দ্বীন নিয়ে পাহাড়ে পলায়ন
সংক্ষেপে
এমন সময় আসবে যখন মুমিনের সবচেয়ে নিরাপদ সম্পদ হবে পাহাড়ের চূড়ায় রাখা একপাল ভেড়া, শহরের ফিতনা থেকে দ্বীন নিয়ে পলায়ন করে।
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'এমন সময় আসবে যখন মুসলিমের সর্বোত্তম সম্পদ হবে ভেড়া, যা সে পাহাড়ের চূড়া ও বৃষ্টিবহুল স্থানে নিয়ে যাবে, ফিতনা থেকে তার দ্বীন নিয়ে পলায়ন করে' (সহিহ বুখারি ১৯, ৬৪৯৫, ৭০৮৮)।
ব্যাপক ফিতনার সময়কে বর্ণনা করে; এটি একক কোনো তারিখ নয়, বারবার ঘটে।
ইবনে হাজার একে ফিতনা ব্যাপক হলে দ্বীন রক্ষার প্রশংসা হিসেবে পড়েন, সমাজ ত্যাগের স্থায়ী নির্দেশ হিসেবে নয়। মুমিন কেবল ততটুকুই সরে থাকে যতটুকু তার দ্বীন নিরাপদ রাখতে প্রয়োজন, এবং সুযোগ হলে কল্যাণে ফিরে আসে।
আপনার মর্যাদা বা সম্পদের চেয়ে দ্বীনকে প্রিয় রাখুন; যখন ফিতনা থামানো যায় না, তখন অন্যের প্রতি কর্তব্য না ছেড়ে দ্বীন রক্ষার জন্য প্রয়োজনমতো সরে থাকুন।
খসড়া বিবরণী, আলেম পর্ষদের চূড়ান্ত যাচাই প্রক্রিয়াধীন। পূর্ণ পাঠ ‘উৎস’ ট্যাবে এবং আলেমদের পর্যালোচনা ‘তাহকীক’ ট্যাবে দেখুন।
আলামতের ধারাবাহিকতায় অবস্থান
হাদীসসমূহে এগুলোর কোনো নির্দিষ্ট ধারাবাহিক ক্রম উল্লেখিত হয়নি; বরং বিভিন্ন সময়ে এর একাধিক আলামত যুগপৎভাবে প্রকাশ পেতে পারে। সহীহ বুখারীর ৭১২১ নম্বর হাদীসে এ ধরনের কয়েকটি আলামত একসাথে বর্ণিত হয়েছে।
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হাদিসসমূহ
সংগ্রহশালার সব হাদিস পড়ুন →ট্যাগগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত, আলেমদের দ্বারা পর্যালোচনার কাজ চলছে।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا الْمَاجِشُونُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ خَيْرُ مَالِ الرَّجُلِ الْمُسْلِمِ الْغَنَمُ، يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ، يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ ".
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, মানুষের উপর এক যামানা আসবে যখন বকরিই হবে মুসলিমের উত্তম সম্পদ। সে তাঁর দ্বীনকে নিয়ে ফিতনা থেকে দূরে থাকার উদ্দেশে পর্বত শৃঙ্গে ও বৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাবে। [1] [১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ الْمُسْلِمِ غَنَمٌ، يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ، يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ ".
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শীঘ্রই এমন এক সময় আসবে যখন মুসলিমদের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সম্পদ হবে ছাগল। ফিতনা থেকে দ্বীন রক্ষার্থে পলায়নের জন্য তারা এগুলো নিয়ে পর্বতের চূড়ায় এবং বৃষ্টিপাতের জায়গাগুলোতে আশ্রয় নেবে।[1] [১৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرُ مَالِ الْمُسْلِمِ غَنَمًا يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ " .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই বকরীই হবে মুসলিমদের উত্তম সম্পদ। তা নিয়ে তারা পাহাড়ের চূড়ায় ও বৃষ্টির পানি এলাকায় চলে যাবে, তাদের দীনকে ফিতনা থেকে রক্ষার জন্য পালাবে।[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ الْمُسْلِمِ غَنَمٌ يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ " .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই মুসলিমদের সর্বাপেক্ষা উত্তম সম্পদ হবে মেষ-বকরী। তারা ফিতনা-ফাসাদ থেকে তাদের দীন ও জীবন বাঁচাতে সেগুলো নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে এবং পানির উৎস সমৃদ্ধ চারণভূমিতে পলায়ন করবে।
মুহাদ্দিস ও আলেমদের মতামত
আলেমদের মতে এটি আংশিক প্রকাশ পেয়েছে, কিংবা এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে
খসড়া পর্যালোচনা: চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার আগে প্রতিটি উদ্ধৃতি মূল কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইবনে হাজার আসকালানিমৃ. ৮৫২ হি.
হাদিসটিকে ব্যাখ্যা করেছেন ফিতনা থেকে দ্বীন অক্ষুণ্ন রেখে সরে থাকার প্রশংসা হিসেবে: যখন ফিতনা ব্যাপক হয়, তখন মুমিনের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হতে পারে পাহাড়ের চূড়া ও বৃষ্টিবহুল স্থানে পশুপাল নিয়ে শহরের বিবাদ থেকে দূরে থাকা। তিনি সতর্ক করেছেন যে এটি সমাজ ত্যাগের সর্বজনীন নির্দেশ নয়, বরং যখন ফিতনা অন্যভাবে এড়ানো যায় না তখনকার নির্দেশনা।
ফাতহুল বারি, সহিহ বুখারি ১৯ ও ৬৪৯৫-এর ব্যাখ্যা
অর্থ ও প্রেক্ষাপট
নবী ﷺ বলেছেন এমন সময় আসবে যখন মুসলিমের সর্বোত্তম সম্পদ হবে পাহাড়ের চূড়ায় রাখা একপাল পশু, ফিতনা থেকে দ্বীন নিয়ে পলায়ন করে। আলেমরা একে ফিতনায় দ্বীন রক্ষার প্রশংসা হিসেবে পড়েন, সমাজ ত্যাগের নির্দেশ হিসেবে নয়।
প্রাসঙ্গিক মূল হাদিসসমূহ: সহিহ বুখারি ৬৪৯৫ · সহিহ বুখারি ৭০৮৮
মুহাদ্দিস ও মুফাসসিরদের ব্যাখ্যা
- ফিতনা ব্যাপক হলে দ্বীন রক্ষার প্রশংসা, কেবল ততটুকু সরে থাকা যতটুকু দ্বীন নিরাপদ রাখতে প্রয়োজন: ইবনে হাজার।
- সমাজ ত্যাগের স্থায়ী নির্দেশ নয়; ফিতনা কেটে গেলে মুমিন কল্যাণ ও জামাআতে ফিরে আসে।
সতর্ক পাঠ ও মূলনীতি
- আলামত কোনো বিধান নয়; এটি শহরের জীবনকে নিন্দা করে না, বিচ্ছিন্নতাকে বাধ্যতামূলকও করে না।
খসড়া: তথ্য ও ভাষা গবেষক দল এবং আলেম বোর্ডের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়।