আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আকীদা অনুযায়ী আখিরুয যামান বা শেষ যুগে ইমাম মাহদীর আগমন একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য। যদিও সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম গ্রন্থে সরাসরি ‘মাহদী’ শব্দটি উল্লেখিত হয়নি, তবুও এই দুই বিশুদ্ধতম কিতাবে তাঁর অস্তিত্বের সুস্পষ্ট বিবরণ রয়েছে: মুসলিম উম্মাহর সেই সৎ ও ন্যায়পরায়ণ খলীফা, যাঁর ইমামতিতে ফজরের নামাজে শামিল হয়ে হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর পেছনে মুক্তাদি হবেন (সহীহ মুসলিম ১৫৬, সহীহ বুখারী ৩৪৪৯), এবং সেই শাসক যিনি মানুষের মাঝে মুক্তহস্তে অগণিত ধনসম্পদ বিলিয়ে দেবেন (সহীহ মুসলিম ২৯১৩)।
এছাড়া সুনান গ্রন্থসমূহ (সুনানে আবি দাউদ, জামে আত-তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহ) ও মুসনাদে আহমাদে ইমাম মাহদী সম্পর্কিত অসংখ্য সহীহ ও হাসান হাদীস সংকলিত হয়েছে। হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম, হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী, ইমাম শাওকানী, হাফেজ আবুল হাসান আল-আবরী এবং সমকালীন মুহাদ্দিস আল্লামা আহমাদ শাকির (রহ.) একমত হয়েছেন যে, ইমাম মাহদী সম্পর্কিত হাদীসসমূহ অর্থগতভাবে ‘মুতাওয়াতির’ (متواتر معنوي) বা অকাট্য পর্যায়ের।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশ্বাস অনুযায়ী, ইমাম মাহদী কোনো নতুন ওহীপ্রাপ্ত নবী নন এবং তিনি নিষ্পাপ (মাসূম) কোনো সত্তাও নন। তিনি হলেন নবী করীম ﷺ-এর পবিত্র বংশধরদের মধ্য থেকে একজন সাধারণ মানুষ, যাঁকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের পূর্বে একজন ইনসাফপূর্ণ শাসক (ইমামুন আদিল) হিসেবে দায়িত্ব দেবেন। তিনি অন্যায়ে নিমজ্জিত পৃথিবীতে পুনরায় কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ইনসাফ কায়েম করবেন।