পর্যালোচনা সংস্করণএটি আলেমদের পর্যালোচনাধীন একটি খসড়া সংস্করণ। এখনও চূড়ান্তভাবে প্রকাশের জন্য নয়।
আল ফিতান
সম্পূর্ণ ১,৯৮৮টি বর্ণনা · সকল ৭৩টি অধ্যায়نعيم بن حماد المروزي (ت ۲۲৮ هـ)

কিতাবুল ফিতান · ইমাম নুআইম ইবনে হাম্মাদ

ইমাম নুআইম ইবনে হাম্মাদ আল-মারওয়াযী (ওফাত ২২৮ হিজরী)-এর কিতাবুল ফিতানের সম্পূর্ণ ১,৯৮৮টি বর্ণনার সংগ্রহ। সকল ৭৩টি অধ্যায়ের মূল আরবি পাঠ্যের সাথে প্রাঞ্জল বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদ, সিহাহ সিত্তাহর সাথে মিল এবং মুহাদ্দিসদের তাহকীকী বিশ্লেষণ যুক্ত করা হয়েছে।

১,৯৮৮মোট রেওয়ায়েত
৭৩মোট অধ্যায়
৪৬৫মারফূ' (নবী ﷺ)
১০১সিহাহ সিত্তাহ সাদৃশ্য
কিতাবুল ফিতান #৪৩৩খণ্ড ২ · পৃষ্ঠা ১৬৫
🟢 মারফূ' (নবী ﷺ)মান: নির্ধারিত নয় (দুর্বল)
সনদ দেখুন (হাদীসের সূত্রপরম্পরা)▼

حدثنا عبد الوهاب الثقفي، وأبو معاوية، عن عبيد الله، عن نافع، عن ابن عمر، رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم

من حمل علينا السلاح فليس منا من سل علينا السلاح

বাংলা✓ সিহাহ সিত্তাহর সমর্থিত পাঠ

আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের উপর অস্ত্র উঠাবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৭৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)

0
কিতাবুল ফিতান #১,৪৮৪খণ্ড ২ · পৃষ্ঠা ৫২৫
🟢 মারফূ' (নবী ﷺ)মান: নির্ধারিত নয় (দুর্বল)
সনদ দেখুন (হাদীসের সূত্রপরম্পরা)▼

حدثنا نعيم ثنا الحكم بن نافع، عن سعيد بن سنان، عن أبي الزاهرية، عن كثير بن مرة ، عن ابن عمر، رضي الله عنهما، عن النبي صلى الله عليه وسلم، أنه تخوف الدجال، وذكر من علاماته وأماراته، ومقدمات أمره، حتى ظن الملأ أنه ثائر عليهم من بينهم من النخل، أو خارج من النخل عليهم، ثم قام لبعض شأنه، ثم عاد، وقد اشتد تخوف من حضره وبكاؤهم، فقال

مهيم؟ ما الذي أبكاكم؟ إن يخرج وأنا فيكم فأنا حجيجه، وإن يخرج ولست فيكم فامرؤ حجيج نفسه، والله خليفتي على كل مؤمن، إحدى عينيه مطموسة، والأخرى ممزوجة بالدم، كأنها الزهرة

বাংলা✓ সিহাহ সিত্তাহর সমর্থিত পাঠ

আবু খাইসামাহ, যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনু মিহরান আর রাযী (রহঃ) ..... নাওওয়াস ইবনু সাম’আন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সকালে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামদাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। আলোচনার সময় তিনি তার ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেন। পরে অনেক গুরুত্ব সহকারে উপস্থিত করেন যাতে তাকে আমরা ঐ বৃক্ষরাজির নির্দিষ্ট এলাকায় (আবাসস্থল সম্পর্কে) ধারণা করতে লাগলাম। এরপর আমরা সন্ধ্যায় আবার তার কাছে গেলাম। তিনি আমাদের মধ্যে এর প্রভাব দেখতে পেয়ে বললেন, তোমাদের ব্যাপার কি? আমরা বললাম, হে রাসূলুল্লাহ! আপনি সকালে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এতে আপনি কখনো ব্যক্তিত্বকে তুচ্ছ করে তুলে ধরেছেন, আবার কখনো তার ব্যক্তিত্বকে বড় করে তুলে ধরেছেন। ফলে আমরা মনে করেছি যে, দাজ্জাল বুঝি এ বাগার মধ্যেই বিদ্যমান। এ কথা শুনে তিনি বললেন, দাজ্জাল নয়, বরং তোমাদের ব্যাপারে অন্য কিছুর আমি অধিক ভয় করছি। তবে শোন, আমি তোমাদের) মধ্যে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয় তবে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। তোমাদের প্রয়োজন হবে না। আর যদি আমি তোমাদের মাঝে না থাকাবস্থায় দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হয়, তবে প্রত্যেক মুমিন লোক নিজের পক্ষ হতে তাকে প্রতিহত করবে। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহ তা’আলাই হলেন আমার পক্ষ হতে তত্ত্বাবধানকারী। দাজ্জাল যুবক এবং ঘন চুল বিশিষ্ট হবে, চোখ আঙ্গুরের ন্যায় হবে। আমি তাকে কাফির ‘আবদুল উয্যা ইবনু কাতান এর মতো মনে করছি। তোমাদের যে কেউ দাজ্জালের সময়কাল পাবে সে যেন সূরা আল-কাহফ-এর প্রথমোক্ত আয়াতসমূহ পাঠ করে। সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপথ হতে আবির্ভূত হবে। সে ডানে-বামে দুর্যোগ সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা অটল থাকবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! দুনিয়াতে দাজ্জালের অগ্রসরতা কি রকম বৃদ্ধি পাবে? তিনি বললেন, বাতাসের প্রবাহ মেঘমালাকে যে রকম হাকিয়ে নিয়ে যায়। সে এক কাওমের কাছে এসে তাদেরকে কুফুরীর দিকে ডাকবে। তারা তার উপর ঈমান আনবে এবং তার আহ্বানে সাড়া দিবে। অতঃপর সে আকাশমণ্ডলীকে আদেশ করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং ভূমিকে নির্দেশ দিবে, ফলে ভূমি গাছ-পালা ও শস্য উৎপন্ন করবে। তারপর সন্ধ্যায় তাদের গবাদি পশুগুলো পূর্বের চেয়ে বেশি লম্বা কুজ, প্রশস্ত স্তন এবং পেটভর্তি অবস্থায় তাদের কাছে ফিরে আসবে। তারপর দাজ্জাল অপর এক কাওমেরর কাছে আসবে এবং তাদেরকে কুফুরীর প্রতি ডাকবে। তারা তার কথাকে উপেক্ষা করবে। ফলে সে তাদের নিকট হতে প্রত্যাবর্তন করবে। আমনি তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও পানির অনটন দেখা দিবে এবং তাদের হাতে তাদের ধন-সম্পদ কিছুই থাকবে না। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে সেটাকে সম্বোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন জমিনের ধন-ভাণ্ডার বের হয়ে তার চতুষ্পার্শে একত্রিত হতে থাকবে, যেমন মধু মক্ষিকা তাদের সর্দারের চারপাশে সমবেত হয়। অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে তীরের লক্ষ্যস্থলের ন্যায় দুটুকরো করে ফেলবে। তারপর সে আবার তাকে আহবান করবে। যুবক আলোকময় হাস্যোজ্জল চেহারায় তার সম্মুখে এগিয়ে আসবে। এ সময় আল্লাহ রববুল আলামীন ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) কে প্রেরণ করবেন। তিনি দু' ফেরেশতার কাঁধের উপর ভর করে ওয়ারস ও জাফরান রং এর জোড়া কাপড় পরিহিত অবস্থায় দামেশক নগরীর পূর্ব দিকের উজ্জ্বল মিনারে অবতরণ করবেন। যখন তিনি তার মাথা ঝুঁকবেন তখন ফোটা ফোটা ঘাম তার শরীর থেকে গড়িয়ে পড়বে। তিনি যে কোন কফিরের কাছে যাবেন সে তার শ্বাসের বাতাসে ধ্বংস হয়ে যাবে। তার দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত যাবে তাঁর শ্বাসও ততদূর পর্যন্ত পৌছবে। তিনি দাজ্জালকে সন্ধান করতে থাকবেন। অবশেষে তাকে বাবে লুদ নামক স্থানে গিয়ে পাকড়াও করবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর ঈসা (আঃ) ঐ সম্প্রদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছেন। ঈসা (আঃ) তাদের কাছে গিয়ে তাদের চেহারায় হাত বুলিয়ে জান্নাতে তাদের স্থানসমূহের ব্যাপারে খবর দিবেন। এমন সময় আল্লাহ তা’আলা ঈসা (আঃ) এর প্রতি এ মর্মে ওয়াহী অবতীর্ণ করবেন যে, আমি আমার এমন বান্দাদের আবির্ভাব ঘটেয়েছি, যাদের সঙ্গে কারোই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। অতঃপর তুমি আমার মুমিন বান্দাদেরকে নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে যাও। তখন আল্লাহ তা’আলা ইয়াজুজ-মাজুজ কাওমকে পাঠাবেন। তারা ছাড়া পেয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলটি "বুহাইরায়ে তাবরিয়া"র (ভূমধ্যসাগর) উপকূলে এসে এর সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে দিবে। তারপর তাদের সর্বশেষ দলটি এ স্থান দিয়ে যাত্রাকালে বলবে, এ সমুদ্রে কোন সময় পানি ছিল কি? তারা আল্লাহর নবী ঈসা (আঃ) এবং তার সাথীদেরকে অবরোধ করে রাখবে। ফলে তাদের নিকট একটি বলদের মাথা বর্তমানে তোমাদের নিকট একশ দীনারের মূল্যের চেয়েও অধিক মূল্যবান প্রতিপন্ন হবে। তখন আল্লাহর নবী ঈসা (আঃ) এবং তার সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। ফলে আল্লাহ তা’আলা ইয়া'জুজ-মা'জুজ সম্প্রদায়ের প্রতি আযাব পাঠাবেন। তাদের ঘাড়ে এক প্রকার পোকা হবে। এতে একজন মানুষের মৃত্যুর মতো তারাও সবাই মরে নিঃশেষ হয়ে যাবে। তারপর ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ পাহাড় হতে জমিনে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু তারা অর্ধ হাত জায়গাও এমন পাবেন না যথায় তাদের পচা লাশ ও লাশের দুর্গন্ধ নেই। অতঃপর ‘ঈসা (আঃ) এবং তার সঙ্গীগণ পুনরায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। তখন আল্লাহ তা’আলা উটের ঘাড়ের মতো লম্বা এক ধরনের পাখি পাঠাবেন। তারা তাদেরকে বহন করে আল্লাহর ইচ্ছানুসারে কোন স্থানে নিয়ে ফেলবে। এরপর আল্লাহ এমন মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যার ফলে কাঁচা-পাকা কোন গৃহই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এতে জমিন বিধৌত হয়ে উদ্ভিদ শূন্য মৃত্তিকায় পরিণত হবে। অতঃপর পুনরায় জমিনকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হবে যে, হে জমিন! তুমি আবার শস্য উৎপন্ন করো এবং তোমার বারাকাত ফিরিয়ে দাও। সেদিন একদল মানুষ একটি ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর বাকলের নীচে লোকেরা ছায়া গ্রহণ করবে। দুধের মধ্যে বারাকাত হবে। ফলে দুগ্ধবতী একটি উটই একদল মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে, দুগ্ধবতী একটি গাভী একগোত্রীয় মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে এবং যথেষ্ট হবে দুগ্ধবতী একটি বকরী এক দাদার সন্তানদের (একটি ছোট গোত্রের) জন্য। এ সময় আল্লাহ তা’আলা অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বায়ু প্রেরণ করবেন। এ বায়ু সকল মুমিন লোকদের বগলে গিয়ে লাগবে এবং সমস্ত মুমিন মুসলিমদের রূহ কবয করে নিয়ে যাবে। তখন একমাত্র মন্দ লোকেরাই এ পৃথিবীতে বাকী থাকবে। তারা গাধার ন্যায় পরস্পর একে অন্যের সাথে প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। এদের উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭১০৬. ইসলামিক সেন্টার)

কিতাবুল ফিতান #১,৫৯৬খণ্ড ২ · পৃষ্ঠা ৫৭১
🟢 মারফূ' (নবী ﷺ)মান: নির্ধারিত নয় (দুর্বল)
সনদ দেখুন (হাদীসের সূত্রপরম্পরা)▼

حدثنا ابن وهب، عن حنظلة، سمع سالما، يقول: سمعت ابن عمر، رضي الله عنه يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أريت عند الكعبة مما يلي المقام رجلا آدم سبط الرأس، واضعا يديه على رجلين، يسكب رأسه، أو يقطر رأسه، ماء، فسألت: من هذا؟ فقال قائل: هذا عيسى ابن مريم "

حدثنا ابن وهب، عن حنظلة، سمع سالما، يقول: سمعت ابن عمر، رضي الله عنه يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أريت عند الكعبة مما يلي المقام رجلا آدم سبط الرأس، واضعا يديه على رجلين، يسكب رأسه، أو يقطر رأسه، ماء، فسألت: من هذا؟ فقال قائل: هذا عيسى ابن مريم "

বাংলা✓ সিহাহ সিত্তাহর সমর্থিত পাঠ

ইবনু নুমায়র (রহঃ) ..... ইবনু উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেন, আমি (স্বপ্নযোগে) কা'বার নিকটে খাড়া চুল বিশিষ্ট বাদামী রঙের এক ব্যক্তিকে দু'জন লোকের (কাঁধের) উপর হাত রাখা অবস্থায় দেখেছি। তার মাথা থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছিল অথবা বলেছেন, ফোটা ফোটা পানি পড়ছিল। আমি জানতে চাইলাম, ইনি কে? লোকেরা বললো, ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) অথবা বলেছেন, আল মাসীহ ইবনু মারইয়াম (আঃ)। সালিম বলেন, ইবনু উমর (রাযিঃ) সঠিকভাবে অবগত নন, রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকোনটি বলেছেন। তবে তিনি এ কথাও বলেছেন যে, তার পেছনে আমি এমন এক ব্যক্তিকেও দেখেছি, যে রক্তবর্ণের, স্থুলদেহী, মাথার চুল কোঁকড়ানো, ডান চোখ কানা, আকৃতিতে আমার দেখা (কাফির) ইবনু কাতানের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। আমি জানতে চাইলাম, এ লোকটি কে? তারা বললেন, এ হলো মাসীহে দাজ্জাল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩২৪, ইসলামিক সেন্টারঃ)

🔗সিহাহ সিত্তাহ সাদৃশ্য:muslim:169c (partial)
ID: nuaym-fitan-1596 · Ch 61