مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَآ أَحَدࣲ مِّن رِّجَالِكُمۡ وَلَٰكِن رَّسُولَ ٱللَّهِ وَخَاتَمَ ٱلنَّبِيِّـۧنَۗ وَكَانَ ٱللَّهُ بِكُلِّ شَيۡءٍ عَلِيمࣰ ا٤٠
৪০. মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোনো পুরুষের পিতা নন; ববং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আর আল্লাহ্ সর্বকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।
দাজ্জালের আগে ৩০ ভণ্ড নবী: ঐতিহাসিক সত্যতা ও নবীজির বাণী
মুসাইলিমা কাজ্জাবের হাস্যকর ‘ব্যাঙের সূরা’ এবং ভণ্ড নবী সাজাহর বিয়ের নাটক থেকে শুরু করে খোরাসানের মুখোশধারী জাদুকর ও ব্রিটিশ আমলের মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী। দেখে নিন ইতিহাসের সেই ভণ্ডদের ফাইল।
- প্রকাশিত
- ২২ মিনিট লাগবে
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে নবীজি ﷺ সতর্ক করে গেছেন যে কিয়ামত ততক্ষণ হবে না, যতক্ষণ না প্রায় ৩০ জন ‘দাজ্জাল’ (মহামিথ্যাবাদী) বের হয়, যাদের প্রত্যেকে নিজেকে আল্লাহর রাসূল দাবি করবে। কিন্তু ইতিহাসে তো শত শত পাগল ও প্রতারক নবী দাবি করেছে, তাহলে হাদীসে ‘৩০ জন’ কেন বলা হলো? ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) এর দারুণ এক সমাধান দিয়েছেন।
আমাদের অনেকেই মনে করেন ‘দাজ্জাল’ শব্দটি বোধহয় শুধুমাত্র শেষ জামানার সেই একচোখা মহাপ্রতারকের নাম। আসলে আরবি ভাষায় ‘দাজ্জাল’ (যার মূল ধাতু দাজল, অর্থাৎ কোনো কিছুর ওপর প্রলেপ দিয়ে আসল রূপ ঢেকে ফেলা বা চরম ধোঁকাবাজি করা) অর্থ হলো মহাপ্রতারক বা চরম মিথ্যাবাদী। আর শেষ জামানার আসল আল-মাসীহ আদ-দাজ্জাল আসার আগে এই উম্মাহর ভেতর আরও একদল ‘ছোট দাজ্জাল’ বা ভণ্ড নবীর আবির্ভাব ঘটবে বলে নবীজি ﷺ আগেই সতর্ক করে গেছেন।
সহীহ বুখারী (৭১২১) এবং সহীহ মুসলিমে (১৫৭) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন:
> ‘ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না, যতক্ষণ না প্রায় ত্রিশজন দাজ্জাল (ভণ্ড ও মহামিথ্যাবাদী) আত্মপ্রকাশ করে, যাদের প্রত্যেকে দাবি করবে যে সে আল্লাহর রাসূল।’
আর সুনানে আবু দাউদ (৪২৫২) এবং তিরমিযীতে (২২১৯) সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে নবীজি ﷺ এমন এক চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন যা দুনিয়ার সব ভণ্ড নবীর মুখোশ খুলে দেয়:
> ‘অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশজন মহামিথ্যাবাদীর (কাযযাবুন) আবির্ভাব ঘটবে, যাদের প্রত্যেকে দাবি করবে যে সে নবী, অথচ আমিই শেষ নবী (খাতামুন নাবিইয়্যীন), আমার পরে আর কোনো নবী নেই!’
গত ১৪০০ বছরের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে ত্রিশজন নয়, বরং শত শত মানুষ নিজেদের নবী বলে দাবি করেছে। তাহলে হাদীসে ‘প্রায় ৩০ জন’ কেন বলা হলো?
সহীহ বুখারীর জগদ্বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারী’-তে হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) (এবং কাযী ইয়াদ ও ইমাম নববী রহ.) এই প্রশ্নটির চমৎকার সমাধান দিয়েছেন:
> ‘হাদীসে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে নবী দাবি করা প্রতিটি মানসিক ভারসাম্যহীন বা পাগল লোককে বোঝানো হয়নি, যাদের কথায় কেউ কানও দেয়নি। বরং এই ৩০ জন বলতে বিশেষভাবে তাদেরকে বোঝানো হয়েছে, যারা ‘শাওকাহ’ (সংগঠিত শক্তি, বিশাল অনুসারী বাহিনী ও ব্যাপক পরিচিতি) অর্জন করতে পেরেছিল এবং যাদের ফিতনা মুসলিম সমাজকে বাস্তবেই নাড়িয়ে দিয়েছিল।’
১. তারা সরাসরি নবুওয়াত, ওহী লাভ অথবা ইসলামের শরীয়ত পরিবর্তন/রহিত করার দাবি করেছে।
২. তারা বড় কোনো দল, সেনাবাহিনী বা স্থায়ী গোষ্ঠী (শাওকাহ ও শুহরাহ) তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
৩. তাদের প্রতারণা মুসলিম উম্মাহর জন্য বাস্তব ঐতিহাসিক ফিতনা তৈরি করেছে।
এই ৩০ জন মহাপ্রতারকের প্রথম ঢেউটি এসেছিল নবীজির ﷺ জীবনের একদম শেষ প্রান্তে এবং আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর খিলাফতকালে। ইতিহাসের প্রথম ৫ জন ভণ্ড নবীর ফাইলগুলো দেখুন, যার পরতে পরতে আছে নাটকীয়তা:
- আল-আসওয়াদ আল-আনসী (আবহালা ইবনে কাব, ইয়েমেন, মৃত্যু ১১ হিজরী): ইয়েমেনের এক চতুর জাদুকর ও বাগ্মী, যে নিজেকে ‘রাহমানুল ইয়ামান’ দাবি করেছিল। সে সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে সানা দখল করে নেয়। কিন্তু নবীজি ﷺ ইন্তেকালের মাত্র একদিন আগে সাহাবী ফিরোজ আদ-দাইলামী (রা.) ও তাঁর সঙ্গীদের হাতে সে নিজের দুর্গের ভেতরেই নিহত হয়।
- মুসাইলিমা আল-কাজ্জাব (বনু হানিফা, ইয়ামামা, মৃত্যু ১২ হিজরী): ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত ভণ্ড নবী। সে নবীজিকে ﷺ চিঠি লিখে বলেছিল: ‘আল্লাহর রাসূল মুসাইলিমার পক্ষ থেকে আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদের প্রতি: পৃথিবীর অর্ধেক আমাদের আর অর্ধেক কুরাইশদের!’ নবীজি ﷺ জবাবে লিখেছিলেন: ‘আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে মহামিথ্যাবাদী (আল-কাজ্জাব) মুসাইলিমার প্রতি: নিশ্চয়ই জমিন কেবল আল্লাহরই!’ সে কুরআনের অনুকরণে হাস্যকর সব ছড়া বানিয়ে ওহী বলে চালাত, যেমন: ‘হে ব্যাঙ, দুই ব্যাঙের কন্যা! যত পারো ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ করো!’ সে ৪০ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনী গড়ে তুলেছিল। অবশেষে ইয়ামামার যুদ্ধে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ (রা.)-এর অভিযানে এবং ওয়াহশী ইবনে হারব (রা.)-এর বর্শার আঘাতে তার পতন ঘটে।
- তুলাইহা ইবনে খুওয়াইলিদ আল-আসাদী (নজদ): সে দাবি করেছিল ‘যুন-নূন’ নামের ফেরেশতা তার কাছে ওহী আনে। কাহিনীর টুইস্ট: বুযাখার যুদ্ধে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ (রা.)-এর কাছে পরাজিত হওয়ার পর তুলাইহা নিজের ভুল বুঝতে পেরে খাঁটি মনে তাওবা করে পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করেন! পরবর্তীকালে তিনি পারস্য বিজয়ের যুদ্ধে একজন বীর মুসলিম মুজাহিদ হিসেবে লড়াই করেন এবং ২১ হিজরীতে নিহাওয়ান্দের যুদ্ধে শহীদ হন!
- সাজাহ বিনতে আল-হারিস আত-তাগলিবিয়্যাহ (উত্তর আরব/ইরাক): খ্রিস্টান পরিবারে বেড়ে ওঠা এই আরব নারী নবী দাবি করে সৈন্যদল নিয়ে মদিনা আক্রমণের উদ্দেশ্যে বের হয়। পথিমধ্যে ইয়ামামায় আরেক ভণ্ড নবী মুসাইলিমা কাজ্জাবের সাথে তার দেখা হয়। আর তখন ঘটে ইতিহাসের সবচেয়ে হাস্যকর ঘটনা, এই দুই ভণ্ড নবী একে অপরকে বিয়ে করে ফেলে এবং দেনমোহর হিসেবে তাদের অনুসারীদের ফজর ও এশার নামাজ মাফ করে দেয়! পরে মুসাইলিমা নিহত হলে সাজাহ তাওবা করে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং বসরায় একজন সাধারণ মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন।
- লাকীত ইবনে মালিক আল-আযদী (‘যুত-তাজ’, ওমান, মৃত্যু ১১ হিজরী): ওমানে নবুওয়াত ও রাজত্ব দাবি করে বিদ্রোহ করেছিল এবং দিব্বার যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর হাতে নিহত হয়।
উমাইয়া যুগে এসে ভণ্ড নবীদের কৌশল বদলে যায়। এবার তারা রাজনৈতিক ক্ষোভ এবং উগ্র রহস্যবাদকে (গুলুওয়্য) পুঁজি করে ওহী লাভের দাবি করতে শুরু করে:
- আল-মুখতার ইবনে আবি উবাইদ আস-সাকাফী (কুফা, মৃত্যু ৬৭ হিজরী / ৬৮৭ খ্রি.): প্রথমে হুসাইন (রা.)-এর হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার স্লোগান দিয়ে কুফা দখল করে। কিন্তু ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর দাবি করে বসে যে জিবরীল (আ.) তার কাছে ওহী নিয়ে আসেন! সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সহীহ মুসলিমে (২৫৪৫) নবীজি ﷺ আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে সাকীফ গোত্রে একজন ‘মহামিথ্যাবাদী’ (মুখতার সাকাফী) এবং একজন ‘রক্তপিপাসু জালেম’ (হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ) জন্মাবে! ৬৭ হিজরীতে মুসআব ইবনুয যুবাইর (রা.)-এর হাতে মুখতার নিহত হয়।
- আল-হারিস ইবনে সাঈদ আল-কাজ্জাব (দামেস্ক/জেরুজালেম, মৃত্যু ৭৯ হিজরী): শুরুতে দরবেশ ও পরহেজগারের ভান ধরে মানুষের আস্থা অর্জন করে, পরে জাদুবিদ্যা ও হাতের কারসাজি দিয়ে অমৌসুমি ফল দেখিয়ে নবুওয়াত দাবি করে। খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান তাকে গ্রেপ্তার করে মৃত্যুদণ্ড দেন।
- বায়ান ইবনে সামআন আত-তামীমী (ইরাক, মৃত্যু ১১৯ হিজরী): দাবি করেছিল ‘ইসমে আযম’-এর মাধ্যমে তার ভেতরে নবুওয়াত ও ঐশ্বরিক শক্তি প্রবেশ করেছে।
- আল-মুগীরাহ ইবনে সাঈদ আল-ইজলী (কুফা, মৃত্যু ১১৯ হিজরী): জাদুবিদ্যা ব্যবহার করে কুফায় অনুসারী জুটিয়ে দাবি করেছিল জিবরীল তার কাছে ওহী আনেন। গভর্নর খালিদ আল-কাসরী এই দুজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেন।
- আবু মানসুর আল-ইজলী (‘আল-কিসফ’, কুফা, মৃত্যু ১২৫ হিজরী): দাবি করেছিল সে আকাশে আরোহণ করেছে এবং নামাজ-রোজা রহিত করে বিরোধীদের গলা টিপে হত্যা করার (আল-খানাকাহ) বিধান পেয়েছে!
- আল-জানাহিয়্যাহ গোষ্ঠীর প্রবক্তারা (পারস্য, ১২৯ হিজরী): পুনর্জন্মবাদ (তানাসুখ) প্রচার করে দাবি করেছিল নবীদের রুহ তাদের নেতার দেহে প্রবেশ করেছে।
- সালিহ ইবনে তারীফ আল-বারগাওয়াতা (মরক্কো, ১২৭ হিজরী / ৭৪৪ খ্রি.): মরক্কোর আটলান্টিক উপকূলে ‘বারগাওয়াতা’ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে বারবার ভাষায় ৮০ সূরার এক নকল ‘কুরআন’ রচনা করে এবং রমজানের বদলে রজব মাসে রোজার বিধান চালু করে!
আব্বাসীয় খিলাফত ও মধ্যযুগে তৃতীয় ঢেউয়ের ভণ্ড নবীরা অপটিক্যাল ভেলকি, সশস্ত্র বিদ্রোহ ও বাতেনী দর্শনকে হাতিয়ার বানায়:
- ইসহাক আল-আখরাস (খোরাসান, ১৩৮ হিজরী): আবু মুসলিম খোরাসানীর মৃত্যুর পর পারস্যে নবুওয়াত ও পুনর্জন্মের দাবি তোলে।
- উস্তাদ সিস (হেরাত, খোরাসান, মৃত্যু ১৫০ হিজরী / ৭৬৭ খ্রি.): খোরাসানে নবী দাবি করে প্রায় ৩ লাখ বিদ্রোহীর এক বিশাল বাহিনী গড়ে তোলে। পরে আব্বাসীয় সেনাপতি খাযিম ইবনে খুযাইমার হাতে পরাজিত হয়।
- হাকিম আল-মুকান্না (‘খোরাসানের মুখোশধারী নবী’, মারভ/ট্রান্সঅক্সিয়ানা, মৃত্যু ১৬৩ হিজরী / ৭৮০ খ্রি.): ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় প্রতারকদের একজন। তার আসল নাম ছিল হাশিম ইবনে হাকিম। সে ছিল একচোখা ও কুৎসিত চেহারার, তাই সবসময় মুখে সোনার মুখোশ বা সবুজ রেশমি পর্দা পরে থাকত এবং দাবি করত তার চেহারার ‘নূর’ সাধারণ মানুষ সহ্য করতে পারবে না! সে রসায়ন ও আলোর প্রতিফলন ব্যবহার করে নাখশাব শহরের এক গভীর কূপ থেকে আকাশে এক কৃত্রিম চাঁদের আলো (‘মুকান্নার চাঁদ’) দেখিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিত। ১৬৩ হিজরীতে খলিফা আল-মাহদীর সেনাবাহিনী তার দুর্গ ঘিরে ফেললে সে অনুসারীদের বিষ খাইয়ে নিজে জ্বলন্ত অ্যাসিড বা অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে, যেন তার লাশ খুঁজে না পাওয়া যায় এবং অনুসারীরা ভাবে সে আকাশে চলে গেছে!
- বাবাক আল-খুররামী (আজারবাইজান, মৃত্যু ২২৩ হিজরী / ৮৩৮ খ্রি.): পাহাড়ি দুর্গে বসে ২০ বছর ধরে বিদ্রোহ চালায় এবং ইসলামের হালাল-হারাম রহিত করার দাবি করে। খলিফা মুতাসিম বিল্লাহর আমলে সে ধরা পড়ে।
- মাহমুদ ইবনুল ফারাজ আন-নাইসাবুরী (সামাররা, মৃত্যু ২৩৫ হিজরী): নিজেকে যুলকারনাইন ও জিবরীলের ওহীপ্রাপ্ত নবী দাবি করে খলিফা মুতাওয়াক্কিলের আমলে ধৃত হয়।
- আলী ইবনে মুহাম্মদ, ‘সাহিবুয যানজ’ (দক্ষিণ ইরাক, মৃত্যু ২৭০ হিজরী / ৮৮৩ খ্রি.): নিজের ওপর সরাসরি ওহী নাযিলের দাবি করে ইরাকে ১৪ বছরব্যাপী ভয়াবহ ‘যানজ বিদ্রোহ’ চালায় এবং বসরা নগরী ধ্বংস করে।
- কারমাতী আন্দোলনের ভণ্ড নবীগণ (বাহরাইন/আহসা, ৪র্থ হিজরী শতক): এই উগ্র গোষ্ঠী নামাজ-রোজা রহিত করে ৩১৭ হিজরীতে (৯৩০ খ্রি.) মক্কায় হামলা চালিয়ে হাজীদের হত্যা করে এবং কাবাঘরের হাজরে আসওয়াদ পাথর খুলে নিয়ে ২২ বছর আটকে রাখে! পরে তারা ইসফাহানের এক যুবককে তাদের নতুন শরীয়তদানকারী নবী ঘোষণা করে।
- হা-মীম আল-মুফতারী (মরক্কো, মৃত্যু ৩১৫ হিজরী / ৯২৭ খ্রি.): মরক্কোর গুমারা পাহাড়ে নকল কুরআন বানায় এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বদলে দুই ওয়াক্ত নামাজ চালু করে।
- আসিম ইবনে জামীল আল-ওয়ারফাজুমী (উত্তর আফ্রিকা): উত্তর আফ্রিকায় নবুওয়াত দাবি করে নামাজের নিয়ম পরিবর্তন করে।
- ইবনে আবিল আযাকির আশ-শালমাগানী (বাগদাদ, মৃত্যু ৩২২ হিজরী): বাগদাদে ঐশ্বরিক অবতার ও শরীয়ত রহিত করার দাবি করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়।
মধ্যযুগের শেষ ভাগ থেকে আধুনিক যুগে এসে ভণ্ড নবীরা ছাপাখানা, বইপত্র এবং উপনিবেশিক রাজনীতির ছত্রচ্ছায়ায় আন্তর্জাতিক ফিতনা তৈরি করে:
- ফযলুল্লাহ আস্তারাবাদী (হুরুফী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা, পারস্য, মৃত্যু ৭৯৬ হিজরী / ১৩৯৪ খ্রি.): অক্ষর ও সংখ্যাতত্ত্বের মাধ্যমে নবুওয়াত দাবি করে এবং নিজের লেখা ‘জাভিদান-নামা’ বইকে নতুন আসমানী কিতাব বলে ঘোষণা করে।
- মাহমুদ পাসিখানী (নুকতাবী মতবাদ, গিলান, মৃত্যু ৮৩১ হিজরী / ১৪২৮ খ্রি.): ইসলামের শরীয়ত রহিত হয়ে নতুন যুগ শুরু হয়েছে বলে নিজেকে নবী দাবি করে।
- বায়াযীদ আনসারী (‘পীর রোশন’, ওয়াজিরিস্তান/আফগানিস্তান, মৃত্যু ৯৮০ হিজরী / ১৫৭২ খ্রি.): জিবরীলের মাধ্যমে সরাসরি ওহী পাওয়ার দাবি করে এবং কুরআনের অনুকরণে চার ভাষায় ‘খাইরুল বায়ান’ নামে কিতাব লেখে।
- শাব্বাতাই তযভী (ইযমির, উসমানীয় সাম্রাজ্য, মৃত্যু ১৬৭৬ খ্রি.): উসমানীয় সাম্রাজ্যে মসীহ ও নবী দাবি করে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং সুলতান চতুর্থ মুহাম্মদের দরবারে আটক হওয়ার পর বাইরে ইসলাম গ্রহণের ভান ধরে গোপন ‘দোনমেহ’ সম্প্রদায় গড়ে তোলে।
- সৈয়দ আলী মুহাম্মদ সিরাজী (‘আল-বাব’, শিরাজ, ইরান, মৃত্যু ১৮৫০ খ্রি.): প্রথমে নিজেকে ‘বাব’ (দরজা) এবং পরে পূর্ণ নবী ঘোষণা করে কুরআন ও ইসলামী শরীয়ত রহিত করার দাবি তোলে এবং ‘আল-বায়ান’ নামে বই লেখে।
- মির্জা হুসাইন আলী নূরী (‘বাহাউল্লাহ’, ইরান/আক্কা, মৃত্যু ১৮৯২ খ্রি.): আল-বাবের পথ ধরে নিজেকে নতুন বিশ্বনবী দাবি করে ‘বাহাই’ নামের সম্পূর্ণ আলাদা ধর্ম চালু করে।
- মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (পাঞ্জাব, ব্রিটিশ ভারত, মৃত্যু ১৯০৮ খ্রি.): আধুনিক যুগের সবচেয়ে ধূর্ত ও সুসংগঠিত ভণ্ড নবী। সে ধাপে ধাপে নিজের দাবি পরিবর্তন করে, প্রথমে সাধারণ ইসলামী লেখক, এরপর মুজাদ্দিদ, এরপর ইমাম মাহদী, এরপর ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) এবং সবশেষে সরাসরি নবী ও রাসূল হওয়ার দাবি করে বসে! একই সাথে সে ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের আনুগত্য ফরয এবং জিহাদ হারাম ঘোষণা করে। মক্কার রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীসহ গোটা মুসলিম বিশ্বের সর্বসম্মত ফতোয়ায় তাকে ও তার অনুসারীদের অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে।
- রাশাদ খলিফা (অ্যারিজোনা, যুক্তরাষ্ট্র, মৃত্যু ১৯৯০ খ্রি.): আশির দশকে কম্পিউটার দিয়ে কুরআনের ‘১৯ সংখ্যার মিরাকল’ বের করার নাম করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। কিন্তু কিছুদিন পরই সে পুরো হাদীস শাস্ত্র অস্বীকার করে, সূরা তাওবার শেষ দুটি আয়াত (৯:১২৮-১২৯) কুরআন থেকে বাদ দেওয়ার ধৃষ্টতা দেখায় এবং নিজেকে ‘আল্লাহর রাসূল (Messenger of the Covenant)’ ঘোষণা করে!
মুসনাদে আহমদে (২৩২১২) হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত একটি সহীহ হাদীসে (শায়খ আলবানী সিলসিলা সহীহাহ ১৯৯৯-এ সহীহ বলেছেন) নবীজি ﷺ আরও একটি চমকে যাওয়ার মতো তথ্য দিয়েছেন:
> ‘আমার উম্মতের মধ্যে সাতাশজন মহামিথ্যাবাদী ও দাজ্জাল হবে, যাদের মধ্যে চারজন হবে নারী, অথচ আমিই শেষ নবী, আমার পরে আর কোনো নবী নেই!’
ইতিহাসের পাতায় ইতিমধ্যেই এমন বেশ কজন নারী দাবিদারের নাম পাওয়া যায়:
- ১. সাজাহ বিনতে আল-হারিস আত-তাগলিবিয়্যাহ (১১ হিজরী): যে নবী দাবি করে বাহিনী নিয়ে বেরিয়েছিল এবং মুসাইলিমাকে বিয়ে করেছিল (যদিও পরে সে তাওবা করে মুসলিম হয়)।
- ২. উম্মে যামল (সালমা বিনতে মালিক, ১১ হিজরী): বনু ফাযারার নেতার কন্যা, যে নিজের মায়ের উটে চড়ে বিদ্রোহী গোত্রগুলোকে একত্রিত করেছিল এবং যাকে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ (রা.) যফরের যুদ্ধে পরাস্ত করেন।
- ৩. আল-গাযালা আল-হারুরিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৭ হিজরী): হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের সময় উগ্র খারিজী বাহিনীর আধ্যাত্মিক ও সামরিক নেত্রী হিসেবে কুফায় প্রবেশ করেছিল।
- ৪. কুররাতুল আইন (তাহিরাহ, মৃত্যু ১৮৫২ খ্রি.): ইরানের বাবী আন্দোলনের শীর্ষ নেত্রী, যে ১৮৪৮ সালের বাদাশত সম্মেলনে প্রকাশ্যে ইসলামী শরীয়ত রহিত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।
এবার গত ১৪০০ বছরের এই পুরো ক্যানভাসটার দিকে এক নজরে তাকান:
- যখনই কেউ দাঁড়িয়ে বলেছে ‘আল্লাহ আমার সাথে কথা বলেছেন’ কিংবা ‘আমার নতুন ওহীর মাধ্যমে ইসলামের আইন আপডেট করা হয়েছে’, তখনই তাকে চেনার জন্য মুসলিম উম্মাহর নতুন কোনো গবেষণার দরকার হয়নি। উম্মাহ শুধু সূরা আহযাবের ৪০ নম্বর আয়াত, ‘মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী (খাতামুন নাবিইয়্যীন)’, সামনে ধরেছে আর সাথে সাথে সেই ভণ্ডের মুখোশ খুলে গেছে!
- আর খেয়াল করে দেখুন, শেষ জামানার আসল আল-মাসীহ আদ-দাজ্জাল নিজেও ঠিক একই প্যাটার্ন অনুসরণ করবে: সে প্রথমে নিজেকে সংস্কারক ও নবী দাবি করবে (যার মাধ্যমে ৩০ জন ভণ্ড নবীর তালিকা পূর্ণতা পাবে), আর এরপর এক ধাপ এগিয়ে নিজেকে সরাসরি রব বা খোদা দাবি করে বসবে!
۞কুরআনুল কারীমের প্রাসঙ্গিক আয়াত
وَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّنِ ٱفۡتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا أَوۡ قَالَ أُوحِيَ إِلَيَّ وَلَمۡ يُوحَ إِلَيۡهِ شَيۡءࣱ وَمَن قَالَ سَأُنزِلُ مِثۡلَ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُۗ وَلَوۡ تَرَىٰٓ إِذِ ٱلظَّٰلِمُونَ فِي غَمَرَٰتِ ٱلۡمَوۡتِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ بَاسِطُوٓاْ أَيۡدِيهِمۡ أَخۡرِجُوٓاْ أَنفُسَكُمُۖ ٱلۡيَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ عَذَابَ ٱلۡهُونِ بِمَا كُنتُمۡ تَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ غَيۡرَ ٱلۡحَقِّ وَكُنتُمۡ عَنۡ ءَايَٰتِهِۦ تَسۡتَكۡبِرُونَ٩٣
৯৩. আর তার চেয়ে বড় যালিম আর কে যে আল্লাহ্ সম্ব্বদ্ধে মিথ্যা রটনা করে, কিংবা বলে, ‘আমার কাছে ওহী হয়,’অথচ তার প্রতি কিছুই ওহী করা হয় না এবং যে বলে, ‘আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন আমিও তার মত নাযিল করব?’ যদি আপনি দেখতে পেতেন, যখন যালিমরা মৃত্যু যন্ত্রনায় থাকবে এবং ফিরিশতাগণ হাত বাড়িয়ে বলবে, ‘তোমাদের প্রাণ বের কর। আজ তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি দেয়া হবে, কারণ তোমারা আল্লাহ্র উপর অসত্য বলতে এবং তাঁর আয়াতসমূহ সম্পর্কে অহংকার করতে।’
📜প্রামাণ্য হাদীস শরীফ
حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَقْتَتِلَ فِئَتَانِ، فَيَكُونَ بَيْنَهُمَا مَقْتَلَةٌ عَظِيمَةٌ، دَعْوَاهُمَا وَاحِدَةٌ، وَلاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُبْعَثَ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ قَرِيبًا مِنْ ثَلاَثِينَ، كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ ".
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত দু’টি দলের মধ্যে যুদ্ধ না হবে। তাদের মধ্যে হবে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। তাদের দাবী হবে এক। আর কিয়ামত কায়িম হবে না যে পর্যন্ত প্রায় ত্রিশজন মিথ্যাচারী দাজ্জালের আবির্ভাব না হবে। এরা সবাই নিজেকে আল্লাহর রাসূল বলে দাবী করবে। (৮৫, মুসলিম ৫২/৪ হাঃ ২৮৮৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৪১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ وَحَتَّى يَعْبُدُوا الأَوْثَانَ وَإِنَّهُ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي ثَلاَثُونَ كَذَّابُونَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুশরিকদের সাথে আমার উম্মাতের কতিপয় গোত্র না মিলিত হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, এমনকি তারা মূর্তিপূজাও করবে। আমার উম্মাতের মধ্যে খুব শীঘ্রই ত্রিশজন ডাহা মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব হবে। এদের সকলেই দাবি করবে যে সে নবী। অথচ আমিই সর্বশেষ নবী, আমার পরে কোন নবী নেই। সহীহ, মিশকাত (৫৪০৬), সহীহাহ (১৬৮৩)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
إِنَّ فِي ثَقِيفٍ كَذَّابًا وَمُبِيرًا
নিশ্চয়ই সাকীফ গোত্রের মধ্যে একজন চরম মিথ্যাবাদী (কাজ্জাব) এবং একজন রক্তপিপাসু ধ্বংসকারীর আবির্ভাব ঘটবে। [কাজ্জাব হলেন আল-মুখতার এবং মুবীর হলেন আল-হাজ্জাজ]।
فِي أُمَّتِي كَذَّابُونَ وَدَجَّالُونَ سَبْعَةٌ وَعِشْرُونَ مِنْهُمْ أَرْبَعُ نِسْوَةٍ وَإِنِّي خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لَا نَبِيَّ بَعْدِي
আমার উম্মতের মধ্যে সাতাশ জন কাজ্জাব ও দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে, যাদের মধ্যে চারজন নারী থাকবে। অথচ আমিই শেষ নবী, আমার পরে কোনো নবী নেই।
ভৌগোলিক মানচিত্র ও সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক স্থানসমূহ
আল-ইয়ামামাহ (নজদ)
ভণ্ড নবী মুসাইলামাহ কাজ্জাবের কেন্দ্রমধ্য আরবের ঐতিহাসিক অঞ্চল যেখানে বনূ হানীফা গোত্রকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।
স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗সানা (ইয়েমেন)
আল-আসওয়াদ আল-আনসীর উত্থান ও পতনরাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবদ্দশায় নিহত প্রথম ভণ্ড নবী।
স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗কুফা (ইরাক)
আল-মুখতার ও বায়ান ইবনে সামআনের কেন্দ্রযেখানে ওহী ও জিবরীলের অবতরণের মিথ্যা দাবি উঠেছিল।
স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗দামেস্ক (সিরিয়া)
আল-হারিস কাজ্জাবের বিচার ও ফাঁসিউমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিকের নির্দেশে প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗মের্ভ / সানাম দুর্গ (খোরাসান)
স্বর্ণের মুখোশধারী আল-মুকান্নাযেখানে আব্বাসীয় অবরোধে সে ফুটন্ত এসিড ও আগুনে আত্মাহুতি দেয়।
স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗কাদিয়ান (পাঞ্জাব, ভারত)
মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর জন্ম ও কেন্দ্রবৃটিশ ভারতে আহমদীয়া/কাদিয়ানী মতবাদের সূতিকাগার।
স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗সিরাজ (ইরান)
বাবি মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা আলী মুহাম্মদ সিরাজীর কেন্দ্রতাবরিজে ১৮৫০ সালে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗টাকসন (অ্যারিজোনা, যুক্তরাষ্ট্র)
১৯ কোডের দাবিদার রাশাদ খলিফার কেন্দ্রকুরআনের দুই আয়াত অস্বীকার ও নবুওয়াতের দাবিদার; ১৯৯০ সালে নিহত।
স্যাটেলাইট ম্যাপে দেখুন ↗৩০ জন ভণ্ড নবী: সাধারণ প্রশ্ন বনাম হাদীসের বাস্তবতা
সোশ্যাল মিডিয়ায় যা ভাইরাল হয় বনাম সহীহ হাদীস ও ইতিহাসে যা প্রমাণিত।
ইতিহাসে ৩০ জনের অনেক বেশি মানুষ নবী দাবি করেছে, তাহলে ৩০ সংখ্যাটি কীভাবে মেলে?
‘ফাতহুল বারী’-তে হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন যে এই ‘৩০ জন দাজ্জাল’ বলতে কেবল সেই বড় ভণ্ডদের বোঝানো হয়েছে যারা বিশাল অনুসারী বাহিনী, শক্তি ও ঐতিহাসিক প্রভাব (শাওকাহ ও শুহরাহ) অর্জন করতে পেরেছিল, রাস্তার মোড়ে দাবি করা প্রতিটি পাগল বা অপরিচিত ব্যক্তিকে নয়।
ইতিহাসে যারা ভণ্ড নবী দাবি করেছে তাদের সবাই কাফির অবস্থাতেই মারা গেছে, কেউ তাওবা করেনি।
রিদ্দার যুগের দুজন বিখ্যাত দাবিদার, তুলাইহা ইবনে খুওয়াইলিদ এবং সাজাহ বিনতে আল-হারিস, পরবর্তীকালে খাঁটি মনে তাওবা করে ইসলামে ফিরে এসেছিলেন; এমনকি তুলাইহা ২১ হিজরীতে নিহাওয়ান্দের যুদ্ধে মুসলিম মুজাহিদ হিসেবে শহীদ হন!
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও সরাসরি উত্তর
তরুণদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও সহীহ দলীলভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তর
ইতিহাসে ৩০ জনের অনেক বেশি মানুষ নবী দাবি করেছে, তাহলে ৩০ সংখ্যাটি কীভাবে মেলে?
‘ফাতহুল বারী’-তে হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন যে এই ‘৩০ জন দাজ্জাল’ বলতে কেবল সেই বড় ভণ্ডদের বোঝানো হয়েছে যারা বিশাল অনুসারী বাহিনী, শক্তি ও ঐতিহাসিক প্রভাব (শাওকাহ ও শুহরাহ) অর্জন করতে পেরেছিল, রাস্তার মোড়ে দাবি করা প্রতিটি পাগল বা অপরিচিত ব্যক্তিকে নয়।
ইতিহাসে যারা ভণ্ড নবী দাবি করেছে তাদের সবাই কাফির অবস্থাতেই মারা গেছে, কেউ তাওবা করেনি।
রিদ্দার যুগের দুজন বিখ্যাত দাবিদার, তুলাইহা ইবনে খুওয়াইলিদ এবং সাজাহ বিনতে আল-হারিস, পরবর্তীকালে খাঁটি মনে তাওবা করে ইসলামে ফিরে এসেছিলেন; এমনকি তুলাইহা ২১ হিজরীতে নিহাওয়ান্দের যুদ্ধে মুসলিম মুজাহিদ হিসেবে শহীদ হন!
কোনো ভুল চোখে পড়েছে?
হাদিসের মানে অসঙ্গতি, দুর্বল অনুবাদ, তথ্যসূত্রের ঘাটতি বা কোনো ত্রুটি চোখে পড়েছে? আমাদের জানান। প্রতিটি রিপোর্ট আলেম ও গবেষক দল গুরুত্বের সাথে যাচাই করে থাকে।