আল ফিতান

এগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন

ফ্যাক্ট-চেক ও হাদীসের প্রেক্ষাপটরিসার্চ টিম দ্বারা যাচাইকৃত

গারকাদ গাছ: সহীহ হাদীস ও ভাইরাল ছবির ফ্যাক্ট-চেক

কয়েক মাস পরপরই লম্বা পাইন বনের ছবি ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল হয় এই ক্যাপশন দিয়ে: ‘দেখুন, লাখ লাখ গারকাদ গাছ লাগানো হচ্ছে!’ কিন্তু গারকাদ গাছ আসলে দেখতে কেমন, আর মদিনার সবচেয়ে বিখ্যাত কবরস্থানের নামের সাথে এর কী সম্পর্ক, তা জানলে আপনি চমকে যাবেন।

  • প্রকাশিত
  • ১৮ মিনিট লাগবে
এক নজরে সারসংক্ষেপ

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে নবীজি ﷺ শেষ জামানায় ঈসা (আ.) অবতরণের পরের চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে একটি বিশেষ কাঁটাযুক্ত মরু ঝোপের নাম উল্লেখ করেছেন: ‘আল-গারকাদ’। অথচ আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় লম্বা পাইন কিংবা জলপাই গাছের ছবি দেখিয়ে গারকাদ বলে চালানো হয়। চলুন আসল সত্যটা দেখে নিই।

1

১. সহিহ মুসলিমের মূল হাদিসের পাঠ ও সনদগত অবস্থান

সহীহ বুখারী (২৯২৬) এবং সহীহ মুসলিমে (২৯২২) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে আল্লাহর রাসূল ﷺ শেষ জামানার এক চূড়ান্ত আলামতের কথা জানিয়েছেন, যখন পাথর ও গাছপালাও কথা বলবে, কেবল একটি কাঁটাযুক্ত ঝোপ ছাড়া:
> ‘...কেবল গারকাদ গাছ ছাড়া (إِلَّا الْغَرْقَدَ), কারণ সেটি তাদের গাছের অন্তর্ভুক্ত।’

ফেসবুক বা ইউটিউবের কোনো চটকদার ব্যাখ্যায় যাওয়ার আগে ক্লাসিক্যাল হাদীস বিশারদগণ, যেমন ইমাম নববী (শারহু সহীহ মুসলিম), হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (ফাতহুল বারী) এবং ইবনে কাসীর (রহ.), বারবার সতর্ক করেছেন যে এই হাদীসটিকে কিয়ামতের আলামতের পুরো টাইমলাইনের সাথে মিলিয়ে পড়তে হবে, বিচ্ছিন্নভাবে নয়।

2

২. আরবি অভিধান ও উদ্ভিদের বর্ণনায় কাঁটাযুক্ত গারকাদ গুল্মের স্বরূপ

আরবি অভিধান এবং উদ্ভিদবিজ্ঞানের বই খুললে প্রথম যে তথ্যটি দেখে মানুষ চমকে যায় তা হলো: গারকাদ কিন্তু পাইন, সেগুন বা মেহগনির মতো কোনো উঁচু কাণ্ডওয়ালা বৃক্ষ নয়!

ক্লাসিক্যাল আরবি অভিধান (লিসানুল আরব ও আল-কামুসুল মুহীত) অনুযায়ী, মরুভূমির কাঁটাযুক্ত ঝোপ ‘আল-আওসাজ’ যখন লবণাক্ত মাটিতে বড় ও ঘন ঝোপে পরিণত হয়, তখন আরবরা তাকে ‘আল-গারকাদ’ বলে। আধুনিক উদ্ভিদবিজ্ঞানে শাম (ফিলিস্তিন-জর্ডান), সিনাই ও হিজায অঞ্চলে এই গারকাদ মূলত দুটি কাঁটাযুক্ত মরু-ঝোপকে নির্দেশ করে:

  • ১. Nitraria retusa (নাইট্রারিয়া রেটুসা / গারকাদ ঝোপ): এটি লবণাক্ত মাটি ও তীব্র খরা সহ্য করতে পারা একটি ঘন কাঁটাযুক্ত ঝোপ, যা উচ্চতায় সাধারণত ১ থেকে ২.৫ মিটার (৩ থেকে ৮ ফুট) হয়। মৃত সাগর (Dead Sea), ওয়াদি আরাবা, সিনাই ও নেগেভ মরুভূমিতে এটি প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর জন্মায়। এর ডালপালা শক্ত ও সূঁচালো কাঁটায় ভরা, পাতাগুলো ছোট ও মোটা, আর এতে ছোট ছোট লাল ফলের দানা হয়।
  • ২. Lycium shawii (আরবীয় বক্সথর্ন / আওসাজ): এটিও ১ থেকে ৩ মিটার উঁচু ঘন কাঁটার ঝোপ, যা আরব উপদ্বীপ ও ফিলিস্তিনের মরু অঞ্চলে পরিচিত।
💡 তাহলে এই ঝোপ আড়াল তৈরি করে কীভাবে?
মরুভূমিতে বাতাসের সাথে উড়ে আসা বালি এই গারকাদ ঝোপের ঘন কাঁটাযুক্ত ডালপালার ভেতর আটকে গিয়ে ২ থেকে ৩ মিটার উঁচু ও বেশ চওড়া বালির ঢিবি (Nebkha) তৈরি করে, যা মরুভূমির বুকে প্রাকৃতিক বাঙ্কার বা ক্যামোফ্লেজ হিসেবে কাজ করে!
3

৩. হিজাজে গারকাদ গাছের উপস্থিতি ও ‘বাকী আল-গারকাদ’ নামকরণের ঐতিহাসিক কারণ

আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, মদিনার মসজিদে নববীর ঠিক পাশেই যে বিখ্যাত কবরস্থানটি রয়েছে, যেখানে উসমান (রা.), ফাতিমা (রা.), আয়েশা (রা.)-সহ প্রায় দশ হাজার সাহাবী শুয়ে আছেন, সহীহ বুখারী ও মুসলিমে সেই কবরস্থানটির নাম কেন ‘বাকী আল-গারকাদ’?

আরবিতে ‘বাকী’ মানে গাছের শেকড়যুক্ত খোলা ময়দান, আর সেখানে প্রচুর পরিমাণে এই কাঁটাযুক্ত গারকাদ ঝোপ জন্মেছিল! মদিনায় প্রথম মুসলিমদের দাফন করার জন্য যখন সেই গারকাদ ঝোপগুলো পরিষ্কার করে কবরস্থান বানানো হয়, তখন থেকেই জায়গাটির ঐতিহাসিক নাম হয়ে যায় ‘বাকী আল-গারকাদ’ (গারকাদ ঝোপের ময়দান) (সহীহ মুসলিম ৯৭৪)।

📌 এই তথ্যটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
১. এর মানে হলো মদিনার প্রতিটি সাহাবী খুব ভালো করেই চিনতেন গারকাদ গাছ দেখতে কেমন, কারণ মসজিদে নববীর পাশেই তাঁরা প্রতিদিন এই গাছ দেখতেন!
২. দ্বিতীয়ত, গারকাদ গাছ নিজে থেকে কোনো ‘অভিশপ্ত’ বা ‘শয়তানি গাছ’ নয়; এটি মরুভূমির একটি স্বাভাবিক উদ্ভিদ, যার নামে খোদ সাহাবীদের কবরস্থানের নামকরণ হয়েছে।
4

৪. শেষ জামানার ধারাবাহিকতায় এই ঘটনার স্থান: ঈসা (আ.) ও দাজ্জালের যুদ্ধ

সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বড় যে ভুলটি হয় তা হলো, ক্লাসিক্যাল আলেমদের তাফসীর ও হাদীসের ধারাবাহিকতা না জেনেই এই হাদীসটিকে আজকের যেকোনো রাজনৈতিক সংবাদের সাথে জুড়ে দেওয়া।

ফাতহুল বারী (ইবনে হাজার আসকালানী) এবং আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (ইবনে কাসীর)-তে মুহাদ্দিসগণ সহীহ মুসলিমের (২৯২২) হাদীসটিকে সুনানে ইবনে মাজাহ (৪০৭৭) এবং মুসনাদে আহমদের (৩৫৪৬) বিস্তারিত বর্ণনার সাথে মিলিয়ে এর সুনির্দিষ্ট সময়কাল স্পষ্ট করেছেন:

  • ঘটনাটি কখন ঘটবে? এটি বর্তমান সময়ের কোনো সাধারণ রাজনৈতিক যুদ্ধের কথা নয়; বরং এটি ঘটবে একদম শেষ জামানায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ এবং আকাশ থেকে ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) অবতরণের পর!
  • কাদের সাথে ঘটবে? দাজ্জাল যখন বের হবে, তখন তার পেছনে ৭০ হাজার সশস্ত্র অনুসারী জড়ো হবে (সহীহ মুসলিম ২৯৪৪)। ঈসা (আ.) যখন দামেস্কে অবতরণ করে ফিলিস্তিনের ‘বাবে লুদ’-এ দাজ্জালকে বধ করবেন, তখন দাজ্জালের সেই বাহিনীর বিরুদ্ধে ঈসা (আ.)-এর মুজিযা হিসেবে জড় পদার্থ পাথর ও গাছপালাও কথা বলে উঠবে, কেবল সেই কাঁটাযুক্ত গারকাদ ঝোপ ছাড়া।
⚖️ আলেমদের জরুরি মূলনীতি: ক্লাসিক্যাল ও সমকালীন আলেমগণ কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন যে, শেষ জামানার ভবিষ্যদ্বাণীর হাদীসকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ বা কোনো ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ বা জুলুম করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। ইসলামী শরীয়তে মানুষের সাথে আচরণের মানদণ্ড হলো কুরআন ও সুন্নাহর ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের বিধান, নিজের মনগড়া ভবিষ্যদ্বাণী প্রয়োগ নয়।
5

৫. আধুনিক বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত অতিরঞ্জিত দাবির তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা

আজ ইউটিউব, টিকটক বা ফেসবুকে ‘গারকাদ গাছ’ লিখে সার্চ দিলে লাখ লাখ ভিউ পাওয়া ৩টি দাবি আপনার সামনে আসবে। চলুন প্রতিটি দাবিকে প্রামাণ্য তথ্যের মুখোমুখি দাঁড় করাই:

গুজব ১: লম্বা পাইন বা জলপাই গাছের ছবি দেখিয়ে ‘গারকাদ’ বলে চালানো
ভাইরাল হওয়া প্রায় ৯৯% ভিডিও ও পোস্টে জেরুজালেমের আশেপাশের লম্বা সবুজ পাইন গাছ (Aleppo Pine) কিংবা জলপাই গাছের (Olive tree) বাগান দেখিয়ে বলা হয়: ‘দেখুন, গারকাদ গাছের বন!’ অথচ আমরা ২ নম্বর পয়েন্টেই দেখেছি, আসল গারকাদ (Nitraria retusa / Lycium) হলো মরুভূমির নিচু কাঁটাযুক্ত ঝোপ, কোনো পাইন বা জলপাই গাছ নয়!

গুজব ২: ‘জিউশ ন্যাশনাল ফান্ড (JNF) ২৪ কোটি গারকাদ গাছ লাগিয়েছে!’
এই ‘২৪ কোটি গাছ’-এর সংখ্যাটি কোথা থেকে এসেছে জানেন? ১৯০১ সাল থেকে শুরু করে জিউশ ন্যাশনাল ফান্ডের (KKL-JNF) মোট বনায়ন পরিসংখ্যান থেকে। কিন্তু তাদের প্রকাশিত অফিসিয়াল বোটানিক্যাল রিপোর্টে ওই ২৪ কোটি গাছের তালিকায় কোন কোন গাছ আছে? সেখানে ৯৫ শতাংশেরও বেশি হলো পাইন (Pine), সাইপ্রেস (Cypress), ইউক্যালিপটাস, ওক, ক্যারব এবং জলপাই গাছ! গারকাদ (Nitraria retusa) কোনো কাঠ বা ছায়া দেওয়ার বৃক্ষই নয়; এটি লবণাক্ত মরুভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো ঝোপ।

গুজব ৩: ‘নেগেভ মরুভূমির ইয়াতীর বনই (Yatir Forest) হলো গারকাদের বন!’
অনেক ফেসবুক পোস্টে নেগেভ মরুভূমির প্রান্তে অবস্থিত বিশাল ইয়াতীর বনের ছবি শেয়ার করে বলা হয় এটি গারকাদের জঙ্গল। অথচ ১৯৬৪ সাল থেকে গড়ে তোলা ইয়াতীর বনের ৪০ লাখের বেশি গাছ মূলত জেরুজালেম পাইন ও সাইপ্রেস গাছ, গারকাদ ঝোপ নয়।

6

৬. মধ্যপ্রাচ্য ও শাম অঞ্চলের মরু অঞ্চলে গারকাদ উদ্ভিদের ভৌগোলিক বিস্তার

ভুয়া পাইন গাছের ছবিগুলো সরিয়ে রাখলে ফিলিস্তিন, জর্ডান ও সিনাই অঞ্চলের আসল বোটানিক্যাল জরিপে গারকাদ (Nitraria retusa ও Lycium shawii) সম্পর্কে কী দেখা যায়?

  1. বিশাল প্রাকৃতিক আবাসস্থল: মৃত সাগর (Dead Sea) উপত্যকা, জর্ডান ভ্যালি, ওয়াদি আরাবা, নেগেভ মরুভূমি এবং সিনাই উপদ্বীপের লবণাক্ত ও শুষ্ক অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর পরিমাণে আসল গারকাদ ঝোপ জন্মায়। যেখানে লবণাক্ততার কারণে অন্য গাছ বাঁচে না, সেখানে কারও চাষ করা ছাড়াই এই ঝোপ মাইলের পর মাইল ছড়িয়ে থাকে।
  2. মরুময়তা রোধ ও প্রাকৃতিক ঝোপ: নেগেভ ও আরাবা অঞ্চলের মরুময়তা রোধ এবং বালিয়াড়ি আটকানোর কাজে স্থানীয় মরু-ঝোপ (Atriplex, Tamarix, Nitraria ইত্যাদি) সংরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে সীমান্ত ও সড়কের পাশে আড়াল তৈরির জন্য যে লম্বা গাছের সারি লাগানো হয়, সেগুলো মূলত ইউক্যালিপটাস, পাইন ও সাইপ্রেস গাছ।
7

৭. তাহকীক ও সতর্কতা: নির্ভরযোগ্য তথ্যের বিপরীতে চটুল প্রচারের বর্জন

একবার ভেবে দেখুন তো, যখন কোনো তরুণ ফেসবুকে দেখে ‘জেরুজালেমের এই লম্বা পাইন গাছটাই হাদীসের গারকাদ গাছ!’, আর পাঁচ মিনিট পর গুগল লেন্স বা উইকিপিডিয়ায় সার্চ দিয়ে দেখে ওটা আসলে সাধারণ একটা পাইন বা জলপাই গাছ, তখন কী ঘটে?

তখন নাস্তিক বা সংশয়বাদীরা সুযোগ পেয়ে যায় এবং সাধারণ তরুণরা বুঝতে না পেরে সোশ্যাল মিডিয়ার পেজটির ভুল না ধরে খোদ হাদীসের ওপরেই সন্দেহ করতে শুরু করে! এজন্যই আমাদের পূর্বসূরি আলেমগণ তথ্য যাচাইয়ের (তাসাব্বুত) ব্যাপারে এত কঠোর ছিলেন। নবীজির ﷺ প্রতিটি কথা শতভাগ সত্য, সেই সত্যকে প্রমাণ করার জন্য আমাদের কোনো ভুয়া ছবি বা ক্লিকবেইটের দরকার নেই।

8

৮. হাদিসের শিক্ষা: সত্যের অবিচল বিশ্বাস এবং গঠনমূলক আমল

চলুন নবীজির ﷺ দুটি অসাধারণ মূলনীতির মাধ্যমে পুরো বিষয়টি শেষ করি:

১. শেয়ার করার আগে যাচাই করুন (সূরা হুজুরাত ৪৯:৬): কিয়ামতের আলামত নিয়ে যেকোনো ছবি বা পোস্ট শেয়ার করার আগে অবশ্যই হাদীসের মান এবং বাস্তব সোর্স যাচাই করে নিন।
২. হাতে থাকা চারাগাছ রোপণের হাদীস: শেষ জামানার একটি হাদীসে যেমন কাঁটাযুক্ত গারকাদ ঝোপের কথা এসেছে, তেমনি মুসনাদে আহমদ (১২৯০২) এবং আল-আদাবুল মুফরাদে (৪৭৯) নবীজির ﷺ আরেকটি অমর বাণী মনে রাখুন:
> ‘যদি কিয়ামত কায়েম হয়ে যায় আর তখনো তোমাদের কারও হাতে একটি চারাগাছ (ফাসীলাহ) থাকে, তবে উঠে দাঁড়ানোর আগেই যদি সে তা রোপণ করতে পারে, সে যেন তা রোপণ করে!’

একজন মুমিন কখনোই ভাইরাল আতঙ্ক ছড়ানোয় সময় নষ্ট করে না; বরং সে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সত্য, ইনসাফ ও কল্যাণের চারা রোপণ করে যায়।

۞কুরআনুল কারীমের প্রাসঙ্গিক আয়াত

আল-মুমতাহিনাসূরা ৬০ · আয়াত ৮سورة الممتحنة
  1. لَّا يَنۡهَىٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ لَمۡ يُقَٰتِلُوكُمۡ فِي ٱلدِّينِ وَلَمۡ يُخۡرِجُوكُم مِّن دِيَٰرِكُمۡ أَن تَبَرُّوهُمۡ وَتُقۡسِطُوٓاْ إِلَيۡهِمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ۝٨

    ৮. দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ থেকে বহিস্কার করেনি তাদের প্রতি মহানুভবতা দেখাতে ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।

আল-ইসরাসূরা ১৭ · আয়াত ১০৪سورة الإسراء
  1. وَقُلۡنَا مِنۢ بَعۡدِهِۦ لِبَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ ٱسۡكُنُواْ ٱلۡأَرۡضَ فَإِذَا جَآءَ وَعۡدُ ٱلۡأٓخِرَةِ جِئۡنَا بِكُمۡ لَفِيفࣰ ا۝١٠٤

    ১০৪. আর আমরা এরপর বনী ইসরাঈলকে বললাম, ‘তখন যমীনে বসবাস কর এবং যখন আখিরাতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে তখন তোমাদের সবাইকে আমরা একত্র করে উপস্থির করব

📜প্রামাণ্য হাদীস শরীফ

সহিহ মুসলিম ↗হাদীস নং ২৯২২সহিহصحيح مسلمرقم ٢٩٢٢

لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ الْيَهُودَ، فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يَخْتَبِئَ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ، فَيَقُولُ الْحَجَرُ أَوِ الشَّجَرُ: يَا مُسْلِمُ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا يَهُودِيٌّ خَلْفِي فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ، إِلَّا الْغَرْقَدَ، فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرِ الْيَهُودِ

কেয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না মুসলিমরা ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং মুসলিমরা তাদের হত্যা করবে। এমনকি ইহুদী যদি পাথর বা গাছের আড়ালে লুকায়, তখন পাথর বা গাছ বলবে: 'হে মুসলিম, হে আল্লাহর বান্দা, এই তো আমার পেছনে একজন ইহুদী রয়েছে, এসো এবং তাকে হত্যা করো।' তবে 'গারকাদ' গাছ ব্যতীত; কেননা তা ইহুদীদের গাছ।

সহিহ বুখারিহাদীস নং ২৯২৫সহিহবর্ণনাকারী: ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)صحيح البخاريرقم ٢٩٢٥

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَرْوِيُّ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ تُقَاتِلُونَ الْيَهُودَ حَتَّى يَخْتَبِيَ أَحَدُهُمْ وَرَاءَ الْحَجَرِ فَيَقُولُ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا يَهُودِيٌّ وَرَائِي فَاقْتُلْهُ ‏"‏‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এমনকি তাদের কেউ যদি পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকে তাহলে পাথরও বলবে, ‘হে আল্লাহর বান্দা, আমার পেছনে ইয়াহূদী আছে, তাকে হত্যা কর।’ (৩৫৯৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭১০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

সুনানে ইবনে মাজাহহাদীস নং ৪০৭৭যঈফ (দুর্বল)বর্ণনাকারী: আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাঃ)سنن ابن ماجهرقم ٤٠٧٧

দুর্বল (যঈফ) বর্ণনা। গবেষণার জন্য দেখানো হয়েছে, প্রামাণ্য দলিল হিসেবে নয়।

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَافِعٍ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ السَّيْبَانِيِّ، يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَكَانَ أَكْثَرُ خُطْبَتِهِ حَدِيثًا حَدَّثَنَاهُ عَنِ الدَّجَّالِ وَحَذَّرَنَاهُ فَكَانَ مِنْ قَوْلِهِ أَنْ قَالَ ‏"‏ إِنَّهُ لَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ مُنْذُ ذَرَأَ اللَّهُ ذُرِّيَّةَ آدَمَ أَعْظَمَ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْ نَبِيًّا إِلاَّ حَذَّرَ أُمَّتَهُ الدَّجَّالَ وَأَنَا آخِرُ الأَنْبِيَاءِ وَأَنْتُمْ آخِرُ الأُمَمِ وَهُوَ خَارِجٌ فِيكُمْ لاَ مَحَالَةَ وَإِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا بَيْنَ ظَهْرَانَيْكُمْ فَأَنَا حَجِيجٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ وَإِنْ يَخْرُجْ مِنْ بَعْدِي فَكُلُّ امْرِئٍ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَإِنَّهُ يَخْرُجُ مِنْ خَلَّةٍ بَيْنَ الشَّامِ وَالْعِرَاقِ فَيَعِيثُ يَمِينًا وَيَعِيثُ شِمَالاً ‏.‏ يَا عِبَادَ اللَّهِ أَيُّهَا النَّاسُ فَاثْبُتُوا فَإِنِّي سَأَصِفُهُ لَكُمْ صِفَةً لَمْ يَصِفْهَا إِيَّاهُ نَبِيٌّ قَبْلِي إِنَّهُ يَبْدَأُ فَيَقُولُ أَنَا نَبِيٌّ وَلاَ نَبِيَّ بَعْدِي ثُمَّ يُثَنِّي فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ ‏.‏ وَلاَ تَرَوْنَ رَبَّكُمْ حَتَّى تَمُوتُوا وَإِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَإِنَّهُ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ كَاتِبٍ أَوْ غَيْرِ كَاتِبٍ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنَّ مَعَهُ جَنَّةً وَنَارًا فَنَارُهُ جَنَّةٌ وَجَنَّتُهُ نَارٌ فَمَنِ ابْتُلِيَ بِنَارِهِ فَلْيَسْتَغِثْ بِاللَّهِ وَلْيَقْرَأْ فَوَاتِحَ الْكَهْفِ فَتَكُونَ عَلَيْهِ بَرْدًا وَسَلاَمًا كَمَا كَانَتِ النَّارُ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَقُولَ لأَعْرَابِيٍّ أَرَأَيْتَ إِنْ بَعَثْتُ لَكَ أَبَاكَ وَأُمَّكَ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَبُّكَ فَيَقُولُ نَعَمْ ‏.‏ فَيَتَمَثَّلُ لَهُ شَيْطَانَانِ فِي صُورَةِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ فَيَقُولاَنِ يَا بُنَىَّ اتَّبِعْهُ فَإِنَّهُ رَبُّكَ ‏.‏ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يُسَلَّطَ عَلَى نَفْسٍ وَاحِدَةٍ فَيَقْتُلَهَا وَيَنْشُرَهَا بِالْمِنْشَارِ حَتَّى يُلْقَى شِقَّتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا فَإِنِّي أَبْعَثُهُ الآنَ ثُمَّ يَزْعُمُ أَنَّ لَهُ رَبًّا غَيْرِي ‏.‏ فَيَبْعَثُهُ اللَّهُ وَيَقُولُ لَهُ الْخَبِيثُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ وَأَنْتَ عَدُوُّ اللَّهِ أَنْتَ الدَّجَّالُ وَاللَّهِ مَا كُنْتُ بَعْدُ أَشَدَّ بَصِيرَةً بِكَ مِنِّي الْيَوْمَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو الْحَسَنِ الطَّنَافِسِيُّ فَحَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ الْوَصَّافِيُّ عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ ذَلِكَ الرَّجُلُ أَرْفَعُ أُمَّتِي دَرَجَةً فِي الْجَنَّةِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ وَاللَّهِ مَا كُنَّا نُرَى ذَلِكَ الرَّجُلَ إِلاَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ ‏.‏ قَالَ الْمُحَارِبِيُّ ثُمَّ رَجَعْنَا إِلَى حَدِيثِ أَبِي رَافِعٍ قَالَ ‏"‏ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَأْمُرَ السَّمَاءَ أَنْ تُمْطِرَ فَتُمْطِرَ وَيَأْمُرَ الأَرْضَ أَنْ تُنْبِتَ فَتُنْبِتَ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَمُرَّ بِالْحَىِّ فَيُكَذِّبُونَهُ فَلاَ تَبْقَى لَهُمْ سَائِمَةٌ إِلاَّ هَلَكَتْ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَمُرَّ بِالْحَىِّ فَيُصَدِّقُونَهُ فَيَأْمُرَ السَّمَاءَ أَنْ تُمْطِرَ فَتُمْطِرَ وَيَأْمُرَ الأَرْضَ أَنْ تُنْبِتَ فَتُنْبِتَ حَتَّى تَرُوحَ مَوَاشِيهِمْ مِنْ يَوْمِهِمْ ذَلِكَ أَسْمَنَ مَا كَانَتْ وَأَعْظَمَهُ وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ وَأَدَرَّهُ ضُرُوعًا وَإِنَّهُ لاَ يَبْقَى شَىْءٌ مِنَ الأَرْضِ إِلاَّ وَطِئَهُ وَظَهَرَ عَلَيْهِ إِلاَّ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ لاَ يَأْتِيهِمَا مِنْ نَقْبٍ مِنْ نِقَابِهِمَا إِلاَّ لَقِيَتْهُ الْمَلاَئِكَةُ بِالسُّيُوفِ صَلْتَةً حَتَّى يَنْزِلَ عِنْدَ الظُّرَيْبِ الأَحْمَرِ عِنْدَ مُنْقَطَعِ السَّبَخَةِ فَتَرْجُفُ الْمَدِينَةُ بِأَهْلِهَا ثَلاَثَ رَجَفَاتٍ فَلاَ يَبْقَى مُنَافِقٌ وَلاَ مُنَافِقَةٌ إِلاَّ خَرَجَ إِلَيْهِ فَتَنْفِي الْخَبَثَ مِنْهَا كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَيُدْعَى ذَلِكَ الْيَوْمُ يَوْمَ الْخَلاَصِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَتْ أُمُّ شَرِيكٍ بِنْتُ أَبِي الْعُكَرِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَيْنَ الْعَرَبُ يَوْمَئِذٍ قَالَ ‏"‏ هُمْ يَوْمَئِذٍ قَلِيلٌ وَجُلُّهُمْ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ وَإِمَامُهُمْ رَجُلٌ صَالِحٌ فَبَيْنَمَا إِمَامُهُمْ قَدْ تَقَدَّمَ يُصَلِّي بِهِمُ الصُّبْحَ إِذْ نَزَلَ عَلَيْهِمْ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ الصُّبْحَ فَرَجَعَ ذَلِكَ الإِمَامُ يَنْكُصُ يَمْشِي الْقَهْقَرَى لِيَتَقَدَّمَ عِيسَى يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَيَضَعُ عِيسَى يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ ثُمَّ يَقُولُ لَهُ تَقَدَّمْ فَصَلِّ فَإِنَّهَا لَكَ أُقِيمَتْ ‏.‏ فَيُصَلِّي بِهِمْ إِمَامُهُمْ فَإِذَا انْصَرَفَ قَالَ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ افْتَحُوا الْبَابَ ‏.‏ فَيُفْتَحُ وَوَرَاءَهُ الدَّجَّالُ مَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفِ يَهُودِيٍّ كُلُّهُمْ ذُو سَيْفٍ مُحَلًّى وَسَاجٍ فَإِذَا نَظَرَ إِلَيْهِ الدَّجَّالُ ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ وَيَنْطَلِقُ هَارِبًا وَيَقُولُ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ إِنَّ لِي فِيكَ ضَرْبَةً لَنْ تَسْبِقَنِي بِهَا ‏.‏ فَيُدْرِكُهُ عِنْدَ بَابِ اللُّدِّ الشَّرْقِيِّ فَيَقْتُلُهُ فَيَهْزِمُ اللَّهُ الْيَهُودَ فَلاَ يَبْقَى شَىْءٌ مِمَّا خَلَقَ اللَّهُ يَتَوَارَى بِهِ يَهُودِيٌّ إِلاَّ أَنْطَقَ اللَّهُ ذَلِكَ الشَّىْءَ لاَ حَجَرَ وَلاَ شَجَرَ وَلاَ حَائِطَ وَلاَ دَابَّةَ - إِلاَّ الْغَرْقَدَةَ فَإِنَّهَا مِنْ شَجَرِهِمْ لاَ تَنْطِقُ - إِلاَّ قَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ الْمُسْلِمَ هَذَا يَهُودِيٌّ فَتَعَالَ اقْتُلْهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ وَإِنَّ أَيَّامَهُ أَرْبَعُونَ سَنَةً السَّنَةُ كَنِصْفِ السَّنَةِ وَالسَّنَةُ كَالشَّهْرِ وَالشَّهْرُ كَالْجُمُعَةِ وَآخِرُ أَيَّامِهِ كَالشَّرَرَةِ يُصْبِحُ أَحَدُكُمْ عَلَى بَابِ الْمَدِينَةِ فَلاَ يَبْلُغُ بَابَهَا الآخَرَ حَتَّى يُمْسِيَ ‏"‏ ‏.‏ فَقِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نُصَلِّي فِي تِلْكَ الأَيَّامِ الْقِصَارِ قَالَ ‏"‏ تَقْدُرُونَ فِيهَا الصَّلاَةَ كَمَا تَقْدُرُونَهَا فِي هَذِهِ الأَيَّامِ الطِّوَالِ ثُمَّ صَلُّوا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ فَيَكُونُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فِي أُمَّتِي حَكَمًا عَدْلاً وَإِمَامًا مُقْسِطًا يَدُقُّ الصَّلِيبَ وَيَذْبَحُ الْخِنْزِيرَ وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ وَيَتْرُكُ الصَّدَقَةَ فَلاَ يُسْعَى عَلَى شَاةٍ وَلاَ بَعِيرٍ وَتُرْفَعُ الشَّحْنَاءُ وَالتَّبَاغُضُ وَتُنْزَعُ حُمَةُ كُلِّ ذَاتِ حُمَةٍ حَتَّى يُدْخِلَ الْوَلِيدُ يَدَهُ فِي فِي الْحَيَّةِ فَلاَ تَضُرَّهُ وَتُفِرُّ الْوَلِيدَةُ الأَسَدَ فَلاَ يَضُرُّهَا وَيَكُونُ الذِّئْبُ فِي الْغَنَمِ كَأَنَّهُ كَلْبُهَا وَتُمْلأُ الأَرْضُ مِنَ السِّلْمِ كَمَا يُمْلأُ الإِنَاءُ مِنَ الْمَاءِ وَتَكُونُ الْكَلِمَةُ وَاحِدَةً فَلاَ يُعْبَدُ إِلاَّ اللَّهُ وَتَضَعُ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا وَتُسْلَبُ قُرَيْشٌ مُلْكَهَا وَتَكُونُ الأَرْضُ كَفَاثُورِ الْفِضَّةِ تُنْبِتُ نَبَاتَهَا بِعَهْدِ آدَمَ حَتَّى يَجْتَمِعَ النَّفَرُ عَلَى الْقِطْفِ مِنَ الْعِنَبِ فَيُشْبِعَهُمْ وَيَجْتَمِعَ النَّفَرُ عَلَى الرُّمَّانَةِ فَتُشْبِعَهُمْ وَيَكُونَ الثَّوْرُ بِكَذَا وَكَذَا مِنَ الْمَالِ وَتَكُونَ الْفَرَسُ بِالدُّرَيْهِمَاتِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا يُرْخِصُ الْفَرَسَ قَالَ ‏"‏ لاَ تُرْكَبُ لِحَرْبٍ أَبَدًا ‏"‏ ‏.‏ قِيلَ لَهُ فَمَا يُغْلِي الثَّوْرَ قَالَ ‏"‏ تُحْرَثُ الأَرْضُ كُلُّهَا وَإِنَّ قَبْلَ خُرُوجِ الدَّجَّالِ ثَلاَثَ سَنَوَاتٍ شِدَادٍ يُصِيبُ النَّاسَ فِيهَا جُوعٌ شَدِيدٌ يَأْمُرُ اللَّهُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الأُولَى أَنْ تَحْبِسَ ثُلُثَ مَطَرِهَا وَيَأْمُرُ الأَرْضَ فَتَحْبِسُ ثُلُثَ نَبَاتِهَا ثُمَّ يَأْمُرُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الثَّانِيَةِ فَتَحْبِسُ ثُلُثَىْ مَطَرِهَا وَيَأْمُرُ الأَرْضَ فَتَحْبِسُ ثُلُثَىْ نَبَاتِهَا ثُمَّ يَأْمُرُ اللَّهُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الثَّالِثَةِ فَتَحْبِسُ مَطَرَهَا كُلَّهُ فَلاَ تَقْطُرُ قَطْرَةٌ وَيَأْمُرُ الأَرْضَ فَتَحْبِسُ نَبَاتَهَا كُلَّهُ فَلاَ تُنْبِتُ خَضْرَاءَ فَلاَ تَبْقَى ذَاتُ ظِلْفٍ إِلاَّ هَلَكَتْ إِلاَّ مَا شَاءَ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ قِيلَ فَمَا يُعِيشُ النَّاسَ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ قَالَ ‏"‏ التَّهْلِيلُ وَالتَّكْبِيرُ وَالتَّسْبِيحُ وَالتَّحْمِيدُ وَيُجْرَى ذَلِكَ عَلَيْهِمْ مَجْرَى الطَّعَامِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ سَمِعْتُ أَبَا الْحَسَنِ الطَّنَافِسِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيَّ يَقُولُ يَنْبَغِي أَنْ يُدْفَعَ هَذَا الْحَدِيثُ إِلَى الْمُؤَدِّبِ حَتَّى يُعَلِّمَهُ الصِّبْيَانَ فِي الْكُتَّابِ ‏.‏

আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। আমাদের উদ্দেশে দেয়া তাঁর দীর্ঘ ভাষণের অধিকাংশ ছিলো দাজ্জাল প্রসঙ্গে। তিনি আমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেন। তার সম্পর্কে তিনি তাঁর ভাষণে বলেনঃ আল্লাহ আদমের বংশধর সৃষ্টি করার পর থেকে দাজ্জালের ফেতনার চেয়ে মারাত্মক কোন ফেতনা পৃথিবীর বুকে সংঘটিত হবে না। আল্লাহ এমন কোন নবী পাঠাননি যিনি তাঁর উম্মাতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেননি। আর আমি সর্বশেষ নবী এবং তোমরা সর্বশেষ উম্মাত। সে অবশ্যই তোমাদের মাঝে আত্মপ্রকাশ করবে। আমি তোমাদের মধ্যে বর্তমান থাকতে যদি সে আবির্ভূত হয়, তবে আমিই প্রত্যেক মুসলিমের পক্ষ থেকে প্রতিরোধকারী হবো। আর যদি সে আমার পরে আবির্ভূত হয় তবে প্রত্যেক মুসলিমকে নিজের পক্ষ থেকে প্রতিরোধকারী হতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আমার প্রতিনিধি। নিশ্চয় সে সিরিয়া ও ইরাকের ‘খাল্লা’ নামক স্থান থেকে বের হবে। অতঃপর সে তার ডানে ও বামে সর্বত্র বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা (দীনের উপর) অবিচল থাকবে। কেননা আমি এখনই তোমাদের নিকট এমন সব নিকৃষ্ট অবস্থা বর্ণনা করবো যা আমার পূর্বে, বিশেষভাবে কোন নবীই তাঁর উম্মাতের নিকট বলেননি। সে তার দাবির সূচনায় বলবে, আমি নবী। অথচ আমার পরে কোন নবী নাই। অতঃপর সে দাবি করবে, আমি তোমাদের রব। অথচ মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তোমাদের প্রভুকে দেখতে পাবে না। সে হবে অন্ধ। অথচ তোমাদের রব মোটেই অন্ধ নন। তার দু’ চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে ‘‘কাফের’’। শিক্ষিত ও অশিক্ষিত প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তিই এ লেখাটি পড়তে সক্ষম হবে। দাজ্জালের অনাসৃষ্টির মধ্যে একটি এই যে, তার সাথে জান্নাতে ও জাহান্নাম থাকবে। তবে তার জাহান্নাম হবে জান্নাত এবং তার জান্নাত হবে জাহান্নাম। যে ব্যক্তি তার জাহান্নামের বিপদে পতিত হবে, সে যেন আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং সূরা কাহ্ফ-এর প্রথমাংশ তিলাওয়াত করে। তাহলে সেই জাহান্নাম হবে তার জন্য শীতল আরামদায়ক, ইবরাহীম (আ)-এর বেলায় আগুন যেরূপ হয়েছিল। দাজ্জালের আরেকটি অনাসৃষ্টি এই যে, সে এক বেদুঈনকে বলবে, আমি যদি তোমার পিতা-মাতাকে তোমার সামনে জীবিত করে তুলতে পারি তবে তুমি কি এই সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় আমি তোমার রব? সে বলবে, হাঁ। তখন (দাজ্জালের নির্দেশে) দু’টি শয়তান তার পিতা-মাতার অবয়ব ধারণ করে হাযির হবে এবং বলবে, হে বৎস! তার অনুগত্য করো। সে-ই তোমার রব। দাজ্জালের আরেকটি অনাসৃষ্টি এই যে, সে জনৈক ব্যক্তিকে পরাভূত করে হত্যা করবে। অতঃপর করাত দ্বারা তাকে ফেড়ে দু’ টুকরা করে ছুঁড়ে মারবে। অতঃপর সে বলবে, তোমরা আমার এ বান্দার দিকে লক্ষ্য করো, আমি একে এখনই জীবিত করবো। তারপরও কেউ বলবে কি যে, আমি ব্যতীত তার অন্য কেউ রব আছে? এরপর আল্লাহ তা‘আলা সে লোকটিকে জীবিত করবেন। তখন (দাজ্জাল) খবীস তাকে বলবে, তোমার রব কে? সে বলবে, আমার রব আল্লাহ। আর তুই তো আল্লাহর দুশমন। তুই তো দাজ্জাল। আল্লাহর শপথ! আজ আমি তোর সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে বুঝতে পারছি ( যে, তুই-ই দাজ্জাল)। আবুল হাসান আত-তানাফিসী (রাঃ) বলেন ... আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে জান্নাতেই সে ব্যক্তির সর্বাধিক মর্যাদা হবে। রাবী বলেন, আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমরা ধারণা করতাম যে, এ ব্যক্তি উমার ইবনুল খাত্তাব, এমনকি তিনি শাহাদত বরণ করেন। মুহারিবী (রাঃ) বলেন, এরপর আমরা আবূ রাফে (রাঃ) -র সূত্রে বর্ণিত হাদীসে ফিরে যাচিছ। তিনি বলেন, দাজ্জালের আরেকটি অনাচার এই যে, সে আসমানকে বৃষ্টি বর্ষাতে নির্দেশ দিলে বৃষ্টি হবে এবং যমীনকে ফসল উৎপাদনের নির্দেশ দিলে ফসল উৎপাদিত হবে। দাজ্জালের আরেকটি অনাচার এই যে, সে একটি জনপদ অতিক্রমকালে তারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবে। ফলে তাদের গবাদি পশু সমূলে ধ্বংস হয়ে যাবে। দাজ্জালের আরেকটি অনাচার এই যে, সে আরেকটি জনপদ অতিক্রমকালে তারা তাকে সত্য বলে মেনে নিবে। সে আসমানকে বৃষ্টি বর্ষণের নির্দেশ দিলে বৃষ্টি বর্ষিত হবে। অতঃপর সে যমীনকে শস্য উৎপাদনের নির্দেশ দিলে যমীন শস্য উৎপাদন করবে। যমীন পর্যাপ্ত ফসলাদি, ঘাসপাতা ও তৃণলতা উদগত করবে, এমনকি তাদের গবাদি পশু সেদিন সন্ধ্যায় মোটাতাজা এবং উদর পূর্তি করে দুধে স্তন ফুলিয়ে ফিরে আসবে। অবস্থা এই হবে যে, সে গোটা দুনিয়া চষে বেড়াবে এবং তা তার পদানত হবে, মক্কা ও মদীনা ব্যতীত। এই দু’ শহরের প্রবেশদ্বারে উন্মুক্ত তরবারিসহ সশস্ত্র অবস্থায় ফেরেশতা মোতায়েন থাকবেন। শেষে সে একটি ক্ষুদ্র লাল পাহাড়ের পাদদেশে অবতরণ করবে যা হবে তৃণলতা শূন্য স্থানের শেষভাগ। এরপর মদীনা তার অধিবাসীসহ তিনবার প্রকম্পিত হবে। ফলে মোনাফিক নারী-পুরুষ মদীনা থেকে বের হয়ে দাজ্জালের সাথে যোগ দিবে। এভাবে মদীনা তার ভেতরকার নিকৃষ্ট ময়লা বিদূরিত করবে, যেমনিভাবে হাঁপর লোহার মরিচা দূর করে। সে দিনের নাম হবে ‘‘নাজাত দিন’’। আবুল আকার-কন্যা উম্মু শুরাইক (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আরবের লোকেরা তৎকালে কোথায় থাকবে? তিনি বলেনঃ তৎকালে তাদের সংখ্যা হবে খুবই নগণ্য। তাদের অধিকাংশ (ঈমানদার) বান্দা তখন বাইতুল মুকাদ্দাসে অবস্থান করবে। তাদের ইমাম হবেন একজন নিষ্ঠাবান সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তি। এমতাবস্থায় একদিন তাদের ইমাম তাদের নিয়ে ফজরের নামায পড়বেন। ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) সেই সকালবেলা অবতরণ করবেন। তখন ইমাম পেছন দিকে সরে আসবেন যাত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) সামনে অগ্রসর হয়ে লোকেদের নামাযে ইমামতি করতে পারেন। ঈসা (আ) তাঁর হাত ইমামের দু’ কাঁধের উপর রেখে বলবেনঃ আপনি অগ্রবর্তী হয়ে নামাযে ইমামতি করুন। কেননা এই নামায আপনার জন্যই কায়েম (শুরু) হয়েছে। অতএব তাদের ইমাম তাদেরকে নিয়ে নামায পড়বেন। তিনি নামায থেকে অবসর হলে ঈসা (আ) বলবেন, দরজা খুলে দাও। তখন দরজা খুলে দেয়া হবে এবং দরজার পেছনে দাজ্জাল অবস্থানরত থাকবে। তার সাথে থাকবে সত্তর হাজার ইহূদী কারুকার্য খচিত ও খাপবদ্ধ তরবারিসহ। দাজ্জাল ঈসা (আ)-কে দেখামাত্র পানিতে লবণ বিগলিত হওয়ার ন্যায় বিগলিত হতে থাকবে এবং ভেগে পলায়ণ করতে থাকবে। তখন ঈসা (আ) বলবেনঃ তোর উপর আমার একটা আঘাত আছে, যা থেকে তোর বাঁচার কোন উপায় নাই। তিনি লুদ্দ-এর পূর্ব ফটকে তার নাগাল পেয়ে যাবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা ইহূদীদের পরাজিত করবেন। আল্লাহর সৃষ্টি যে কোন বস্ত্ত-পাথর, গাছপালা, দেয়াল অথবা প্রাণী, যার আড়ালেই কোন ইহূদী লুকিয়ে থাকবে, আল্লাহ তাকে বাকশক্তি দান করবেন এবং সে ডেকে বলবে, হে আল্লাহর মুসলিম বান্দা! এই যে এক ইহূদী, এদিকে এসো এবং তাকে হত্যা করো। তবে গারকাদ নামক গাছ কথা বলবে না। কারণ সেটা ইহূদীদের গাছ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দাজ্জাল চল্লিশ বছর বিপর্যয় ছড়াবে। তার এক বছর হবে অর্ধ বছরের সমান, এক বছর হবে এক মাসের সমান, এক মাস এক সপ্তাহের সমান এবং অবশিষ্ট কাল অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বায়ুমন্ডলে উড়ে যাওয়ার মত দ্রুত অতিক্রান্ত হবে। তোমাদের কেউ সকালবেলা মদীনার এক ফটকে (প্রান্তে) থাকলে তার অপর ফটকে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! এতো ক্ষুদ্র দিনে আমরা কিভাবে নামায পড়বো? তিনি বলেনঃ তোমরা অনুমান করে নামাযের সময় নির্ধারণ করবে, যেমন তোমরা লম্বা দিনে অনুমান করে নামাযের সময় নির্ধারিণ করে থাকো এবং এভাবে নামায আদায় করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) আমার উম্মাতের একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক ও ইনসাফগার ইমাম হবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, এমনভাবে শূকর হত্যা করবেন যে, তার একটিও অবশিষ্ট থাকবে না। সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে তিনি জিয্য়া মওকুফ করবেন, যাকাত আদায় বন্ধ করবেন এবং না বকরীর উপর যাকাত ধার্য করা হবে, আর না উটের উপর। লোকেদের মাঝে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতার অবসান হবে। প্রত্যেক বিষাক্ত প্রাণী বিষশূন্য হয়ে যাবে। এমনকি দুগ্ধপোষ্য শিশু তার হাত সাপের মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দিবে কিন্তু তা তার কোন ক্ষতি করবে না। এক ক্ষুদ্র মানব শিশু সিংহকে তাড়া করবে, তাও তার কোন ক্ষতি করবে না। নেকড়ে বাঘ মেষ পালের সাথে এমনভাবে অবস্থান করবে যেন তা তার পাহারায় রত কুকুর। পানিতে পাত্র পরিপূর্ণ হওয়ার মত পৃথিবী শান্তিতে পূর্ণ হয়ে যাবে। সকলের কলেমা এক হয়ে যাবে। আল্লাহ ব্যতীত কারো ইবাদত করা হবে না। যুদ্ধ-বিগ্রহ তার সাজসরঞ্জাম রেখে দিবে। কুরাইশদের রাজত্বের অবসান হবে। পৃথিবী রূপার পাত্রের ন্যায় স্বচ্ছ হয়ে যাবে। তাতে এমন সব ফলমূল উৎপন্ন হবে যেমনটি আদম (আ)-এর যুগে উৎপাদিত হতো। এমনকি কয়েকজন লোক একটি আংগুরের থোকার মধ্যে একত্র হতে পারবে এবং তা সকলকে পরিতৃপ্ত করবে। অনেক লোক একটি ডালিমের জন্য একত্র হবে এবং তা সকলকে পরিতৃপ্ত করবে। তাদের বলদ গরু হবে এই এই (উচ্চ) মূল্যের এবং ঘোড়া স্বল্প মূল্যে বিক্রয় হবে। লোকজন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ঘোড়া সস্তা হবে কেন? তিনি বলেনঃ কারণ যুদ্ধের জন্য কখনো কেউ অশ্বারোহী হবে না। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, গরু অতি মূল্যবান হবে কেন? তিনি বলেনঃ সারা পৃথিবীতে কৃষিকাজ সম্প্রসারিত হবে। দাজ্জালের আবির্ভাবের তিন বছর পূর্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে, তখন মানুষ চরমভাবে অন্নকষ্ট ভোগ করবে। প্রথম বছর আল্লাহ তা‘আলা আসমানকে তিন ভাগের এক ভাগ বৃষ্টি আটকে রাখার নিদেৃশ দিবেন এবং যমীনকে নির্দেশ দিলে তা এক-তৃতীয়াংম ফসল কম উৎপাদন করবে। এরপর তিনি আসমানকে দ্বিতীয় বছর একই নির্দেশ দিলে, তা দু’-তৃতীয়াংশ কম বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং যমীনকে হুকুম দিলে তাও দুই-তৃতীয়াংশ কম ফসল উৎপন্ন করবে। এরপর আল্লাহ তা‘আলা আকাশকে তৃতীয় বছরে একই নির্দেশ দিলে তা সম্পূর্ণভাবে বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দিবে। ফলে এক ফোঁটা বৃষ্টিও বর্ষিত হবে না। আর তিনি যমীনকে নির্দেশ দিলে তা শস্য উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখবে। ফলে যমীনে কোন ঘাস জন্মাবে না, কোন সবজি অবশিষ্ট থাকবে না, বরং তা ধ্বংস হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যা চাইবেন। জিজ্ঞাসা করা হলো, এ সময় লোকেরা কিরূপে বেঁচে থাকবে? তিনি বলেনঃ যারা তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার), তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ ও তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ) বলতে থাকবে এগুলো তাদের খাদ্যনালিতে প্রবাহিত করা হবে। আবূ আবদুল্লা ইবনে মাজা (রাঃ) বলেন, আমি আবুল হাসান আত-তানাফিসী (রাঃ) থেকে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি আবদুর রহমান আল-মুহারিবী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, এই হাদীসখানি মকতবের উস্তাদগণের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন, যাতে তারা বাচ্চাদের এটা শিক্ষা দিতে পারেন।

🗺️

গারকাদ বনাঞ্চল, বাফার জোন ও বাসস্থান মানচিত্র

MEDITERRANEAN SEA (بحر الروم)GULF OF AQABALake Tiberias (طبريا)DEAD SEA (بحر لوط)-430m · Hyper-Saline🌲 YATIR FOREST (غابة يتير)4M+ Trees · Negev Desert Edge🌿 NEGEV AFFORESTATION BELTDune Stabilization & Perimeter Hedges🧂 NATIVE NITRARIA RETUSASaline Nebkhas & Salt-Bush Hummocks⚔️ বাবে লুদ (Gate of Ludd)ঈসা (আ.) কর্তৃক দাজ্জাল বধের স্থান🕌 বাইতুল মুকাদ্দাস / আল-কুদস31.78° N, 35.22° E · Epicenterবীরশেবা (নেগেভ)গাজা সীমান্ত বাফার➜ মদিনা মুনাওয়ারা: বাকী' আল-গারকাদ২৪.৪৭° উত্তর, ৩৯.৬১° পূর্ব · প্রাচীন গারকাদ বনরাসূলুল্লাহ ﷺ কর্তৃক গোরস্থান হিসেবে বাছাইকৃতমানচিত্র নির্দেশিকা (Legend)রোপিত বন ও জীবন্ত বেড়া (Afforestation)লবণাক্ত প্রাকৃতিক গারকাদ (Nitraria)বাবে লুদ রণক্ষেত্র (Gate of Ludd)ঐতিহাসিক ও কৌশলগত কেন্দ্র

ভৌগোলিক মানচিত্র: ফিলিস্তিনের লোদ (বাবে লুদ), মৃত সাগরের লবণাক্ত অববাহিকা (Nitraria retusa-এর আদি বাসস্থান), নেগেভ মরুভূমির ইয়াতীর বন ও বাফার বনায়ন বলয় এবং দক্ষিণ-পূর্বে মদিনার ঐতিহাসিক বাকী' আল-গারকাদ।

জান্নাতুল বাকী' / বাকী' আল-গারকাদ

মদিনার পবিত্র গোরস্থান, যা ইসলামের সূচনাকালে প্রাচীন গারকাদ বনে পূর্ণ ছিল
📍 24.467° N, 39.615° E

রাসূলুল্লাহ ﷺ কর্তৃক গোরস্থান হিসেবে নির্ধারণের পূর্বে সেখানে কাঁটাযুক্ত গারকাদ বনের গভীর ঝোপঝাড় ছিল।

স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗

বাবে লুদ (লুদ শহর, ফিলিস্তিন)

যে ঐতিহাসিক ফটকে ঈসা (আ.) দাজ্জালকে চূড়ান্তভাবে হত্যা করবেন
📍 31.95° N, 34.89° E

ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক শহর ও বিমানবন্দর সংলগ্ন প্রাচীন এলাকা যেখানে দাজ্জালের বাহিনীর পতন ঘটবে।

স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗

ইয়াতীর বন ও দক্ষিণ নেগেভ সীমান্ত

মরুভূমির সীমানায় ইসরায়েলের বৃহত্তম রোপিত কৃত্রিম বনাঞ্চল (৪০ লাখের বেশি বৃক্ষ)
📍 31.345° N, 35.056° E

মাউন্ট হেবরন ও উত্তর নেগেভের ঢালে অবস্থিত বিশালাকার কৃত্রিম বনাঞ্চল যা জীবন্ত সবুজ বেষ্টনী হিসেবে কাজ করে।

স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗

মৃত সাগর উপত্যকা (লবণাক্ত অববাহিকা)

লবণাক্ততাসহিষ্ণু প্রাকৃতিক গারকাদ (Nitraria retusa)-এর মূল আদি আবাসস্থল
📍 31.5° N, 35.45° E

চরম শুষ্ক ও লবণাক্ত ভূমি যেখানে প্রাকৃতিক গারকাদ গুল্ম বিশাল বালিয়াড়ি ঢিবি তৈরি করে টিকে থাকে।

স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗

উত্তর নেগেভ বাফার জোন ও কিবুতজ সীমানা

সক্রিয় বনায়ন বলয় ও খরাসহিষ্ণু কাঁটাযুক্ত জীবন্ত নিরাপত্তা বেড়া
📍 31.25° N, 34.79° E

বালিয়াড়ি স্থিতিশীলকরণ ও অনুপ্রবেশ রোধে প্রাকৃতিক কাঁটাতারের বিকল্প হিসেবে ব্যাপক গারকাদ রোপণ এলাকা।

স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗

জেরুজালেম / আল-কুদস

শেষ জমানার ঘটনাবলি ও অবরোধের মূল কেন্দ্রভূমি
📍 31.776° N, 35.234° E

পবিত্র নগরী যা শেষ জমানায় দাজ্জালের সশস্ত্র বাহিনীর দ্বারা অবরুদ্ধ হবে।

স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗
⚖️

গারকাদ গাছ: ভাইরাল পোস্ট বনাম যাচাইকৃত সত্য

সোশ্যাল মিডিয়ায় যা ভাইরাল হয় বনাম সহীহ হাদীস ও ইতিহাসে যা প্রমাণিত।

❌ ভাইরাল দাবি #1

গারকাদ হলো জেরুজালেমের চারপাশে বনে লাগানো লম্বা পাইন বা জলপাই গাছ।

✅ আসল সত্য

আরবি অভিধান (*লিসানুল আরব*) এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান অনুযায়ী আল-গারকাদ (*Nitraria retusa* / *Lycium shawii*) কোনো লম্বা বৃক্ষ নয়; এটি ১ থেকে ২.৫ মিটার উঁচু কাঁটাযুক্ত মরু-ঝোপ, যা মৃত সাগর ও ওয়াদি আরাবার লবণাক্ত মাটিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মায়।

❌ ভাইরাল দাবি #2

গারকাদ এমন এক রহস্যময় গাছ যা মদিনার মানুষ আগে কখনো দেখেনি।

✅ আসল সত্য

মদিনায় মসজিদে নববীর পাশের মূল কবরস্থানটির নামই হলো ‘বাকী আল-গারকাদ’ (সহীহ মুসলিম ৯৭৪), কারণ কবরস্থান করার আগে সেখানে প্রচুর গারকাদ ঝোপ ছিল।

🛡️

আসল প্রস্তুতি কী?

নবীজি ﷺ আমাদের বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ রাখবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে (সহীহ মুসলিম ৮০৯)। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল থিওরির পেছনে না ছুটে সুন্নাহর শেখানো আমলগুলো আঁকড়ে ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সাধারণ জিজ্ঞাসা ও সরাসরি উত্তর

তরুণদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও সহীহ দলীলভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তর

গারকাদ হলো জেরুজালেমের চারপাশে বনে লাগানো লম্বা পাইন বা জলপাই গাছ।

আরবি অভিধান (*লিসানুল আরব*) এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান অনুযায়ী আল-গারকাদ (*Nitraria retusa* / *Lycium shawii*) কোনো লম্বা বৃক্ষ নয়; এটি ১ থেকে ২.৫ মিটার উঁচু কাঁটাযুক্ত মরু-ঝোপ, যা মৃত সাগর ও ওয়াদি আরাবার লবণাক্ত মাটিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মায়।

গারকাদ এমন এক রহস্যময় গাছ যা মদিনার মানুষ আগে কখনো দেখেনি।

মদিনায় মসজিদে নববীর পাশের মূল কবরস্থানটির নামই হলো ‘বাকী আল-গারকাদ’ (সহীহ মুসলিম ৯৭৪), কারণ কবরস্থান করার আগে সেখানে প্রচুর গারকাদ ঝোপ ছিল।

কোনো ভুল চোখে পড়েছে?

হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।

সংশোধনের প্রস্তাব বা ভুল রিপোর্ট করুন

হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।

বিষয়