قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنتُ إِلَّا بَشَرًا رَّسُولًا93
বাংলা বলুন, ‘পবিত্র মহান আমার রব! আমি তো একজন মানুষ, একজন রাসূল ছাড়া আর কিছু নই।’
English Say, 'Exalted is my Lord! Was I anything but a human messenger?'
মেঘস্পর্শী দৈত্যের রূপকথা বনাম সুন্নাহর বাস্তবতা: রাসূল ﷺ কেন মদিনার কিশোর ইবনে সাইয়্যাদের পিছু নিয়েছিলেন, শারীরিক আকৃতি এবং পিতা-মাতা সংক্রান্ত হাদীসের তাহকীক।
আমাদের লোকমুখে প্রচলিত ধারণা যে দাজ্জাল হবে মেঘ স্পর্শ করা বিশাল দানব যার এক পা থাকবে সাগরে আরেক পা পাহাড়ে। সহীহ সুন্নাহ এই রূপকথাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে। আহলুস সুন্নাহর সর্বসম্মত আকীদা অনুযায়ী দাজ্জাল একজন রক্ত-মাংসের আদম সন্তান, যে সাধারণ মানুষের মতোই খাদ্য গ্রহণ করবে এবং পরিশেষে বাবে লুদে হযরত ঈসা (আ.)-এর বর্শার ফলায় নিহত হয়ে রক্ত ঝরাবে।
সহীহ বুখারী (১৩৫৪) ও সহীহ মুসলিমে (২৯৩০) বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বয়ং মদিনার ইহুদী কিশোর সাফ ইবনে সাইয়্যাদকে দাজ্জাল সন্দেহে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি খেজুর গাছের আড়ালে লুকিয়ে লুকিয়ে পা টিপে এগিয়ে গিয়েছিলেন তার বিড়বিড়ানি শোনার জন্য। নবীজি ﷺ যদি দাজ্জালকে পাহাড়সমান কোনো দৈত্য মনে করতেন, তবে কখনোই মদিনার সাধারণ এক কিশোরের পিছু নিতেন না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ দাজ্জালের শারীরিক বিবরণ সুস্পষ্ট করে গেছেন: ১. মধ্যম আকৃতির কিন্তু চওড়া ও বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী যুবক; ২. ঘন কোঁকড়ানো চুল; ৩. ভেতরের দিকে বাঁকানো পায়ের পাতায় হাঁটার ধরন (أفحج); ৪. ডান চোখ নষ্ট ও ভেসে থাকা আঙ্গুরের মতো ফোলা; ৫. কপালে সুস্পষ্ট 'কাফ-ফা-রা' বা কাফির লেখা; ৬. সে হবে চির-বন্ধ্যা, তার কোনো সন্তান হবে না।
সুনানে তিরমিযীর (২২৪৮) যে বর্ণনায় বলা হয়েছে দাজ্জালের বাবা-মা ৩০ বছর নিঃসন্তান থাকবে এবং পিতার নাক হবে পাখির ঠোঁটের মতো লম্বা—শায়খ আলবানী ও শুআইব আল-আরনাউতসহ শীর্ষ মুহাদ্দিসগণ একে 'যঈফ' (দুর্বল) সাব্যস্ত করেছেন। কারণ সনদের বর্ণনাকারী আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জুদআন অত্যন্ত দুর্বল। সহীহ সূত্রে কেবল এটুকুই প্রমাণিত যে সে মানব পিতা-মাতার সন্তান এবং সে নিজে বন্ধ্যা।
আধুনিক যুগের কিছু বক্তা দাবি করেন দাজ্জাল কোনো ব্যক্তিই নয়, বরং দাজ্জাল হলো 'পশ্চিমা ভোগবাদী সভ্যতা' বা 'মিডিয়া'। নিঃসন্দেহে বস্তুবাদী ব্যবস্থার মধ্যে দাজ্জালি ফিতনা রয়েছে; কিন্তু হাদীসে বর্ণিত রক্ত-মাংসের মানুষ দাজ্জালকে পুরোপুরি অস্বীকার করে রূপক ধারণা তৈরি করা আহলে সুন্নাহর আকীদার পরিপন্থী।
قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنتُ إِلَّا بَشَرًا رَّسُولًا93
বাংলা বলুন, ‘পবিত্র মহান আমার রব! আমি তো একজন মানুষ, একজন রাসূল ছাড়া আর কিছু নই।’
English Say, 'Exalted is my Lord! Was I anything but a human messenger?'
انْطَلَقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي نَفَرٍ فِيهِمْ عُمَرُ حَتَّى أَتَوْا أُطُمَ بَنِي مَغَالَةَ وَابْنُ صَيَّادٍ يَلْعَبُ مَعَ الصِّبْيَانِ ... فَذَهَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَتِرُ بِجُذُوعِ النَّخْلِ يَسْمَعُ مَا يَقُولُ قَبْلَ أَنْ يَرَاهُ ... فَقَالَ عُمَرُ دَعْنِي أَضْرِبْ عُنُقَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: إِنْ يَكُنْهُ فَلَنْ تُسَلَّطَ عَلَيْهِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْهُ فَلاَ خَيْرَ لَكَ فِي قَتْلِهِ
নবী ﷺ উমর (রা.)-সহ একদল সাহাবীকে নিয়ে বনু মাগালা দুর্গের কাছে গেলেন, যেখানে ইবনে সাইয়্যাদ শিশুদের সাথে খেলছিল... অতঃপর নবী ﷺ খেজুর গাছের গুঁড়ির আড়ালে লুকিয়ে লুকিয়ে এগোলেন যেন সে দেখতে পাওয়ার আগেই তিনি তার কথা শুনতে পারেন... উমর (রা.) বললেন: ‘আমাকে অনুমতি দিন, আমি ওর গর্দান উড়িয়ে দিই!’ নবী ﷺ বললেন: ‘সে যদি সত্যিই দাজ্জাল হয় তবে তার ওপর তোমার ক্ষমতা থাকবে না; আর যদি সে না হয়, তবে তাকে হত্যা করায় তোমার কোনো কল্যাণ নেই।’
The Prophet ﷺ went with a group including Umar to the fort of Banu Maghala where Ibn Sayyad was playing with children... The Prophet ﷺ stalked stealthily behind date palm trunks hoping to overhear what he was saying before being spotted... Umar said: 'Let me strike his neck!' The Prophet ﷺ said: 'If he is indeed him, you will have no power over him; and if he is not him, there is no good in you killing him.'
إِنَّ اللَّهَ لاَ يَخْفَى عَلَيْكُمْ إِنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ - وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى عَيْنِهِ - وَإِنَّ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ أَعْوَرُ الْعَيْنِ الْيُمْنَى كَأَنَّ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ
নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের কাছে গোপন নন; নিশ্চয় আল্লাহ কানা বা একচোখা নন—এবং তিনি নিজের চোখের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করলেন—আর নিশ্চয় মাসীহ আদ-দাজ্জালের ডান চোখ কানা, যেন তার চোখটি একটি ভেসে থাকা ফোলা আঙ্গুরের মতো।
Indeed Allah is not hidden from you; indeed Allah is not one-eyed—and he pointed with his hand to his eye—and indeed al-Masih ad-Dajjal is blind in the right eye, as if his eye were a floating grape.
يَمْكُثُ أَبُو الدَّجَّالِ وَأُمُّهُ ثَلاَثِينَ عَامًا لاَ يُولَدُ لَهُمَا وَلَدٌ ثُمَّ يُولَدُ لَهُمَا غُلاَمٌ أَعْوَرُ أَضَرُّ شَيْءٍ وَأَقَلُّهُ مَنْفَعَةً
দাজ্জালের পিতা-মাতা ত্রিশ বছর নিঃসন্তান অবস্থায় থাকবে। এরপর তাদের একটি কানা পুত্রসন্তান জন্ম নেবে, যে হবে সর্বাধিক ক্ষতিকর ও সবচেয়ে কম উপকারী। (সনদ দুর্বল: রাবী আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জুদআন দুর্বল)।
The father and mother of Dajjal will stay thirty years without a child, then a one-eyed boy will be born to them who will be most harmful and least beneficial. (Graded Da'if by muhaddithin due to weakness of Ali ibn Zayd ibn Jud'an).
সোশ্যাল মিডিয়া ও লোকমুখে প্রচারিত দাবির বিপরীতে সহীহ সুন্নাহর প্রামাণ্য দলীলসমূহ।
দাজ্জাল হলো এক বিশালদেহী বহুমাথাওয়ালা দৈত্য, যার মাথা মেঘ স্পর্শ করবে।
সহীহ বুখারী ও মুসলিম প্রমাণ করে যে দাজ্জাল স্বাভাবিক আকৃতির রক্ত-মাংসের একজন মানুষ, যে মানুষের মতোই খাবার খাবে এবং বাজারে বাজারে হেঁটে বেড়াবে।
নবীজি ﷺ নাকি ভাবতেনই না যে কোনো সাধারণ মানুষ দাজ্জাল হতে পারে।
নবীজি ﷺ স্বয়ং মদিনার ইহুদী বালক ইবনে সাইয়্যাদকে দাজ্জাল সন্দেহে পরীক্ষা করেছিলেন এবং খেজুর গাছের আড়ালে লুকিয়ে তাকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
দাজ্জালের পিতা-মাতা ত্রিশ বছর নিঃসন্তান থাকার পর তার জন্ম হবে—এটি সহীহ হাদীস।
আলী ইবনে যায়েদ নামক দুর্বল রাবীর কারণে শীর্ষ মুহাদ্দিসগণ তিরমিযীর এই রেওয়ায়েতটিকে যঈফ (দুর্বল) সাব্যস্ত করেছেন।
হাদীসের মানে ভুল, দুর্বল তরজমা, উৎস নেই বা পুরোনো তথ্য? আমাদের জানান; প্রতিটি রিপোর্ট পর্যালোচনার তালিকায় যায় এবং মূল পাঠের যে কোনো সংশোধনী আলেম যাচাই করেন।