يَسۡـَٔلُونَكَ عَنِ ٱلسَّاعَةِ أَيَّانَ مُرۡسَىٰهَاۖ قُلۡ إِنَّمَا عِلۡمُهَا عِندَ رَبِّيۖ لَا يُجَلِّيهَا لِوَقۡتِهَآ إِلَّا هُوَۚ ثَقُلَتۡ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ لَا تَأۡتِيكُمۡ إِلَّا بَغۡتَةࣰۗ يَسۡـَٔلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنۡهَاۖ قُلۡ إِنَّمَا عِلۡمُهَا عِندَ ٱللَّهِ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعۡلَمُونَ١٨٧
১৮৭. তারা আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে (বলে) ‘তা কখন ঘটবে? বলুন, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান শুধু আমার রবেরই নিকট। শুধু তিনিই যথাসময়ে সেটার প্রকাশ ঘটাবেন; আসমানসমূহ ও যমীনে সেটা ভারী বিষয়। হঠাৎ করেই তা তোমাদের উপর আসবে।’ আপনি এ বিষয়ে সবিশেষ জ্ঞানী মনে করে তারা আপনাকে প্রশ্ন করে। বলুন, ‘এ বিষয়ে জ্ঞান শুধু আল্লাহ্রই নিকট, কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না।
187. They ask you, [O Muhammad], about the Hour: when is its arrival? Say, "Its knowledge is only with my Lord. None will reveal its time except Him. It lays heavily upon the heavens and the earth. It will not come upon you except unexpectedly." They ask you as if you are familiar with it. Say, "Its knowledge is only with Allah, but most of the people do not know
তাফসির
প্রামাণ্য মূল তাফসির গ্রন্থ থেকে সংকলিত। ধ্রুপদী আরবি তাফসিরে সব মানের বর্ণনা উল্লেখিত থাকে; কোনো ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করার আগে তার সনদ যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
কোনো তাফসির পাওয়া যায়নি।
আহসানুল বায়ান
সালাহুদ্দীন ইউসুফ · বায়ান ফাউন্ডেশনতারা তোমাকে কিয়ামত১ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, ‘তা কখন ঘটবে?’২ বল, এ বিষয়ের জ্ঞান শুধু আমার প্রতিপালকের নিকটেই আছে।৩ কেবল তিনিই যথাকালে তা প্রকাশ করবেন। তা হবে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে একটি ভয়ংকর ঘটনা।৪ আকস্মিকভাবেই তা তোমাদের নিকট আসবে। তুমি এ বিষয়ে সবিশেষ অবহিত মনে করেই তারা তোমাকে প্রশ্ন করে।৫ তুমি বল, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান আমার প্রতিপালকের নিকটেই আছে। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না।’
- ১
ساعة সময় (ক্ষণ বা মুহূর্ত)এর অর্থে ব্যবহার হয়। কিয়ামত দিবসকে الساعة বলা হয়েছে, যেহেতু তা হঠাৎ এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, ক্ষণিকের মধ্যে সমস্ত পৃথিবী লন্ডভন্ড হয়ে যাবে। অথবা দ্রুত হিসাব-নিকাশের দিকে লক্ষ্য করে কিয়ামতের সময়কে الساعة (সময়) বলা হয়েছে।
- ২
أرسي يرسى এর অর্থঃ সংঘটিত হওয়া। অর্থাৎ, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?
- ৩
অর্থাৎ, তার সত্যিকার জ্ঞান না কোন ফিরিশতার আছে আর না কোন নবীর। আল্লাহ ছাড়া কিয়ামতের সময়জ্ঞান কারো নেই। তিনিই তা যথাসময়ে প্রকাশ করবেন।
- ৪
এর এক দ্বিতীয় অর্থ রয়েছে, তার জ্ঞান আকাশ ও পৃথিবীবাসীদের জন্য ভারী। কারণ তা গুপ্ত, আর গুপ্ত বস্তু হৃদয়ের জন্য ভারীই হয়ে থাকে।
- ৫
حَفِي এর অর্থ কারো পিছনে লেগে জিজ্ঞাসা ও যাচাই করা। অর্থাৎ, তারা কিয়ামত সম্বন্ধে তোমাকে এমনভাবে জিজ্ঞাসা করছে, যেন তুমি নিজ প্রভুর পিছনে লেগে কিয়ামতের আবশ্যিক জ্ঞান অর্জন করে রেখেছ।
তাফসীরে যাকারিয়া
আবু বকর যাকারিয়া · বাদশাহ ফাহাদ কমপ্লেক্সতারা আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে (বলে) ‘তা কখন ঘটবে? ১ বলুন, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান শুধু আমার রবেরই নিকট। শুধু তিনিই যথাসময়ে সেটার প্রকাশ ঘটাবেন; আসমানসমূহ ও যমীনে সেটা ভারী বিষয় ২। হঠাৎ করেই তা তোমাদের উপর আসবে ৩।’ আপনি এ বিষয়ে সবিশেষ জ্ঞানী মনে করে তারা আপনাকে প্রশ্ন করে। বলুন, ‘এ বিষয়ে জ্ঞান শুধু আল্লাহ্রই নিকট, কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না ৪।
- ১
এ আয়াতগুলো নাযিলের পেছনে বিশেষ একটি ঘটনা কার্যকর ছিল। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, জাবাল ইবন আবি কুশাইর ও শামওয়াল ইবন যায়দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লামের নিকট ঠাট্টা ও বিদ্রুপচ্ছলে জিজ্ঞাসা করল যে, আপনি কেয়ামত আগমনের সংবাদ দিয়ে মানুষকে এ ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করে থাকেন- এ ব্যাপারে যদি আপনি সত্য নবী হয়ে থাকেন, তবে নির্দিষ্ট করে বলুন, কেয়ামত কোন সালের কত তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে তো আমরাও জানি। এ ঘটনার ভিত্তিতেই আয়াতটি নাযিল হয়। [তাবারী]
- ২
এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে, এক. কিয়ামতের জ্ঞান অত্যন্ত ভারী বিষয়, আসমান ও যমীনের অধিবাসীদের থেকে তা গোপন রাখা হয়েছে। সুতরাং কোন নবী-রাসূল বা ফেরেশতাকেও আল্লাহ সে জ্ঞান দেননি। আর যে কোন জ্ঞান গোপন রাখা হয় তা অন্তরের উপর ভারী হয়ে থাকে। দুই. কিয়ামত এত ভারী সংবাদ যে আসমান ও যমীন সেটাকে সহ্য করতে পারে না। কারণ, আসমানসমূহ ফেটে যাবে, তারকাসমূহ বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে। আর সাগরসমূহ শুকিয়ে যাবে। তিন. কিয়ামতের গুণাগুণ বর্ণনা আসমান ও যমীনের অধিবাসীদের উপর কঠিন। চার. কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করা তাদের জন্য এক ভারী বিষয়। [ফাতহুল কাদীর]
- ৩
এ আয়াতে উল্লেখিত (الساعة) শব্দটি আরবী ভাষায় সামান্য সময় বা মুহুর্তকে বলা হয়। আভিধানিকভাবে যার কোন বিশেষ পরিসীমা নেই। আর গাণিতিকদের পরিভাষায় রাত ও দিনের চব্বিশ অংশের এক অংশকে বলা হয় “সা'আহ”, যাকে বাংলায় ঘন্টা নামে অভিহিত করা হয়। কুরআনের পরিভাষায় এ শব্দটি সে দিবসকে বুঝাবার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা হবে সমগ্র সৃষ্টির মৃত্যুদিবস এবং সেদিনকেও বলা হয় যাতে সমগ্র সৃষ্টি পুনরায় জীবিত হয়ে আল্লাহ রাববুল আলামীনের দরবারে উপস্থিত হবে। (ايان) (আইয়্যানা) অর্থ কবে। আর (مرسى) (মুরসা) অর্থ অনুষ্ঠিত কিংবা স্থাপিত হওয়া। (يُجَلِّيْهَا) শব্দটি (تجلية) থেকে গঠিত।
এর অর্থ প্রকাশিত এবং খোলা। (بغتة) (বাগতাতান) অর্থ অকস্মাৎ। (حفي) (হাফিয়ূন) অর্থ আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেছেন, জ্ঞানী ও অবহিত ব্যক্তি। প্রকৃতপক্ষে এমন লোককে ‘হাফী’ বলা হয়, যে প্রশ্ন করে বিষয়ের পরিপূর্ণ তথ্য অনুসন্ধান করে নিতে পারে। [তাবার] কাজেই আয়াতের মর্ম দাঁড়াল এই যে, এরা আপনার নিকট কেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে যে, তা কবে আসবে? আপনি তাদেরকে বলে দিন, এর নির্দিষ্টতার জ্ঞান শুধুমাত্র আমার পালনকর্তারই রয়েছে। এ ব্যাপারে পূর্ব থেকে কারো জানা নেই এবং সঠিক সময়ও কেউ জানতে পারবে না। নির্ধারিত সময়টি যখন উপস্থিত হয়ে যাবে, ঠিক তখনই আল্লাহ্ তা'আলা তা প্রকাশ করে দেবেন।
এতে কোন মাধ্যম থাকবে না। কেয়ামতের ঘটনাটি আসমান ও যমীনের জন্যও একান্ত ভয়ানক ঘটনা হবে। সেগুলোও টুকরো টুকরো হয়ে উড়তে থাকবে। সুতরাং এহেন ভয়াবহ ঘটনা সম্পর্কে পূর্ব থেকে প্রকাশ না করাই বিচক্ষণতার দাবী ৷ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেয়ামতের আকস্মিক আগমন সম্পর্কে বলেছেন, মানুষ নিজ নিজ কাজে পরিব্যস্ত থাকবে। এক লোক খরিদদারকে দেখাবার উদ্দেশ্যে কাপড়ের থান খুলে সামনে ধরে থাকবে, সে (সওদাগর) এ বিষয়টিও সাব্যস্ত করতে পারবে না, এরই মধ্যে কেয়ামত এসে যাবে। এক লোক তার উটনীর দুধ দুইয়ে নিয়ে যেতে থাকবে এবং তখনো তা ব্যবহার করতে পারবে না, এরই মধ্যে কেয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।
কেউ নিজের হাউজ মেরামত করতে থাকবে- তা থেকে অবসর হওয়ার পূর্বেই কেয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। কেউ হয়ত খাবারের লোকমা হাতে তুলে নেবে, তা মুখে দেবার পূর্বেই কেয়ামত হয়ে যাবে। [বুখারীঃ ৬৫০৬, মুসলিমঃ ২৯৫৪] সুতরাং যেভাবে মানুষের ব্যক্তিগত মৃত্যুর তারিখ ও সময়-ক্ষণ অনির্দিষ্ট ও গোপন রাখার মাঝে বিরাট তাৎপর্য নিহিত রয়েছে, তেমনিভাবে কেয়ামতকেও-যা সমগ্র বিশ্বের সামগ্রিক মৃত্যুরই নামান্তর-তাকে গোপন এবং অনির্দিষ্ট রাখার মধ্যেও বিপুল রহস্য ও তাৎপর্য বিদ্যমান।
- ৪
বলা হয়েছে, আপনি লোকদিগকে বলে দিন যে, প্রকৃতপক্ষে কেয়ামতের সঠিক তারিখ সম্পর্কিত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ ছাড়া তাঁর কোন ফিরিশতা কিংবা নবী-রাসূলগণেরও জানা নেই। তবে হ্যা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লামকে কেয়ামতের কিছু নিদর্শন ও লক্ষণাদি সম্পর্কিত জ্ঞান দান করা হয়েছে। আর তা হল এই যে, এখন তা নিকটবর্তী। এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লাম বহু বিশুদ্ধ হাদীসে অত্যন্ত পরিস্কারভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ “আমার আবির্ভাব এবং কেয়ামত এমনভাবে মিশে আছে, যেমন মিশে থাকে হাতের দু'টি আঙ্গুল।” [ বুখারীঃ ৬৫০৩-৬৫০৫, মুসলিমঃ ২৯৫০]
তাফসীর ইবনে কাসীর
তাওহীদ পাবলিকেশনএই আয়াতটি কুরায়েশদের সম্পর্কে অথবা ইয়াহূদীদের একটি দলের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়। প্রথমটিই সঠিকতর। কেননা, এটা মক্কী আয়াত। আর ইয়াহূদীরা তো মদীনার অধিবাসী ছিল। আল্লাহ পাক বলেনঃ এই লোকগুলো যে কিয়ামতের সময় সম্পর্কে তোমাকে (নবী মুহাম্মাদ সঃ -কে) জিজ্ঞেস করছে তা কিন্তু বিশ্বাস করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার দৃষ্টিকোণ নিয়েই প্রশ্ন করছে। যেমন নিম্নের আয়াতে দেখা যাচ্ছে- এ লোকগুলো বলে, আপনি যদি সত্যবাদী হন তবে বলুন তো কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে এবং কোন্ তারিখে হবে?
অন্য জায়গায় বলেনঃ “এই কাফির লোকেরা তাড়াতাড়ি কিয়ামত সংঘটন কামনা করছে। অথচ মুমিনরা তো কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে সদা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে এবং বিশ্বাস রাখে যে, ওর আগমন সত্য। যারা কিয়ামতের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে তারা বড় ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।”আল্লাহ পাক বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছেকিয়ামত কোন্ তারিখে সংঘটিত হবে এবং দুনিয়া শেষ হবে কখন? আর ওর নির্ধারিত সময় কোষ্টা ? হে নবী (সঃ) ! তুমি তাদেরকে বলে দাও- এর জ্ঞান তো একমাত্র আমার প্রতিপালক আল্লাহরই রয়েছে!
আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউই এর সময় সম্পর্কে অবহিত নয়। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে পরামর্শ দিচ্ছেন- হে নবী (সঃ)! তারা তোমাকে কিয়ামতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করছে, তুমি এর উত্তর এটাই দাও যে, এর নির্দিষ্ট সময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ অবহিত নয়। এজন্যেই আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ যমীন ও আসমানবাসী এর ব্যাপারে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। হযরত হাসান (রঃ)-এর ভাবার্থ এই বর্ণনা করেছেন যে, যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে তখন যমীন ও আসমানবাসীর ওটা অত্যন্ত ভারী ও কঠিন বোধ হবে।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর ভাবার্থ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, এমন কোন জিনিস। থাকবে না যার উপর কিয়ামতের কষ্ট পৌছবে না। আকাশ ফেটে যাবে, তারকারাজী খসে পড়বে, সূর্য অন্ধকার হয়ে যাবে, পাহাড় উড়তে থাকবে এবং আল্লাহ তা'আলা যা কিছু বলেছেন সবই হবে। আকাশবাসীদেরও এর জ্ঞান নেই। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ “ওটা এমনভাবে হঠাৎ এসে পড়বে যে, ওটার কোন ধারণাও করা হবে না।”সহীহ বুখারীতে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদিত হবে।
এক সময়ে যখন সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হবে তখন কাফিররা এই আশ্চর্যজনক ঘটনা এবং ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যতা অবলোকন করে ঈমান আনয়ন করবে। কিন্তু ঐ সময়ে ঈমান আনয়ন কারো কোন উপকারে আসবে না। পাপীদের সেই সময়ের সৎ কাজ মোটেই ফলদায়ক হবে না। দু’ব্যক্তি কাপড় আদান প্রদান করতে থাকবে, এই উদ্দেশ্যে কাপড়ের থান খুলে দেয়া হবে, দুধ দোহন করে পান করাও হবে না , মানুষ পান করার পানির পাত্র পরিষ্কার করতেই থাকবে এবং তারা খাদ্য গ্রাস মুখে উঠাতে যাবে ইত্যবসরে কিয়ামত শুরু হয়ে যাবে।
"(আরবী) -এর অর্থের ব্যাপারে মুফাসসিরগণের মতানৈক্য রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন যে, এর অর্থ হচ্ছে- হে নবী (সঃ)! তারা কিয়ামতের রহস্য তোমাকে এমনভাবে জিজ্ঞেস করছে যে, তুমি যেন তাদের বড় বন্ধু। আর তারা তোমাকে এটা এমন ভঙ্গীতে জিজ্ঞেস করছে যে, তুমি যেন কিয়ামত সংঘটনের তারিখ অবগত রয়েছে। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেন যে, এর জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই। আল্লাহ তা'আলা এই রহস্য তো নিজের নিকটতম কোন ফেরেশতা বা কোন রাসূলের উপরেও প্রকাশ করেননি।
কাতাদা (রঃ) বলেন যে, কুরাইশরা নবী (সঃ)-কে বলেছিলঃ “আপনার এবং আমাদের মধ্যে তো আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, অতএব কিয়ামত কখন হবে তা আমাদেরকে বলে দিন।” তাই আল্লাহ তা'আলা এই আয়াতটি অবতীর্ণ করে বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি তাদেরকে বলে দাও-এর জ্ঞান শুধু আল্লাহ তা'আলারই আছে।ঐ লোকগুলো নবী (সঃ)-কে কিয়ামত সংঘটনের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতো, কিন্তু তারা জানতো না যে, ওর জ্ঞান তাঁর তো নেই। আল্লাহ ছাড়া কেউই ওর জ্ঞান রাখে না। একজন বেদুঈনের রূপ ধারণ করে একদা হযরত জিবরাঈল (আঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আগমন করেন, যেন জনগণ দ্বীনী শিক্ষা লাভ করতে পারে।
অতঃপর তিনি হিদায়াত অনুসন্ধিৎসু একজন প্রশ্নকারীর ভঙ্গীতে তাঁর পার্শ্বে বসে পড়েন এবং তাকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। এরপর জিজ্ঞেস করেন ঈমান ও ইহসান সম্পর্কে। তার পর জিজ্ঞেস করেনঃ “কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?” এই চতুর্থ প্রশ্নের উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “এই ব্যাপারে তো আপনার চেয়ে আমার জ্ঞান বেশী নেই। অর্থাৎ আপনি যেমন এটা জানেন না তেমনই আমিও জানি না। কোন লোকই এই ব্যাপারে কিছুই জানে না বা জানতে পারে না।” অতঃপর তিনি (আরবী) (৩১:৩৪) এই আয়াতটি পাঠ করেন।
অন্য একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, হযরত জিবরাঈল (আঃ) একজন বেদুঈনের রূপ ধরে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আগমন করেন এবং তাকে কিয়ামতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন তিনি নিদর্শনগুলো বলে দেন। তারপর তিনি বলেনঃ “পাঁচটি জিনিসের জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই।” তাঁর প্রতিটি উত্তরের উপর হযরত জিবরাঈল (আঃ) বলে যাচ্ছিলেনঃ “আপনি সঠিক উত্তরই দিয়েছেন।” তাঁর কথার ধরনে বুঝা যাচ্ছিল যে, তিনি ওগুলো জানেন এবং জানেন বলেই তাঁর উত্তরের সত্যতার স্বীকারোক্তি করছেন।
সুতরাং সাহাবাগণ এতে বিস্ময় প্রকাশ করেন যে, ইনি কি ধরনের প্রশ্নকারী? তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন, আবার উত্তরের সঠিকতা স্বীকার করছেন! যখন সেই প্রশ্নকারী চলে গেলেন তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবাগণকে বললেনঃ “ইনি ছিলেন হযরত জিবরাঈল (আঃ)। তিনি তোমাদেরকে দ্বীনী মাসআলাগুলো শিক্ষা দেয়ার জন্যে এসেছিলেন। এর পূর্বে যখন তিনি রূপ পরিবর্তন করে আসতেন তখন আমি তাকে চিনতে পারতাম। এবার কিন্তু আমিও তাকে চিনতে পারিনি।” (ইমাম ইবনে কাসীর (রঃ) বলেন, আমি শরহে বুখারীর শুরুতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছি) যখন এক বেদুঈন তাঁকে জিজ্ঞেস করে এবং উচ্চৈঃস্বরে ডাক দেয়, হে মুহাম্মাদ (সঃ)!
তখন তিনিও উচ্চৈঃস্বরেই উত্তর দেন, হা, কি বলতে চাও? তখন সে বলে, কিয়ামত কখন হবে? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে বলেনঃ “ওরে মূখ! কিয়ামত তো আসবে এবং অবশ্যই আসবে। কিন্তু তুমি ওর জন্যে কি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছো?” সে উত্তরে বলেঃ “আমি তো ভালরূপে নামায পড়তে এবং রোযা রাখতে পারিনি। তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর প্রতি আমার অত্যন্ত ভালবাসা রয়েছে।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “কিয়ামতের দিন মানুষ ঐ মানুষের সাথেই থাকবে যাকে সে বেশী ভালবাসে।” এই কথা শুনে সাহাবাগণ অত্যন্ত খুশী হলেন।
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে এ হাদীসটি বিভিন্ন পন্থায় অধিকাংশ সাহাবা হতে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর অভ্যাস ছিল এই যে, যখন কোন লোক তাঁকে এমন প্রশ্ন করতো যা তার জন্যে অর্থহীন, তখন তিনি উত্তরে এমন বিষয়ের দিকে তার মোড় ফিরিয়ে দিতেন যা জেনে নেয়া তার জন্যে ঐ প্রশ্ন হতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যেন সে নিজেকে ওর সাথে জড়িয়ে ফেলে এবং পূর্ব থেকেই ওর জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করে, যদিও ওর নির্দিষ্ট সময় তার জানা না থাকে। হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আরবের বেদুঈনরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে আসতো এবং প্রায়ই প্রশ্ন করতোঃ “কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তার কোন এক শিশু সন্তানের দিকে ইঙ্গিত করে বলতেনঃ “যদি আল্লাহ একে পূর্ণ বয়স দান করেন তবে এ বৃদ্ধ হওয়ার পূর্বেই তোমার কিয়ামত এসে।
যাবে।” এখানে যেন কিয়ামত দ্বারা মৃত্যুকে বুঝানো হয়েছে, যা মানুষকে এই দুনিয়া হতে সরিয়ে আলমে বারযাখে নিয়ে যাবে। শব্দের কম বেশী কিছু পরিবর্তনসহ এ বিষয়ের আরো বহু হাদীস বর্ণিত হয়েছে। মোটকথা, এসব হাদীসের উদ্দেশ্য এই যে, কিয়ামত আসবে এবং অবশ্যই আসবে। কিন্তু সময়ের নির্ধারণ সম্ভব নয়।“এই শিশুর বার্ধক্য আসার পূর্বেই কিয়ামত এসে যাবে” এ বাক্যের প্রয়োগও এই আবদ্ধ করণের উপরই মাহমূল হয়েছে। অর্থাৎ এর দ্বারা মানুষের মৃত্যুর সময় বুঝানো হয়েছে।ইন্তেকালের এক মাস পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছিলেনঃ “তোমরা আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে রয়েছে, কিন্তু কিয়ামত আসতে আর কত দিন সময় আছে এর জ্ঞান তো একমাত্র আল্লাহ তা'আলারই রয়েছে।
তবে আমি কসম খেয়ে বর্ণনা করছি যে, বর্তমানে ভূ-পৃষ্ঠে যতগুলো প্রাণী রয়েছে, একশ’ বছর পরে এগুলোর একটিরও অস্তিত্ব বাকী থাকবে না। তা হলে ভাবার্থ যেন এই যে, কিয়ামতের দিন যেমন সমস্ত লোক মৃত্যুবরণ করবে, তদ্রুপ একশ’ বছর পরে বর্তমানের সমস্ত লোকের জন্যে কিয়ামত এসে যাবে। সুতরাং তার উদ্দেশ্য যেন এই যে, তোমরা যদি নির্ধারিত সময়ই জানতে চাও তবে এটাই হচ্ছে। নির্ধারিত সময়। এভাবে কিয়ামত দ্বারা ঐ এক শতাব্দীর সমাপ্তি বুঝানো হয়েছিল।
তিনি এই ঢঙ্গেই বর্ণনা দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, শবে মিরাজে আমি হযরত ইবরাহীম (আঃ), হযরত মূসা (আঃ) এবং হযরত ঈসা (আঃ)-এর পার্শ্ব দিয়ে গমন করি। লোকেরা কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছিল। সবাই এসে হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি উত্তরে বললেনঃ “এ ব্যাপারে আমার কোনই জ্ঞান নেই।” এর পর তারা হযরত মূসা (আঃ)-এর কাছে গেল। তিনিও বললেন যে, এর জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই। অতঃপর তারা হযরত ঈসা (আঃ)-এর কাছে গেল।
তিনিও বললেনঃ এর জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই আছে। তবে এর আলামত এই যে, দাজ্জাল বের হবে। আমার সাথে দু'একটি শাখা থাকবে। সে (দাজ্জাল) আমাকে দেখা মাত্রই সীসার মত গলে যাবে এবং আল্লাহ পাক তাকে ধ্বংস করে দিবেন। এমন কি গাছ ও পাথরও বলে উঠবে- হে মুসলমান! আমার আড়ালে একজন কাফির লুকিয়ে রয়েছে। সুতরাং তুমি এসে তাকে হত্যা কর। অতএব, আল্লাহ তাআলা ঐ সব কাফিরকে ধ্বংস করে দিবেন। অতঃপর লোকেরা নিজ নিজ শহরে ও দেশে ফিরে যাবে। ইতিমধ্যে ইয়াজুজ ও মাজুজ প্রত্যেক প্রান্ত থেকে বেরিয়ে পড়বে।
তারা শহর-পল্লী ধ্বংস করে চলবে। প্রতিটি জিনিস তাদের ঘোরা ফেরার কারণে ধ্বংস ও নষ্ট হতে থাকবে। শেষ পর্যন্ত তারা প্রস্রবণে পৌছবে এবং ওকে শূন্য করে ফেলবে। জনগণ তখন আমার কাছে তাদের অভিযোগ নিয়ে আসবে। আমি তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে বদ দুআ করবো। আল্লাহ তা'আলা ঐসব ইয়াজুজ ও মাজুজকে ধ্বংস করে দিবেন। অবশেষে প্রতিটি স্থান তাদের মৃতদেহে ভরে যাবে এবং ওগুলো সড়ে পচে দুর্গন্ধময় হয়ে পড়বে। তখন আল্লাহ তা'আলা বৃষ্টি বর্ষণ করে তাদের মৃতদেহগুলো বইয়ে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দিবেন।
ঐ সময় পাহাড় স্থানচ্যুত হয়ে যাবে এবং যমীন বিস্তৃত হয়ে পড়বে। ঐ সময় কিয়ামত এমনই নিকটবর্তী হবে যেমন ন'মাসের গর্ভবতী মহিলা সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে, সে দিন-রাত কোন এক সময়ের মধ্যেই সন্তান প্রসব করবে। বড় বড় নবীরাও কিয়ামতের সময় সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। না। হযরত ঈসা (আঃ)-ও শুধুমাত্র ওর আলামতগুলো বলে দিয়েছেন। কেননা, এই উম্মতের শেষ যুগে তিনি অবতরণ করবেন এবং নবী (সঃ)-এর আহকাম নাফি করবেন। তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন এবং আল্লাহ তা'আলা তারই বদ দুআ’য় ইয়াজুজ-মাজুজকে ধ্বংস করবেন।
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমি তোমাদেরকে কিয়ামতের নিদর্শনগুলো বলছি। তা এই যে, ওর সামনে বড় বড় ফি ও ‘হারাজ সংঘটিত হবে।” সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমরা ফিৎনা তো বুঝলাম। কিন্তু ‘হারাজ’ কি?" তিনি উত্তরে বললেনঃ “হাবশের আরবী ভাষায় এর অর্থ হচ্ছে হত্যা।” অতঃপর তিনি বলেনঃ জনগণের মধ্যে অপরিচিতি ও বেপরওয়াঈ এতো বৃদ্ধি পাবে যে, এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে বলবেঃ “আমি তোমাকে চিনি না।' বিশুদ্ধ ছ’খানা হাদীস গ্রন্থে এ কথাটিকে এভাবে বর্ণনা করা হয়নি।আমাদের উম্মী নবী (সঃ) সাইয়্যেদুল মুরসালীন, খাতিমুন নাবিঈন, যিনি রহমত ও তাওবার নবী, বলেছেনঃ “আমি ও কিয়ামত এই দুটি অঙ্গুলির মত।” ঐ সময় তিনি তাঁর শাহাদাত ও মধ্যমা অঙ্গুলি দুটি মিলিত দেখিয়েছিলেন।
তিনি যেন বলতে চেয়েছেন যে, তার সাথে কিয়ামত লেগে রয়েছে। অর্থাৎ তার ও কিয়ামতের মধ্যভাগে কোন নবী আসবেন না। মোট কথা (আরবী) বা। কিয়ামতের ইলম শুধু আল্লাহ পাকেরই রয়েছে।
তাফসীরে সা'দী
আবদুর রহমান আস-সা'দীيقول تعالى لرسوله محمد صلى الله عليه وسلم: يَسْأَلُونَكَ أي: المكذبون لك، المتعنتون عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا أي: متى وقتها الذي تجيء به، ومتى تحل بالخلق؟ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي أي: إنه تعالى مختص بعلمها، لا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلا هُوَ أي: لا يظهرها لوقتها الذي قدر أن تقوم فيه إلا هو. ثَقُلَتْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ أي: خفي علمها على أهل السماوات والأرض، واشتد أمرها أيضا عليهم، فهم من الساعة مشفقون.
لا تَأْتِيكُمْ إِلا بَغْتَةً أي: فجأة من حيث لا تشعرون، لم يستعدوا لها، ولم يتهيأوا لقيامها. يَسْأَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا أي: هم حريصون على سؤالك عن الساعة، كأنك مستحف عن السؤال عنها، ولم يعلموا أنك - لكمال علمك بربك، وما ينفع السؤال عنه - غير مبال بالسؤال عنها، ولا حريص على ذلك، فلم لا يقتدون بك، ويكفون عن الاستحفاء عن هذا السؤال الخالي من المصلحة المتعذر علمه، فإنه لا يعلمها نبي مرسل، ولا ملك مقرب. وهي من الأمور التي أخفاها الله عن الخلق، لكمال حكمته وسعة علمه.
قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ فلذلك حرصوا على ما لا ينبغي الحرص عليه، وخصوصا مثل حال هؤلاء الذين يتركون السؤال عن الأهم، ويدعون ما يجب عليهم من العلم، ثم يذهبون إلى ما لا سبيل لأحد أن يدركه، ولا هم مطالبون بعلمه.
তাফসীর ইবনে কাসীর
ইসমাঈল ইবনে কাসীরيقول تعالى : ﴿يسألونك عن الساعة﴾
كما قال تعالى : ﴿يسألك الناس عن الساعة﴾
الأحزاب : 63 قيل : نزلت في قريش . وقيل : في نفر من اليهود . والأول أشبه ; لأن الآية مكية ، وكانوا يسألون عن وقت الساعة ، استبعادا لوقوعها ، وتكذيبا بوجودها ; كما قال تعالى : ﴿ويقولون متى هذا الوعد إن كنتم صادقين﴾
الأنبياء : 38 ، وقال تعالى : ﴿يستعجل بها الذين لا يؤمنون بها والذين آمنوا مشفقون منها ويعلمون أنها الحق ألا إن الذين يمارون في الساعة لفي ضلال بعيد﴾
الشورى : 18 وقوله : ﴿أيان مرساها﴾
قال علي بن أبي طلحة ، عن ابن عباس : " منتهاها " أي : متى محطها ؟
وأيان آخر مدة الدنيا الذي هو أول وقت الساعة ؟ ﴿قل إنما علمها عند ربي لا يجليها لوقتها إلا هو﴾
أمر تعالى نبيه صلى الله عليه وسلم إذا سئل عن وقت الساعة ، أن يرد علمها إلى الله تعالى ; فإنه هو الذي يجليها لوقتها ، أي : يعلم جلية أمرها ، ومتى يكون على التحديد ، [ أي ] لا يعلم ذلك [ أحد ] إلا هو تعالى ; ولهذا قال : ﴿ثقلت في السماوات والأرض﴾
قال عبد الرزاق ، عن معمر ، عن قتادة في قوله : ﴿ثقلت في السماوات والأرض﴾
قال : ثقل علمها على أهل السماوات والأرض أنهم لا يعلمون .
قال معمر : قال الحسن : إذا جاءت ، ثقلت على أهل السماوات والأرض ، يقول : كبرت عليهم . وقال الضحاك ، عن ابن عباس في قوله : ﴿ثقلت في السماوات والأرض﴾
قال : ليس شيء من الخلق إلا يصيبه من ضرر يوم القيامة . وقال ابن جريج : ﴿ثقلت في السماوات والأرض﴾
قال : إذا جاءت انشقت السماء وانتثرت النجوم ، وكورت الشمس ، وسيرت الجبال ، وكان ما قاله الله ، عز وجل فذلك ثقلها . واختار ابن جرير ، رحمه الله : أن المراد : ثقل علم وقتها على أهل السماوات والأرض ، كما قال قتادة .
وهو كما قالاه ، كقوله تعالى : ﴿لا تأتيكم إلا بغتة﴾
ولا ينفي ذلك ثقل مجيئها على أهل السماوات والأرض ، والله أعلم . وقال السدي [ في قوله تعالى ] ﴿ثقلت في السماوات والأرض﴾
يقول : خفيت في السماوات والأرض ، فلا يعلم قيامها حين تقوم ملك مقرب ، ولا نبي مرسل . ﴿لا تأتيكم إلا بغتة﴾
[ قال ] يبغتهم قيامها ، تأتيهم على غفلة . وقال قتادة في قوله تعالى : ﴿لا تأتيكم إلا بغتة﴾
قضى الله أنها ﴿لا تأتيكم إلا بغتة﴾
قال : وذكر لنا أن نبي الله صلى الله عليه وسلم قال " إن الساعة تهيج بالناس ، والرجل يصلح حوضه ، والرجل يسقي ماشيته ، والرجل يقيم سلعته في السوق ويخفض ميزانه ويرفعه " وقال البخاري : حدثنا أبو اليمان ، أنبأنا شعيب ، حدثنا أبو الزناد عن عبد الرحمن ، عن أبي هريرة ; أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : " لا تقوم الساعة حتى تطلع الشمس من مغربها ، فإذا طلعت فرآها الناس آمنوا أجمعون ، فذلك حين لا ينفع نفسا إيمانها لم تكن آمنت من قبل أو كسبت في إيمانها خيرا ، ولتقومن الساعة وقد نشر الرجلان ثوبهما بينهما ، فلا يتبايعانه ولا يطويانه .
ولتقومن الساعة وقد انصرف الرجل بلبن لقحته فلا يطعمه . ولتقومن الساعة وهو يليط حوضه فلا يسقي فيه . ولتقومن الساعة والرجل قد رفع أكلته إلى فيه فلا يطعمها " وقال مسلم في صحيحه : حدثني زهير بن حرب ، حدثنا سفيان بن عيينة ، عن أبي الزناد ، عن الأعرج ، عن أبي هريرة يبلغ به النبي صلى الله عليه وسلم قال : " تقوم الساعة والرجل يحلب اللقحة ، فما يصل الإناء إلى فيه حتى تقوم الساعة . والرجلان يتبايعان الثوب فما يتبايعانه حتى تقوم .
والرجل يلوط حوضه فما يصدر حتى تقوم " وقوله [ تعالى ] ﴿يسألونك كأنك حفي عنها﴾
اختلف المفسرون في معناه ، فقيل : معناه : كما قال العوفي عن ابن عباس : ﴿يسألونك كأنك حفي عنها﴾
يقول : كأن بينك وبينهم مودة ، كأنك صديق لهم . قال ابن عباس : لما سأل الناس محمدا صلى الله عليه وسلم عن الساعة ، سألوه سؤال قوم كأنهم يرون أن محمدا حفي بهم ، فأوحى الله إليه : إنما علمها عنده ، استأثر بعلمها ، فلم يطلع الله عليها ملكا مقربا ولا رسولا .
وقال قتادة : قالت قريش لمحمد صلى الله عليه وسلم : إن بيننا وبينك قرابة ، فأسر إلينا متى الساعة . فقال الله ، عز وجل : ﴿يسألونك كأنك حفي عنها﴾
وكذا روي عن مجاهد ، وعكرمة ، وأبي مالك ، والسدي ، وهذا قول . والصحيح عن مجاهد - من رواية ابن أبي نجيح وغيره - : ﴿يسألونك كأنك حفي عنها﴾
قال : استحفيت عنها السؤال ، حتى علمت وقتها . وكذا قال الضحاك ، عن ابن عباس : ﴿يسألونك كأنك حفي عنها﴾
يقول : كأنك عالم بها ، لست تعلمها ، ﴿قل إنما علمها عند الله﴾
وقال معمر ، عن بعضهم : ﴿كأنك حفي عنها﴾
كأنك عالم بها .
وقال عبد الرحمن بن زيد بن أسلم : ﴿كأنك حفي عنها﴾
كأنك عالم بها ، وقد أخفى الله علمها على خلقه ، وقرأ : ﴿إن الله عنده علم الساعة﴾
الآية لقمان : 34 . ولهذا القول أرجح في المعنى من الأول ، والله أعلم ; ولهذا قال : ﴿قل إنما علمها عند الله ولكن أكثر الناس لا يعلمون﴾
ولهذا لما جاء جبريل ، عليه السلام ، في صورة أعرابي ، يعلم الناس أمر دينهم ، فجلس من رسول الله صلى الله عليه وسلم مجلس السائل المسترشد ، وسأله عن الإسلام ، ثم عن الإيمان ، ثم عن الإحسان ، ثم قال : فمتى الساعة ؟
قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم : " ما المسئول عنها بأعلم من السائل " أي : لست أعلم بها منك ولا أحد أعلم بها من أحد ، ثم قرأ النبي صلى الله عليه وسلم : ﴿إن الله عنده علم الساعة﴾
الآية وفي رواية : فسأله عن أشراط الساعة ، ثم قال : " في خمس لا يعلمهن إلا الله " . وقرأ هذه الآية ، وفي هذا كله يقول له بعد كل جواب : " صدقت " ; ولهذا عجب الصحابة من هذا السائل يسأله ويصدقه ، ثم لما انصرف قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : " هذا جبريل أتاكم يعلمكم دينكم " وفي رواية قال : " وما أتاني في صورة إلا عرفته فيها ، إلا صورته هذه " .
وقد ذكرت هذا الحديث بطرقه وألفاظه من الصحاح والحسان والمسانيد ، في أول شرح صحيح البخاري ، ولله الحمد والمنة ولما سأله ذلك الأعرابي وناداه بصوت جهوري فقال : يا محمد ، قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم : هاء - على نحو من صوته - قال : يا محمد ، متى الساعة ؟ قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم : " ويحك إن الساعة آتية ، فما أعددت لها ؟ " قال : ما أعددت لها كبير صلاة ولا صيام ، ولكني أحب الله ورسوله . فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم : " المرء مع من أحب " .
فما فرح المسلمون بشيء فرحهم بهذا الحديث وهذا له طرق متعددة في الصحيحين وغيرهما عن جماعة من الصحابة ، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ; أنه قال : " المرء مع من أحب " وهي متواترة عند كثير من الحفاظ المتقنين . ففيه أنه ، عليه السلام ، كان إذا سئل عن هذا الذي لا يحتاجون إلى علمه ، أرشدهم إلى ما هو الأهم في حقهم ، وهو الاستعداد لوقوع ذلك ، والتهيؤ له قبل نزوله ، وإن لم يعرفوا تعيين وقته . ولهذا قال مسلم في صحيحه : حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة وأبو كريب قالا حدثنا أبو أسامة ، عن هشام ، عن أبيه ، عن عائشة ، رضي الله عنها ، قالت : كانت الأعراب إذا قدموا على رسول الله صلى الله عليه وسلم ، سألوه عن الساعة : متى الساعة ؟
فنظر إلى أحدث إنسان منهم فقال : " إن يعش هذا لم يدركه الهرم حتى قامت عليكم ساعتكم " يعني بذلك موتهم الذي يفضي بهم إلى الحصول في برزخ الدار الآخرة . ثم قال مسلم : وحدثنا أبو بكر بن أبي شيبة ، حدثنا يونس بن محمد ، عن حماد بن سلمة ، عن ثابت ، عن أنس ; أن رجلا سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الساعة ، وعنده غلام من الأنصار يقال له محمد ، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : " إن يعش هذا الغلام فعسى ألا يدركه الهرم حتى تقوم الساعة " .
انفرد به مسلم وحدثنا حجاج بن الشاعر ، حدثنا سليمان بن حرب ، حدثنا حماد بن زيد ، حدثنا معبد بن هلال العنزي عن أنس بن مالك ، رضي الله عنه ; أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم قال : متى الساعة ؟ فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم هنيهة ، ثم نظر إلى غلام بين يديه من أزد شنوءة ، فقال : " إن عمر هذا لم يدركه الهرم حتى تقوم الساعة " - قال أنس : ذلك الغلام من أترابي وقال : حدثنا هارون بن عبد الله ، حدثنا عفان بن مسلم ، حدثنا همام ، حدثنا قتادة ، عن أنس قال : مر غلام للمغيرة بن شعبة - وكان من أقراني - فقال النبي صلى الله عليه وسلم : " إن يؤخر هذا لم يدركه الهرم حتى تقوم الساعة " ورواه البخاري في كتاب " الأدب " من صحيحه ، عن عمرو بن عاصم ، عن همام بن يحيى ، عن قتادة ، عن أنس ; أن رجلا من أهل البادية قال : يا رسول الله ، متى الساعة ؟
فذكر الحديث ، وفي آخره : " فمر غلام للمغيرة بن شعبة " ، وذكره وهذا الإطلاق في هذه الروايات محمول على التقييد ب " ساعتكم " في حديث عائشة ، رضي الله عنها . وقال ابن جريج : أخبرني أبو الزبير : أنه سمع جابر بن عبد الله يقول : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن يموت بشهر ، قال : " تسألوني عن الساعة ، وإنما علمها عند الله . وأقسم بالله ما على ظهر الأرض اليوم من نفس منفوسة ، تأتي عليها مائة سنة " رواه مسلم وفي الصحيحين ، عن ابن عمر مثله ، قال ابن عمر : وإنما أراد رسول الله صلى الله عليه وسلم انخرام ذلك القرن .
وقال الإمام أحمد : حدثنا هشيم ، أنبأنا العوام ، عن جبلة بن سحيم ، عن مؤثر بن عفازة عن ابن مسعود ، رضي الله عنه ، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : " لقيت ليلة أسري بي إبراهيم وموسى وعيسى " ، قال : " فتذاكروا أمر الساعة " ، قال : " فردوا أمرهم إلى إبراهيم ، عليه السلام ، فقال : لا علم لي بها . فردوا أمرهم إلى موسى ، فقال : لا علم لي بها . فردوا أمرهم إلى عيسى ، فقال عيسى : أما وجبتها فلا يعلم بها أحد إلا الله ، عز وجل ، وفيما عهد إلي ربي ، عز وجل ، أن الدجال خارج " ، قال : " ومعي قضيبان ، فإذا رآني ذاب كما يذوب الرصاص " ، قال : " فيهلكه الله ، عز وجل ، إذا رآني ، حتى إن الحجر والشجر يقول : يا مسلم ، إن تحتي كافرا تعالى فاقتله " .
قال : " فيهلكهم الله ، عز وجل ، ثم يرجع الناس إلى بلادهم وأوطانهم " ، قال : " فعند ذلك يخرج يأجوج ومأجوج ، وهم من كل حدب ينسلون ، فيطئون بلادهم ، لا يأتون على شيء إلا أهلكوه ، ولا يمرون على ماء إلا شربوه " ، قال : " ثم يرجع الناس إلي فيشكونهم ، فأدعو الله ، عز وجل ، عليهم فيهلكهم ويميتهم ، حتى تجوى الأرض من نتن ريحهم - أي : تنتن - " قال : " فينزل الله المطر ، فيجترف أجسادهم حتى يقذفهم في البحر " . قال أحمد : قال يزيد بن هارون : ثم تنسف الجبال ، وتمد الأرض مد الأديم - ثم رجع إلى حديث هشيم قال : ففيما عهد إلي ربي ، عز وجل ، أن ذلك إذا كان كذلك ، فإن الساعة كالحامل المتم لا يدري أهلها متى تفاجئهم بولادها ليلا أو نهارا ورواه ابن ماجه ، عن بندار عن يزيد بن هارون ، عن العوام بن حوشب بسنده ، نحوه فهؤلاء أكابر أولي العزم من المرسلين ، ليس عندهم علم بوقت الساعة على التعيين ، وإنما ردوا الأمر إلى عيسى عليه السلام ، فتكلم على أشراطها ; لأنه ينزل في آخر هذه الأمة منفذا لأحكام رسول الله صلى الله عليه وسلم ، ويقتل المسيح الدجال ، ويجعل الله هلاك يأجوج ومأجوج ببركة دعائه ، فأخبر بما أعلمه الله تعالى به .
وقال الإمام أحمد : حدثنا يحيى بن أبي بكير حدثنا عبيد الله بن إياد بن لقيط قال : سمعت أبي يذكر عن حذيفة قال : سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الساعة فقال : " علمها عند ربي لا يجليها لوقتها إلا هو ، ولكن سأخبركم بمشاريطها ، وما يكون بين يديها : إن بين يديها فتنة وهرجا " ، قالوا : يا رسول الله ، الفتنة قد عرفناها ، فالهرج ما هو ؟ قال بلسان الحبشة : " القتل " . قال ويلقى بين الناس التناكر ، فلا يكاد أحد يعرف أحدا " لم يروه أحد من أصحاب الكتب الستة من هذا الوجه .
وقال وكيع : حدثنا ابن أبي خالد ، عن طارق بن شهاب ، قال : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يزال يذكر من شأن الساعة حتى نزلت : ﴿يسألونك عن الساعة أيان مرساها﴾
الآية النازعات : 42 . ورواه النسائي من حديث عيسى بن يونس ، عن إسماعيل بن أبي خالد ، به وهذا إسناد جيد قوي . فهذا النبي الأمي سيد الرسل وخاتمهم [ محمد ] صلوات الله عليه وسلامه نبي الرحمة ، ونبي التوبة ، ونبي الملحمة ، والعاقب والمقفى ، والحاشر الذي تحشر الناس على قدميه ، مع قوله فيما ثبت عنه في الصحيح من حديث أنس وسهل بن سعد ، رضي الله عنهما : " بعثت أنا والساعة كهاتين " وقرن بين إصبعيه السبابة والتي تليها .
ومع هذا كله ، قد أمره الله تعالى أن يرد علم وقت الساعة إليه إذا سئل عنها ، فقال : ﴿قل إنما علمها عند الله ولكن أكثر الناس لا يعلمون﴾
তাফসীরে কুরতুবী
আবু আবদুল্লাহ আল-কুরতুবীقوله تعالى يسألونك عن الساعة أيان مرساها قل إنما علمها عند ربي لا يجليها لوقتها إلا هو ثقلت في السماوات والأرض لا تأتيكم إلا بغتة يسألونك كأنك حفي عنها قل إنما علمها عند الله ولكن أكثر الناس لا يعلمونص: 300 قوله تعالى يسألونك عن الساعة أيان مرساها أيان سؤال عن الزمان ; مثل متى . قال الراجز :أيان تقضي حاجتي أيانا أما ترى لنجحها أواناوكانت اليهود تقول للنبي صلى الله عليه وسلم : إن كنت نبيا فأخبرنا عن الساعة متى تقوم .
وروي أن المشركين قالوا ذلك لفرط الإنكار .ومرساها في موضع رفع بالابتداء عند سيبويه ، والخبر : أيان . وهو ظرف مبني على الفتح ، بني لأن فيه معنى الاستفهام . ومرساها بضم الميم ، من أرساها الله ، أي أثبتها ، أي متى مثبتها ، أي متى وقوعها . وبفتح الميم من رست ، أي ثبتت ووقفت ; ومنه وقدور راسيات . قال قتادة : أي ثابتات .قل إنما علمها عند ربي ابتداء وخبر ، أي لم يبينها لأحد ; حتى يكون العبد أبدا على حذرلا يجليها أي لا يظهرها .
لوقتها أي في وقتها إلا هو والتجلية : إظهار الشيء ; يقال : جلا لي فلان الخبر إذا أظهره وأوضحه .ثقلت في السماوات والأرض خفي علمها على أهل السماوات والأرض . وكل ما خفي علمه فهو ثقيل على الفؤاد . وقيل : كبر مجيئها على أهل السماوات والأرض ; عن الحسن وغيره . ابن جريج والسدي : عظم وصفها على أهل السماوات والأرض . وقال قتادة : وغيره : المعنى لا تطيقها السماوات والأرض لعظمها : لأن السماء تنشق والنجوم تتناثر والبحار تنضب . وقيل : المعنى ثقلت المسألة عنها .لا تأتيكم إلا بغتة أي فجأة ، مصدر في موضع الحاليسألونك كأنك حفي عنها أي عالم بها كثير السؤال عنها .
قال ابن فارس : الحفي العالم بالشيء . والحفي : المستقصي في السؤال . قال الأعشى :فإن تسألي عني فيا رب سائل حفي عن الأعشى به حيث أصعدايقال : أحفى في المسألة وفي الطلب ، فهو محف وحفي على التكثير ، مثل مخصب وخصيب . قال محمد بن يزيد : المعنى يسألونك كأنك حفي بالمسألة عنها ، أي ملح . يذهب إلى أنه ليس في الكلام تقديم وتأخير . وقال ابن عباس وغيره : هو على التقديم والتأخير ، والمعنى : يسألونك عنها كأنك حفي بهم أي حفي ببرهم وفرح بسؤالهم .
وذلك لأنهم قالوا : بيننا وبينك قرابة فأسر إلينا بوقت الساعة .قل إنما علمها عند الله ولكن أكثر الناس لا يعلمون ليس هذا تكريرا ، ولكن أحد العلمين لوقوعها والآخر لكنهها .
তাফসীরে তাবারী
ইবনে জারীর আত-তাবারীالقول في تأويل قوله : يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي لا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلا هُوَ قال أبو جعفر: اختلف أهل التأويل في الذين عنوا بقوله: ﴿يسألونك عن الساعة﴾
. فقال بعضهم: عني بذلك قومُ رسول الله صلى الله عليه وسلم من قريش, وكانوا سألوا عن ذلك رسولَ الله صلى الله عليه وسلم. * ذكر من قال ذلك:
15462 حدثنا محمد بن عبد الأعلى قال: حدثنا محمد بن ثور, عن معمر, عن قتادة قال: قالت قريش لمحمد صلى الله عليه وسلم: إنّ بيننا وبينك قرابة, فأسِرَّ إلينا متى الساعة! فقال الله: يَسْأَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا . (49)
وقال آخرون: بل عُني به قوم من اليهود. * ذكر من قال ذلك:
15463 حدثنا أبو كريب قال: حدثنا يونس بن بكير قال: حدثنا محمد بن إسحاق قال: حدثني محمد بن أبي محمد مولى زيد بن ثابت قال: حدثني سعيد بن جبير أو عكرمة, عن ابن عباس قال: قال جَبَل بن أبي قشير، وشمول بن زيد، لرسول الله صلى الله عليه وسلم (50) يا محمد، أخبرنا متى الساعة إن كنت نبيًّا كما تقول, فإنا نعلم متى هي؟ فأنـزل الله تبارك وتعالى: ﴿يسألونك عن الساعة أيان مرساها قل إنما علمها عند ربي﴾
، إلى قوله: وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ .
(51)
15464 حدثنا ابن وكيع قال: حدثنا أبي, عن إسماعيل بن أبي خالد, عن طارق بن شهاب قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم لا يزال يذكُر من شأن الساعة حتى نـزلت: ﴿يسألونك عن الساعة أيان مرساها﴾
. (52)
قال أبو جعفر: والصواب من القول في ذلك أن يقال: إن قومًا سألوا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الساعة, فأنـزل الله هذه الآية = وجائز أن يكون كانوا من قريش = وجائز أن يكونوا كانوا (53) من اليهود; ولا خبر بذلك عندنا يجوِّز قَطْعَ القول على أيّ ذلك كان.
قال أبو جعفر: فتأويل الآية إذاً: يسألك القومُ الذين يسألونك عن الساعة ﴿أيان مرساها﴾
؟ يقول: متى قيامها؟
ومعنى " أيان " : متى، في كلام العرب, ومنه قول الراجز: (54) أَيَّــانَ تَقْضِــي حَــاجَتِي أَيَّانَــا أَمَـــا تَــرَى لِنُجْحِهَــا إِبَّانَــا (55)
ومعنى قوله: (مرساها) ، قيامها, من قول القائل: " أرساها الله فهي مُرْسَاة " , و " أرساها القوم " ، إذا حبسوها, و " رسَت هي، ترسُو رُسُوًّا " .
وبنحو الذي قلنا في ذلك قال أهل التأويل. * ذكر من قال ذلك:
15465 حدثني محمد بن الحسين قال: حدثنا أحمد بن المفضل قال: حدثنا أسباط, عن السدي: ﴿يسألونك عن الساعة أيان مرساها﴾
، : يقول متى قيامها.
15466 حدثنا بشر بن معاذ قال: حدثنا يزيد قال: حدثنا سعيد, عن قتادة قوله: ﴿يسألونك عن الساعة أيان مرساها﴾
، : متى قيامها؟
وقال آخرون: معنى ذلك: مُنتهاها =وذلك قريب المعنى من معنى مَن قال: معناه: " قيامها " , لأن انتهاءها، بلوغها وقتها. وقد بينا أن أصل ذلك: الحبس والوقوف. * ذكر من قال ذلك:
15467 حدثنا المثنى قال: حدثنا عبد الله بن صالح قال: حدثني معاوية, عن علي, عن ابن عباس, قوله: ﴿يسألونك عن الساعة أيان مرساها﴾
، يعني: منتهاها.
وأما قوله: ﴿قل إنما علمها عند ربي لا يجلِّيها لوقتها إلا هو﴾
، فإنه أمرٌ من الله نبيَّه محمدًا صلى الله عليه وسلم بأن يجيب سائليه عن الساعة بأنه لا يعلم وقت قيامها إلا الله الذي يعلم الغيب, وأنه لا يظهرها لوقتها ولا يعلمها غيرُه جل ذكره، كما: -
15468 حدثنا بشر بن معاذ قال: حدثنا يزيد قال: حدثنا سعيد, عن قتادة: ﴿قل إنما علمها عند ربي لا يجليها لوقتها إلا هو﴾
، يقول: علمها عند الله, هو يجليها لوقتها, لا يعلم ذلك إلا الله.
15469 حدثني محمد بن عمرو قال: حدثنا أبو عاصم قال: حدثنا عيسى, عن ابن أبي نجيح, عن مجاهد: ﴿لا يجليها﴾
، : يأتي بها.
15470 حدثنا القاسم قال: حدثنا الحسين قال: ثني حجاج, عن ابن جريج قال: قال مجاهد: ﴿لا يجليها﴾
، قال: لا يأتي بها إلا هو.
15471 حدثني محمد بن الحسين قال: حدثنا أحمد بن المفضل قال: حدثنا أسباط, عن السدي: ﴿لا يجليها لوقتها إلا هو﴾
، يقول: لا يرسلها لوقتها إلا هو.
القول في تأويل قوله : ثَقُلَتْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ لا تَأْتِيكُمْ إِلا بَغْتَةً قال أبو جعفر: اختلف أهل التأويل في تأويل ذلك. فقال بعضهم: معنى ذلك: ثقلت الساعة على أهل السموات والأرض أن يعرفوا وقتها ومجيئها، لخفائها عنهم، واستئثار الله بعلمها. * ذكر من قال ذلك:
15472 حدثني محمد بن الحسين قال: حدثنا أحمد بن المفضل قال: حدثنا أسباط, عن السدي, قوله: ﴿ثقلت في السموات والأرض﴾
، يقول: خفيت في السموات والأرض, فلم يعلم قيامها متى تقوم مَلَك مقرَّب، ولا نبيٌّ مرسل.
15473 حدثنا محمد بن عبد الأعلى قال: حدثنا محمد بن ثور= وحدثنا الحسن بن يحيى قال: أخبرنا عبد الرزاق = جميعًا, عن معمر, عن بعض أهل التأويل: ﴿ثقلت في السموات والأرض﴾
، قال: ثقل علمها على أهل السموات وأهل الأرض، إنهم لا يعلمون.
وقال آخرون: معنى ذلك: أنها كَبُرت عند مجيئها على أهل السموات والأرض. * ذكر من قال ذلك:
15474 حدثني محمد بن عبد الأعلى قال: حدثنا محمد بن ثور= وحدثنا الحسن بن يحيى قال: أخبرنا عبد الرزاق = جميعًا, عن معمر قال: قال الحسن, في قوله: ﴿ثقلت في السموات والأرض﴾
، يعني: إذا جاءت ثقلت على أهل السماء وأهل الأرض. يقول: كبرت عليهم.
15475 حدثنا القاسم قال: حدثنا الحسين قال: ثني حجاج, عن ابن جريج: ﴿ثقلت في السموات والأرض﴾
قال: إذا جاءت انشقت السماء, وانتثرت النجوم, وكوِّرت الشمس, وسُيِّرت الجبال, وكان ما قال الله; فذلك ثقلها.
15476 حدثنا محمد بن الحسين قال: حدثنا أحمد بن المفضل قال: حدثنا أسباط, عن السدي قال: قال بعض الناس في " ثقلت " : عظمت.
وقال آخرون: معنى قوله: ﴿في السموات والأرض﴾
، : على السموات والأرض. * ذكر من قال ذلك:
15477 حدثنا بشر قال: حدثنا يزيد قال: حدثنا سعيد, عن قتادة: ﴿ثقلت في السموات والأرض﴾
، أي: على السموات والأرض.
قال أبو جعفر: وأولى ذلك عندي بالصواب, قول من قال: معنى ذلك: ثقلت الساعة في السموات والأرض على أهلها، أن يعرفوا وقتها وقيامها; لأن الله أخفى ذلك عن خلقه, فلم يطلع عليه منهم أحدًا. وذلك أن الله أخبرَ بذلك بعد قوله: قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي لا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلا هُوَ ، وأخبر بعده أنها لا تأتي إلا بغتة, فالذي هو أولى: أن يكون ما بين ذلك أيضًا خبرًا عن خفاء علمها عن الخلق, إذ كان ما قبله وما بعده كذلك.
وأما قوله: ﴿لا تأتيكم إلا بغتة﴾
، فإنه يقول: لا تجيء الساعة إلا فجأة, لا تشعرون بمجيئها، (56) كما: -
15478 حدثني محمد بن الحسين قال: حدثنا أحمد بن المفضل قال: حدثنا أسباط, عن السدي: ﴿لا تأتيكم إلا بغتة﴾
، يقول: يبغتهم قيامها, تأتيهم على غفلة.
15479 حدثنا بشر قال: حدثنا يزيد قال: حدثنا سعيد, عن قتادة: ﴿لا تأتيكم إلا بغتة﴾
، قضى الله أنها لا تأتيكم إلا بغتة. قال: وذكر لنا أن نبي الله صلى الله عليه وسلم كان يقول: إن الساعة تهيج بالناس والرجل يُصْلِح حوضه، والرجلُ يسقي ماشيته، والرجل يقيم سلعته في السوق، والرجل يخفض ميزانه ويرفعه.
القول في تأويل قوله : يَسْأَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يَعْلَمُونَ (187) قال أبو جعفر: يقول تعالى ذكره: يسألك هؤلاء القوم عن الساعة, كأنك حَفِيٌّ عنها.
[ واختلف أهل التأويل في تأويل قوله: ﴿حفي عنها﴾
] . (57) فقال بعضهم: يسألونك عنها كأنك حفي بهم. وقالوا: معنى قوله: " عنها " التقديم، وإن كان مؤخرًا. * ذكر من قال ذلك:
15480 حدثني محمد بن سعد قال: حدثني أبي قال: حدثني عمي قال: حدثني أبي, عن أبيه, عن ابن عباس, قوله: ﴿يسألونك كأنك حفيّ عنها﴾
، يقول: كأن بينك وبينهم مودة, كأنك صديق لهم. قال ابن عباس: لما سأل الناسُ محمدًا صلى الله عليه وسلم عن الساعة، سألوه سؤال قوم كأنهم يرون أن محمدًا حفي بهم, فأوحى الله إليه: إنما علمها عنده, استأثر بعلمها, فلم يطلع عليها ملكًا ولا رسولا.
15481 حدثنا محمد بن عبد الأعلى قال: حدثنا محمد بن ثور, عن معمر قال: قال قتادة: قالت قريش لمحمد صلى الله عليه وسلم: إن بيننا وبينك قرابة, فأسِرَّ إلينا متى الساعة ! فقال الله: ﴿يسألونك كأنك حفي عنها﴾
. (58)
15482 حدثنا بشر قال: حدثنا يزيد قال: حدثنا سعيد, عن قتادة: ﴿يسألونك كأنك حفي عنها﴾
، : أي حفي بهم. قال: قالت قريش: يا محمد، أسرّ إلينا علم الساعة، لما بيننا وبينك من القرابة = لقرابتنا منك.
15483 حدثنا ابن وكيع قال: حدثنا أبو خالد الأحمر، وهانئ بن سعيد, عن حجاج, عن خصيف, عن مجاهد وعكرمة: ﴿يسألونك كأنك حفي عنها﴾
قال: حفي بهم حين يسألونك.
15484 حدثني الحارث قال: حدثنا عبد العزيز قال: حدثنا إسرائيل, عن سماك, عن عكرمة, عن ابن عباس: ﴿يسألونك كأنك حفي عنها﴾
قال: قريب منهم, وتحفَّى عليهم = قال: وقال أبو مالك: كأنك حفي بهم. قال: قريب منهم, وتحفَّى عليهم = قال: وقال أبو مالك: كأنك حفي بهم، فتحدثهم. (59)
15485 حدثني محمد بن الحسين قال: حدثنا أحمد بن المفضل قال: حدثنا أسباط, عن السدي: ﴿يسألونك كأنك حفي عنها﴾
، كأنك صديق لهم.
وقال آخرون: بل معنى ذلك: كأنك قد استحفيت المسألة عنها فعلمتها. * ذكر من قال ذلك:
15486 حدثني محمد بن عمرو قال: حدثنا أبو عاصم قال: حدثنا عيسى, عن ابن أبي نجيح, عن مجاهد: ﴿كأنك حفي عنها﴾
، استحفيت عنها السؤال حتى علمتَها.
15487 حدثني الحارث قال: حدثنا عبد العزيز قال: حدثنا أبو سعد, عن مجاهد في قوله: ﴿كأنك حفي عنها﴾
قال: استحفيت عنها السؤال حتى علمت وقتها.
15488 حدثنا ابن وكيع قال: حدثنا المحاربي, عن جويبر, عن الضحاك: ﴿يسألونك كأنك حفي عنها﴾
قال: كأنك عالم بها. 15489 - ... قال: حدثنا حامد بن نوح, عن أبي روق, عن الضحاك: ﴿يسألونك كأنك حفيّ عنها﴾
قال: كأنك تعلمها. (60)
15490 حدثت عن الحسين بن الفرج قال: سمعت أبا معاذ قال: ثني عبيد بن سليمان, عن الضحاك, قوله: ﴿يسألونك كأنك حفي عنها﴾
، يقول: يسألونك عن الساعة, كأنك عندك علمًا منها = قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي .
15491 حدثنا محمد بن عبد الأعلى قال: حدثنا محمد بن ثور, عن معمر, عن بعضهم: ﴿كأنك حفي عنها﴾
، : كأنك عالم بها.
15492 حدثني يونس قال: أخبرنا ابن وهب قال: قال ابن زيد, في قوله: ﴿كأنك حفي عنها﴾
قال: كأنك عالم بها. وقال: أخفى علمها على خلقه. وقرأ: إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ ، سورة لقمان : 34 حتى ختم السورة.
15493 حدثني المثنى قال: حدثنا عبد الله بن صالح قال: ثني معاوية, عن علي بن أبي طلحة, عن ابن عباس, قوله: ﴿يسألونك كأنك حفي عنها﴾
، يقول: كأنك يعجبك سؤالهم إياك = ﴿قل إنما علمها عند الله﴾
.
وقوله: ﴿كأنك حفي عنها﴾
، يقول: لطيف بها. (61)
فوجَّه هؤلاء تأويل قوله: ﴿كأنك حفي عنها﴾
، إلى حفيّ بها, وقالوا: تقول العرب: " تحفّيت له في المسألة " , و " تحفيت عنه " . قالوا: ولذلك قيل: " أتينا فلانًا نسأل به " , بمعنى نسأل عنه.
قال أبو جعفر: وأولى القولين في ذلك بالصواب قول من قال: معناه: كأنك حفي بالمسألة عنها فتعلمها. فإن قال قائل: وكيف قيل: ﴿حفي عنها﴾
، ولم يُقَل: " حفي بها " , إن كان ذلك تأويل الكلام؟ قيل: إن ذلك قيل كذلك, لأن الحفاوة إنما تكون في المسألة, وهي البشاشة للمسئول عند المسألة, والإكثار من السؤال عنه, والسؤال يوصل ب " عن " مرة، وب " الباء " مرة. فيقال: " سألت عنه " , و " سألت به " . فلما وضع قوله: " حفي" موضع السؤال, وصل بأغلب الحرفين اللذين يوصل بهما " السؤال " , وهو " عن " , كما قال الشاعر: (62) سُــؤَالَ حَــفِيٍّ عَـنْ أَخِيـهِ كَأَنَّـهُ بِذِكْرَتِـــهِ وَسْــنَانُ أَوْ مُتَوَاسِــنُ (63)
وأما قوله: ﴿قل إنما علمها عند الله﴾
، فإن معناه: قل، يا محمد، لسائليك عن وقت الساعة وحين مجيئها: لا علم لي بذلك, ولا علم به إلا [عند] الله الذي يعلم غيب السموات والأرض (64) = ﴿ولكن أكثر الناس لا يعلمون﴾
، يقول: ولكن أكثر الناس لا يعلمون أن ذلك لا يعلمه إلا الله, بل يحسبون أن علم ذلك يوجد عند بعض خلقه. ------------------------ الهوامش : (49) الأثر : 15462 - سيأتي برقم : 15481 . (50) في المطبوعة : (﴿حمل بن أبي قشير﴾
) ، وهي في المخطوطة كما أثبتها غير منقوطة .
والصواب أيضاً في سيرة ابن هشام 2 : 162 ، 218 ، وكتب هناك : (( شمويل ) ) ، وهما سواء ، وفي المطبوعة هنا (( سمول ) ) غير منقوطة كما في المخطوطة . (51) الأثر : 15463 - سيرة ابن هشام 2 : 218 ، وهو تابع الأثر السالف رقم : 12216 . (52) الأثر : 15464 - (﴿إسماعيل بن أبي خالد الأحمسى﴾
) ثقة ثبت ، مضى برقم : 5694 ، 5777 ، 12280 . و (﴿طارق بن شهاب الأحمسى﴾
) ، رأي النبي صلى الله عليه وسلم ، وروى عنه مرسلا ، مضى مرارًا ، رقم : 9744 ، 11682 ، 12073 ، 12075 ، 12085 .
وكان في المطبوعة والمخطوطة : (﴿مخارق بن شهاب﴾
) ، وهو خطأ صرف ، صوابه من ابن كثير . وهذا الخبر ساقه ابن كثير في تفسيره 3 : 609 ، وقال : (﴿ورواه النسائي من حديث عيسى بن يونس ، عن إسماعيل بن أبي خالد ، به . وهذا إسناد جيد قوي﴾
) . (53) في المطبوعة : (﴿أن يكون كانوا﴾
) مرة أخرى ، ولكنى أثبت ما في المخطوطة . (54) لم أعرف قائله . (55) مجاز القرآن لأبي عبيدة 1 : 234 ، اللسان ( أبن ) . و (﴿إبان الشيء﴾
) ، زمنه ووقته الذي يصلح فيه ، أو يكون فيه .
(56) انظر تفسير (( البغتة ) ) فيما سلف 11 : 325 ، 360 ، 368 / 12 : 576 . (57) الزيادة بين القوسين ، يقتضيها نهج أبي جعفر في تفسيره . (58) الأثر : 15481 - مضى برقم : 15462 . (59) الأثر : 15484 - (﴿أبو مالك﴾
) ، في هذا الخبر ، لم أعرف من يكون ؟ (60) الأثر : 15489 - (﴿جابر بن نوح﴾
) ، مضى برقم : 5694 ، 9863 ، وفي المطبوعة (﴿حامد بن نوح﴾
) ، وفي المخطوطة ، سيئ الكتابة ، وهذا صوابه . (61) هذه الجملة التي أفردتها ، لا شك أنها ليست من كلام ابن عباس في الأثر السالف ، ولذلك فصلت بينهما .
بقى بعد أنى أخشى أن يكون سقط من الناسخ شيء قبل هذه الجملة ، فإن الذي ذكره أبو جعفر قولان فقط ، لا ثلاثة أقوال ، وهذه الجملة الأخيرة . متعلقة بالقول الأول ، وكأنها تفسير له . (62) هو المعطل الهذلي . (63) ديوان الهذليين 3 : 45 من قصيدة له طويلة . وبهذه الرواية التي رواها أبو جعفر (﴿سؤال حفي﴾
) ، يختل سياق الشعر . وروايته في ديوانه : فــإن تـرني قصـدًا قريبًا، فـإنـه بعيـد عـلي المـرء الحجـازي أيـن بعيـد عـلى ذى حاجـة، ولـو أننـى إذا نفجــت يومـاً بهـا الـدار آمـن يقـول الـذي أمسـى إلى الحرز أهله: بـأي الحشـاء أمسـى الخليط المباين ســؤال الغنـي عـن أخيـه، كأنـه بذكرتـــه وســنان أو متواســن و (﴿الذي أمسى إلى الحرز أهله﴾
) هو الذي صار في مكان حصين آمناً مطمئناً ، فهو يسأل عنه ويقول : (﴿بأي الحشا﴾
) ، بأي النواحي أمسي فلان ؟
وهو صاحبه المفارق . ثم يقول : إنه يسأل سؤال غير حفي - لا سؤال حفي - (﴿سؤال غني عن أخيه﴾
) وأنما يذكره كالنائم أو المتناوم ، لقلة حفاوة به . فهذا نقيض رواية أبي جعفر . وكان في المطبوعة : (﴿يذكره وسنان﴾
) ، والصواب من المخطوطة والديوان . (64) في المطبوعة : (﴿ولا يعلم به إلا الله﴾
) وليس بجيد ، وأثبت ما في المخطوطة وزدت ما يقتضيه السياق بين قوسين
মাআরিফুল কুরআন
মুফতি মুহাম্মাদ শফীThe verse 187 speaks of the third principle, that is, the life in the Hereafter (آخرَت). The revelation of this verse is related with the following incident reported by Ibn Jarir and ` Abd ibn Humaid on the authority of Qatadah. The Quraish of Makkah once asked the Holy Prophet ﷺ by way of mockery as to when the Hour of doom was to occur of which he used to warn them so often. The verse was revealed in response to this question.
The Arabic word Sa` ah سَاعَۃ signifies a short period without specific number of minutes or hours, while in our calendar it is a single unit out of twenty four units of the day and night. In Qur'anic terminology, however, it is used for the day when all the created beings will cease to exist, as well as for the day when all the creation shall be revived and presented before the Lord of all the creations. مُرسٰی Mursa signifies to stop or to stay, لَا يُجَلِّيهَا ' is a derivative of تَجلِیہ which means to disclose or open.
Baghtatan بَغتۃ means suddenly while the word 'Hafiyyun' حَفِیُّ is used for a scholar or a knowledgeable person according to Sayyidna ` Abdullah Ibn ` Abbas ؓ The word is generally used for a person who invests his effort and employs all his resources to ascertain some-thing. The quintessence of the verse, therefore, is that the Quraish of Makkah should be answered that the exact time of the Doom is not known, and shall never be made known to anyone.
It is a divine secret which shall disclose itself by it's sudden occurrence, as has been decided by the Qur'anic phrase "It shall not come upon you but suddenly". Al-Bukhari and the Muslim have reported on the authority of Sayyidna Abu Hurairah ؓ that the Holy Prophet ﷺ said with regard to sudden occurrence of the 'Qiyamah' (The Doomsday) that it has been made a close secret. The wisdom behind it is obviously to make people live their lives peacefully which would have not been possible in case the definite time of death was known to them.
Besides, those who do not believe in Doomsday would have made mockery of it by knowing the remotely long period of its occurrence. The divine wisdom chose to keep it undefined in order to keep people vaguely in fear of its dreadful events which, in fact, is an effective measure against crime and corrupt practices. By implication, the above verses make us alive to the fact that once we have come to believe that the day of Qiyamah has inevitably to come and all the created beings shall necessarily be presented before the Lord of all the creation and be called to account for all their minor or major deeds, and shall be rewarded or punished according to their performance in this world, the knowledge of time and period of the death becomes immaterial.
It will not be wise to waste precious time of one's life in futile discussions like the time of occurrence of the Doomsday. On the contrary, human reason and wisdom demands that every moment of uncertain period of life is spent carefully in preparing oneself for the great Day of Judgment. This answer to the Quraish of Makkah made it clear that their question regarding the time of the Doomsday was a product of their ignorance.
The next phrase of this verse speaks of another misconception of the disbelievers of Makkah. It said: يَسْأَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا "They ask you as if you were aware of it." They thought that the Holy Prophet had, somehow, secured the knowledge of the exact time of the occurrence of the Doomsday and that he was not disclosing it for some purpose. They insisted him to disclose it to them. The Holy Prophet ﷺ was asked to answer them in these words: قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّـهِ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ "Say, it's knowledge is only with Allah, but most of the people do not know."
That is, it is not necessary for a prophet to know the definite time of the Doomsday or certain other matters that are kept secret by Allah. The lack of knowledge in such matters on the part of a prophet cannot, therefore, be taken as a proof against his prophethood. (The knowledge of a prophet can never be equal to the All-encompassing knowledge of Allah.) The Holy Prophet ﷺ ، however, was given knowledge of certain specific signs indicating that the Doomsday was in proximity.
He has informed the Muslim Ummah of all these signs in explicit terms in his Traditions. In one of such Traditions he said that his appearance and the Day of Qiyamah were as close to each other as two fingers of a hand. (Tirmidhi) As for the reports giving the total age of this world as seven thousand years, they are the reports borrowed from some Israelite literature in certain Islamic books. They are neither authentic nor do they have any basis in the Qur'an and the Sunnah.
Similarly, geo-physical data of modern knowledge giving the age of this world as millions of years do not confront or contradict any of the Qur'anic verse or any authentic Tradition of the Holy Prophet ﷺ . On the contrary, the Holy Prophet ﷺ addressing the Muslim Ummah said in a Tradition: "When compared to the early people, you are like a white thread of hair on the body of a black ox." This gives us an idea of the enormous age of this world as thought by the Holy Prophet ﷺ .
Hafiz Ibn Hazm of Spain has, therefore, concluded that the exact age of this world cannot be assessed by any one1. (Marghni) 1. By inference it seems physically impossible to have an exact assessment of the age of this universe, because it would give the exact time of the end of this universe which has been precluded by the above verse saying that the knowledge of the occurrence of the Doomsday is not known to any one but Allah.
(Translator)
ইবনে কাসীর (সংক্ষিপ্ত)
ইংরেজি সংক্ষেপThe Last Hour and its Portents Allah said here, يَسْـَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ (They ask you about the Hour), just as He said in another Ayah, يَسْـَلُكَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَةِ (People ask you concerning the Hour) 33:63. It was said that this Ayah was revealed about the Quraysh or the Jews, although it appears that it was about the Quraysh, because this Ayah was revealed in Makkah. The Quraysh used to ask about the Last Hour, because they used to deny it and discount its coming.
For instance, Allah said in another Ayah, وَيَقُولُونَ مَتَى هَـذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَـدِقِينَ (And they say: "When will be this promise (the torment or the Day of Resurrection), if you speak the truth") 10:48, and, يَسْتَعْجِلُ بِهَا الَّذِينَ لاَ يُؤْمِنُونَ بِهَا وَالَّذِينَ ءَامَنُواْ مُشْفِقُونَ مِنْهَا وَيَعْلَمُونَ أَنَّهَا الْحَقُّ أَلاَ إِنَّ الَّذِينَ يُمَارُونَ فَى السَّاعَةِ لَفِى ضَلَـلَ بَعِيدٍ (Those who believe not therein seek to hasten it, while those who believe are fearful of it, and know that it is the very truth.
Verily, those who dispute concerning the Hour are certainly in error far away) 42:18. Allah said here (that the Quraysh asked), أَيَّانَ مُرْسَـهَا ("When will be its appointed time") in reference to its commencement, according to `Ali bin Abi Talhah who reported this from Ibn `Abbas. They asked about the Hour's appointed term and when the end of this world will begin; قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي لاَ يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَآ إِلاَّ هُوَ (Say: "The knowledge thereof is with my Lord (Alone).
None can reveal its time but He.") Allah commanded His Messenger that when asked about the appointed term of the Last Hour, he referred its knowledge to Allah, the Exalted. Only Allah knows the Last Hour's appointed term and when it will certainly occur, and none besides Him has this knowledge, ثَقُلَتْ فِى السَّمَـوَتِ وَالاٌّرْضِ (Heavy is its burden through the heavens and the earth) `Abdur-Razzaq narrated that Ma`mar said that Qatadah commented on this Ayah, ثَقُلَتْ فِى السَّمَـوَتِ وَالاٌّرْضِ (Heavy is its burden through the heavens and the earth) "Its knowledge is heavy on the residents of the heavens and earth, they do not have knowledge in it."
Also, Ma`mar said that Al-Hasan commented on this Ayah, "When the Last Hour comes, it will be heavy on the residents of the heavens and earth." Ad-Dahhak said that Ibn `Abbas explained this Ayah, ثَقُلَتْ فِى السَّمَـوَتِ وَالاٌّرْضِ (Heavy is its burden through the heavens and the earth, ) saying, "All creatures will suffer its heaviness on the Day of Resurrection." Ibn Jurayj also said about this Ayah, ثَقُلَتْ فِى السَّمَـوَتِ وَالاٌّرْضِ (Heavy is its burden through the heavens and the earth.)
"When it commences, the heavens will be torn, the stars will scatter all over, the sun will be wound round (thus losing its light), the mountains will be made to pass away and all of which Allah spoke of will occur. This is the meaning of its burden being heavy." As-Suddi said that, ثَقُلَتْ فِى السَّمَـوَتِ وَالاٌّرْضِ (Heavy is its burden through the heavens and the earth) means, its knowledge is hidden in the heavens and earth, and none, not even a close angel or a sent Messenger has knowledge of its appointed time. لاَ تَأْتِيكُمْ إِلاَّ بَغْتَةً (It shall not come upon you except all of a sudden) indicating that the Hour will start all of a sudden, while they are unaware.
Qatadah said, "Allah has decided that, لاَ تَأْتِيكُمْ إِلاَّ بَغْتَةً (It shall not come upon you except all of a sudden.) He then said, "We were informed that Allah's Prophet said, «إِنَّ السَّاعَةَ تَهِيجُ بِالنَّاسِ، وَالرَّجُلُ يُصْلِحُ حَوْضَهُ وَالرَّجُلُ يَسْقِي مَاشِيَتَهُ، وَالرَّجُلُ يُقِمُ سِلْعَتَهُ فِي السُّوقِ وَيَخْفِضُ مِيزَانَهُ وَيَرْفَعُه» The Hour will start (suddenly) for the people while one is mending his watering hole, giving water to his cattle, setting his goods in the market or lowering his scale and raising it (selling and buying)."' Al-Bukhari recorded that Abu Hurayrah said that the Messenger of Allah ﷺ said, «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا، فَإِذَ طَلَعَتْ فَرَآهَا النَّاسُ آمَنُوا أَجْمَعُونَ، فَذَلِكَ حِينَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا، وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدْ نَشَرَ الرَّجُلَانِ ثَوْبَهُمَا بَيْنَهُمَا، فَلَا يَتَبَايَعَانِهِ وَلَا يَطْوِيَانِهِ. وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدِ انْصَرَفَ الرَّجُلُ بِلَبَنِ لِقْحَتِهِ فَلَا يَطْعَمُهُ، وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَهُو يَلِيطُ حَوْضَهُ فَلَا يَسْقِي فِيهِ، وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَالرَّجُلُ قَدْ رَفَعَ أَكْلَتَهُ إِلَى فِيهِ فَلَا يَطْعَمُهَا» (The Hour will not commence until the sun rises from the west.
When it rises (from the west) and the people see it, then, all people will believe. However, this is when faith does not benefit a soul that did not believe beforehand nor earned good in faith. The Hour will (all of a sudden) commence while two men have spread a garment between them, and they will neither have time to conclude the transaction nor to fold the garment. The Hour will commence after a man milked his animal, but he will not have time to drink it.
The Hour will start when a man is making his watering hole (for his animals), but will not have time to make use of the pool. And the Hour will commence while a man has raised his hand with a bite to his mouth, but will not eat it.) Al-`Awfi said that Ibn `Abbas commented on the Ayah, يَسْـَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِىٌّ عَنْهَا (They ask you as if you have good knowledge of it.) "As if you have good relations and friendship with them!"
Ibn `Abbas said, "When the people (pagans of Quraysh) asked the Prophet about the Last Hour, they did so in a way as if Muhammad was their friend! Allah revealed to him that its knowledge is with Him Alone and He did not inform a close angel or Messenger of it." The correct explanation for this Ayah is, as narrated from Mujahid, through Ibn Abi Najih, يَسْـَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِىٌّ عَنْهَا (They ask you as if you have Hafi of it.) means, `as if you had asked about its time and so its knowledge is with you.' Allah said, قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّهِ وَلَـكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لاَ يَعْلَمُونَ (Say: "The knowledge thereof is with Allah (Alone), but most of mankind know not.") When Jibril came in the shape of a bedouin man to teach the people matters of their religion, he sat next to the Messenger of Allah ﷺ asking him as if to learn.
Jibril asked the Messenger about Islam, then about Iman (faith) then about Ihsan (Excellence in the religion). He asked next, "When will the Hour start" Allah's Messenger ﷺ said, «مَا الْمَسْؤُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِل» (He who is asked about it has no more knowledge of it than the questioner.) Therefore, the Prophet was saying, `I have no more knowledge in it than you (O Jibril), nor does anyone have more knowledge in it than anyone else.' The Prophet then recited the Ayah, إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ (Verily, Allah, with Him (Alone) is the knowledge of the Hour.) 31:34 In another narration, Jibril asked the Prophet about the portents of the Hour, and the Prophet mentioned them.
The Prophet also said in this narration, «فِي خَمْسٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا الله» (Five, their knowledge is only with Allah) then recited this Ayah (31:34). In response to the Prophet's answers after each question, Jibril would say, "You have said the truth." This made the Companions wonder about this questioner who would ask a question and attest to every answer he was given. When Jibril went away, the Messenger of Allah ﷺ said to the Companions, «هَذَا جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُم» (This is Jibril, he came to teach you matters of your religion.)
In yet another narration, the Prophet commented, «وَمَا أَتَانِي فِي صُورَةٍ إِلَّا عَرَفْتُهُ فِيهَا إِلَّا صُورَتُهُ هَذِه» (I recognized him (Jibril) in every shape he came to me in, except this one.) Muslim recorded that `Aishah, may Allah be pleased with her, said; "When the bedouins used to come to the Prophet , they used to ask him about the Hour. The Prophet would answer them, while pointing at the youngest person among them, «إِنْ يَعِشْ هَذَا لَمْ يُدْرِكْهُ الْهَرَمُ حَتَّى قَامَتْ عَلَيْكُمْ سَاعَتُكُم» (If this (young man) lives, he will not become old before your Hour starts.)
The Prophet meant the end of their life that introduces them to the life in Barzakh, which is between this life and the Hereafter. Muslim recorded that Anas said that a man asked Allah's Messenger ﷺ about the Hour, and the Messenger ﷺ answered, «إِنْ يَعِشْ هَذَا الْغُلَامُ فَعَسَى أَنْ لَا يُدْرِكَهُ الْهَرَمُ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَة» (If this young boy lives, it might be that he will not become old before the Hour starts.)
Only Muslim collected this Hadith. Jabir bin `Abdullah said, "I heard the Messenger of Allah ﷺ saying, one month before he died, «تَسْأَلُونِي عَنِ السَّاعَةِ، وَإِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللهِ، وَأُقْسِمُ بِاللهِ مَا عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ الْيَوْمَ مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوسَةٍ تَأْتِي عَلَيْهَا مِائَةُ سَنَة» (You keep asking me about the Hour, when its knowledge is with Allah. I swear by Allah that there is no living soul on the face of the earth now will be alive a hundred years from now.)
Muslim collected this Hadith. A similar Hadith is recorded in Two Sahihs from Ibn `Umar, but he commented, "The Messenger of Allah ﷺ meant that his generation will be finished by that time reach its appointed term." Imam Ahmad recorded that Ibn Mas`ud said that the Prophet said, «لَقِيتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى، فَتَذَاكَرُوا أَمْرَ السَّاعَةِ قَالَ فَرَدُّوْا أَمْرَهُمْ إِلَى إِبْرَاهِيمَ عَلَيهِ السَّلَامُ، فَقَالَ: لَا عِلْمَ لِي بِهَا، فَرَدُّوا أَمْرَهُمْ إِلَى مُوسَى فَقَالَ: لَا عِلْمَ لِي بِهَا، فَرَدُّوا أَمْرَهُمْ إِلَى عِيسَى فَقَالَ عِيسَى: أَمَّا وَجْبَتُهَا فَلَا يَعْلَمُ بِهَا أَحَدٌ إِلَّا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ، وَفِيمَا عَهِدَ إِلَيَّ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ أَنَّ الدَّجَّالَ خَارِجٌ قَالَ وَمَعِي قَضِيبَانِ، فَإِذَا رَآنِي ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الرَّصَاصُ، قَالَ: فَيُهْلِكُهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا رَآنِي حَتَّى إِنَّ الشَّجَرَ وَالْحَجَرَ يَقُولُ: يَا مُسْلِمُ إِنَّ تَحْتِي كَافِرًا فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ، قَالَ: فَيُهْلِكُهُمُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ يَرْجِعُ النَّاسُ إِلَى بِلَادِهِمْ وَأَوْطَانِهِمْ،قَالَ: فَعِنْدَ ذَلِكَ يَخْرُجُ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ، فَيَطَأُونَ بِلَادَهُمْ لَا يَأْتُون عَلَى شَيْءٍ إِلَّا أَهْلَكُوهُ وَلَا يَمُرُّونَ عَلَى مَاءٍ إِلَّا شَرِبُوه: قَالَ: ثُمَّ يَرْجِعُ النَّاسُ إِليَّ فَيَشْكُونَهُمْ فَأَدْعُو اللهَ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْهِمْ فَيُهْلِكُهُمْ وَيُمِيتُهُمْ حَتَّى تَجْوَى الْأَرْضُ مِنْ نَتْنِ رِيحِهِمْ أَيْ تُنْتِنُ، قَالَ: فَيُنْزِلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ الْمَطَرَ فَيَجْتَرِفُ أَجْسَادَهُمْ حَتَّى يَقْذِفَهُمْ فِي الْبَحْرِ. قال يزيد بن هارون: ثُمَّ تُنْسَفُ الْجِبَالُ وَتُمَدُّ الْأَرْضُ مَدَّ الْأَدِيمِ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى حَدِيثِ هُشَيْمٍ، قَالَ: فَفِيمَا عَهِدَ إِلَيَّ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ أَنَّ ذَلِكَ إِذَا كَانَ كَذَلِكَ، فَإِنَّ السَّاعَةَ كَالْحَامِلِ المُتِمِّ لَا يَدْرِي أَهْلُهَا مَتَى تُفَاجِئُهُمْ بِوَلَادَتِهَا لَيْلًا أَوْ نَهَارًا» (During the night of Isra', I met Ibrahim, Musa and `Isa.
They mentioned the matter of the Last Hour, and they asked Ibrahim about it, who said, `I do not have knowledge of it.' They asked Musa about it and he said, `I have no knowledge of it.' They then asked `Isa about it, and he said, `As for when it will occur, only Allah, the Exalted and Most Honored, knows that. My Lord has conveyed to me that the Dajjal (False Messiah) will appear, and I will have two staffs (spears) with me.
When he sees me, he will dissolve just as lead is dissolved. Allah will destroy him when he sees me, and the tree and the stone will say, `O Muslim! There is a disbeliever under (behind) me, so come and kill him.' Allah will destroy them (the Dajjal and his army), and the people will safely go back to their lands and areas. Thereafter, Gog and Magog will appear, and they will be swarming from every mound, sweeping over the earth and destroying everything they pass by.
They will drink every water source they pass. The people will come to me complaining about Gog and Magog and will invoke Allah, the Exalted and Most Honored, against them, and Allah will bring death to all of them until the earth rots with their stinking odor. Allah will send down rain on them and the rain will carry their corpses, until it throws them in the sea... My Lord, the Exalted and Most Honored has conveyed to me that when this occurs, the Hour will be just like the pregnant women when the term of pregnancy is full, her family does not know when she will surprise them and give birth, whether by night or by day.)
Ibn Majah also collected a similar Hadith Therefore these are the greatest of the Messengers but they did not have knowledge of the appointed term of the Hour. They asked `Isa about it and he spoke about its Signs, since he will descend in the last generations of this Ummah, implementing the Law of Allah's Messenger ﷺ, killing the Dajjal and destroying Gog and Magog people by the blessing of his supplication. `Isa merely informed them of the knowledge Allah gave him on this subject.
Imam Ahmad recorded that Hudhayfah said, "The Messenger of Allah ﷺ was asked about the Hour and he said, «عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ لَا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ، وَلَكِنْ سَأُخْبِرُكُمْ بِمَشَارِيطِهَا وَمَا يَكُونُ بَيْنَ يَدَيْهَا، إِنَّ بَيْنَ يَدَيْهَا فِتْنَةً وَهَرَجًا» (Its knowledge is with my Lord, the Exalted and Most Honored, none can reveal its time except Him. However, I will tell you about its portents and the signs that precede it.
Before it commences, there will be Fitnah (trials) and Harj.) They asked, `O Allah's Messenger! We know the meaning of the Fitnah, so what is the Harj' He said, «بِلِسَانِ الْحَبَشَةِ الْقَتْل» (It means killing, in the Language of the Ethiopians. ) He then said, «وَيُلْقَى بَيْنَ النَّاسِ التَّنَاكُرُ، فَلَا يَكَادُ أَحَدٌ يَعْرِفُ أَحَدًا» (Isolation and loneliness will be common between people, and therefore, almost no one will be able to recognize any other.)" None among the collectors of the six Sunan collected this Hadith using this chain of narration.
Tariq bin Shihab said that the Messenger of Allah ﷺ kept mentioning the Last Hour for people kept asking about it, until this Ayah was revealed, يَسْـَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَـهَا (They ask you about the Hour (Day of Resurrection): "When will be its appointed time"). An-Nasa'i collected this Hadith, which has a strong chain. Therefore, this unlettered Prophet , the chief of the Messengers ﷺ and their Seal, Muhammad, may Allah's peace and blessings be on him, Muhammad, the Prophet of mercy, repentance, Al-Malhmah (great demise of the disbelievers), Al-`Aqib (who came after many Prophets), Al-Muqaffi (the last of a succession) and Al-Hashir (below whom will all people be gathered on the Day of Gathering) Muhammad who said, as collected in the Sahih from Anas and Sahl bin Sa`d, «بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْن» (My sending and the Hour are like this,) and he joined his index and middle fingers.
Yet, he was commanded to defer knowledge of the Last Hour to Allah if he was asked about it, قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّهِ وَلَـكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لاَ يَعْلَمُونَ (Say: "The knowledge thereof is with Allah (alone), but most of mankind know not.")
কোনো তাফসির নির্বাচন করা নেই। উপরের তালিকা থেকে এক বা একাধিক গ্রন্থ বাছাই করুন।