোমাদের অপেক্ষায় আছে। তাই আমরা দ্রুত তোর কাছে এসে গেছি। আমরা তার কথায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি না জানি এ আবার কোন জিন ভূত কিনা? অতঃপর সে বলল, তোমরা আমাকে বাইসানের খেজুর বাগানের সংবাদ বলো। আমরা বললাম, এর কোন বিষয়টি সম্পর্কে তুই সংবাদ জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, বাইসানের খেজুর বাগানে ফল আসে কি না, এ সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করছি। তাকে আমরা বললাম, হ্যাঁ, আছে। সে বলল, সেদিন নিকটেই যেদিন এগুলোতে কোন ফল ধরবে না। তারপর সে বলল, আচ্ছা, তিবরিয়্যা সমুদ্রের ব্যাপারে আমাকে অবগত করো। আমরা বললাম, এর কোন বিষয় সম্পর্কে তুই আমাদের থেকে জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, এর মধ্যে পানি আছে কি? তারা বলল, হ্যাঁ, সেখানে বহু পানি আছে। অতঃপর সে বলল, সেদিন বেশি দূরে নয়, যখন এ সাগরে পানি থাকবে না। সে আবার বলল, ‘যুগার’ এর ঝর্ণার ব্যাপারে তোমরা আমাকে অবহিত করো। তারা বলল, তুই এর কি সম্পর্কে আমাদের নিকট জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, এর ঝর্ণাতে পানি আছে কি? আর এ জনপদের লোকেরা তাদের ক্ষেত্রে এ ঝর্ণার পানি দেয় কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ, এতে অনেক পানি আছে এবং এ জনপদের লোকেরা এ পানির মাধ্যমেই তাদের ক্ষেত আবাদ করে। সে আবার বলল, তোমরা আমাকে উম্মীদের নবীর ব্যাপারে খবর দাও। সে এখন কি করছে? তারা বলল, তিনি মাক্কাহ থেকে হিজরত করে মাদীনায় চলে এসেছেন। সে জিজ্ঞেস করল, আরবের লোকেরা তার সাথে যুদ্ধ করেছে কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ, করেছে। সে বলল, সে তাদের সঙ্গে কিরূপ আচরণ করেছে। আমরা তাকে খবর দিলাম যে, তিনি আরবের পার্শ্ববর্তী এলাকায় জয়ী হয়েছেন এবং তারা তার বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে। সে বলল, এ কি হয়েই গেছে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, বশ্যতা স্বীকার করে নেয়াই জনগণের জন্য কল্যাণকর ছিল। এখন আমি নিজের ব্যাপারে তোমাদেরকে বলছি, আমিই মাসীহ দাজ্জাল। অতি সত্ত্বরই আমি এখান থেকে বাইরে যাবার অনুমতি পেয়ে যাব। বাইরে যেয়ে আমি সমগ্র ভূ-পৃষ্ঠ প্রদক্ষিণ করব। চল্লিশ দিনের ভেতর এমন কোন জনপদ থাকবে না, যেখানে আমি প্রবেশ না করব। তবে মাক্কাহ্ ও তাইবাহ এ দুটি স্থানে আমার প্রবেশ নিষিদ্ধ। যখন আমি এ দু’টির কোন স্থানে প্রবেশের ইচ্ছা করব, তখন এক ফেরেশতা উন্মুক্ত তরবারি হাতে সম্মুখে এসে আমাকে বাধা দিবে। এ দুটি স্থানের সকল রাস্তায় ফেরেশতাদের পাহারা থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ছড়ি দ্বারা মিম্বারে আঘাত করে বললেন, এ হচ্ছে তাইবাহ, এ হচ্ছে তাইবাহ, এ হচ্ছে তাইবাহ। অর্থাৎ- তাইবাহ অর্থ এ মাদীনাই। সাবধান! আমি কি এ কথাটি ইতোপূর্বে তোমাদেরকে বলিনি? তখন লোকেরা বলল, হ্যাঁ, আপনি বলেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তামীম আদ দারীর কথাটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। যেহেতু তা সামঞ্জস্যপূর্ণ আমার ঐ বর্ণনার, যা আমি তোমাদেরকে দাজ্জাল, মাদীনাহ ও মাক্কাহ বিষয়ে ইতোপূর্বে বলেছি। জেনে রেখ। উল্লেখিত দ্বীপ সিরিয়া সাগরে অথবা ইয়ামান সাগরের পার্শ্বস্থ সাগরের মাঝে অবস্থিত। যা পৃথিবীর পূর্বদিকে অবস্থিত, পৃথিবীর পূর্বদিকে অবস্থিত, পৃথিবীর পূর্বদিকে অবস্থিত। এ সময় তিনি নিজ হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইশারাও করলেন। বর্ণনাকারী ফাতিমাহ বিনতু কায়স (রাযিঃ) বলেন, এ হাদীস আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে সংরক্ষণ করেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১১৯, ইসলামিক সেন্টার)

জামে তিরমিযিহাদীস নং ২২৫৩সহিহবর্ণনাকারী: ফাতিমা বিনতু কাইস (রাঃ)جامع الترمذيرقم ٢٢٥٣

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَعِدَ الْمِنْبَرَ فَضَحِكَ فَقَالَ ‏ "‏ إِنَّ تَمِيمًا الدَّارِيَّ حَدَّثَنِي بِحَدِيثٍ فَفَرِحْتُ فَأَحْبَبْتُ أَنْ أُحَدِّثَكُمْ حَدَّثَنِي أَنَّ نَاسًا مِنْ أَهْلِ فِلَسْطِينَ رَكِبُوا سَفِينَةً فِي الْبَحْرِ فَجَالَتْ بِهِمْ حَتَّى قَذَفَتْهُمْ فِي جَزِيرَةٍ مِنْ جَزَائِرِ الْبَحْرِ فَإِذَا هُمْ بِدَابَّةٍ لَبَّاسَةٍ نَاشِرَةٍ شَعْرَهَا فَقَالُوا مَا أَنْتِ قَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ ‏.‏ قَالُوا فَأَخْبِرِينَا ‏.‏ قَالَتْ لاَ أُخْبِرُكُمْ وَلاَ أَسْتَخْبِرُكُمْ وَلَكِنِ ائْتُوا أَقْصَى الْقَرْيَةِ فَإِنَّ ثَمَّ مَنْ يُخْبِرُكُمْ وَيَسْتَخْبِرُكُمْ ‏.‏ فَأَتَيْنَا أَقْصَى الْقَرْيَةِ فَإِذَا رَجُلٌ مُوثَقٌ بِسِلْسِلَةٍ فَقَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ عَيْنِ زُغَرَ ‏.‏ قُلْنَا مَلأَى تَدْفُقُ ‏.‏ قَالَ أَخْبِرُونِي عَنِ الْبُحَيْرَةِ قُلْنَا مَلأَى تَدْفُقُ ‏.‏ قَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ نَخْلِ بَيْسَانَ الَّذِي بَيْنَ الأُرْدُنِّ وَفِلَسْطِينَ هَلْ أَطْعَمَ قُلْنَا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ أَخْبِرُونِي عَنِ النَّبِيِّ هَلْ بُعِثَ قُلْنَا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ أَخْبِرُونِي كَيْفَ النَّاسُ إِلَيْهِ قُلْنَا سِرَاعٌ ‏.‏ قَالَ فَنَزَّ نَزْوَةً حَتَّى كَادَ ‏.‏ قُلْنَا فَمَا أَنْتَ قَالَ إِنَّهُ الدَّجَّالُ وَإِنَّهُ يَدْخُلُ الأَمْصَارَ كُلَّهَا إِلاَّ طَيْبَةَ ‏.‏ وَطَيْبَةُ الْمَدِينَةُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ قَتَادَةَ عَنِ الشَّعْبِيِّ وَقَدْ رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ ‏.‏

ফাতিমা বিনতু কাইস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক সময় মিম্বারে উঠে হাসতে হাসতে বললেনঃ আমাকে ‘তামীম আদ-দারী একটি খবর শুনিয়েছে। আমি তাতে সন্তুষ্ট হয়েছি এবং আমি তোমাদেরকেও তা শুনাতে পছন্দ করি। কোন একদিন ফিলিস্তনের কয়েকজন লোক নৌযানে চড়ে সমুদ্র বিহারে যাত্রা করেছিল। হঠাৎ সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গে তারা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং এক অচেনা দ্বীপে এসে পড়ে। তারা সে জায়গাতে এক বিচিত্র ধরনের প্রাণীর সন্ধান পায়, যার চুলগুলো ছিল চারদিকে ছড়ানো। তারা প্রশ্ন করল, তুমি কে? সে উত্তর দিল, আমি জাসসাসা (অনুসন্ধানকারী)। তারা বলল, তুমি আমাদেরকে কিছু অনুসন্ধান দাও। সে বলল, আমি তোমাদেরকে কিছু বলবও না এবং তোমাদের নিকট কিছু জানতেও চাইব না, বরং তোমরা এ জনপদের শেষ সীমানায় যাও। সে স্থানে এমন একজন লোক আছে যে তোমাদেরকে কিছু বলবে এবং তোমাদের নিকট কিছু জানার ইচ্ছা করবে। তারপর আমরা গ্রামের শেষ সীমানায় পৌছে দেখতে পেলাম, একটি লোক শিকলে বাধা আছে। সে আমাদের বলল, তোমরা (সিরিয়ার) যুগার’ নামক স্থানের ঝর্ণার খবর বল। আমরা বললাম, তা পানিপূর্ণ এবং এখনো সবেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সে বলল, বুহাইরা (তাবারিয়া উপসাগর)-এর কি সংবাদ, তা আমাকে বল। আমরা বললাম, তাও পানিপূর্ণ এবং তা হতে সবেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সে আবার বলল, জর্দান ও ফিলিস্তনের মধ্যবর্তী জায়গায় অবস্থিত বাইসান’ নামক খেজুর বাগানের খবর বল। তাতে কি ফল উৎপন্ন হয়? আমরা বললাম, হ্যাঁ। সে আবার প্রশ্ন করল, নবী প্রসঙ্গে বল, তিনি কি প্রেরিত হয়েছেন? আমরা বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, তার নিকট জনগণ ভিড়ছে কেমন? আমরা বললাম, খুবই দ্রুত। বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে সে এমন এক লাফ দিল যে, শৃঙ্খল প্রায় ছিন্ন করে ফেলেছিল। আমরা তাকে প্রশ্ন করলাম, তুমি কে? সে বলল, আমি দাজ্জাল। সে তাইবা ব্যতীত সমস্ত শহরেই প্রবেশ করবে। তাইবা হলো মাদীনা মুনাওয়ারা। সহীহ, “কিচ্ছাতু নুযুলে ঈসা আলাইহিস সালাম” মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ এবং কাতাদা-শাবীর সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াত হিসাবে গরীব। এ হাদীসটি ফাতিমা বিনতু কাইস (রাঃ) হতে শাবীর সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।

দুর্বল বর্ণনা (তুলনার জন্য দেখানো হলো)▼
সুনানে আবু দাউদহাদীস নং ৪৩২৮যঈফ (দুর্বল)سنن أبي داودرقم ٤٣٢٨

দুর্বল (যঈফ) বর্ণনা। গবেষণার জন্য দেখানো হয়েছে, প্রামাণ্য দলিল হিসেবে নয়।

حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جُمَيْعٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ عَلَى الْمِنْبَرِ ‏ "‏ إِنَّهُ بَيْنَمَا أُنَاسٌ يَسِيرُونَ فِي الْبَحْرِ فَنَفِدَ طَعَامُهُمْ فَرُفِعَتْ لَهُمْ جَزِيرَةٌ فَخَرَجُوا يُرِيدُونَ الْخُبْزَ فَلَقِيَتْهُمُ الْجَسَّاسَةُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ لأَبِي سَلَمَةَ وَمَا الْجَسَّاسَةُ قَالَ امْرَأَةٌ تَجُرُّ شَعْرَ جِلْدِهَا وَرَأْسِهَا ‏.‏ قَالَتْ فِي هَذَا الْقَصْرِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَسَأَلَ عَنْ نَخْلِ بَيْسَانَ وَعَنْ عَيْنِ زُغَرَ قَالَ هُوَ الْمَسِيحُ فَقَالَ لِي ابْنُ أَبِي سَلَمَةَ إِنَّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ شَيْئًا مَا حَفِظْتُهُ قَالَ شَهِدَ جَابِرٌ أَنَّهُ هُوَ ابْنُ صَيَّادٍ قُلْتُ فَإِنَّهُ قَدْ مَاتَ ‏.‏ قَالَ وَإِنْ مَاتَ ‏.‏ قُلْتُ فَإِنَّهُ أَسْلَمَ ‏.‏ قَالَ وَإِنْ أَسْلَمَ ‏.‏ قُلْتُ فَإِنَّهُ قَدْ دَخَلَ الْمَدِينَةَ ‏.‏ قَالَ وَإِنْ دَخَلَ الْمَدِينَةَ ‏.‏

জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠে বলেনঃ একদা কিছু সংখ্যক লোক সমুদ্র ভ্রমণ করছিল। এ সময় তাদের রসদ ফুরিয়ে গেলে একটি দ্বীপ দৃষ্টিগোচর হয়। অতঃপর তারা রুটির সন্ধানে বেরিয়ে পড়লে জাসাসার সাক্ষাৎ পেলো। আমি (ওয়ালিদ) আবূ সালামাহকে বললাম, ‘জাসসাসা’ কি? তিনি বললেন, এমন নারী, যে তার দেহের ও মাথার চুল টেচে বেড়ায়। সে বললো, ঐ দালানে যাও। অতঃপর উপরে বর্ণিত হাদীস বলেন। আর সে (দালানের লোকটি অর্থাৎ দাজ্জাল) ‘নাখলে বাইসান’ ও ‘আইনে যুগার’ সম্পর্কে জানতে চাইলো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সে লোকটিই মাসীহ দাজ্জাল। অতঃপর ইবনু আবূ সালাম আমাকে (ওয়ালিদকে) বলেন, নিশ্চয়ই এ হাদীসের কিছু অংশ আমি স্মরণ রাখতে পারিনি। তিনি বলেন, জাবির (রাঃ) সাক্ষ্য দিলেন যে, সে-ই ইবনু সাইয়্যাদ। আমি বললাম, সে তো মারা গেছে। তিনি বললেন, যদিও সে মারা গিয়ে থাকে। আমি বললাম, সে তো মুসলিম হয়েছিল। তিনি বললেন, যদিও সে মুসলিম হয়েছিল। আমি বললাম, সে তো মদীনায় প্রবেশ করেছিল। তিনি বললেন, যদিও সে মদীনায় প্রবেশ করেছিল।[1] সনদ দুর্বল।

পর্ব ২ · হাদিসের ভৌগোলিক নির্দেশনা

হাদিসের পাঠে উল্লিখিত ভৌগোলিক নির্দেশনাসমূহ

যেকোনো ম্যাপ বা ইউটিউব থিওরিতে যাওয়ার আগে একজন দক্ষ গোয়েন্দার মতো কাজ করা যাক। নিজের থেকে কোনো অনুমান না মিশিয়ে আগে দেখা দরকার হাদীসের মূল টেক্সটে আসলে কী কী ক্লু দেওয়া আছে। সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ এবং মুসনাদে আহমদের বর্ণনাগুলো পাশাপাশি রাখলে ৬টি স্পষ্ট ক্লু পাওয়া যায়:

১ · এক মাস সমুদ্রে

فَلَعِبَ بِهِمُ الْمَوْجُ شَهْرًا

দ্বীপে পৌঁছানোর আগে এক মাস ঢেউ জাহাজটিকে নিয়ে খেলা করেছে।

২ · লোমে ঢাকা এক প্রাণী

دَابَّةٌ أَهْلَبُ كَثِيرُ الشَّعَرِ

এত লোমশ যে সামনে-পেছন আলাদা করা যায় না।

৩ · সে কথা বলেছিল

فَقَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ

সে নিজেকে জাসসাসা বলল এবং তাদের পথ দেখাল। ক্রিয়াটি স্ত্রীবাচক: 'সে (স্ত্রী) বলল'।

৪ · একটি ভবন ও একটি জনপদ

فِي الدَّيْرِ ... أَقْصَى الْقَرْيَةِ

মুসলিমে 'দাইর' (মঠ); তিরমিযীতে 'জনপদের শেষ প্রান্ত'।

৫ · লোহায় বাঁধা এক বিশালদেহী

أَعْظَمُ إِنْسَانٍ ... وَأَشَدُّهُ وِثَاقًا

হাত ঘাড়ের সাথে বাঁধা, হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত লোহার বেড়ি।

৬ · 'পূর্ব দিক থেকে'

لاَ بَلْ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ ... وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ

শামের সাগর নয়, ইয়েমেনের সাগর নয়: পূর্ব দিক, এবং তিনি ইশারা করলেন।

হাদীসের মূলপাঠ যা উল্লেখ করেনি

হাদীস যা দেয়নি: দ্বীপের নাম, আকার, যাত্রার বন্দর, কিংবা কোন সাগর পার হয়েছিল। দ্বীপ খোঁজার প্রতিটি চেষ্টা এখান থেকেই শুরু।

পর্ব ৩ · ঐতিহাসিক সমুদ্রপথ

শাম উপকূল থেকে আরব সাগরের সমুদ্রপথ ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা

এখানেই একটা দারুণ পাজল তৈরি হয়। তামীম আদ-দারী ও তাঁর ৩০ জন সঙ্গী ছিলেন লাখম ও জুযাম গোত্রের আরব খ্রিস্টান। তাঁদের বসবাস ছিল দক্ষিণ ফিলিস্তিন ও জর্ডান অঞ্চলে। সপ্তম শতাব্দীতে তো সুয়েজ খাল ছিল না! তাহলে তাঁরা যদি ভূমধ্যসাগরে জাহাজে ওঠেন, তবে এক মাসের ঝড়ে পূর্ব দিকের সাগরে গেলেন কীভাবে?

ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা এর খুব সুন্দর ও বাস্তবসম্মত একটা সমাধান দিয়েছেন। লাখম ও জুযাম গোত্রের ব্যবসায়ীরা শুধু ভূমধ্যসাগর নয়, বরং লোহিত সাগরের মাথায় অবস্থিত আইলা (আজকের আকাবা বন্দর) এবং ইয়েমেন উপকূলের বন্দরগুলোও নিয়মিত ব্যবহার করতেন। লোহিত সাগর বা এডেন উপসাগর থেকে ছাড়া কোনো জাহাজ যদি গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি ঝড়ের কবলে পড়ে, তবে বাতাসের টান সেটিকে বাব আল-মান্দাব প্রণালী পার করে সোজা পূর্ব দিকে আরব সাগরের মাকরান উপকূলের দিকেই ভাসিয়ে নিয়ে যাবে!

শামের সাগরলোহিত সাগরইয়েমেনের সাগর?পারস্য উপসাগরআরব সাগরমদিনাখার্গবাহরাইনসির বানি ইয়াসআবু মুসাকেশমহরমুজদাইমানিয়াতমাসিরাহআস্তোলাসোকোত্রালাক্ষাদ্বীপ
  • মদিনা
  • 'পূর্বের দিকসমূহ' (উদাহরণস্বরূপ)
  • সেই দিকের দ্বীপ
  • অঞ্চলের বাইরে
মদিনার পূর্বের দ্বীপগুলো। ড্যাশ রেখাটি মদিনার অক্ষাংশ বরাবর সোজা পূর্ব। উপকূলরেখা: ন্যাচারাল আর্থ ১:৫০ মিলিয়ন।
দ্বীপমদিনা থেকে দূরত্বদিক (বেয়ারিং)সাগর
বাহরাইন1,113 km79°পারস্য উপসাগর
সির বানি ইয়াস1,315 km88°পারস্য উপসাগর
কেশম1,647 km78°হরমুজ প্রণালী
দাইমানিয়াত1,876 km88°ওমান উপসাগর
মাসিরাহ2,020 km99°আরব সাগর
আস্তোলা2,444 km83°আরব সাগর
সোকোত্রা2,007 km129°এডেন উপসাগর

মদিনা থেকে বৃহৎবৃত্ত দূরত্ব ও প্রারম্ভিক দিক (৯০° = সোজা পূর্ব), স্থানাঙ্ক থেকে হিসাবকৃত।

পরীক্ষা ১ · দিক

আস্তোলা ৮৩°-এ, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। বাহরাইন, কেশম, হরমুজ, দাইমানিয়াতসহ আরও কয়েকটিও উত্তীর্ণ। আস্তোলার চেয়ে সোজা পূর্বের বেশি কাছে আছে দুটি দ্বীপ: সির বানি ইয়াস ও দাইমানিয়াত, দুটোই ৮৮°। শুধু দিক দিয়ে একটি দ্বীপ বাছাই করা যায় না।

এবার সমুদ্রযাত্রা। তিরমিযীর বর্ণনায় নাবিকেরা ছিলেন 'ফিলিস্তিনের লোক'। ফিলিস্তিন থেকে পূর্বে যাওয়ার একমাত্র সমুদ্রপথ শুরু হয় লোহিত সাগরের আয়লা (আজকের আকাবা) থেকে, বাব আল-মান্দাব হয়ে আরবের দক্ষিণ ঘুরে আরব সাগরে। আস্তোলা পর্যন্ত সমুদ্রপথে প্রায় ৪,৮৭০ কিমি। ঝড়ে ভাসমান জাহাজ ঘণ্টায় হয়তো ১ থেকে ৩ নট বেগে ভাসে: ত্রিশ দিনে ১,৩০০ থেকে ৪,০০০ কিমি।

শামের সাগরলোহিত সাগরইয়েমেনের সাগর?পারস্য উপসাগরআরব সাগরআয়লা (আকাবা)মদিনা~৪,০০০ কিমি: ৩ নটে এক মাসআস্তোলা
  • আস্তোলা পর্যন্ত সমুদ্রপথ, ~৪,৮৭০ কিমি
  • ৩ নট বেগে এক মাসে সর্বোচ্চ যতদূর
ভাসার গতি একটি অনুমান (ঝড়ে চালিত পালতোলা জাহাজের জন্য ১ থেকে ৩ নট); হাদীসে কোনো গতির উল্লেখ নেই।
পরীক্ষা ২ · এক মাস সমুদ্রে

সবচেয়ে দ্রুত ভাসলেও আকাবা থেকে ছাড়া জাহাজের এক মাস শেষ হয়ে যায় ওমানের কাছে কোথাও, আস্তোলার আগেই। তবে হাদীস কোথাও বলেনি যে তাঁরা ফিলিস্তিন থেকে রওনা দিয়েছিলেন। লাখম ও জুযামের আত্মীয়রা আরবের নানা প্রান্তে ছিল, আর উপসাগরে থাকা কোনো জাহাজ এর যেকোনো দ্বীপে সহজেই পৌঁছাতে পারত। পরীক্ষাটি আস্তোলার বিপক্ষে ঝোঁকে, কিন্তু নিষ্পত্তি করে না।

শেষ সূত্র, হাদীসে উল্লেখিত একমাত্র ভবন: দাইর। তামীম ইসলাম গ্রহণের আগে খ্রিস্টান ছিলেন, আর তিনি একে মঠ বলেছেন। এখানে প্রত্নতত্ত্বের কিছু বলার আছে। ১৯৯২ সালে আবুধাবির কাছের দ্বীপ সির বানি ইয়াসে খননকারীরা একটি খ্রিস্টান মঠ ও গির্জা খুঁজে পান, যার সময়কাল আনুমানিক ৬০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত, অর্থাৎ তামীমের জীবদ্দশাতেই। ইরানের কাছের খার্গ দ্বীপে রয়েছে আরও বড় একটি মঠ কমপ্লেক্স, বিভিন্ন গবেষকের মতে যার সময়কাল ৭ম থেকে ৯ম শতাব্দী।

শামের সাগরলোহিত সাগরইয়েমেনের সাগর?পারস্য উপসাগরআরব সাগরমদিনাখার্গসির বানি ইয়াসআস্তোলা
  • প্রত্নতাত্ত্বিকদের পাওয়া দ্বীপ-মঠ
  • আস্তোলা: কোনো মঠ পাওয়া যায়নি
সির বানি ইয়াস ও খার্গ: উইকিপিডিয়া ও সেখানে উল্লেখিত খনন প্রতিবেদন।
পরীক্ষা ৩ · মঠ

এর মানে এই নয় যে সির বানি ইয়াস বা খার্গই সেই দ্বীপ; কোনো আলেম তা বলেননি, আমরাও বলছি না। এটি শুধু দেখায় যে হাদীসে উল্লেখিত একমাত্র ভবনটি এমন ধরনের ভবন, যা তামীমের যুগে মদিনার পূর্বের দ্বীপগুলোতে সত্যিই ছিল। আস্তোলায় এমন কিছু পাওয়া যায়নি।

সায়েন্স বনাম ইন্টারনেটের ভাইরাল থিওরি

বিজ্ঞান ইঙ্গিত দিচ্ছে উপসাগরের দিকে। ইন্টারনেট ইঙ্গিত দিচ্ছে অন্য কোথাও: মদিনা থেকে ২,৪৪৪ কিমি দূরে, বেলুচিস্তানের উপকূলে, এমন এক দ্বীপের দিকে যাকে নাবিকেরা দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে ভয় পেয়ে আসছে।

পর্ব ৪ · সমকালীন অনুসন্ধান

আস্তোলা দ্বীপ সম্পর্কিত দাবির উৎপত্তি ও ভৌগোলিক সমীক্ষা

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের পাসনি উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার গভীরে আরব সাগরের বুকে একা দাঁড়িয়ে আছে এক জনমানবহীন দ্বীপ: আস্তোলা দ্বীপ (স্থানীয় নাম হাফত তালার বা সাত পাহাড়ের দ্বীপ)। প্রায় ৬.৭ কিলোমিটার লম্বা এই দ্বীপটি পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক দ্বীপ। চারপাশ খাড়া পাথুরে দেয়াল, ওপরে সমতল টেবিলের মতো চূড়া, কোনো বড় গাছ নেই, শুধু কাঁটাযুক্ত ঝোপঝাড়। আর জুন থেকে আগস্টের মৌসুমি ঝড়ের সময় এই দ্বীপে যাওয়ার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু গবেষক ও ডকুমেন্টারি নির্মাতা একটি চমকপ্রদ থিওরি সামনে এনেছেন: তামীম আদ-দারী যে দ্বীপে নেমেছিলেন, সেটি কি এই আস্তোলা দ্বীপ? তাঁদের যুক্তির পেছনে ৩টি মজার মিল রয়েছে:

  • লোকেশন: এটি মদিনা থেকে পূর্ব দিকে ‘ইয়েমেনের সাগরে’ (আরব সাগরে) অবস্থিত এবং খোরাসান বা প্রাচ্যের সমুদ্রপথে পড়ে।
  • প্রাচীন রহস্য: খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দীতে আলেকজান্ডারের নৌ-সেনাপতি নিয়ার্কাস এই দ্বীপের (Nosala) কথা লিখে গেছেন, যেখানে প্রাচীন নাবিকরা ভয়ে যেতে চাইত না।
  • প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ: দ্বীপটিতে একটি প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ এবং খিজির (আ.)-এর নামের সাথে যুক্ত একটি ছোট প্রার্থনাস্থল রয়েছে, যাকে থিওরি প্রবক্তারা হাদীসের ‘দাইর’ (মঠ বা উপাসনালয়) বলে মনে করেন।
আরব সাগরগোয়াদরপাসনিওরমারাআস্তোলা · ২৫.১২° উ, ৬৩.৮৫° পূ
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের মাকরান উপকূল। আস্তোলা নিকটতম তীর থেকে প্রায় ২৫ কিমি এবং পাসনি থেকে ৩৫ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে।
তথ্যের তারিখ 2026-10-28
  • পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক দ্বীপ, প্রায় ৬.৭ বর্গকিমি। জনমানবহীন।

    Wikipedia, "Astola Island" ↗
  • কালী দেবীর একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ, বয়স নির্ণীত নয়। মৌসুমে মূল ভূখণ্ডের জেলেরা খাজা খিজিরের নামে একটি ছোট মসজিদ ব্যবহার করেন।

    Ramsar Information Sheet, Astola (Haft Talar) Island, 2001 (via Wikipedia) ↗
  • ২০১৭ সালের জুনে পাকিস্তানের প্রথম সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষিত। বিপন্ন সবুজ ও হক্সবিল কচ্ছপের ডিম পাড়ার সৈকত।

    Wikipedia, "Astola Island" ↗
  • আরিয়ানের নোসালা, 'বর্তমানে আস্তোলা নামে পরিচিত', গ্রিক নাবিক ও পরে স্থানীয় জেলেদের ভয়ের দ্বীপ।

    A. V. Williams Jackson (ed.), History of India, vol. 2, ch. 4 (1906), Wikisource ↗

দুই হাজার বছর ধরে ভয়ের এক রহস্যময় দ্বীপ

দুই হাজার বছর ধরে ভয়ের এক দ্বীপ। তার পাথরে এক দেবীর মন্দির। জাসসাসা কি তবে সবার চোখের সামনেই লুকিয়ে ছিল?

পর্ব ৫ · প্রামাণিক পর্যালোচনা

আস্তোলা দ্বীপ অনুমানের হাদিসভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন

একজন ভালো রিসার্চারের কাজ হলো কোনো থিওরি শুনলেই তা চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস না করে প্রতিটি পয়েন্ট যাচাই করে দেখা। আমরা যখন আস্তোলা দ্বীপের দাবিগুলোকে সহীহ মুসলিমের আরবি শব্দ এবং দ্বীপটির আধুনিক স্যাটেলাইট ও পরিবেশগত জরিপের মুখোমুখি দাঁড় করাই, তখন আসল চিত্রটা বেরিয়ে আসে:

হাদীস বলেতত্ত্ব বলে
চুল / লোম'লোমে ঢাকা'; তিরমিযী: 'চুল চারদিকে ছড়ানো'।✓ কালীকে দেখানো হয় লম্বা, খোলা, ছড়ানো চুলে।
মুখতার সামনে-পেছন আলাদা করা যায় না।✓ এক উগ্র, ভয়ংকর মুখ, যার দিকে তাকানো কঠিন।
জিহ্বাকথা বলা এক প্রাণী।✓ কালীর মুখ থেকে বের হয়ে থাকা লাল জিহ্বা।
লিঙ্গ'সে (স্ত্রী) বলল'; একটি দুর্বল বর্ণনায়: 'এক নারী'।✓ কালী একজন দেবী।
স্থানমদিনার পূর্বে এক দ্বীপ, সেখানে একটি ভবন।✓ আস্তোলা, মদিনার পূর্বে, যেখানে কালীর মন্দির।

কাগজে-কলমে ৫ এ ৫: কিন্তু আসল সত্য কী?

কাগজে-কলমে পাঁচে পাঁচ। মামলা কি শেষ? এবার প্রতিটি লাইন আরবী মূলপাঠের সাথে মিলিয়ে পড়ুন।

পর্ব ৬ · সাহাবাদের দৃষ্টিভঙ্গি

সাহাবায়ে কেরামের দৃষ্টিভঙ্গি: ভৌগোলিক অনুসন্ধানের চেয়ে ঈমানী শিক্ষার গুরুত্ব

লিঙ্গ: 'সে (স্ত্রী) বলল'

ধোপে টেকে না

আরবীতে 'দাব্বাহ' (প্রাণী) শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে স্ত্রীলিঙ্গ, প্রাণীটি পুরুষ হোক বা স্ত্রী; কুরআন পৃথিবীর সব প্রাণীর জন্য শব্দটি ব্যবহার করেছে (সূরা হূদ ১১:৬)। 'সে (স্ত্রী) বলল' ক্রিয়াটি শব্দের অনুসারী, প্রাণীর নয়। একই বাক্যে এরপর পুংলিঙ্গ রূপ এসেছে: 'আহলাব', 'কাসীরুশ শা'র', 'তার (পুং) সামনে থেকে তার (পুং) পেছন'। মূলপাঠ প্রাণীটির লিঙ্গ নির্ধারণ করে না। 'এক নারী' কথাটি আছে শুধু দুর্বল সনদের একটি বর্ণনায়, আর সেটিও তাবেঈ আবু সালামার কথা।

muslim:2942a · abudawud:4328 · Quran 11:6

মুখ

ধোপে টেকে না

মাথা সম্পর্কে হাদীসের একমাত্র তথ্য হলো, সামনে-পেছন বোঝার উপায় ছিল না: কোনো মুখই চেনা যাচ্ছিল না। কালীর প্রতিমা গড়ে ওঠে একটি মুখকে কেন্দ্র করে, চোখ ও খোলা মুখসহ। এটি মিল নয়, বরং উল্টো।

muslim:2942a

জিহ্বা

হাদীসে নেই

মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ: তিনটির কোনোটিতেই জিহ্বার উল্লেখ নেই, লাল বা অন্য কিছু। জিহ্বা গল্পে ঢুকেছে কেবল কালীর প্রতিমা থেকে।

muslim:2942a · tirmidhi:2253 · abudawud:4328

চুল / লোম

দুর্বল মিল

সহীহ বর্ণনাগুলো এমন এক প্রাণীর কথা বলে যার সারা দেহ মাথা থেকে পা পর্যন্ত লোমে ঢাকা। কোনো অবয়বের মাথায় লম্বা চুল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। মিল কেবল 'চুল' শব্দটিতে।

muslim:2942a · tirmidhi:2253

জীবন্ত প্রাণী, প্রতিমা নয়

ধোপে টেকে না

জাসসাসা নাবিকদের সাথে দেখা করতে এসেছিল, কথা বলেছিল, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেছিল এবং পথ দেখিয়ে দিয়েছিল। তত্ত্বটিকে ধরে নিতে হয় যে মন্দিরের একটি প্রতিমা এ সবকিছু করেছে।

muslim:2942a · tirmidhi:2253

মঠের বদলে মন্দির

ধোপে টেকে না

সাবেক খ্রিস্টান তামীম ভবনটিকে বলেছেন 'দাইর', অর্থাৎ মঠ। সিন্ধু ও ভারত নিয়ে লেখা আরব লেখকেরা মূর্তির মন্দিরের জন্য ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করতেন: 'আল-বুদ্দ'। শব্দচয়নে হিন্দু মন্দিরের কোনো ইঙ্গিত নেই।

muslim:2942a

'৪০০০ বছরের পুরনো'

কোনো সোর্স পাওয়া যায়নি

২০০১ সালের রামসার তথ্যপত্র, অধিকাংশ তথ্যের উৎস, ধ্বংসাবশেষকে শুধু 'প্রাচীন' বলেছে। ৪০০০ বছরের সংখ্যাটির পেছনে কোনো বয়স নির্ণয় গবেষণা আমরা পাইনি।

Ramsar Information Sheet, 2001

দ্বীপটি নিজেই

ধোপে টেকে না

হাদীসের দ্বীপে ছিল একটি জনপদ এবং শিকলবন্দি এক বিশালদেহীসহ একটি ভবন। আস্তোলা ৬.৭ বর্গকিমি, জনমানবহীন, কোনো জনবসতির ধ্বংসাবশেষের তথ্য নেই। মৌসুমে জেলেরা সেখানে তাঁবু গাড়েন, জীববিজ্ঞানীরা কচ্ছপ জরিপ করেন, ২০১৭ থেকে এটি সংরক্ষিত এলাকা, আর স্যাটেলাইট প্রতিনিয়ত এর ছবি তোলে। যদি বলা হয় বিশালদেহীকে চোখের আড়ালে রাখা হয়েছে, তবে মন্দিরটি আর কোনো সূত্র থাকে না, তখন যেকোনো দ্বীপই সমান উপযুক্ত।

Wikipedia, "Astola Island"

দিক ও সমুদ্রযাত্রা

দুর্বল মিল

আস্তোলা পূর্বে ঠিকই, কিন্তু এক ডজন দ্বীপও পূর্বে, যার দুটি সোজা পূর্বের আরও কাছে। ফিলিস্তিন থেকে এক মাসের ভাসমান যাত্রা সেখানে পৌঁছায় না। আর হাদীসে উল্লেখিত একমাত্র ভবনটি পাওয়া গেছে উপসাগরের দ্বীপে, আস্তোলায় নয়।

Chapter 3

হুদসূরা ১১ · আয়াত ৬سورة هود
  1. ۞وَمَا مِن دَآبَّةࣲ فِي ٱلۡأَرۡضِ إِلَّا عَلَى ٱللَّهِ رِزۡقُهَا وَيَعۡلَمُ مُسۡتَقَرَّهَا وَمُسۡتَوۡدَعَهَاۚ كُلࣱّ فِي كِتَٰبࣲ مُّبِينࣲ‏۝٦

    ৬. আর যমীনে বিচরণকারী সবার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ্‌রই এবং তিনি সেসবের স্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থিতি সম্বন্ধে অবহিত; সবকিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে আছে।

চূড়ান্ত ফ্যাক্ট-চেক রায়: আস্তোলা থিওরি কেন ধোপে টেকে না

তত্ত্বটি হাদীসের মূলপাঠের সামনে টেকে না। পাঁচটি 'মিলের' মধ্যে মুখ ও লিঙ্গ নিবিড় পাঠে উল্টে যায়, জিহ্বা কোনো বর্ণনায় নেই, মন্দিরের বয়সের কোনো সূত্র নেই, আর চুল কেবল একটি শব্দের মিল। হাদীসে দ্বীপের নাম নেই, আলেমগণও এর অবস্থান নির্দিষ্ট করেননি; তাই স্থান হিসেবে আস্তোলাকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া যায় না, কিন্তু কিছুই এর দিকে ইঙ্গিতও করে না। আর কালী, আজকের কোটি হিন্দুর উপাস্য দেবী, কোনো সূত্রেই দাজ্জালের সাথে সম্পর্কিত নন। আল ফিতান এই সংযোগ টানে না।

আল-আন'আমসূরা ৬ · আয়াত ১০৮سورة الأنعام
  1. وَلَا تَسُبُّواْ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ فَيَسُبُّواْ ٱللَّهَ عَدۡوَۢا بِغَيۡرِ عِلۡمࣲۗ كَذَٰلِكَ زَيَّنَّا لِكُلِّ أُمَّةٍ عَمَلَهُمۡ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّهِم مَّرۡجِعُهُمۡ فَيُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ۝١٠٨

    ১০৮. আর আল্লাহ্‌কে ছেড়ে যাদেরকে তারা ডাকে তাদেরকে তোমার গালি দিও না। কেননা তারা সীমালংঘন করে অজ্ঞানতাবশতঃ আল্লাহকেও গালি দেবে; এভাবে আমরা প্রত্যেক জাতির দৃষ্টিতে তাদের কার্যকলাপ শোভিত করেছি; তারপর তাদের রবের কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন। এরপর তিনি তাদেরকে তাদের করা কাজগুলো সম্বন্ধে জানিয়ে দেবেন।

দ্বীপ নিয়ে আলেমদের বক্তব্য

কাযী ইয়ায, ইমাম নববীর সূত্রে

শারহু সহীহ মুসলিম

قال القاضي لفظة ما هو زائدة صلة للكلام ليست بنافية والمراد إثبات أنه في جهات المشرق

'মা হুয়া' শব্দটি না-বোধক নয়; উদ্দেশ্য হলো এটি নিশ্চিত করা যে সে পূর্বের দিকসমূহে। কোনো দ্বীপের নাম নেই।

ইবনে হাজার, সাফারীনীর সূত্রে

আল-বুহূরুয যাখিরা

شيطان موثق بسبعين حلقة في بعض جزائر اليمن ... ولعل هؤلاء مع كونهم ثقات تلقوا ذلك من بعض كتب أهل الكتاب

পূর্ববর্তী কেউ কেউ বলেছেন, দাজ্জাল এক শয়তান যাকে 'ইয়েমেনের কোনো এক দ্বীপে' শিকলে বেঁধে রাখা হয়েছে। ইবনে হাজারের মতে, তাঁরা নির্ভরযোগ্য হলেও সম্ভবত কথাটি আহলে কিতাবের কোনো গ্রন্থ থেকে নিয়েছেন। অর্থাৎ দ্বীপের অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা আগেও হয়েছে, কিন্তু নিষ্পত্তি হয়নি।

ইমাম কুরতুবী

আত-তাযকিরা

وروي عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن هذه الدابة هي الجساسة

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে একটি মত উল্লেখ করেছেন যে জাসসাসাই সূরা আন-নামল ২৭:৮২-এ বর্ণিত 'দাব্বাতুল আরদ'। জাসসাসা নিয়ে প্রাচীন আলোচনা এটি কী, তা নিয়ে; কোনো জাতির উপাস্য নিয়ে কখনো নয়।

⚖️

আস্তোলা দ্বীপ ও জাসসাসা: ভাইরাল থিওরি বনাম সহীহ সুন্নাহ

ভাইরাল গুজব থেকে আসল তথ্য আলাদা করে দেখুন।

❌ ভাইরাল দাবি #1

দাজ্জাল পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের আস্তোলা দ্বীপে শিকলে বাঁধা অবস্থায় আছে।

✅ আসল সত্য

সহীহ মুসলিমের হাদিসে কোনো নির্দিষ্ট দ্বীপের নাম নেই। আস্তোলার দূরত্ব, ইতিহাস ও ভৌগোলিক মাপকাঠি হাদিসের টেক্সটের সাথে মেলে না, আর কোনো মুহাদ্দিসও কখনোই আস্তোলাকে নির্দিষ্ট করেননি।

❌ ভাইরাল দাবি #2

হাদিসে বর্ণিত কথা বলা প্রাণী 'জাসসাসা' আসলে হিন্দু দেবী কালীর মূর্তি।

✅ আসল সত্য

হাদিসে দাব্বাহ (প্রাণী) ব্যাকরণগতভাবে স্ত্রীলিঙ্গ হলেও টেক্সট তাকে কোনো লিঙ্গ বা দেবী বানায় না। জাসসাসা একটি জীবন্ত, লোমশ, মানুষের ভাষায় কথা বলা প্রাণী ছিল, কোনো মন্দিরের নিষ্প্রাণ প্রতিমা নয়।

❌ ভাইরাল দাবি #3

সাহাবীরা এই দ্বীপের রহস্য সমাধানের জন্য পরবর্তীতে কোনো নৌ-অভিযান পরিচালনা করেছিলেন।

✅ আসল সত্য

সাহাবায়ে কেরাম সমুদ্র জয় করলেও কখনোই সেই দ্বীপ অনুসন্ধানে যাননি। কারণ তাঁরা জানতেন আল্লাহর হুকুম ছাড়া কেউ তাকে ছুঁতে পারবে না, আর তার প্রকাশ ঘটবে পূর্বের খোরাসান বা ইসফাহানের ভূখণ্ড থেকে।

🛡️ এই ফিতনা থেকে বাঁচতে নবীজি ﷺ আমাদের কী করতে বলেছেন

সূরা আল-কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করুন

'যে ব্যক্তি সূরা আল-কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জাল থেকে রক্ষা পাবে।'

Muslim 809a

প্রতি সালাতে আশ্রয় চান

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

শেষ তাশাহহুদের পর: 'হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামের শাস্তি থেকে, কবরের শাস্তি থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে।'

Muslim 588a

সাধারণ জিজ্ঞাসা ও সরাসরি উত্তর

তরুণদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও সহীহ দলীলভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তর

দাজ্জাল কি পাকিস্তানের আস্তোলা দ্বীপে বন্দি আছে?

না। এটি ইন্টারনেটের একটি সম্পূর্ণ অপ্রমাণিত থিওরি। সহীহ মুসলিমের মূল হাদিসে কোনো নির্দিষ্ট দ্বীপের নাম উল্লেখ নেই। দূরত্ব, ইতিহাস এবং প্রাচীন মঠের হিসাব অনুযায়ী আস্তোলার দাবি হাদিসের কষ্টিপাথরে টেকে না, আর কোনো গ্রহণযোগ্য মুহাদ্দিসও কখনো আস্তোলাকে নির্দিষ্ট করেননি।

হাদিসে বর্ণিত অদ্ভুত প্রাণী 'জাসসাসা' আসলে কী?

সহীহ মুসলিমে তামীম আদ-দারী (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, এটি ছিল সারা দেহ ঘন লোমে ঢাকা এক জীবন্ত প্রাণী, যার প্রচুর চুলের কারণে সামনে ও পেছনের দিক আলাদা করে চেনা যাচ্ছিল না। সে মানুষের ভাষায় কথা বলেছিল এবং নাবিকদের পথ দেখিয়েছিল। এটি কোনো হিন্দু দেবী বা প্রতিমা নয়।

নবীজি ﷺ কেন তামীম আদ-দারীর ঘটনা মিম্বরে দাঁড়িয়ে সাহাবীদের শুনিয়েছিলেন?

কারণ তামীম আদ-দারী (রা.) খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণের পর নিজের চোখে দেখা যে সমুদ্রযাত্রার অভিজ্ঞতা শুনিয়েছিলেন, তা নবীজির ﷺ পূর্ববর্তী ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে হুবহু মিলে গিয়েছিল। আল্লাহর রাসূল ﷺ এটিকে সত্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে সাহাবীদের জানিয়ে তাদের ঈমানকে আরও মজবুত করেছিলেন।

সাহাবায়ে কেরাম কি পরবর্তীতে কখনো সেই দ্বীপটি খুঁজতে নৌ-অভিযান পাঠিয়েছিলেন?

না, কোনো সাহাবী কখনোই জাহাজ নিয়ে সেই দ্বীপ অনুসন্ধানে যাননি। কারণ তাঁরা জানতেন আল্লাহর নির্ধারিত সময়ের আগে এবং নির্ধারিত স্থান (প্রাচ্যের খোরাসান বা ইসফাহান) ছাড়া দাজ্জাল কখনোই প্রকাশ পাবে না। দ্বীপে গিয়ে অনুসন্ধান চালানোর কোনো নির্দেশ শরীয়ত দেয়নি।

কোনো ভুল চোখে পড়েছে?

হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।

সংশোধনের প্রস্তাব বা ভুল রিপোর্ট করুন

হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।

বিষয়