আল ফিতান

এগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন

বড় আলামত ও কুরআনের তাফসীরআলেম দ্বারা যাচাইকৃত

ইয়াজুজ ও মাজুজ: জুলকারনাইনের প্রাচীর এবং অপ্রতিরোধ্য বাহিনী

কেন স্বয়ং ঈসা (আ.)-ও তাদের সাথে তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করবেন না, কেন প্রতিদিন খুঁড়েও তারা প্রাচীর ভাঙতে পারে না, আর কেন জম্বি বা প্রাচীন সাম্রাজ্যের ইন্টারনেট থিওরিগুলো কুরআন ও হাদীসের সাথে মেলে না।

  • প্রকাশিত
  • ১৪ মিনিট লাগবে
এক নজরে সারসংক্ষেপ

বাবে লুদে ঈসা (আ.)-এর হাতে দাজ্জাল নিহত হওয়ার পরপরই আল্লাহ তাঁকে ওহী পাঠাবেন: ‘আমি আমার এমন কিছু বান্দাকে বের করে দিয়েছি যাদের সাথে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কারও নেই; কাজেই তুমি আমার বান্দাদের নিরাপদে তূর পাহাড়ে নিয়ে যাও।’ কারা এই ইয়াজুজ ও মাজুজ? কীভাবে যুলকারনাইন তাদের লোহা ও গলিত তামার প্রাচীরে আটকেছিলেন, আর কীভাবেই বা তাদের পতন ঘটবে?

1

১. ইয়াজুজ ও মাজুজের পরিচয় ও আদমসন্তান হিসেবে তাদের মানবসত্তা

সিনেমা, পপ কালচার আর পুরোনো কিচ্ছা-কাহিনীতে ইয়াজুজ ও মাজুজকে প্রায়ই অদ্ভুত এলিয়েন, জম্বি বা আজব প্রাণী হিসেবে দেখানো হয়। এমনকি প্রাচীন কালের কিছু অনির্ভরযোগ্য গল্পে বলা হতো তাদের কেউ নাকি তালগাছের মতো লম্বা, আর কেউ এক বিঘত সাইজের এবং এক কান বিছিয়ে অন্য কান গায়ে দিয়ে ঘুমায়!

কিন্তু হাফেজ ইবনে কাসীর (আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ) এবং ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) (ফাতহুল বারী) এই সব রূপকথাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কুরআন এবং সহীহ বুখারী ও মুসলিমের আলোকে তাদের আসল পরিচয় খুবই স্পষ্ট:

  • তারা শতভাগ মানুষ (আদম ও নূহ আ.-এর বংশধর): তারা কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী বা জম্বি নয়; তারা আদম (আ.)-এর বংশধর এবং নূহ (আ.)-এর পুত্র ইয়াফিস (Japheth)-এর ধারা থেকে আসা দুটি বিশাল মানব জাতিগোষ্ঠী।
  • তাদের শারীরিক গঠন: মুসনাদে আহমদের সহীহ বর্ণনায় নবীজি ﷺ তাদের চেহারার বর্ণনা দিয়েছেন: চ্যাপ্টা ও চওড়া মুখমণ্ডল, ছোট ছোট চোখ, লালচে আভাযুক্ত চুল, আর তাদের গাল ও মুখমণ্ডল দেখতে চামড়া মোড়ানো ভারী ঢালের মতো (আল-মাজান্ন আল-মুত্রাকাহ), যা মূলত প্রচণ্ড শক্তিশালী ও রুক্ষ আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠা যোদ্ধা জাতির বৈশিষ্ট্য।
  • অবিশ্বাস্য সংখ্যা: তাদের আসল শক্তি কোনো জাদুমন্ত্র নয়, বরং তাদের অকল্পনীয় সংখ্যা ও ক্ষিপ্রতা। সহীহ বুখারীতে (৩৩৪৮) নবীজি ﷺ জানিয়েছেন, কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের প্রতি ১,০০০ জনের মধ্যে ৯৯৯ জনই হবে ইয়াজুজ ও মাজুজের, আর মাত্র ১ জন হবে বাকি মানবজাতি থেকে!
2

২. সূরা কাহাফে বর্ণিত জুলকারনাইনের লৌহ ও তামার প্রাচীর নির্মাণ

সূরা আল-কাহফে (১৮:৯৩-৯৮) আল্লাহ তাআলা ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ যুলকারনাইনের অভিযানের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি দুই পর্বতের মাঝখানের এক গিরিপথে (বাইনাস সাদ্দাইন) পৌঁছে এমন এক জনগোষ্ঠীর দেখা পান, যারা আকুতি জানিয়ে বলেছিল: ‘হে যুলকারনাইন! ইয়াজুজ ও মাজুজ এই ভূখণ্ডে চরম অশান্তি ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। আমরা কি আপনার জন্য কিছু কর নির্ধারণ করব, যাতে আপনি আমাদের ও তাদের মাঝখানে একটি প্রাচীর গড়ে দেন?’

দেখুন যুলকারনাইন কী অসাধারণ মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করেছিলেন:

- তিনি কোনো টাকা নেননি: তিনি বললেন, ‘আমার রব আমাকে যা দিয়েছেন তা-ই উত্তম; তোমরা শুধু আমাকে শারীরিক শ্রম দিয়ে সাহায্য করো!’
- ধাপ ১ (লোহার ব্লক): তিনি শ্রমিকদের দিয়ে বিশাল বিশাল লোহার খণ্ড (যুবারাল হাদীদ) স্তূপ করে রাখলেন, যতক্ষণ না দুই পাহাড়ের চূড়ার মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা সমান হয়ে যায়।
- ধাপ ২ (উত্তপ্ত অগ্নিকুণ্ড): এরপর তিনি হাপর দিয়ে ফুঁকতে বললেন (উনফুখু), যতক্ষণ না পুরো লোহার কাঠামোটি আগুনের মতো লাল হয়ে জ্বলে ওঠে।
- ধাপ ৩ (গলিত তামা ঢালা): এরপর তিনি বললেন, ‘আমার কাছে গলিত তামা (ক্বিতরা) নিয়ে এসো, আমি এর ওপর ঢেলে দেব!’ তীব্র গরম লোহার ওপর গলিত তামা ঢেলে দেওয়ার ফলে লোহা ও তামা মিশে এমন এক মসৃণ ও নিরেট সংকর ধাতুর প্রাচীর তৈরি হলো যে:
> ‘ফলে তারা (ইয়াজুজ-মাজুজ) না পারল এর ওপরে চড়তে, আর না পারল নিচে ছিদ্র করতে’ (সূরা কাহফ ১৮:৯৭)।

📌 কাজ শেষ করে যুলকারনাইন কী বলেছিলেন?
নিজের কারিগরি দক্ষতা নিয়ে অহংকার না করে তিনি সরাসরি কিয়ামতের আলামতের কথা মনে করিয়ে দিলেন:
> ‘এটি আমার রবের এক অনুগ্রহ; কিন্তু যখন আমার রবের ওয়াদা (শেষ জামানার নির্দিষ্ট সময়) উপস্থিত হবে, তখন তিনি এটিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবেন; আর আমার রবের ওয়াদা চিরসত্য!’ (সূরা কাহফ ১৮:৯৮)।
3

৩. প্রাচীরে ছিদ্রের নবুওয়াতী স্বপ্ন এবং ‘ইনশাআল্লাহ’ ঘোষণার রহস্য

দুটি সহীহ হাদীস আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরে নবীজির ﷺ যুগ থেকে শুরু করে প্রাচীর ভাঙার দিন পর্যন্ত সেখানে আসলে কী ঘটছে:

দৃশ্য ১: নবীজি ﷺ যখন লাল মুখমণ্ডল নিয়ে ঘুম থেকে জাগলেন
সহীহ বুখারী (৩৩৪৬) এবং সহীহ মুসলিমে (২৮৮০) উম্মুল মুমিনীন যয়নব বিনতে জাহশ (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন নবীজি ﷺ ঘুম থেকে জাগলেন। তখন তাঁর মুখমণ্ডল আতঙ্ক ও গাম্ভীর্যে লাল হয়ে ছিল। তিনি হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী মিলিয়ে গোল আংটির মতো বৃত্ত বানিয়ে বললেন:
> ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! আরবদের জন্য দুর্ভোগ সেই মহাবিপদ থেকে যা ঘনিয়ে এসেছে! আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীরে এই পরিমাণ ছিদ্র হয়ে গেছে!’

যয়নব (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মাঝে নেককার মানুষেরা থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব?’ নবীজি ﷺ বললেন, ‘হ্যাঁ, যখন সমাজে পাপ ও অশ্লীলতা (আল-খাবাস) ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে!’

দৃশ্য ২: কেন প্রতিদিন খোঁড়ার পরও প্রাচীরটি আবার আগের মতো হয়ে যায়?
সুনানে ইবনে মাজাহ (৪০৮০) এবং তিরমিযীর (৩১৫৩) সহীহ হাদীসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: ইয়াজুজ ও মাজুজ প্রতিদিন এই প্রাচীর খুঁড়তে থাকে। খুঁড়তে খুঁড়তে যখন প্রাচীরটি একদম পাতলা হয়ে সূর্যের আলো দেখা যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন তাদের দলনেতা বলে:
> ‘ফিরে চলো, আগামীকাল এসে আমরা এটি ভেঙে ফেলব!’

তারা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে না দেওয়ায় রাতের বেলা আল্লাহ প্রাচীরটিকে আগের চেয়েও বেশি মজবুত করে দেন! প্রতিদিন এভাবেই চলতে থাকে। অবশেষে যখন আল্লাহর নির্ধারিত সময় উপস্থিত হবে, তখন তাদের নেতা বলবে:
> ‘ফিরে চলো, ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ যদি চান) আগামীকাল আমরা এটি ভেঙে ফেলব!’

পরদিন সকালে তারা এসে দেখবে প্রাচীরটি ঠিক ততটুকুই পাতলা হয়ে আছে। তখন তারা সেটি ভেঙে পঙ্গপালের মতো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে।

4

৪. তিবেরিয়া হ্রদ অতিক্রম এবং তূর পর্বতে মুমিনদের অবরুদ্ধ অবস্থা

প্রাচীর ভেঙে যাওয়ার পর তারা কীভাবে বেরিয়ে আসবে, কুরআনে তার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে এভাবে:
> ‘অবশেষে যখন ইয়াজুজ ও মাজুজকে খুলে দেওয়া হবে এবং তারা প্রতিটি উঁচু পাহাড় ও টিলা থেকে দ্রুতবেগে ছুটে আসবে’ (সূরা আম্বিয়া ২১:৯৬)।

সহীহ মুসলিমের (২৯৩৭) বিখ্যাত নাওয়াস ইবনে সামআন (রা.)-এর হাদীসে দাজ্জাল নিহত হওয়ার পরের পুরো ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা করা হয়েছে:

  • তূর পাহাড়ে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা ঈসা (আ.)-কে ওহী পাঠিয়ে বলবেন: ‘আমি আমার এমন কিছু বান্দা বের করে দিয়েছি যাদের সাথে যুদ্ধ করার সাধ্য কারও নেই; কাজেই তুমি আমার বান্দাদের নিরাপদে তূর পাহাড়ে নিয়ে যাও।’ একটু খেয়াল করুন! যে ঈসা (আ.) মাত্রই দাজ্জালকে বধ করলেন, স্বয়ং তাঁকেও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে ইয়াজুজ-মাজুজের সাথে অস্ত্র নিয়ে না লড়ে মুমিনদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে!
  • তাবারিয়া হ্রদ শুকিয়ে ফেলা: ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রথম দলটি উত্তর ফিলিস্তিনের তাবারিয়া হ্রদের (Sea of Galilee) পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হ্রদের সব পানি পান করে নিঃশেষ করে ফেলবে। তাদের শেষ দলটি যখন সেখান দিয়ে যাবে, তখন শুকনো তলদেশ দেখে বলবে: ‘এখানে বোধহয় একসময় পানি ছিল!’
  • তূর পাহাড়ে অবরোধ ও তীব্র খাদ্যসংকট: তারা ঈসা (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের তূর পাহাড়ে অবরুদ্ধ করে ফেলবে। মুমিনদের মধ্যে তখন খাবারের এত তীব্র সংকট দেখা দেবে যে, একটি গরুর মাথাও তাদের কাছে আজকের দিনের একশো স্বর্ণমুদ্রার (দিনার) চেয়ে বেশি মূল্যবান মনে হবে!
  • আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ: পৃথিবীর সব জনপদ পদদলিত করার পর তারা অহংকারে উন্মত্ত হয়ে বলবে: ‘আমরা জমিনের অধিবাসীদের পরাস্ত করেছি, এবার চলো আসমানের অধিবাসীদের পরাস্ত করি!’ এই বলে তারা আকাশের দিকে তীর ছুড়বে, আর আল্লাহ তাআলা পরীক্ষা স্বরূপ তাদের তীরগুলো রক্তমাখা অবস্থায় ফিরিয়ে দেবেন।
5

৫. আল্লাহর বিশেষ কুদরতে বাহিনীর বিনাশ এবং পরবর্তী বৃষ্টির মাধ্যমে জমিন পরিশুদ্ধকরণ

ইয়াজুজ ও মাজুজ যখন নিজেদের অপরাজেয় মনে করে উল্লাস করবে, ঠিক তখনই মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বিশাল এই বাহিনীর পতন কীভাবে ঘটবে? কোনো পরমাণু বোমা, মিসাইল বা তলোয়ার দিয়ে? না!

সহীহ মুসলিমের (২৯৩৭) বর্ণনা অনুযায়ী:

- তূর পাহাড়ে মুনাজাত: আল্লাহর নবী ঈসা (আ.) এবং তাঁর সঙ্গী মুমিনগণ আকুল হয়ে আল্লাহর দরবারে দুআ করবেন (ইয়ারগাবুনা ইলাল্লাহ)।
- ক্ষুদ্র কীট ‘নাগাফ’-এর আক্রমণ: আল্লাহ তাআলা তাদের ঘাড়ে ‘নাগাফ’ নামক এক ধরনের ক্ষুদ্র পোকা বা কীট পাঠিয়ে দেবেন (যা সাধারণত উট বা ভেড়ার নাকে হয়)। পরদিন ভোরবেলা দেখা যাবে, ইয়াজুজ ও মাজুজের কোটি কোটি সৈন্য একজন মানুষের মৃত্যুর মতো একযোগে নিঃশব্দে মরে পড়ে আছে (কা-মাওতি নাফসিন ওয়াহিদাহ)!
- পৃথিবী পরিষ্কার করার অলৌকিক প্রক্রিয়া: ঈসা (আ.) ও তাঁর সঙ্গীরা পাহাড় থেকে নেমে দেখবেন পৃথিবীতে এক বিঘত জায়গাও খালি নেই, চারদিকে শুধু তাদের গলিত লাশ আর দুর্গন্ধ। তখন ঈসা (আ.) আবার আল্লাহর কাছে দুআ করবেন:
১. আল্লাহ তাআলা উটের লম্বা গলার মতো গলাবিশিষ্ট বিশাল পাখি পাঠাবেন, যারা তাদের লাশগুলো তুলে আল্লাহ যেখানে চান সেখানে নিক্ষেপ করবে।
২. এরপর আল্লাহ এমন এক মুষলধারে বৃষ্টি পাঠাবেন, যা মাটির ঘর বা তাঁবুর কোনো আড়ালই আটকাতে পারবে না। সেই বৃষ্টি পুরো পৃথিবীকে ধুয়ে আয়নার মতো ঝকঝকে পরিষ্কার করে দেবে (কায-যালাকাহ)।
- অভাবনীয় বরকতের যুগ: এরপর জমিনকে আদেশ করা হবে: ‘তোমার ফলমূল ফিরিয়ে দাও এবং তোমার বরকত উন্মুক্ত করো!’ সে সময় ফলফলাদিতে এত বরকত হবে যে একটি মাত্র ডালিম খেয়ে পুরো একদল মানুষ তৃপ্ত হবে এবং তার খোসার নিচে ছায়া নিতে পারবে! আর একটি উটনীর দুধ পুরো এক গোত্রের মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে।

6

৬. ঐতিহাসিক তাতার আগ্রাসন বনাম শেষ জামানার মহাবিপর্যয়ের পার্থক্য

ইন্টারনেটে ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর নিয়ে দুটি চরমপন্থী থিওরি প্রায়ই দেখা যায়:

  • থিওরি ১: ‘ইয়াজুজ ও মাজুজ ছিল ১৩শ শতাব্দীর চেঙ্গিস খানের মঙ্গোল বাহিনী বা প্রাচীন যাযাবর জাতি; ওই প্রাচীর তো শত বছর আগেই ভেঙে গেছে!’
  • থিওরি ২: ‘গুগল আর্থ বা স্যাটেলাইটে কেন লোহার প্রাচীরটা পাওয়া যাচ্ছে না? তার মানে তারা বোধহয় মাটির নিচে বা পাতালে জম্বি হয়ে লুকিয়ে আছে!’

চলুন দেখি ক্লাসিক্যাল ও আধুনিক আলেমগণ কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে এই দুটি প্রশ্নের কী জবাব দিয়েছেন:

  1. মঙ্গোল বা তাতারদের আক্রমণ কেন কিয়ামতের সেই আত্মপ্রকাশ নয়? হ্যাঁ, ৬৫৬ হিজরীতে (১২৫৮ খ্রি.) তাতাররা যখন বাগদাদ ধ্বংস করেছিল, তখন অনেকেই আতঙ্কে মনে করেছিল ইয়াজুজ-মাজুজ বুঝি বের হয়ে গেছে। কিন্তু ইমাম কুরতুবী ও ইবনে কাসীর (রহ.) দলীল দিয়ে দেখিয়েছেন: কুরআন ও সহীহ মুসলিম (২৯৩৭) অনুযায়ী ইয়াজুজ ও মাজুজের চূড়ান্ত আত্মপ্রকাশ ঘটবে ঈসা (আ.) অবতরণের পর এবং দাজ্জাল নিহত হওয়ার পর! তারা তাবারিয়া হ্রদ শুকিয়ে ফেলবে এবং ‘নাগাফ’ পোকার আক্রমণে এক রাতে সবাই মারা যাবে। মঙ্গোলদের ক্ষেত্রে এর কোনোটাই ঘটেনি; বরং মঙ্গোলদের বংশধররা পরে নিজেরাই ইসলাম গ্রহণ করেছিল!
  2. নবীজির ﷺ যুগে প্রাচীরে আঙুলের আংটির সমান ছিদ্র হওয়ার অর্থ কী? ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ফাতহুল বারী-তে ব্যাখ্যা করেছেন, ওই ছিদ্রটির মাধ্যমে কিয়ামতের আলামত শুরু হওয়া এবং ফিতনার দরজা খুলে যাওয়ার ইশারা দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু প্রাচীর পুরোপুরি চূর্ণ হয়ে তাদের বেরিয়ে আসার ঘটনা ঘটবে ঈসা (আ.)-এর যুগেই।
  3. স্যাটেলাইটে কেন প্রাচীরটি দেখা যায় না? তামীম আদ-দারীর দ্বীপের মতোই আল্লাহ তাআলা যুলকারনাইনের প্রাচীরের সুনির্দিষ্ট লোকেশন নির্ধারিত সময়ের (ফাইযা জাআ ওয়া’দু রাব্বী) আগ পর্যন্ত মানুষের চোখের আড়ালে রেখেছেন। সেটি দুর্গম পাহাড়, বরফ বা ভূমিধসের নিচে থাকুক কিংবা আল্লাহর কুদরতি পর্দায় থাকুক, এতে ঈমান আনতে ‘পাতালপুরীর জম্বি’ মার্কা সায়েন্স ফিকশন বানানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

۞কুরআনুল কারীমের প্রাসঙ্গিক আয়াত

আল-কাহফসূরা ১৮ · আয়াত ৯৩-৯৪سورة الكهف
  1. حَتَّىٰٓ إِذَا بَلَغَ بَيۡنَ ٱلسَّدَّيۡنِ وَجَدَ مِن دُونِهِمَا قَوۡمࣰ ا لَّا يَكَادُونَ يَفۡقَهُونَ قَوۡلࣰ ا۝٩٣

    ৯৩. চলতে চলতে সে যখন দুই পর্বত-প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থলে পৌঁছল, তখন সেখানে সে এক সম্প্রদায়কে পেল, যারা তার কথা তেমন বুঝতে পারছিল না।

  2. قَالُواْ يَٰذَا ٱلۡقَرۡنَيۡنِ إِنَّ يَأۡجُوجَ وَمَأۡجُوجَ مُفۡسِدُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَهَلۡ نَجۡعَلُ لَكَ خَرۡجًا عَلَىٰٓ أَن تَجۡعَلَ بَيۡنَنَا وَبَيۡنَهُمۡ سَدࣰّ ا۝٩٤

    ৯৪. তারা বলল, ‘হে যুল-কারনাইন! ইয়াজুজ ও মাজুজ তো যমীনে অশান্তি সৃষ্টি করছে। তাই আমরা কি আপনাকে খরচ দেব যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে এক প্রাচীর গড়ে দেবেন

আল-কাহফসূরা ১৮ · আয়াত ৯৮سورة الكهف
  1. قَالَ هَٰذَا رَحۡمَةࣱ مِّن رَّبِّيۖ فَإِذَا جَآءَ وَعۡدُ رَبِّي جَعَلَهُۥ دَكَّآءَۖ وَكَانَ وَعۡدُ رَبِّي حَقࣰّ ا۝٩٨

    ৯৮. সে বলল, ‘এটা আমার রবের অনুগ্রহ। অতঃপর যখন আমার রবের প্রতিশ্রুতি সময় আসবে তখন তিনি সেটা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন। আর আমার রবের প্রতিশ্রুতি সত্য।

আল-আম্বিয়াসূরা ২১ · আয়াত ৯৬سورة الأنبياء
  1. حَتَّىٰٓ إِذَا فُتِحَتۡ يَأۡجُوجُ وَمَأۡجُوجُ وَهُم مِّن كُلِّ حَدَبࣲ يَنسِلُونَ۝٩٦

    ৯৬. অবশেষে যখন ইয়া’জুজ ও মা’জুজকে মুক্তি দেয়া হবে এবং তারা প্রতিটি উচ্চভূমি হতে দ্রুত ছুটে আসবে।

📜প্রামাণ্য হাদীস শরীফ

সহিহ বুখারিহাদীস নং ৩৩৪৬সহিহصحيح البخاريرقم ٣٣٤٦

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ زَيْنَبَ ابْنَةَ أَبِي سَلَمَةَ، حَدَّثَتْهُ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ بِنْتِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ زَيْنَبَ ابْنَةِ جَحْشٍ ـ رضى الله عنهن أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا فَزِعًا يَقُولُ ‏"‏ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مِثْلُ هَذِهِ ‏"‏‏.‏ وَحَلَّقَ بِإِصْبَعِهِ الإِبْهَامِ وَالَّتِي تَلِيهَا‏.‏ قَالَتْ زَيْنَبُ ابْنَةُ جَحْشٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ قَالَ ‏"‏ نَعَمْ، إِذَا كَثُرَ الْخُبْثُ ‏"‏‏.‏

وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى قَالُوْا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِنَّ يَأْجُوْجَ وَمَأْجُوْجَ مُفْسِدُوْنَ فِي الأَرْضِ (الكهف : 94) قَوْلُ اللهِ تَعَالَى وَيَسْأَلُوْنَكَ عَنْ ذِي الْقَرْنَيْنِ قُلْ سَأَتْلُوْ عَلَيْكُمْ مِّنْهُ ذِكْرًا إِنَّا مَكَّنَّا لَه” فِي الأَرْضِ وَاٰتَيْنَاهُ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ سَبَبًا فَاتَّبَعَ سَبَبًا (الكهف : 83.84) إِلَى قَوْلِهِ ائْتُوْنِيْ زُبَرَ الْحَدِيْدِ (الكهف : 96) وَاحِدُهَا زُبْرَةٌ وَهِيَ الْقِطَعُ حَتَّى إِذَا سَاوَى بَيْنَ الصَّدَفَيْنِ يُقَالُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ الْجَبَلَيْنِ وَ السُّدَّيْنِ الْجَبَلَيْنِ خَرْجًا أَجْرًا قَالَ انْفُخُوْا حَتّٰى إِذَا جَعَلَهُ نَارًا قَالَ اٰتُوْنِيْ أُفْرِغْ عَلَيْهِ قِطْرًا (الكهف : 96) أَصْبُبْ عَلَيْهِ رَصَاصًا وَيُقَالُ الْحَدِيْدُ وَيُقَالُ الصُّفْرُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ النُّحَاسُ فَمَا اسْطَاعُوْا أَنْ يَّظْهَرُوْهُ (الكهف : 97) يَعْلُوْهُ اسْتَطَاعَ اسْتَفْعَلَ مِنْ أَطَعْتُ لَهُ فَلِذَلِكَ فُتِحَ أَسْطَاعَ يَسْطِيْعُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ اسْتَطَاعَ يَسْتَطِيْعُ وَمَا اسْتَطَاعُوْا لَهُ نَقْبًا (الكهف : 97) قَالَ هٰذَا رَحْمَةٌ مِّنْ رَّبِّيْ فَإِذَا جَآءَ وَعْدُ رَبِّيْ جَعَلَهُ دَكًّا (الكهف : 98) أَلْزَقَهُ بِالأَرْضِ وَنَاقَةٌ دَكَّاءُ لَا سَنَامَ لَهَا وَالدَّكْدَاكُ مِنْ الأَرْضِ مِثْلُهُ حَتَّى صَلُبَ وَتَلَبَّدَ وَكَانَ وَعْدُ رَبِّيْ حَقًّا وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَّمُوْجُ فِيْ بَعْضٍ (الكهف : 98-99) حَتّٰىٓ إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوْجُ وَمَأْجُوْجُ وَهُمْ مِّنْ كُلِّ حَدَبٍ يَّنْسِلُوْنَ (الأنبياء : 96) قَالَ قَتَادَةُ حَدَبٌ أَكَمَةٌ قَالَ رَجُلٌ لِلنَّبِيِّ رَأَيْتُ السَّدَّ مِثْلَ الْبُرْدِ الْمُحَبَّرِ قَالَ رَأَيْتَهُ মহান আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই ইয়া’জূজ মা’জূজ পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টিকারী। (কাহফঃ ৯৪) অধ্যায় : মহান আল্লাহর বাণীঃ (হে নবী) তারা আপনাকে যুল-কারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে. . .। আয়াতে سَبَبًا অর্থ চলাচলের পথ ও রাস্তা। তোমরা আমার নিকট লোহার খন্ড নিয়ে আস- (কাহফ ৮৩-৯৬)। এখানে زُبَرَ শব্দটি বহুবচন। একবচনে زُبْرَةٌ অর্থ খন্ড। অবশেষে মাঝের ফাঁকা জায়গা পূর্ণ হয়ে যখন লোহার স্তূপ দু’পর্বতের সমান হল- (কাহফ ৯৬)। তখন তিনি লোকদেরকে বললেন, এখন তাতে ফুঁক দিতে থাক। এ আয়াতে الصَّدَفَيْنِ শব্দের অর্থ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনা অনুযায়ী দু’টি পর্বতকে বুঝানো হয়েছে। আর السُّدَّيْنِ এর অর্থ দু’টি পাহাড়। خَرْجًا অর্থ পারিশ্রমিক। যুল-কারনাইন বলল, তোমরা হাপরে ফুঁক দিতে থাক। যখন তা আগুনের মত গরম হল, তখন তিনি বললেন, তোমরা গলিত তামা নিয়ে আস, আমি তা এর উপর ঢেলে দেই- (কাহফ ৯৬)। -قِطْرٌ অর্থ সীসা। আবার লৌহ গলিত পদার্থকেও বলা হয় এবং তামাকেও বলা হয়। আর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর অর্থ তাম্রগলিত পদার্থ বলেছেন। (আল্লাহর বাণী) অতঃপর তারা (ইয়াজুজ ও মাজুজ) এ প্রাচীর অতিক্রম করতে পারল না- (কাহফ ৯৭)। অর্থাৎ তারা এর উপরে উঠতে সক্ষম হল না। اسْتَطَاعَ শব্দটি أَطَعْتُ لَهُ নিকট হতে باب استفعال আনা হয়েছে। একে أَسْطَاعَ I يَسْطِيْعُ যবরসহ পড়া হয়ে থাকে। আর কেউ কেউ একে اسْتَطَاعَ يَسْتَطِيْعُ রূপে পড়েন। (আল্লাহর বাণী) তারা তা ছিদ্রও করতে পারল না। তিনি বললেন, এটা আমার রবের অনুগ্রহ। যখন আমার রবের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে তখন তিনি এটিকে পূর্ণ বিচূর্ণ করে দিবেন- (কাহফ ৯৭-৯৮)। دَكَّاءُ অর্থ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিবেন। وَنَاقَةٌ دَكَّاءُ বলে যে উটের কুঁজ নেই। الدَّكْدَاكُ مِنْ الأَرْضِ যমীনের সেই সমতল উপরিভাগকে বলা হয় যা শুকিয়ে যায় এবং উঁচু নিচু না থাকে। (আল্লাহর বাণী) আর আমার রবের প্রতিশ্রুতি সত্য, সে দিন আমি তাদেরকে ছেড়ে দিব, এ অবস্থায় যে, একদল অপর দলের উপর তরঙ্গের মত পতিত হবে- (কাহফ ৯৯)। (আল্লাহর বাণী) এমন কি যখন ইয়াজুজ ও মাজুজকে মুক্ত করা হবে এবং তারা প্রতি উচ্চ ভূমি হতে ছুটে আসবে- (আম্বিয়া ৯৬)। ক্বাতাদাহ (রহ.) বলেন, -حَدَبٌ অতি টিলা। এক সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আমি প্রাচীরটিকে কারুকার্য খচিত চাদরের মত দেখেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তা ঠিকই দেখেছ। ৩৩৪৬. যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর নিকট আসলেন এবং বলতে লাগলেন, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আরবের লোকেদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে ধ্বংস অনিবার্য যা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর এ পরিমাণ খুলে গেছে। এ কথা বলার সময় তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলিল অগ্রভাগকে তার সঙ্গের শাহাদাত আঙ্গুলির অগ্রভাগের সঙ্গে মিলিয়ে গোলাকার করে ছিদ্রের পরিমাণ দেখান। যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে পুণ্যবান লোকজন থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন, হাঁ যখন পাপকাজ অতি মাত্রায় বেড়ে যাবে। (৩৫৯৮, ৭০৫৯, ৭১৩৫) (মুসলিম ৫২ হাঃ ২৮৮০, আহমাদ ২৭৪৮৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩০৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

সহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৯৩৭aসহিহবর্ণনাকারী: নাওওয়াস ইবনু সাম’আন (রাযিঃ)صحيح مسلمرقم ٢٩٣٧a

حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ جَابِرٍ الطَّائِيُّ، قَاضِي حِمْصَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ، جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ الْحَضْرَمِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ النَّوَّاسَ بْنَ سَمْعَانَ الْكِلاَبِيَّ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ الطَّائِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ، نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ، قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الدَّجَّالَ ذَاتَ غَدَاةٍ فَخَفَّضَ فِيهِ وَرَفَّعَ حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ فَلَمَّا رُحْنَا إِلَيْهِ عَرَفَ ذَلِكَ فِينَا فَقَالَ ‏"‏ مَا شَأْنُكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَكَرْتَ الدَّجَّالَ غَدَاةً فَخَفَّضْتَ فِيهِ وَرَفَّعْتَ حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ غَيْرُ الدَّجَّالِ أَخْوَفُنِي عَلَيْكُمْ إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ وَإِنْ يَخْرُجْ وَلَسْتُ فِيكُمْ فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ إِنَّهُ شَابٌّ قَطَطٌ عَيْنُهُ طَافِئَةٌ كَأَنِّي أُشَبِّهُهُ بِعَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قَطَنٍ فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأْ عَلَيْهِ فَوَاتِحَ سُورَةِ الْكَهْفِ إِنَّهُ خَارِجٌ خَلَّةً بَيْنَ الشَّأْمِ وَالْعِرَاقِ فَعَاثَ يَمِينًا وَعَاثَ شِمَالاً يَا عِبَادَ اللَّهِ فَاثْبُتُوا ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا لَبْثُهُ فِي الأَرْضِ قَالَ ‏"‏ أَرْبَعُونَ يَوْمًا يَوْمٌ كَسَنَةٍ وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَسَنَةٍ أَتَكْفِينَا فِيهِ صَلاَةُ يَوْمٍ قَالَ ‏"‏ لاَ اقْدُرُوا لَهُ قَدْرَهُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا إِسْرَاعُهُ فِي الأَرْضِ قَالَ ‏"‏ كَالْغَيْثِ اسْتَدْبَرَتْهُ الرِّيحُ فَيَأْتِي عَلَى الْقَوْمِ فَيَدْعُوهُمْ فَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَجِيبُونَ لَهُ فَيَأْمُرُ السَّمَاءَ فَتُمْطِرُ وَالأَرْضَ فَتُنْبِتُ فَتَرُوحُ عَلَيْهِمْ سَارِحَتُهُمْ أَطْوَلَ مَا كَانَتْ ذُرًا وَأَسْبَغَهُ ضُرُوعًا وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ ثُمَّ يَأْتِي الْقَوْمَ فَيَدْعُوهُمْ فَيَرُدُّونَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ فَيَنْصَرِفُ عَنْهُمْ فَيُصْبِحُونَ مُمْحِلِينَ لَيْسَ بِأَيْدِيهِمْ شَىْءٌ مِنْ أَمْوَالِهِمْ وَيَمُرُّ بِالْخَرِبَةِ فَيَقُولُ لَهَا أَخْرِجِي كُنُوزَكِ ‏.‏ فَتَتْبَعُهُ كُنُوزُهَا كَيَعَاسِيبِ النَّحْلِ ثُمَّ يَدْعُو رَجُلاً مُمْتَلِئًا شَبَابًا فَيَضْرِبُهُ بِالسَّيْفِ فَيَقْطَعُهُ جَزْلَتَيْنِ رَمْيَةَ الْغَرَضِ ثُمَّ يَدْعُوهُ فَيُقْبِلُ وَيَتَهَلَّلُ وَجْهُهُ يَضْحَكُ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ فَيَنْزِلُ عِنْدَ الْمَنَارَةِ الْبَيْضَاءِ شَرْقِيَّ دِمَشْقَ بَيْنَ مَهْرُودَتَيْنِ وَاضِعًا كَفَّيْهِ عَلَى أَجْنِحَةِ مَلَكَيْنِ إِذَا طَأْطَأَ رَأَسَهُ قَطَرَ وَإِذَا رَفَعَهُ تَحَدَّرَ مِنْهُ جُمَانٌ كَاللُّؤْلُؤِ فَلاَ يَحِلُّ لِكَافِرٍ يَجِدُ رِيحَ نَفَسِهِ إِلاَّ مَاتَ وَنَفَسُهُ يَنْتَهِي حَيْثُ يَنْتَهِي طَرْفُهُ فَيَطْلُبُهُ حَتَّى يُدْرِكَهُ بِبَابِ لُدٍّ فَيَقْتُلُهُ ثُمَّ يَأْتِي عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ قَوْمٌ قَدْ عَصَمَهُمُ اللَّهُ مِنْهُ فَيَمْسَحُ عَنْ وُجُوهِهِمْ وَيُحَدِّثُهُمْ بِدَرَجَاتِهِمْ فِي الْجَنَّةِ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أَوْحَى اللَّهُ إِلَى عِيسَى إِنِّي قَدْ أَخْرَجْتُ عِبَادًا لِي لاَ يَدَانِ لأَحَدٍ بِقِتَالِهِمْ فَحَرِّزْ عِبَادِي إِلَى الطُّورِ ‏.‏ وَيَبْعَثُ اللَّهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ فَيَمُرُّ أَوَائِلُهُمْ عَلَى بُحَيْرَةِ طَبَرِيَّةَ فَيَشْرَبُونَ مَا فِيهَا وَيَمُرُّ آخِرُهُمْ فَيَقُولُونَ لَقَدْ كَانَ بِهَذِهِ مَرَّةً مَاءٌ ‏.‏ وَيُحْصَرُ نَبِيُّ اللَّهُ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ حَتَّى يَكُونَ رَأْسُ الثَّوْرِ لأَحَدِهِمْ خَيْرًا مِنْ مِائَةِ دِينَارٍ لأَحَدِكُمُ الْيَوْمَ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ فَيُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهُمُ النَّغَفَ فِي رِقَابِهِمْ فَيُصْبِحُونَ فَرْسَى كَمَوْتِ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمَّ يَهْبِطُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى الأَرْضِ فَلاَ يَجِدُونَ فِي الأَرْضِ مَوْضِعَ شِبْرٍ إِلاَّ مَلأَهُ زَهَمُهُمْ وَنَتْنُهُمْ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى اللَّهِ فَيُرْسِلُ اللَّهُ طَيْرًا كَأَعْنَاقِ الْبُخْتِ فَتَحْمِلُهُمْ فَتَطْرَحُهُمْ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ مَطَرًا لاَ يَكُنُّ مِنْهُ بَيْتُ مَدَرٍ وَلاَ وَبَرٍ فَيَغْسِلُ الأَرْضَ حَتَّى يَتْرُكَهَا كَالزَّلَفَةِ ثُمَّ يُقَالُ لِلأَرْضِ أَنْبِتِي ثَمَرَتَكِ وَرُدِّي بَرَكَتَكِ ‏.‏ فَيَوْمَئِذٍ تَأْكُلُ الْعِصَابَةُ مِنَ الرُّمَّانَةِ وَيَسْتَظِلُّونَ بِقِحْفِهَا وَيُبَارَكُ فِي الرِّسْلِ حَتَّى أَنَّ اللِّقْحَةَ مِنَ الإِبِلِ لَتَكْفِي الْفِئَامَ مِنَ النَّاسِ وَاللِّقْحَةَ مِنَ الْبَقَرِ لَتَكْفِي الْقَبِيلَةَ مِنَ النَّاسِ وَاللِّقْحَةَ مِنَ الْغَنَمِ لَتَكْفِي الْفَخِذَ مِنَ النَّاسِ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً فَتَأْخُذُهُمْ تَحْتَ آبَاطِهِمْ فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ وَكُلِّ مُسْلِمٍ وَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ يَتَهَارَجُونَ فِيهَا تَهَارُجَ الْحُمُرِ فَعَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ ‏"‏ ‏.‏

আবু খাইসামাহ, যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রাযী (রহঃ) ..... নাওওয়াস ইবনু সাম’আন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সকালে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। আলোচনার সময় তিনি তার ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেন। পরে অনেক গুরুত্ব সহকারে উপস্থিত করেন যাতে তাকে আমরা ঐ বৃক্ষরাজির নির্দিষ্ট এলাকায় (আবাসস্থল সম্পর্কে) ধারণা করতে লাগলাম। এরপর আমরা সন্ধ্যায় আবার তার কাছে গেলাম। তিনি আমাদের মধ্যে এর প্রভাব দেখতে পেয়ে বললেন, তোমাদের ব্যাপার কি? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি সকালে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এতে আপনি কখনো ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেছেন, আবার কখনো তার ব্যক্তিত্বকে বড় করে তুলে ধরেছেন। ফলে আমরা মনে করেছি যে, দাজ্জাল বুঝি এ বাগার মধ্যেই বিদ্যমান। এ কথা শুনে তিনি বললেন, দাজ্জাল নয়, বরং তোমাদের ব্যাপারে অন্য কিছুর আমি অধিক ভয় করছি। তবে শোন, আমি তোমাদের) মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। তোমাদের প্রয়োজন হবে না। আর যদি আমি তোমাদের মাঝে না থাকাবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয়, তবে প্রত্যেক মুমিন লোক নিজের পক্ষ হতে তাকে প্রতিহত করবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহ তা’আলাই হলেন আমার পক্ষ হতে তত্ত্বাবধানকারী। দাজ্জাল যুবক এবং ঘন চুল বিশিষ্ট হবে, চোখ আঙ্গুরের ন্যায় হবে। আমি তাকে কাফির ‘আবদুল উয্যা ইবনু কাতান এর মতো মনে করছি। তোমাদের যে কেউ দাজ্জালের সময়কাল পাবে সে যেন সূরা আল-কাহফ-এর প্রথমোক্ত আয়াতসমূহ পাঠ করে। সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপথ হতে আবির্ভূত হবে। সে ডানে-বামে দুর্যোগ সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা অটল থাকবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে পৃথিবীতে কয়দিন অবস্থান করবে? উত্তরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, চল্লিশদিন পর্যন্ত। এর প্রথম দিনটি এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের দিনসমূহের মতই হবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! যেদিন এক বছরের সমান হবে, সেটাতে এক দিনের সালাতই কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? উত্তরে তিনি বললেন, না, বরং তোমরা এদিন হিসাব করে তোমাদের দিনের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে নিবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! দুনিয়াতে দাজ্জালের অগ্রসরতা কি রকম বৃদ্ধি পাবে? তিনি বললেন, বাতাসের প্রবাহ মেঘমালাকে যে রকম হাকিয়ে নিয়ে যায়। সে এক কাওমের কাছে এসে তাদেরকে কুফুরীর দিকে ডাকবে। তারা তার উপর ঈমান আনবে এবং তার আহ্বানে সাড়া দিবে। অতঃপর সে আকাশমণ্ডলীকে আদেশ করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং ভূমিকে নির্দেশ দিবে, ফলে ভূমি গাছ-পালা ও শস্য উৎপন্ন করবে। তারপর সন্ধ্যায় তাদের গবাদি পশুগুলো পূর্বের চেয়ে বেশি লম্বা কুজ, প্রশস্ত স্তন এবং পেটভর্তি অবস্থায় তাদের কাছে ফিরে আসবে। তারপর দাজ্জাল অপর এক কাওমেরর কাছে আসবে এবং তাদেরকে কুফুরীর প্রতি ডাকবে। তারা তার কথাকে উপেক্ষা করবে। ফলে সে তাদের নিকট হতে প্রত্যাবর্তন করবে। আমনি তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও পানির অনটন দেখা দিবে এবং তাদের হাতে তাদের ধন-সম্পদ কিছুই থাকবে না। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে সেটাকে সম্বোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন জমিনের ধন-ভাণ্ডার বের হয়ে তার চতুষ্পার্শে একত্রিত হতে থাকবে, যেমন মধু মক্ষিকা তাদের সর্দারের চারপাশে সমবেত হয়। অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে তীরের লক্ষ্যস্থলের ন্যায় দুটুকরো করে ফেলবে। তারপর সে আবার তাকে আহবান করবে। যুবক আলোকময় হাস্যোজ্জল চেহারায় তার সম্মুখে এগিয়ে আসবে। এ সময় আল্লাহ রববুল আলামীন ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) কে প্রেরণ করবেন। তিনি দু' ফেরেশতার কাঁধের উপর ভর করে ওয়ারস ও জাফরান রং এর জোড়া কাপড় পরিহিত অবস্থায় দামেশক নগরীর পূর্ব দিকের উজ্জ্বল মিনারে অবতরণ করবেন। যখন তিনি তার মাথা ঝুঁকবেন তখন ফোটা ফোটা ঘাম তার শরীর থেকে গড়িয়ে পড়বে। তিনি যে কোন কফিরের কাছে যাবেন সে তার শ্বাসের বাতাসে ধ্বংস হয়ে যাবে। তার দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত যাবে তাঁর শ্বাসও ততদূর পর্যন্ত পৌছবে। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করতে থাকবেন। অবশেষে তাকে বাবে লুদ নামক স্থানে গিয়ে পাকড়াও করবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর ঈসা (আঃ) ঐ সম্প্রদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। ঈসা (আঃ) তাদের কাছে গিয়ে তাদের চেহারায় হাত বুলিয়ে জান্নাতে তাদের স্থানসমূহের ব্যাপারে খবর দিবেন। এমন সময় আল্লাহ তা’আলা ঈসা (আঃ) এর প্রতি এ মর্মে ওয়াহী অবতীর্ণ করবেন যে, আমি আমার এমন বান্দাদের আবির্ভাব ঘটেয়েছি, যাদের সঙ্গে কারোই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তুমি আমার মুমিন বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও। তখন আল্লাহ তা’আলা ইয়াজুজ-মাজুজ কাওমকে পাঠাবেন। তারা ছাড়া পেয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলটি "বুহাইরায়ে তাবরিয়া"র (ভূমধ্যসাগর) উপকূলে এসে এর সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে দিবে। তারপর তাদের সর্বশেষ দলটি এ স্থান দিয়ে যাত্রাকালে বলবে, এ সমুদ্রে কোন সময় পানি ছিল কি? তারা আল্লাহর নবী ঈসা (আঃ) এবং তার সাথীদেরকে অবরোধ করে রাখবে। ফলে তাদের নিকট একটি বলদের মাথা বর্তমানে তোমাদের নিকট একশ দীনারের মূল্যের চেয়েও অধিক মূল্যবান প্রতিপন্ন হবে। তখন আল্লাহর নবী ঈসা (আঃ) এবং তার সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। ফলে আল্লাহ তা’আলা ইয়া'জুজ-মা'জুজ সম্প্রদায়ের প্রতি আযাব পাঠাবেন। তাদের ঘাড়ে এক প্রকার পোকা হবে। এতে একজন মানুষের মৃত্যুর মতো তারাও সবাই মরে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তারপর ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ পাহাড় হতে জমিনে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু তারা অর্ধ হাত জায়গাও এমন পাবেন না যথায় তাদের পচা লাশ ও লাশের দুর্গন্ধ নেই। অতঃপর ‘ঈসা (আঃ) এবং তার সঙ্গীগণ পুনরায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। তখন আল্লাহ তা’আলা উটের ঘাড়ের মতো লম্বা এক ধরনের পাখি পাঠাবেন। তারা তাদেরকে বহন করে আল্লাহর ইচ্ছানুসারে কোন স্থানে নিয়ে ফেলবে। এরপর আল্লাহ এমন মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যার ফলে কাঁচা-পাকা কোন গৃহই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এতে জমিন বিধৌত হয়ে উদ্ভিদ শূন্য মৃত্তিকায় পরিণত হবে। অতঃপর পুনরায় জমিনকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হবে যে, হে জমিন! তুমি আবার শস্য উৎপন্ন করো এবং তোমার বারাকাত ফিরিয়ে দাও। সেদিন একদল মানুষ একটি ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর বাকলের নীচে লোকেরা ছায়া গ্রহণ করবে। দুধের মধ্যে বারাকাত হবে। ফলে দুগ্ধবতী একটি উটই একদল মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে, দুগ্ধবতী একটি গাভী একগোত্রীয় মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে এবং যথেষ্ট হবে দুগ্ধবতী একটি বকরী এক দাদার সন্তানদের (একটি ছোট গোত্রের) জন্য। এ সময় আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রেরণ করবেন। এ বায়ু সকল মুমিন লোকদের বগলে গিয়ে লাগবে এবং সমস্ত মুমিন মুসলিমদের রূহ কবয করে নিয়ে যাবে। তখন একমাত্র মন্দ লোকেরাই এ পৃথিবীতে বাকী থাকবে। তারা গাধার ন্যায় পরস্পর একে অন্যের সাথে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। এদের উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১০৬. ইসলামিক সেন্টার)

সুনানে ইবনে মাজাহহাদীস নং ৪০৮০সহিহবর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)سنن ابن ماجهرقم ٤٠٨٠

حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ يَحْفِرُونَ كُلَّ يَوْمٍ حَتَّى إِذَا كَادُوا يَرَوْنَ شُعَاعَ الشَّمْسِ قَالَ الَّذِي عَلَيْهِمُ ارْجِعُوا فَسَنَحْفِرُهُ غَدًا ‏.‏ فَيُعِيدُهُ اللَّهُ أَشَدَّ مَا كَانَ حَتَّى إِذَا بَلَغَتْ مُدَّتُهُمْ وَأَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَبْعَثَهُمْ عَلَى النَّاسِ حَفَرُوا حَتَّى إِذَا كَادُوا يَرَوْنَ شُعَاعَ الشَّمْسِ قَالَ الَّذِي عَلَيْهِمُ ارْجِعُوا فَسَتَحْفِرُونَهُ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى وَاسْتَثْنَوْا فَيَعُودُونَ إِلَيْهِ وَهُوَ كَهَيْئَتِهِ حِينَ تَرَكُوهُ فَيَحْفِرُونَهُ وَيَخْرُجُونَ عَلَى النَّاسِ فَيَنْشِفُونَ الْمَاءَ وَيَتَحَصَّنُ النَّاسُ مِنْهُمْ فِي حُصُونِهِمْ فَيَرْمُونَ بِسِهَامِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ فَتَرْجِعُ عَلَيْهَا الدَّمُ الَّذِي اجْفَظَّ فَيَقُولُونَ قَهَرْنَا أَهْلَ الأَرْضِ وَعَلَوْنَا أَهْلَ السَّمَاءِ فَيَبْعَثُ اللَّهُ نَغَفًا فِي أَقْفَائِهِمْ فَيَقْتُلُهُمْ بِهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ دَوَابَّ الأَرْضِ لَتَسْمَنُ وَتَشْكَرُ شَكَرًا مِنْ لُحُومِهِمْ ‏"‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় ইয়াজূজ-মাজূজ প্রতিদিন সুড়ঙ্গ পথ খনন করতে থাকে। এমনকি যখন তারা সূর্যের আলোকরশ্মি দেখার মত অবস্থায় পৌঁছে যায় তখন তাদের নেতা বলে, তোমরা ফিরে চলো, আগামী কাল এসে আমরা খনন কাজ শেষ করবো। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা (রাতের মধ্যে) সেই প্রাচীরকে আগের চেয়ে মযবুত অবস্থায় ফিরিয়ে দেন। যখন তাদের আবির্ভাবের সময় হবে এবং আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে মানবকুলের মধ্যে পাঠাতে চাইবেন, তখন তারা খনন কাজ করতে থাকবে। শেষে যখন তারা সূর্যরশ্মি দেখার মত অবস্থায় পৌঁছবে তখন তাদের নেতা বলবে, এবার ফিরে চলো, ইনশাআল্লাহ আগামী কাল অবশিষ্ট খনন কাজ সম্পন্ন করবো। তারা ইনশাআল্লাহ শব্দ ব্যবহার করবে। সেদিন তারা ফিরে যাবে এবং প্রাচীর তাদের রেখে যাওয়া ক্ষীণ অবস্থায় থেকে যাবে। এ অবস্থায় তারা খননকাজ শেষ করে লোকালয়ে বের হয়ে আসবে এবং সমুদ্রের পানি পান করে শেষ করবে। মানুষ তাদের ভয়ে পালিয়ে দূর্গের মধ্যে আশ্রয় নিবে। তারা আকাশপানে তাদের তীর নিক্ষেপ করবে। রক্তে রঞ্জিত হয়ে তা তাদের দিকে ফিরে আসবে। তখন তারা বলবে, আমরা পৃথিবীবাসীদের চরমভাবে পরাভূত করেছি এবং আসমানবাসীদের উপরও বিজয়ী হয়েছি। অতঃপর আল্লাহ তাদের ঘাড়ে এক ধরনের কীট সৃষ্টি করবেন। কীটগুলো তাদের হত্যা করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেই মহান সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! ভূপৃষ্ঠের গবাদি পশুগুলো সেগুলোর গোশত খেয়ে মোটাতাজা হয়ে মাংসল হবে।

🌐

ভৌগোলিক মানচিত্র ও সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক স্থানসমূহ

দারবান্দ গিরিপথ (ককেশাস পর্বতমালা)

📍 42.0678° N, ° E

কাস্পিয়ান ও কৃষ্ণ সাগরের মধ্যবর্তী প্রাকৃতিক গিরিপথ, যাকে প্রাচীন ভূগোলবিদগণ জুলকারনাইনের ঐতিহাসিক প্রাচীরের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗

তাবারিয়া হ্রদ (গ্যালিলী সাগর)

📍 32.8224° N, ° E

হাদীসে বর্ণিত সেই হ্রদ, যার সমস্ত পানি ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রথম দলটি পান করে সম্পূর্ণ শুকিয়ে ফেলবে।

স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗

তূর পর্বত

📍 28.5394° N, ° E

আল্লাহর নির্দেশে হযরত ঈসা (আ.) ও মুমিনদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗
⚖️

ইয়াজুজ ও মাজুজ: ভাইরাল গুজব বনাম কুরআন ও সুন্নাহ

সোশ্যাল মিডিয়ায় যা ভাইরাল হয় বনাম সহীহ হাদীস ও ইতিহাসে যা প্রমাণিত।

❌ ভাইরাল দাবি #1

ইয়াজুজ ও মাজুজ মানুষ নয়; তারা অদ্ভুত দানব, জম্বি বা বিশাল কানওয়ালা আজব প্রাণী।

✅ আসল সত্য

ইবনে কাসীর ও ইবনে হাজার (রহ.) সহীহ বুখারী ও মুসলিমের দলীল দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে তারা শতভাগ মানুষ এবং আদম (আ.) ও নূহ (আ.)-এর পুত্র ইয়াফিসের বংশধর।

❌ ভাইরাল দাবি #2

যুলকারনাইনের প্রাচীরটি হলো চীনের মহাপ্রাচীর, অথবা মঙ্গোলদের আক্রমণের সময়ই এটি ভেঙে গেছে।

✅ আসল সত্য

চীনের প্রাচীর ইট-পাথরের তৈরি, অথচ যুলকারনাইনের প্রাচীর দুই পাহাড়ের গিরিপথে লোহা ও গলিত তামা দিয়ে নির্মিত (সূরা কাহফ ১৮:৯৬) এবং এটি ভাঙবে ঈসা (আ.) কর্তৃক দাজ্জাল নিহত হওয়ার পর (সহীহ মুসলিম ২৯৩৭)।

🛡️

আসল প্রস্তুতি কী?

নবীজি ﷺ আমাদের বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ রাখবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে (সহীহ মুসলিম ৮০৯)। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল থিওরির পেছনে না ছুটে সুন্নাহর শেখানো আমলগুলো আঁকড়ে ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সাধারণ জিজ্ঞাসা ও সরাসরি উত্তর

তরুণদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও সহীহ দলীলভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তর

ইয়াজুজ ও মাজুজ মানুষ নয়; তারা অদ্ভুত দানব, জম্বি বা বিশাল কানওয়ালা আজব প্রাণী।

ইবনে কাসীর ও ইবনে হাজার (রহ.) সহীহ বুখারী ও মুসলিমের দলীল দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে তারা শতভাগ মানুষ এবং আদম (আ.) ও নূহ (আ.)-এর পুত্র ইয়াফিসের বংশধর।

যুলকারনাইনের প্রাচীরটি হলো চীনের মহাপ্রাচীর, অথবা মঙ্গোলদের আক্রমণের সময়ই এটি ভেঙে গেছে।

চীনের প্রাচীর ইট-পাথরের তৈরি, অথচ যুলকারনাইনের প্রাচীর দুই পাহাড়ের গিরিপথে লোহা ও গলিত তামা দিয়ে নির্মিত (সূরা কাহফ ১৮:৯৬) এবং এটি ভাঙবে ঈসা (আ.) কর্তৃক দাজ্জাল নিহত হওয়ার পর (সহীহ মুসলিম ২৯৩৭)।

কোনো ভুল চোখে পড়েছে?

হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।

সংশোধনের প্রস্তাব বা ভুল রিপোর্ট করুন

হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।

বিষয়