পর্যালোচনা সংস্করণএটি আলেমদের পর্যালোচনাধীন একটি খসড়া সংস্করণ। এখনও চূড়ান্তভাবে প্রকাশের জন্য নয়।
আল ফিতান
সম্পূর্ণ ১,৯৮৮টি বর্ণনা · সকল ৭৩টি অধ্যায়نعيم بن حماد المروزي (ت ۲۲৮ هـ)

কিতাবুল ফিতান · ইমাম নুআইম ইবনে হাম্মাদ

ইমাম নুআইম ইবনে হাম্মাদ আল-মারওয়াযী (ওফাত ২২৮ হিজরী)-এর কিতাবুল ফিতানের সম্পূর্ণ ১,৯৮৮টি বর্ণনার সংগ্রহ। সকল ৭৩টি অধ্যায়ের মূল আরবি পাঠ্যের সাথে প্রাঞ্জল বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদ, সিহাহ সিত্তাহর সাথে মিল এবং মুহাদ্দিসদের তাহকীকী বিশ্লেষণ যুক্ত করা হয়েছে।

১,৯৮৮মোট রেওয়ায়েত
৭৩মোট অধ্যায়
৪৬৫মারফূ' (নবী ﷺ)
১০১সিহাহ সিত্তাহ সাদৃশ্য
66

কিয়ামতের পূর্বমুহূর্তের অন্যান্য প্রধান আলামতসমূহ

ما يكون من علامات الساعة

3 টি বর্ণনা
কিতাবুল ফিতান #১,৭৭৮খণ্ড ২ · পৃষ্ঠা ৬২৫
🟢 মারফূ' (নবী ﷺ)মান: নির্ধারিত নয় (দুর্বল)
সনদ দেখুন (হাদীসের সূত্রপরম্পরা)▼

حدثنا ابن المبارك، عن خالد أبي العلاء، عن عطية، عن أبي سعيد الخدري، رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال

كيف أنعم وصاحب القرن قد التقم القرن واستمع بالأذن حتى يؤمر بالنفخ فينفخ قولوا حسبنا الله ونعم الوكيل، على الله توكلنا

বাংলা✓ সিহাহ সিত্তাহর সমর্থিত পাঠ

আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেনঃ আমি কিভাবে নিশ্চিন্তে আরাম করতে পারি, অথচ শিঙ্গাওয়ালা (ফিরিশতা ইসরাফীল আঃ) মুখে শিঙ্গা নিয়ে অধীর আগ্রহে কান পেতে শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়ার নির্দেশ শোনার অপেক্ষায় আছেন, কখন ফুঁ দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হবে, আর অমনি তিনি ফুঁ দিবেন। বিষয়টি রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের নিকট অত্যন্ত ভীতিকর মনে হলো। তখন তিনি তাদেরকে বললেনঃ তোমরা বল যে, আমাদের জন্য আল্লাহ্ তা'আলাই যথেষ্ট, তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধানকারী। আমরা আল্লাহ্ তা'আলার উপর ভরসা করলাম। সহীহ, সহীহাহ (২০৭৯)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। এ সূত্র ছাড়াও আতিয়া হতে, তিনি আবূ সাইদ (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামহতে এই সূত্রে হাদীসটি একইরকম বর্ণিত আছে।

0
🔗সিহাহ সিত্তাহ সাদৃশ্য:tirmidhi:2431 (strong)
ID: nuaym-fitan-1778 · Ch 66
কিতাবুল ফিতান #১,৭৮০খণ্ড ২ · পৃষ্ঠা ৬২৫
মান: নির্ধারিত নয় (দুর্বল)
সনদ দেখুন (হাদীসের সূত্রপরম্পরা)▼

حدثنا ابن المبارك، عن سفيان، عن منصور، وسليمان، عن إبراهيم، عن علقمة، " {إن زلزلة الساعة شيء عظيم} [الحج: 1] قال: قبل الساعة "

حدثنا ابن المبارك، عن سفيان، عن منصور، وسليمان، عن إبراهيم، عن علقمة، " {إن زلزلة الساعة شيء عظيم} [الحج: 1] قال: قبل الساعة "

বাংলা✓ সিহাহ সিত্তাহর সমর্থিত পাঠ

ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম(সূরা হজ্জের প্রথম) এ দু'টি আয়াতের মাধ্যমে নিজের আওয়াজ বড় করলেনঃ “হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়াবহ ব্যাপার... বস্তুত আল্লাহ তা'আলার শাস্তি বড় কঠিন"- (সূরা হাজ্জ ১-২)। তার সাহাবীগণ এই ডাক শুনতে পেয়ে নিজেদের জন্তুযানের গতি দ্রুত করলেন এবং জেনে নিলেন যে, তিনি কিছু বলবেন। (সাহাবীগণ তার নিকট পৌছলে) তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান সেই দিন কোনটি? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই বেশী ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটা সেই দিন, যেদিন আল্লাহ তা'আলা আদম (আঃ)-কে ডেকে বলবেনঃ হে আদম! দোযখের ফৌজ তৈরি কর। তিনি বলবেন, হে আমার প্রতিপালক! দোযখের ফৌজ কারা এবং তাদের সংখ্যা কত? তিনি বলবেনঃ প্রতি হাজারে নয় শত নিরানব্বই জন দোযখে যাবে এবং একজন জান্নাতে যাবে। সাহাবীগণ একথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। তখন কারো মুখে হাসি ছিল না। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবললেনঃ তোমরা কাজ কর এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! (অন্যান্য জাতির তুলনায়) তোমাদের দৃষ্টান্ত হল, উটের পার্শ্বদেশের তিলক অথবা চতুষ্পদ জন্তুর বাহুর দাগের মত। সহীহঃ বুখারী (৪৭৪১), মুসলিম (১/১৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।

0
কিতাবুল ফিতান #১,৭৮২খণ্ড ২ · পৃষ্ঠা ৬৩৭
মান: নির্ধারিত নয় (দুর্বল)
সনদ দেখুন (হাদীসের সূত্রপরম্পরা)▼

حدثنا ابن المبارك، عن كهمس، عن عبد الله بن بريدة، عن يحيى بن يعمر، عن ابن عمر، عن عمر، رضي الله عنهما قال: سأل رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الساعة، فقال

ما المسئول عنها بأعلم من السائل أن تلد الأمة ربتها، أو ربها، وأن ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطاولون في البنيان

বাংলা✓ সিহাহ সিত্তাহর সমর্থিত পাঠ

অত্র গ্রন্থের সংকলক ইমাম আবূল হুসায়ন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ) বলেন, আমরা এ কিতাব আল্লাহর সাহায্যে শুরু করছি এবং তাকেই যথেষ্ট মনে করছি। মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ ভিন্ন আমাদেরকে আর তাওফীকদাতা কেউ নেই। ১—(১/৮) আবূ খাইসামাহ যুহায়র বিন হারব (রহঃ) ..... ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামার থেকে বর্ণিত [1]। তিনি বলেন, বাসরার অধিবাসী মা'বাদ জুহাইনাহ প্রথম ব্যক্তি যে তাকদীর অস্বীকার করে। আমি ও হুমায়দ ইবনু 'আবদুর রহমান উভয়ে হজ্জ অথবা উমরাহ'র উদ্দেশে রওয়ানা করলাম। আমরা বললাম, যদি আমরা এ সফরে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর যে কোন সাহাবার সাক্ষাৎ পেয়ে যাই তাহলে ঐ সব লোক তাকদীর সম্বন্ধে যা কিছু বলে সে সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করব। সৌভাগ্যক্রমে আমরা আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) এর মসজিদে ঢুকার পথে পেয়ে গেলাম। আমি ও আমার সাখী তাকে এমনভাবে ঘিরে নিলাম যে, আমাদের একজন তার ডান এবং অপরজন তার বামে থাকলাম। আমি মনে করলাম আমার সাখী আমাকেই কথা বলার সুযোগ দেবে। (কারণ আমি ছিলাম বাকপটু)। আমি বললামঃ "হে আবূ আবদুর রহমান। আমাদের এলাকায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটেছে, তারা একদিকে কুরআন পাঠ করে অপরদিকে জ্ঞানের অন্বেষণও করে। ইয়াহইয়া তাদের কিছু গুণাবলীর কথাও উল্লেখ করলেন। তাদের ধারণা (বক্তব্য) হচ্ছে, তাকদীর বলতে কিছু নেই এবং প্রত্যেক কাজ অকস্মাৎ সংঘটিত হয়।" ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেনঃ “যখন তুমি এদের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আর আমার সাথেও তাদের কোন সম্পর্ক নেই। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ) আল্লাহর নামে শপথ করে বললেন, এদের কারো কাছে যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং তা দান-খয়রাত করে দেয় তবে আল্লাহ তার এ দান গ্রহণ করবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত সে তাকদীরের উপর ঈমান না আনবে। অতঃপর তিনি বললেন, আমার পিতা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ একদা আমরা রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর হাটুদ্বয়ের সাথে মিলিয়ে দিলো এবং দুই হাতের তালু তার (অথবা নিজের) উরুর উপর রাখলো এবং বলল, হে মুহাম্মাদসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবললেনঃ ইসলাম হচ্ছে এই– তুমি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ (মাবূদ) নেই, এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়িম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমযানের সওম পালন করবে এবং যদি পথ অতিক্রম করার সামর্থ্য হয় তখন বাইতুল্লাহর হজ্জ করবে। সে বললো, আপনি সত্যই বলেছেন। বর্ণনাকারী উমর (রাযিঃ) বলেন, আমরা তার কথা শুনে আশ্চর্যাম্বিত হলাম। কেননা সে (অজ্ঞের ন্যায়) প্রশ্ন করছে আর (বিজ্ঞের ন্যায়) সমর্থন করছে। এরপর সে বললো, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবললেনঃ এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি বেশি কিছু জানে না। অতঃপর সে বলল, তাহলে আমাকে এর কিছু নির্দশন বলুন। তিনি বললেন, দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে [2] এবং (এককালের) নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, দরিদ্র, বকরীর রাখালদের বড় দালান-কোঠা নির্মাণের প্রতিযোগিতায় গৰ্ব-অহংকারে মত্ত দেখতে পাবে [3]। বর্ণনাকারী উমার (রাযিঃ) বলেন, এরপর লোকটি চলে গেলো। আমি বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবললেন, তিনি জিবরীল। তোমাদের কাছে তিনি তোমাদের দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ১ম খণ্ড, ১; বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার ১ম খণ্ড)