আল ফিতান

এগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন

বড় আলামত ও কুরআনের তাফসীরআলেম দ্বারা যাচাইকৃত

কিয়ামতের ধোঁয়ার আলামত: সূরা আদ-দুখানের সঠিক ব্যাখ্যা

সূরা দুখানে বর্ণিত ‘আদ-দুখান’ বা ধোঁয়া কি মক্কার দুর্ভিক্ষের সময়ই ঘটে গেছে, নাকি এটি কিয়ামতের ১০টি বড় আলামতের একটি? দেখুন আলেমগণ কীভাবে এই দুই মতের মিল ঘটিয়েছেন।

  • প্রকাশিত
  • ১১ মিনিট লাগবে
এক নজরে সারসংক্ষেপ

সূরা আদ-দুখানে (৪৪:১০-১১) আল্লাহ বলেছেন: ‘অপেক্ষা করো সেদিনের, যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়া নিয়ে আসবে, যা মানুষকে ঢেকে ফেলবে; এটি হবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ এই আয়াতটি নিয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এবং ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মধ্যে দুটি ভিন্ন মত ছিল, আর এই দুই মতকে একসাথে রাখলেই পুরো ছবিটা পরিষ্কার হয়ে যায়।

1

১. কুরআন ও হাদিসের ভিত্তি: সূরা আদ-দুখান ও দশটি বড় আলামত

কুরআনুল কারীমের সূরা আদ-দুখান (সূরা ৪৪, আয়াত ১০-১২) খুললে একটি গা শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য পাওয়া যায়:
> ‘অতএব আপনি অপেক্ষা করুন সেদিনের, যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়া (দুখানিন মুবীন) নিয়ে আসবে, যা মানুষকে ঢেকে ফেলবে। এটি হবে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি! (তখন তারা বলবে:) হে আমাদের রব! আমাদের থেকে এই শাস্তি দূর করে দিন, আমরা অবশ্যই ঈমান আনব!’

এবার এই আয়াতটির পাশে রাখুন সহীহ মুসলিমের (২৯০১) বিখ্যাত হুযাইফা ইবনে উসাইদ আল-গিফারী (রা.)-এর হাদীসটি:
একদিন সাহাবীরা ছায়ায় বসে কিয়ামতের আলামত নিয়ে আলোচনা করছিলেন। নবীজি ﷺ সেখানে এসে বললেন:
> ‘ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবে না, যতক্ষণ না তোমরা এর আগে দশটি বড় আলামত দেখতে পাও...’, আর সেই দশটি আলামতের তালিকায় শুরুতেই তিনি উল্লেখ করলেন: ধোঁয়া (আদ-দুখান), দাজ্জাল, দাব্বাতুল আরদ, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়, ঈসা ইবনে মারইয়ামের অবতরণ এবং ইয়াজুজ ও মাজুজ।

2

২. সাহাবায়ে কেরামের তাফসিরগত দৃষ্টিভঙ্গি: ইবনে মাসউদ ও ইবনে আব্বাস (রা.)

এখানে এসে ঘটনাটি দারুণ মোড় নেয়। সাহাবীদের শীর্ষ মুফাসসিরদের মধ্যে সূরা দুখানের এই ‘ধোঁয়া’ নিয়ে দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়:

মত ১: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.), মক্কার দুর্ভিক্ষের সময় চোখের ঝাপসা ধোঁয়া
সহীহ বুখারী (৪৮২১) এবং সহীহ মুসলিমে (২৭৯৮) বর্ণিত হয়েছে, কুফায় এক বক্তা ওয়াজ করছিলেন যে কিয়ামতের আগে এক ধোঁয়া এসে মুনাফিকদের নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেবে। এই কথা শুনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) রেগে গেলেন এবং নিজের ব্যাখ্যা দিলেন:
- মক্কার কুরাইশরা যখন নবীজির ﷺ সাথে চরম শত্রুতা করছিল, তখন নবীজি ﷺ তাদের বিরুদ্ধে দুআ করেছিলেন: ‘হে আল্লাহ! ইউসুফ (আ.)-এর যুগের সাত বছরের দুর্ভিক্ষের মতো সাত বছরের দুর্ভিক্ষ দিয়ে আমাকে সাহায্য করো!’
- ফলে মক্কায় এত ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে যে মানুষ চামড়া, হাড় ও মৃত প্রাণী খেতে বাধ্য হয়। ক্ষুধার তীব্রতায় মানুষ যখন আকাশের দিকে তাকাত, তখন মাথা ঘুরে চোখের সামনে ধোঁয়ার মতো ঝাপসা (কাহাইয়াতুদ দুখান) দেখত!
- তখন আবু সুফিয়ান এসে নবীজির ﷺ কাছে বৃষ্টি ও মুক্তির জন্য অনুরোধ করলে আল্লাহ বৃষ্টি দেন। ইবনে মাসউদ (রা.)-এর মতে সূরা দুখানের ধোঁয়াটি তখনই ঘটে গেছে।

মত ২: আলী (রা.), ইবনে আব্বাস (রা.), ইবনে উমর (রা.) ও হুযাইফা (রা.), শেষ জামানার বাস্তব ধোঁয়া
অন্যদিকে আলী ইবনে আবি তালিব, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, আবু সাঈদ খুদরী এবং হুযাইফা (রা.)-সহ অধিকাংশ সাহাবীর মত হলো: আসল ‘দুখানুম মুবীন’ (স্পষ্ট ও বাস্তব ধোঁয়া) হলো কিয়ামতের আগের একটি বড় আলামত, যা এখনো ঘটেনি! তাঁদের যুক্তি হলো, কুরআনে বলা হয়েছে আকাশ নিজেই ‘স্পষ্ট ধোঁয়া’ (দুখানিন মুবীন) নিয়ে আসবে, ক্ষুধার কারণে চোখে ঝাপসা দেখা তো প্রকৃত অর্থে ‘স্পষ্ট ধোঁয়া’ নয়!

3

৩. মুহাদ্দিসদের সমন্বয়: মক্কার দুর্ভিক্ষ এবং কিয়ামতের মহাজাগতিক ধোঁয়া

তাহলে কার কথা ঠিক, ইবনে মাসউদ (রা.) নাকি ইবনে আব্বাস (রা.)?

আপনি যখন ইমাম নববী (শারহু সহীহ মুসলিম), হাফেজ ইবনে কাসীর (তাফসীরুল কুরআনিল আযীম), ইমাম কুরতুবী এবং ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) (ফাতহুল বারী)-এর ব্যাখ্যা পড়বেন, দেখবেন তাঁরা কত চমৎকারভাবে এই দুই মতের ডটগুলো মিলিয়েছেন:

  • ১. মক্কার দুর্ভিক্ষ ছিল ছোট নমুনা (শানে নুযূল): মক্কার কাফিরদের ওপর যখন দুর্ভিক্ষ নেমেছিল এবং তারা ক্ষুধার চোটে আকাশে ধোঁয়া দেখেছিল, সেটি ছিল এই আয়াতের প্রাথমিক ও আংশিক বাস্তবায়ন।
  • ২. কিয়ামতের আগের মহাধোঁয়া হলো পূর্ণাঙ্গ বাস্তব রূপ: আর যেহেতু সহীহ মুসলিমের (২৯০১) সহীহ হাদীসে নবীজি ﷺ নিজে দাজ্জাল, ঈসা (আ.) ও পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের সাথে ‘আদ-দুখান’-কে কিয়ামতের ১০টি বড় আলামতের মধ্যে গণনা করেছেন, তাই কিয়ামতের আগে পুরো আকাশ ঢেকে ফেলা একটি বাস্তব ও দৃশ্যমান ধোঁয়া অবশ্যই প্রকাশ পাবে!
📌 তাহলে ইবনে মাসউদ (রা.) কুফার সেই বক্তার ওপর কেন রেগে গিয়েছিলেন?
ইবনে হাজার (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন, কুফার সেই বক্তা নিজের মনগড়া কথাবার্তা মিশিয়ে কিয়ামতের ধোঁয়ার গল্প বলছিলেন। তাই ইবনে মাসউদ (রা.) তাকে থামিয়ে মক্কার সেই ঐতিহাসিক শানে নুযূলটি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যা তিনি নিজের চোখে দেখেছিলেন।
4

৪. মুমিন ও অবিশ্বাসীগণের ওপর ধোঁয়ার প্রভাবের গুণগত পার্থক্য

শেষ জামানায় যখন সেই মহাধোঁয়া (আদ-দুখান) আকাশ ছেয়ে ফেলবে, তখন মানুষের ওপর তার প্রভাব কেমন হবে? ইমাম তাবারী ও ইবনে কাসীর (রহ.) আবু সাঈদ খুদরী (রা.) ও সাহাবীদের তাফসীর থেকে উল্লেখ করেছেন:

  • মুমিনদের ক্ষেত্রে: এই ধোঁয়া মুমিনদের তেমন কোনো ক্ষতি করবে না; তাদের কাছে এটি সাধারণ সর্দি বা হালকা ঠান্ডা লাগার মতো (কায-যুকমাহ) অনুভূত হবে।
  • কাফির ও মুনাফিকদের ক্ষেত্রে: কিন্তু কাফির ও মুনাফিকদের শ্বাসনালীতে এই ধোঁয়া ঢুকে তাদের শরীর ফুলিয়ে তুলবে এবং তাদের কান ও নাক দিয়ে ধোঁয়া বের হতে থাকবে। তখন তারা দিশেহারা হয়ে চিৎকার করে বলবে: ‘হে আমাদের রব! আমাদের থেকে এই আজাব সরিয়ে নিন, আমরা অবশ্যই ঈমান আনব!’ (সূরা দুখান ৪৪:১২)।
5

৫. আধুনিক মনগড়া অনুমানের ঊর্ধ্বে: আল্লাহর সার্বভৌমিক কুদরত ও নিদর্শন

পৃথিবীর কোথাও কোনো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হলে বা নাসা (NASA) কোনো গ্রহাণুর খবর দিলেই ইউটিউবে থাম্বনেইল ভেসে ওঠে: ‘২০২৯ সালেই কি অ্যাপোফিস গ্রহাণুর আঘাতে সূরা দুখানের ধোঁয়া তৈরি হবে?!’

চলুন আমরা হাদীস বোঝার সঠিক মূলনীতি এখানে প্রয়োগ করি:

  1. সাল বা তারিখ নির্ধারণ করা নিষিদ্ধ: কিয়ামতের ১০টি বড় আলামতের কোনোটির জন্যই ২০২৯ বা ২০৩০ সালের মতো তারিখ নির্ধারণ করা গায়েবের ব্যাপারে না জেনে কথা বলার শামিল।
  2. ওহীর বাণীকে একটিমাত্র বৈজ্ঞানিক অনুমানের সাথে বেঁধে ফেলবেন না: আল্লাহ তাআলা এই ধোঁয়া কোনো মহাজাগতিক উল্কাপাত, আগ্নেয়গিরি কিংবা সরাসরি অলৌকিক কুদরতে ঘটাতে পারেন। কুরআন বা হাদীসে যেহেতু নির্দিষ্ট করে কোনো গ্রহাণু বা পরমাণু বোমার নাম বলা হয়নি, তাই নিজের অনুমানকে কুরআনের তাফসীর বানিয়ে ফেলা যাবে না।
  3. আসল শিক্ষা: বড় আলামতগুলো যখন মালা ছিঁড়ে পুঁতি ঝরে পড়ার মতো একটার পর একটা আসতে শুরু করবে এবং পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠে যাবে, তখন তাওবার দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে (সহীহ মুসলিম ১৫৭)। তাই আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়ার আগেই আজ নিজের ঈমান ও আমল ঠিক করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

۞কুরআনুল কারীমের প্রাসঙ্গিক আয়াত

আদ-দুখানসূরা ৪৪ · আয়াত ১০-১২سورة الدخان
  1. فَٱرۡتَقِبۡ يَوۡمَ تَأۡتِي ٱلسَّمَآءُ بِدُخَانࣲ مُّبِينࣲ‏۝١٠

    ১০. অতএব আপনি অপেক্ষা করুন সে দিনের যেদিন স্পষ্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হবে আকাশ

  2. يَغۡشَى ٱلنَّاسَۖ هَٰذَا عَذَابٌ أَلِيمࣱ‏۝١١

    ১১. তা আবৃত করে ফেলবে লোকদেরকে। এটা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

  3. رَّبَّنَا ٱكۡشِفۡ عَنَّا ٱلۡعَذَابَ إِنَّا مُؤۡمِنُونَ۝١٢

    ১২. (তারা বলবে) ‘হে আমাদের রব! আমাদের থেকে শাস্তি দূর করুন, নিশ্চয় আমরা মুমিন হব।’

📜প্রামাণ্য হাদীস শরীফ

সহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৯০১aসহিহবর্ণনাকারী: হুযাইফাহ ইবনু আসীদ আল গিফারী (রাযিঃ)صحيح مسلمرقم ٢٩٠١a

حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَابْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ - وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ فُرَاتٍ، الْقَزَّازِ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ الْغِفَارِيِّ، قَالَ اطَّلَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْنَا وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ فَقَالَ ‏"‏ مَا تَذَاكَرُونَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَذْكُرُ السَّاعَةَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنَّهَا لَنْ تَقُومَ حَتَّى تَرَوْنَ قَبْلَهَا عَشْرَ آيَاتٍ ‏"‏ ‏.‏ فَذَكَرَ الدُّخَانَ وَالدَّجَّالَ وَالدَّابَّةَ وَطُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَنُزُولَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم وَيَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَثَلاَثَةَ خُسُوفٍ خَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٌ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفٌ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَآخِرُ ذَلِكَ نَارٌ تَخْرُجُ مِنَ الْيَمَنِ تَطْرُدُ النَّاسَ إِلَى مَحْشَرِهِمْ ‏.‏

আবূ খাইসামাহ যুহায়র ইবনু হারব, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ইবনু আবু উমার আল মাক্কি (রহঃ) ..... হুযাইফাহ ইবনু আসীদ আল গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা (বিভিন্ন বিষয়ে) আলোচনা করছিলাম। এমন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন এবং প্রশ্ন করলেন, তোমরা কি বিষয়ে আলোচনা করছ? উত্তরে তারা বললেন, আমরা কিয়ামতের ব্যাপারে আলোচনা করছি। এ কথা শুনে তিনি বললেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা দশটি বিশেষ আলামত দেখবে। তারপর তিনি ধুম্র, দাজ্জাল, দাব্বা, পশ্চিমাকাশ হতে সূর্যোদয় হওয়া, মারইয়াম পুত্র ঈসা (আঃ) এর অবতরণ, ইয়া’জুজ মা'জুজ এবং তিনবার ভূখণ্ড ধ্বসে যাওয়া তথা পূর্ব দিকে ভূখণ্ড ধ্বস, পশ্চিম দিকে ভূখণ্ড ধ্বস এবং আরব উপদ্বীপে ভূখণ্ড ধ্বসের কথা বর্ণনা করলেন। এ আলামতসমূহের পর এক অগ্ন্যুৎপাতের প্রকাশিত হবে, যা তাদেরকে ইয়ামান থেকে হাশরের মাঠ পর্যন্ত তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০২১, ইসলামিক সেন্টার)

সহিহ বুখারিহাদীস নং ১০০৭সহিহবর্ণনাকারী: ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)صحيح البخاريرقم ١٠٠٧

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا رَأَى مِنَ النَّاسِ إِدْبَارًا قَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ سَبْعٌ كَسَبْعِ يُوسُفَ ‏"‏‏.‏ فَأَخَذَتْهُمْ سَنَةٌ حَصَّتْ كُلَّ شَىْءٍ حَتَّى أَكَلُوا الْجُلُودَ وَالْمَيْتَةَ وَالْجِيَفَ، وَيَنْظُرَ أَحَدُهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فَيَرَى الدُّخَانَ مِنَ الْجُوعِ، فَأَتَاهُ أَبُو سُفْيَانَ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّكَ تَأْمُرُ بِطَاعَةِ اللَّهِ وَبِصِلَةِ الرَّحِمِ وَإِنَّ قَوْمَكَ قَدْ هَلَكُوا، فَادْعُ اللَّهَ لَهُمْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى ‏{‏فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ‏}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏عَائِدُونَ * يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرَى‏}‏ فَالْبَطْشَةُ يَوْمَ بَدْرٍ، وَقَدْ مَضَتِ الدُّخَانُ وَالْبَطْشَةُ وَاللِّزَامُ وَآيَةُ الرُّومِ‏.‏

‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন লোকদেরকে ইসলাম বিমুখ ভূমিকায় দেখলেন, তখন দু‘আ করলেন, হে আল্লাহ্! ইউসুফ (‘আ.)-এর সময়ের সাত বছরের (দুর্ভিক্ষের) ন্যায় তাদের উপর সাতটি বছর দুর্ভিক্ষ দাও। ফলে তাদের উপর এমন দুর্ভিক্ষ আপতিত হল যে, তা সব কিছুই ধ্বংস করে দিল। এমন কি মানুষ তখন চামড়া, মৃতদেহ এবং পচা ও গলিত জানোয়ারও খেতে লাগল। ক্ষুধার তাড়নায় অবস্থা এতদূর চরম আকার ধারণ করল যে, কেউ যখন আকাশের দিকে তাকাত তখন সে ধোঁয়া দেখতে পেত। এমতাবস্থায় আবূ সুফ্ইয়ান (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! তুমি তো আল্লাহর আদেশ মেনে চল এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার আদেশ দান কর। কিন্তু তোমার কওমের লোকেরা তো মরে যাচ্ছে। তুমি তাদের জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আ কর। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেনঃ ‘‘তুমি সে দিনটির অপেক্ষায় থাক যখন আকাশ সুস্পষ্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যাবে...সেদিন আমি প্রবলভাবে তোমাদের পাকড়াও করব’’- (সূরাহ্ দুখান ৪৪/১০-১৬)। ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.) বলেন, সে কঠিন আঘাতের দিন ছিল বদরের যুদ্ধের দিন। ধোঁয়াও দেখা গেছে, আঘাতও এসেছে। আর মক্কার মুশ্রিকদের নিহত ও গ্রেফতার হওয়ার যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, তাও সত্য হয়েছে। সত্য হয়েছে সূরাহ্ রূম-এর এ আয়াতও (রুমবাসী দশ বছরের মধ্যে পারসিকদের উপর আবার বিজয়ী হবে)। (১০২০, ৪৬৯৩, ৪৭৬৭, ৪৭৭৪, ৪৮০৯, ৪৮২০, ৪৮২১, ৪৮২২, ৪৮২৩, ৪৮৩৪, ৪৮২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

Tafsir Ibn Kathir (7/249), graded Hasan by classical scholarsমান নির্ধারিত নয়

আমাদের নীতিমালায় মান নির্ধারিত নয়। সংকলিত মতামত নিচে দেওয়া হলো।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের তিনটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন: (১) ধোঁয়া, যা মুমিনকে সামান্য সর্দির মতো স্পর্শ করবে, আর কাফিরের শরীরে ফুলে উঠে তার প্রতিটি কান ও ছিদ্র দিয়ে বের হবে; (২) দাব্বাহ (প্রাণী); এবং (৩) দাজ্জাল।' (ইবনে জারীর আত-তাবারী ও ইবনে কাসীর কর্তৃক উদ্ধৃত)।

⚖️

আদ-দুখান (ধোঁয়া): ভাইরাল থিওরি বনাম প্রামাণ্য তাফসীর

সোশ্যাল মিডিয়ায় যা ভাইরাল হয় বনাম সহীহ হাদীস ও ইতিহাসে যা প্রমাণিত।

❌ ভাইরাল দাবি #1

সূরা দুখানের ধোঁয়া হলো নির্দিষ্ট কোনো সালে পৃথিবীতে আঘাত হানতে যাওয়া একটি গ্রহাণু বা উল্কাপিণ্ড।

✅ আসল সত্য

কোনো সহীহ হাদীসে গ্রহাণুর কথা বা কোনো নির্দিষ্ট সালের কথা বলা হয়নি। কিয়ামতের বড় আলামতের তারিখ নির্ধারণ করা ইসলামী আকীদার পরিপন্থী।

❌ ভাইরাল দাবি #2

ইবনে মাসউদ (রা.) এবং ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ব্যাখ্যা পরস্পরবিরোধী, যার কোনো সমাধান নেই।

✅ আসল সত্য

ইমাম নববী, ইবনে কাসীর ও ইবনে হাজার (রহ.) দেখিয়েছেন যে দুটি মতই সত্য ও পরিপূরক: মক্কার দুর্ভিক্ষ ছিল এর প্রাথমিক নমুনা, আর সহীহ মুসলিমে (২৯০১) বর্ণিত মহাধোঁয়াটি হলো কিয়ামতের আগের দশটি বড় আলামতের একটি।

🛡️

আসল প্রস্তুতি কী?

নবীজি ﷺ আমাদের বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ রাখবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে (সহীহ মুসলিম ৮০৯)। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল থিওরির পেছনে না ছুটে সুন্নাহর শেখানো আমলগুলো আঁকড়ে ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সাধারণ জিজ্ঞাসা ও সরাসরি উত্তর

তরুণদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও সহীহ দলীলভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তর

সূরা দুখানের ধোঁয়া হলো নির্দিষ্ট কোনো সালে পৃথিবীতে আঘাত হানতে যাওয়া একটি গ্রহাণু বা উল্কাপিণ্ড।

কোনো সহীহ হাদীসে গ্রহাণুর কথা বা কোনো নির্দিষ্ট সালের কথা বলা হয়নি। কিয়ামতের বড় আলামতের তারিখ নির্ধারণ করা ইসলামী আকীদার পরিপন্থী।

ইবনে মাসউদ (রা.) এবং ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ব্যাখ্যা পরস্পরবিরোধী, যার কোনো সমাধান নেই।

ইমাম নববী, ইবনে কাসীর ও ইবনে হাজার (রহ.) দেখিয়েছেন যে দুটি মতই সত্য ও পরিপূরক: মক্কার দুর্ভিক্ষ ছিল এর প্রাথমিক নমুনা, আর সহীহ মুসলিমে (২৯০১) বর্ণিত মহাধোঁয়াটি হলো কিয়ামতের আগের দশটি বড় আলামতের একটি।

কোনো ভুল চোখে পড়েছে?

হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।

সংশোধনের প্রস্তাব বা ভুল রিপোর্ট করুন

হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।

বিষয়