আল ফিতান

এগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন

শেষ জামানার অনুসন্ধানআলেম অনুমোদন করেছেন

ইমাম মাহদী কি হুথিদের সাথে আছেন?

ইয়েমেনের নববী মর্যাদা, রক্তপাতহীন ইসলাম গ্রহণ, আল-আকসায় উমর (রা.)-এর ঐতিহাসিক আমানত এবং আলোচনায় শেষ জামানার হতাশা ও হুথি দাবির বিশ্লেষণ।

  • প্রকাশিত
  • ১৫ মিনিটের পড়া

১. ঈমানের জাতীয়তা ও হিকমত: কোনো যুদ্ধ ছাড়াই ইয়েমেনের ইসলাম গ্রহণ

পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে ইয়েমেনের মর্যাদা আলোচনা করতে গেলে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এমন একটি ভারী ও ওজনদার বাণী সামনে আসে, যার গভীরতা পরিমাপ করা মানুষের পক্ষে কঠিন। তিনি ইরশাদ করেছেন: 'আল-ঈমানু ইয়ামান, ওয়াল-হিকমাতু ইয়ামানিয়াহ' - 'ঈমান হলো ইয়েমেনের, আর হিকমতও হলো ইয়েমেনের' (সহীহ বুখারী ৩৪aa, সহীহ মুসলিম ৫২)।

আমরা যখন নিজেদের পরিচয় দিই, তখন বলি 'আমি বাংলাদেশী', এটা আমার জাতীয়তা। আর আল্লাহর নবী ﷺ বললেন ঈমানের জাতীয়তা, ঈমানের পরিচয় হচ্ছে ঈমান নিজেই ইয়েমেনি! আর 'হিকমাহ' - যা আল্লাহ যুগে যুগে সকল নবী-রাসূলকে প্রদান করেছেন, সেই প্রজ্ঞার পরিচয়ও হলো ইয়েমেনি। এর চেয়ে বড় সম্মান আর কী হতে পারে?

তাছাড়া আল্লাহর নবী ﷺ মাত্র দুটি অঞ্চলের জন্য বিশেষভাবে বরকতের দুআ করেছিলেন: 'হে আল্লাহ! আমাদের শামে বরকত দিন, হে আল্লাহ! আমাদের ইয়েমেনে বরকত দিন' (সহীহ বুখারী ১০৩৭)। সাহাবায়ে কিরাম অন্য এলাকার জন্য দুআ চাইলে তিনি বারবার কেবল শাম ও ইয়েমেনের জন্যই দুআ করেছিলেন।

ইতিহাসের সবচেয়ে অনন্য দিকটি হলো: গোটা পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র ইয়েমেনই এমন এক ভূখণ্ড, যা জয় করতে মুহাম্মদ ﷺ ও তাঁর সাহাবীদের কোনো যুদ্ধ করতে হয়নি। ১০ম হিজরীতে হযরত আলী (রা.) যখন নবীজির চিঠি নিয়ে ইয়েমেনের বিখ্যাত 'হামদান' গোত্রের সামনে ইসলামের দাওয়াত তুলে ধরেন, তখন মাত্র একদিনের মধ্যে পুরো গোত্র কোনো যুদ্ধ বা রক্তপাত ছাড়াই ইসলাম গ্রহণ করে। এই সংবাদ শুনে রাসূলুল্লাহ ﷺ শুকরিয়ার সিজদায় (সিজদায়ে শুকর) লুটিয়ে পড়েন এবং দুইবার বলেন: 'হামদান গোত্রের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক! হামদান গোত্রের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক!'

যেমনটি আজকের ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই কোনো সামরিক বিজয় ছাড়াই কেবল দাওয়াত ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে মুসলিম হয়েছিল, ঠিক তেমনি ইয়েমেনের মানুষ ইসলাম পেয়েছিল অন্তরের আহ্বানে। সুতরাং ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান হলো: নিরপরাধ সাধারণ ইয়েমেনি জনগণের রক্ত ও জীবন পবিত্র। তাদের ওপর অন্যায় যুদ্ধ, অবরোধ ও দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দেওয়া মহাপাপ। কিন্তু এই নববী মর্যাদা ছিল ইয়েমেনের শান্তিকামী, কোমল হৃদয়ের সাধারণ মুমিনদের জন্য; কোনো সশস্ত্র উগ্রবাদী মিলিশিয়ার জন্য নয়, যারা অস্ত্রের মুখে রাজধানী দখল করেছে, জনগণের ওপর দুর্ভোগ চাপিয়েছে এবং সাহাবাদের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করে।

২. তিন পবিত্র মসজিদ ও আল-আকসার ফটকে উমর (রা.)-এর উটের রশি

ইসলামের শরীয়তে ইবাদতের উদ্দেশ্যে সফর করার অনুমতি রয়েছে কেবল তিনটি মসজিদে: মক্কার মসজিদে হারাম, মদীনার মসজিদে নববী এবং ফিলিস্তিনের মসজিদে আকসা (সহীহ বুখারী ১১৮৯)। এর বাইরে কোনো মাজার বা স্থানে স্পেশাল নেকির নিয়তে সফর করা জায়েজ নেই।

মসজিদে আকসা অবস্থিত পবিত্র শামে, যার চারপাশকে আল্লাহ বরকত দিয়ে ঘিরে রেখেছেন (সূরা আল-ইসরা ১৭:১)। এই শাম হলো ইব্রাহীম (আ.)-এর হিজরতস্থল এবং শেষ জামানায় হকপন্থীদের প্রধান কেন্দ্র।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম মসজিদে আকসা বিজয় কে করেছিলেন? তিনি হলেন দ্বিতীয় খলিফা আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)। ১৬ হিজরীতে তাঁর জেরুজালেম প্রবেশের দৃশ্য মানব ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়: উমর (রা.) ও তাঁর খাদেম একটিমাত্র উটে পালাক্রমে চড়ে সফর করছিলেন। জেরুজালেমের ফটকে পৌঁছানোর সময় খাদেমের চড়ার পালা এসে পড়ায় খলিফা উমর (রা.) খাদেমকে উটের পিঠে বসিয়ে নিজে উটের রশি টেনে কাদা-পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে শহরে প্রবেশ করেন! খ্রিস্টান বিশপ সফ্রোনিয়াস এই অভূতপূর্ব বিনয় দেখে চিনতে পারেন যে ইনিই তাদের ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত সেই মহান শাসক। উমর (রা.) কোনো রক্তপাত ছাড়াই চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন এবং নিজ হাতে ময়লা পরিষ্কার করে সেখানে সালাত আদায় করেন।

পরবর্তীতে ক্রুসেডারদের দখল থেকে ১১৮৭ খ্রিস্টাব্দে আল-আকসা পুনরুদ্ধার করেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অকুতোভয় সেনাপতি সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ূবী, যিনি শিয়া ফাতেমীয় মতবাদ বিলুপ্ত করে সাহাবাদের মর্যাদা সমুন্নত করেছিলেন।

অকাট্য সত্য: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) প্রথম আল-আকসা বিজয় করেছিলেন। সুতরাং নিশ্চিত থাকুন, যারা উমর ইবনুল খাত্তাবকে গালি দেয়, অভিসম্পাত করে কিংবা কাফের মনে করে, তাদের হাতে আল্লাহ কখনোই মসজিদে আকসার বিজয় তুলে দেবেন না। হুথিদের মূল স্লোগান ও আকিদা উমর এবং আয়েশা (রা.)-এর প্রতি চরম বিদ্বেষে ভরা; আল-আকসার প্রথম বিজয়ীকে যারা শত্রু ভাবে, তারা কখনোই আল-আকসার মুক্তিদাতা হতে পারে না।

৩. সামাররার সুড়ঙ্গে গোপন শিশু বনাম সহীহ সুন্নাহর ইমাম মাহদী

হুথিদের মাহদী-সম্পর্কিত দাবির পেছনে রয়েছে শিয়া আকিদাগত বিভ্রান্তি। দ্বাদশ ইমামিয়া শিয়া আকিদা অনুসারে তাদের মাহদী হলেন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-আসকারী, যিনি ২৬০ হিজরীতে ৫ বছর বয়সে ইরাকের সামাররার ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে (সারদাব) প্রবেশ করে গত ১১৫০ বছর ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন!

আল্লামা ইবনে কাসীর ও ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ সহ যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসগণ প্রমাণ করেছেন যে, এই ধারণার কোনো ভিত্তি ইসলামে নেই। এটি একটি মনগড়া রূপকথা ছাড়া কিছু নয়।

পক্ষান্তরে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সহীহ হাদীসের মানদণ্ড অনুযায়ী আসল ইমাম মাহদীর পরিচয়:

  1. নাম ও পিতার নাম: 'তাঁর নাম আমার নামের মতো এবং পিতার নাম আমার পিতার নামের মতো হবে' (সুনান আবি দাউদ ৪২৮২) - অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ।
  2. বংশমর্যাদা: তিনি হবেন হাসান ইবনে আলী (রা.)-এর বংশধর (সুনান আবি দাউদ ৪২৮৪)।
  3. এক রাতে সংশোধন: 'মাহদী আমাদের আহলে বাইত থেকে হবে; আল্লাহ তাকে মাত্র এক রাতে উপযুক্ত করবেন' (সুনান ইবনে মাজাহ ৪০৮৫)।
  4. বাইয়াতের স্থান: তিনি কোনো পাহাড়ে অস্ত্র হাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আত্মপ্রকাশ করবেন না। তিনি নেতৃত্ব থেকে বাঁচতে মদীনা থেকে মক্কায় পালাবেন এবং কাবার রুকন ও মাকামে ইবরাহীমের মাঝখানে পুণ্যবান মুসলিমরা জোর করে তাঁর হাতে বাইয়াত নেবেন (সুনান আবি দাউদ ৪২৮৬)।

সুতরাং কোনো সুড়ঙ্গে লুকিয়ে থাকা কাল্পনিক ব্যক্তি বা পাহাড়ে অবস্থানরত উগ্রবাদী সশস্ত্র মিলিশিয়ার সাথে আসল ইমাম মাহদীর কোনো সম্পর্ক নেই।

৪. আবরাহার ধ্বংসাত্মক উত্তরাধিকার: পবিত্র মক্কার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র

কোনো দল বা গোষ্ঠী হকের ওপর রয়েছে কি না, তা যাচাই করার সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হলো পবিত্র কাবাঘর ও হারামাইন শরিফাইনের প্রতি তাদের মনোভাব।

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জন্মের বছর ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে ইয়েমেনের তৎকালীন শাসক আবরাহা আল-আশরাম হস্তীবাহিনী নিয়ে সানআ থেকে মক্কার দিকে অগ্রসর হয়েছিল কাবাঘর ধ্বংস করার জন্য। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আবাবিল পাখি পাঠিয়ে সেই বাহিনীকে চিবানো ভুসির মতো ধ্বংস করে দেন (সূরা আল-ফীল ১০৫:১-৫)। আল্লাহ চিরকালের জন্য একটি বিধান রেখে গেছেন: ইয়েমেন থেকে যে-ই কাবার দিকে বৈরী মনোভাব বা হামলার উদ্দেশ্যে আসবে, সে আল্লাহর গজবের শিকার হবে।

দুঃখজনকভাবে আধুনিক ইতিহাসে হুথি বিদ্রোহীরা দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একাধিকবার মক্কা মোকাররমা প্রদেশের দিকে আক্রমণ চালিয়েছে (বিশেষ করে অক্টোবর ২০১৬ এবং জুলাই ২০১৭ সালে), যা তাইফের আকাশে কাবার অদূরে প্রতিহত করা হয়। কাবার সান্নিধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের এই ঔদ্ধত্য মুসলিম উম্মাহকে গভীরভাবে ব্যথিত করে এবং বিশ্বব্যাপী ওলামায়ে কিরাম এর তীব্র নিন্দা জানান।

যে ইমাম মাহদী মক্কায় কাবার ছায়াতলে আশ্রয় নেবেন, তাঁর অনুসারী কখনো কাবার দিকে বিস্ফোরক মিসাইল ছুড়তে পারে না! এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হুথিরা মূলত আবরাহার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে, মাহদীর নয়।

৫. শেষ জামানার হতাশাবাদ খণ্ডন: মাহদী আগমনের আগেই উম্মাহর জাগরণ ও বিজয়

এই আলোচনার অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো শেষ জামানার prophecies ঘিরে মুসলিম সমাজে ছড়িয়ে পড়া হতাশাবাদী ও নিষ্ক্রিয় মানসিকতার (defeatist mindset) কঠোর প্রতিবাদ।

বর্তমানে অনেকে মনে করেন: 'ইমাম মাহদী আসার আগে কিছুই হবে না, দাজ্জাল সব দখল করে নেবে, তাই আমাদের কিছু করার নেই!' এই চরম হতাশা থেকেই মানুষ যে-কোনো সশস্ত্র বিদ্রোহীকে 'মাহদীর সৈন্য' মনে করে অন্ধ আবেগে সমর্থন দিতে শুরু করে।

অকাট্য দলিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে: সহীহ হাদীসে বর্ণিত মহাযুদ্ধ বা আল-মালহামা আল-কুবরা-তে মুসলমানেরা বিশ্বজয় করবে দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করার আগেই! আর সেই বিজয় কীভাবে অর্জিত হবে? তখন কি কোনো নতুন নবী আসবেন? কোনো নতুন কিতাব নাজিল হবে? কোনো নতুন হাদীস আসবে? না! এই কুরআন ও এই হাদীস দিয়েই, নতুন কোনো নবী ছাড়াই, সাধারণ একনিষ্ঠ মুমিনদের হাত দিয়েই আল্লাহ তাআলা ইসলামের বিজয় দান করবেন। এই আত্মবিশ্বাস মুসলমানদের বুকে থাকতে হবে।

পাশাপাশি মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত হতে হবে। আরবি ভাষা ও ইসলামী আকীদার জ্ঞান না থাকার কারণে আমাদের সমাজের অনেকেই দিল্লি, তেহরান কিংবা পশ্চিমা মিডিয়ার তৈরি করা বানোয়াট ন্যারেটিভ অন্ধভাবে গিলে ফেলে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: হুথিদের সাথে ইমাম মাহদীর দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। হাদীসে বর্ণিত বরকতময় ইয়েমেন হলো শান্তিকামী মুমিন জনগণ; আল-আকসার উত্তরাধিকার কেবল উমর (রা.)-এর অনুসারীদের জন্য; আর ইমাম মাহদী নির্ভেজাল তাওহীদ ও সুন্নাহর ভিত্তিতে মক্কায় আত্মপ্রকাশ করবেন।

উল্লেখিত আয়াত ও হাদিস

আল-ফীলসূরা ১০৫ · আয়াত ১-৫سورة الفيل
  1. ۝١

  2. ۝٢

  3. ۝٣

  4. ۝٤

  5. ۝٥

সহিহ বুখারি ↗হাদিস নং ৩৪৯৯সহিহصحيح البخاريرقم ٣٤٩٩

أَتَاكُمْ أَهْلُ الْيَمَنِ، هُمْ أَرَقُّ أَفْئِدَةً وَأَلْيَنُ قُلُوبًا، الإِيمَانُ يَمَانٍ وَالْحِكْمَةُ يَمَانِيَةٌ

তোমাদের নিকট ইয়েমেনবাসীরা এসেছে; তারা সবচেয়ে কোমল হৃদয় ও নম্র মনের অধিকারী। ঈমান হলো ইয়েমেনের এবং হিকমতও হলো ইয়েমেনের।

সহিহ বুখারিহাদিস নং ১০৩৭সহিহবর্ণনাকারী: ইবনু ‘উমার (রাযি.)صحيح البخاريرقم ١٠٣٧

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا وَفِي يَمَنِنَا‏.‏ قَالَ قَالُوا وَفِي نَجْدِنَا قَالَ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا وَفِي يَمَنِنَا‏.‏ قَالَ قَالُوا وَفِي نَجْدِنَا قَالَ قَالَ هُنَاكَ الزَّلاَزِلُ وَالْفِتَنُ، وَبِهَا يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ‏.‏

ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে আল্লাহ্! আমাদের শামে (সিরিয়া) ও ইয়ামনে বরকত দান করুন। লোকেরা বলল, আমাদের নজদেও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আল্লাহ্! আমাদের শামদেশে ও ইয়ামনে বরকত দান করুন। লোকেরা তখন বলল, আমাদের নজদেও। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ সেখানে তো রয়েছে ভূমিকম্প ও ফিতনা-ফাসাদ আর শয়তানের শিং সেখান হতেই বের হবে (তার উত্থান ঘটবে)। (৬০৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)

সুনানে আবু দাউদহাদিস নং ৪২৮২সহিহسنن أبي داودرقم ٤٢٨٢

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عُبَيْدٍ، حَدَّثَهُمْ ح، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، - يَعْنِي ابْنَ عَيَّاشٍ ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا زَائِدَةُ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ فِطْرٍ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - كُلُّهُمْ عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ لَوْ لَمْ يَبْقَ مِنَ الدُّنْيَا إِلاَّ يَوْمٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ زَائِدَةُ فِي حَدِيثِهِ ‏"‏ لَطَوَّلَ اللَّهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ اتَّفَقُوا ‏"‏ حَتَّى يَبْعَثَ فِيهِ رَجُلاً مِنِّي ‏"‏ ‏.‏ أَوْ ‏"‏ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يُوَاطِئُ اسْمُهُ اسْمِي وَاسْمُ أَبِيهِ اسْمَ أَبِي ‏"‏ ‏.‏ زَادَ فِي حَدِيثِ فِطْرٍ ‏"‏ يَمْلأُ الأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلاً كَمَا مُلِئَتْ ظُلْمًا وَجَوْرًا ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ فِي حَدِيثِ سُفْيَانَ ‏"‏ لاَ تَذْهَبُ أَوْ لاَ تَنْقَضِي الدُّنْيَا حَتَّى يَمْلِكَ الْعَرَبَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يُوَاطِئُ اسْمُهُ اسْمِي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَفْظُ عُمَرَ وَأَبِي بَكْرٍ بِمَعْنَى سُفْيَانَ ‏.‏

আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি দুনিয়ার মাত্র একদিনও অবশিষ্ট থাকে তবে আল্লাহ সেই দিনকে অত্যন্ত দীর্ঘায়িত করবেন এবং আমার থেকে অথবা আমার পরিজন থেকে একজন লোক আবির্ভূত করবেন, যার নাম ও তার পিতার নাম আমার ও আমার পিতার নামের সঙ্গে হুবহু মিল হবে। সে পৃথিবীকে ইনসাফে পরিপূর্ণ করবে যেরূপ তা যুলুমে পরিপূর্ণ ছিলো। আর সুফিয়ান বর্ণিত হাদীসে বলেন, ততদিন দুনিয়া ধ্বংস হবে না, যতদিন পর্যন্ত আমার পরিবারের এক ব্যক্তি আরবে রাজত্ব না করবে, তার নাম হুবহু আমার নামই হবে।[1] হাসান সহীহ।

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নং ৪০৮৫হাসানবর্ণনাকারী: আলী (রাঃ)سنن ابن ماجهرقم ٤٠٨٥

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، حَدَّثَنَا يَاسِينُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْمَهْدِيُّ مِنَّا أَهْلَ الْبَيْتِ يُصْلِحُهُ اللَّهُ فِي لَيْلَةٍ ‏"‏ ‏.‏

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মাহ্দী আমাদের আহলে বাইত থেকে হবে। আল্লাহ তা‘আলা তাকে এক রাতে খিলাফতের যোগ্য করবেন।

কোনো ভুল চোখে পড়েছে?

হাদিসের মানে ভুল, অনুবাদে দুর্বলতা, সূত্র নেই বা কোনো তথ্য পুরোনো? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট যাচাইয়ের তালিকায় যায়, আর লেখায় কোনো পরিবর্তন হলে আলেমরা তা দেখে নেন।

সংশোধনের প্রস্তাব বা ভুল রিপোর্ট করুন

হাদিসের মানে ভুল, অনুবাদে দুর্বলতা, সূত্র নেই বা কোনো তথ্য পুরোনো? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট যাচাইয়ের তালিকায় যায়, আর লেখায় কোনো পরিবর্তন হলে আলেমরা তা দেখে নেন।

বিষয়