সিহাহ সিত্তাহ ও মুয়াত্তা থেকে ১,৮৯৯টি হাদিস, আল-মুসতাদরাক, মুসনাদে আহমাদ ও সুনানে দারিমি থেকে আরও ১,৩৬৪টি, এবং কিতাবুল ফিতান থেকে ১,৯৮৮টি বর্ণনা। ডিফল্টভাবে কেবল সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হচ্ছে; দুর্বল বা অন্যান্য বর্ণনা দেখতে চাইলে ফিল্টার ব্যবহার করতে পারেন।
কোন বিষয়ে কোন কিতাবে হাদিস আছে
▾
বিষয় ও হাদিসগ্রন্থ অনুযায়ী সহিহ ও হাসান হাদিসের সংখ্যা। হাদিসগুলো পড়তে যেকোনো ঘরে ক্লিক করুন। কিতাবুল ফিতানের বর্ণনা দেখতে 'দুর্বল বর্ণনা' ফিল্টার চালু করুন।
যুহায়র ইবনু হারব ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শীঘ্রই ইরাকবাসীরা না খাদ্যশস্য পাবে না দিরহাম পাবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, কি কারণে এ বিপদ সংঘটিত হবে? তিনি বললেন, অনারবদের কারণে। তারা তা (খাদ্যশস্য বা দিরহাম) দেয়া বন্ধ করে দিবে। তিনি পুনরায় বললেন, অচিরেই সিরিয়াবাসীদের নিকট কোন দীনার আসবে না এবং কোন খাদ্যশস্যও আসবে না। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, এ বিপদ কোন দিক থেকে আবির্ভাব হবে? তিনি বললেন, রোমের দিক থেকে। অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের শেষভাগে একজন খলীফা হবে, সে হাত ভরে ভরে ধন-সম্পদ দান করবে, গুণে গুণে দিবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবু নাযরাহ ও আবুল আলাকে প্রশ্ন করলাম, আপনাদের ধারণায় ইনি কি খলীফা উমার ইবনু ‘আবদুল আযীয? তারা উত্তরে বললেন, না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৫১, ইসলামিক সেন্টার)
নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী ও আলী ইবনু হুজর আস্ সা’দী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের খলীফাগণের মধ্যে একজন খলীফা এমন হবে, যে হাত ভরে ভরে দান করবে এবং মালের কোন গণনাই করবে না। ইবনু হুজর (রহঃ) এর রিওয়ায়াতেيَحْثُو الْمَالَ এর স্থলে يَحْثِي الْمَالَ বর্ণিত আছে (অর্থ একই)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৫৩, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার থেকে সেরা লোক আমাকে জানিয়েছেন যে, আম্মার (রাযিঃ) যখন পরিখা খনন করেছিলেন তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাথায় হাত রেখে তাকে লক্ষ্য করে বলেছেন, ইবনু সুমাইয়ার জন্য দুঃখ হয়। একটি বিদ্রোহী দল তোমাকে হত্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৫৬, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মুআয ইবনু আব্বাদ আল আম্বারী ও হুরায়ম ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ), ইসহাক ইবনু ইবরাহীম, ইসহাক ইবনু মানসূর, মাহমূদ ইবনু গায়লান ও মুহাম্মাদ ইবনু কুদামাহ্ (রহঃ) ...... আবূ মাসলমাহ্ (রহঃ) থেকে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে নায্র এর হাদীসের মধ্যে আছেযে, أَخْبَرَنِي مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي أَبُو قَتَادَةَ অর্থাৎ আমার চেয়ে উত্তম ব্যাক্তি আবূ কাতাদাহ আমাকে জানিয়েছেন এবং খালিদ ইবনু হারিসের হাদিসের মধ্যে আছে أُرَاهُ يَعْنِي أَبَا قَتَادَةَ অর্থাৎ সে লোকটি হল আবূ কাতাদাহ (রাযিঃ)। খালিদের হাদিসের মধ্যেبُؤْسَ ابْنِ سُمَيَّةَ এর পরিবর্তে وَيْسَ বা يَا وَيْسَ ابْنِ سُمَيَّةَ উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ ইবনু সুমাইয়্যাহ তোমার জন্য দুঃখ ও দরিদ্রতা অপেক্ষা করছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৫৭, ইসলামিক সেন্টার)
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَقْتُلُ عَمَّارًا الْفِئَةُ الْبَاغِيَةُ " .
আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ...... উম্মু সালামাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আম্মারকে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৬০, ইসলামিক সেন্টার)
مসহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৯১৭সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ)صحيح مسلمرقم ٢٩١٧
আবু বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরায়শের এ সম্প্রদায়টি আমার উম্মাতকে ধ্বংস করবে। এ কথা শুনে সহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমাদেরকে কি আদেশ করবেন? উত্তরে তিনি বললেন, লোকেরা যদি তাদের থেকে পৃথক হয়ে যেত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৬১, ইসলামিক সেন্টার ৭১১৬) আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ..... শুবাহ্ (রহঃ) হতে এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৬২, ইসলামিক সেন্টার)
مসহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৯১৮aসহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ)صحيح مسلمرقم ٢٩١٨a
‘আমর আন নাকিদ ও ইবনু আবু উমর (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিসরা (পারস্য রাজ) মারা গেছে। অতঃপর পারস্য রাজ আর হবে না। আর যখন রোম সম্রাট ধ্বংস হবে তারপর আর কোন রোম সম্রাট হবে না। কসম ঐ প্রতিপালকের, যার হাতে আমার জীবন, অবশ্যই তাদের ধন-সম্পদ আল্লাহর পথে বিলিয়ে দেয়া হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৬৩,ইসলামিক সেন্টার ৭১১৮) হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহইয়া অপর সূত্রে ইবনু রাফি ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) হতে সুফইয়ান (রহঃ) এর সানাদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلَكَ كِسْرَى ثُمَّ لاَ يَكُونُ كِسْرَى بَعْدَهُ وَقَيْصَرُ لَيَهْلِكَنَّ ثُمَّ لاَ يَكُونُ قَيْصَرُ بَعْدَهُ وَلَتُقْسَمَنَّ كُنُوزُهُمَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ " .
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পারস্য রাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। তারপর আর কোন পারস্য রাজ হবে না। অতঃপর জাবির (রাযিঃ) আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৬৬, ইসলামিক সেন্টার)
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لِعُثْمَانَ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ، عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَرَرْنَا بِصِبْيَانٍ فِيهِمُ ابْنُ صَيَّادٍ فَفَرَّ الصِّبْيَانُ وَجَلَسَ ابْنُ صَيَّادٍ فَكَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَرِهَ ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " تَرِبَتْ يَدَاكَ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ " . فَقَالَ لاَ . بَلْ تَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ . فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ذَرْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ حَتَّى أَقْتُلَهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ يَكُنِ الَّذِي تَرَى فَلَنْ تَسْتَطِيعَ قَتْلَهُ " .
উসমান ইবনু আবু শাইবাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় আমরা কতক বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তাদের মাঝে ইবনু সাইয়্যাদও ছিল। বালকেরা পালিয়ে গেল কিন্তু ইবনু সাইয়্যাদ বসে রইল। তার এরূপ আচরণ দেখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুটা অপছন্দ করলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তোমার উভয় হাত ভূলুন্ঠিত হোক। তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রসূল? সে বলল, না। বরং আপনি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রসূল। এ কথা শুনে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাকে সুযোগ দিন, আমি তাকে নিঃশেষ করে দেই। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি যা মনে করছ, যদি সে তাই (দাজ্জাল) হয়, তবে তো তুমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৮০, ইসলামিক সেন্টার)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ - وَاللَّفْظُ لأَبِي كُرَيْبٍ - قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا نَمْشِي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَمَرَّ بِابْنِ صَيَّادٍ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ خَبَأْتُ لَكَ خَبِيئًا " . فَقَالَ دُخٌّ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اخْسَأْ فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ " . فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ دَعْنِي فَأَضْرِبَ عُنُقَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " دَعْهُ فَإِنْ يَكُنِ الَّذِي تَخَافُ لَنْ تَسْتَطِيعَ قَتْلَهُ " .
মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও আবু কুরায়ব (রহঃ) ...... আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হাঁটছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু সাইয়্যাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তোমার বিষয়ে আমি একটি কথা লুকায়িত রেখেছি। ইবনু সাইয়্যাদ বলল, আপনার হৃদয়েدُخٌّ (ধুয়া) শব্দটি লুকায়িত রয়েছে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, চলে যা অভিশপ্ত, তুই তোর পরিমণ্ডল অতিক্রম করতে পারবি না। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ছেড়ে দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেব। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছাড়ো, যার সম্বন্ধে তুমি আশঙ্কা করছ সে যদি ঐ লোকই হয়ে থাকে তবে তুমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৮১, ইসলামিক সেন্টার)
مসহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৯২৫সহিহবর্ণনাকারী: আবু সাঈদ (রাযিঃ)صحيح مسلمرقم ٢٩٢٥
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ نُوحٍ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ لَقِيَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فِي بَعْضِ طُرُقِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ " . فَقَالَ هُوَ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " آمَنْتُ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ مَا تَرَى " . قَالَ أَرَى عَرْشًا عَلَى الْمَاءِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَرَى عَرْشَ إِبْلِيسَ عَلَى الْبَحْرِ وَمَا تَرَى " . قَالَ أَرَى صَادِقَيْنِ وَكَاذِبًا أَوْ كَاذِبَيْنِ وَصَادِقًا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لُبِسَ عَلَيْهِ دَعُوهُ " .
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন মাদীনার কোন পথে ইবনু সাইয়্যাদ এর সঙ্গে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাকর ও উমার (রাযিঃ) এর সাক্ষাৎ হয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু সাইয়্যাদকে বললেনঃ তুমি কি এ সাক্ষ্য দাও, আমি আল্লাহর রসূল? উত্তরে সে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রসূল? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি তো আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাগণের প্রতি ও তার কিতাবসমূহের উপর ঈমান এনেছি। তারপর তিনি বললেন, তুমি কি দেখছ? সে বলল, আমি সমুদ্রের উপর আরশ দেখতে পাচ্ছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তো সমুদ্রে ইবলীসের আরশ দেখতে পাচ্ছ। তুমি আর কি দেখতে পাচ্ছ? সে বলল, আমি কিছু সংখ্যক সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদীকে অথবা কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী ও একজন সত্যবাদীকে দেখতে পাচ্ছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন একে ছেড়ে দাও। সে বিষয়ে নিজেই সন্দেহ পোষণ করছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৮২, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ..... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু সাইয়্যাদকে দেখলেন। এমন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আবু বাকর ও উমর (রাযিঃ)-ও ছিলেন এবং কিছু বালকের সাথে ইবনু সাইয়্যাদ ছিল। তারপর তিনি জুরাইরী (রহঃ) এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৮৩, ইসলামিক সেন্টার)
مসহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৯২৭aসহিহবর্ণনাকারী: আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ)صحيح مسلمرقم ٢٩٢٧a
উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী ও মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন মাক্কাহ যাওয়ার পথে ইবনু সাইয়্যাদ মাক্কাহ পর্যন্ত আমার সফর সঙ্গী ছিল। পথে সে আমাকে বলল, এমন কতিপয় লোকের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটেছে যারা ধারণা করে যে, আমিই দাজ্জাল। আপনি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেননি যে, দাজ্জালের কোন সন্তান হবে না? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ, শুনেছি। তখন সে বলল আমার তো সন্তানাদি রয়েছে। আপনি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেননি যে, দাজ্জাল মাক্কাহ ও মাদীনাতে ঢুকতে পারবে না? আমি বললাম, হ্যাঁ, শুনেছি। সে বলল, মনে রাখুন, আমি তো মাদীনায় জন্মগ্রহণ করেছি এবং এখন মাক্কাহ যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। আবূ সাঈদ আল খুদরী বলেন, অতঃপর এসব কথা বলার পর পরিশেষে সে বলল, আল্লাহর শপথ আমি অবশ্যই জানি দাজ্জালের জন্মস্থান, বাসস্থান এবং তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে। আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেন, (এ কথা বলে) সে আমাকে দ্বিধা ও সংশয়ে ফেলে দিল। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৮৪, ইসলামিক সেন্টার)
مসহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৯২৭bসহিহবর্ণনাকারী: আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ)صحيح مسلمرقم ٢٩٢٧b
ইয়াহইয়া ইবনু হাবীব ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল আ’লা (রহঃ) ..... আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ইবনু সাইয়্যাদ আমার সঙ্গে কিছু কথা বলেছে যাতে আমার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে গেছে। তা হচ্ছে ইবনু সাইয়্যাদ এর এ বক্তব্যঃ আমি মানুষকে এ বলে ওযর পেশ করছি। হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গী-সাথীগণ! আমার ব্যাপারে তোমাদের কি হয়েছে? আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এ কথা বলেননি যে, দাজ্জাল ইয়াহুদী হবে? কিন্তু আমি তো মুসলিম। তিনি বলেছেনঃ দাজ্জালের কোন সন্তান হবে না অথচ আমার তো সন্তানাদি রয়েছে। তিনি তো এ-ও বলেছেন যে, আল্লাহ তা’আলা দাজ্জালের উপর মাক্কাহ প্রবেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। অথচ আমি হাজ্জও করেছি। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, সে অনর্গল এমনভাবে বলে যেতে লাগল, যার ফলে আমি তাকে সত্যবাদী মনে করার কাছাকাছি পৌছে গেলাম। অতঃপর সে বলল, আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমি জানি, দাজ্জালের অবস্থান সম্পর্কে। আমি তার পিতামাতাকেও চিনি। লোকেরা ইবনু সাইয়্যাদকে জিজ্ঞেস করল, তুমি যদি দাজ্জাল হও, তাতে কি তুমি আনন্দিত হবে? উত্তরে সে বলল, যদি আমাকে দাজ্জালরূপে সাব্যস্ত করা হয়, তবে আমি তাতে নারায হব না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৮৫, ইসলামিক সেন্টার)
مসহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৯২৭cসহিহবর্ণনাকারী: আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ)صحيح مسلمرقم ٢٩٢٧c
(…) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা হাজ্জ বা উমরার উদ্দেশে রওয়ানা হলাম। আমাদের সঙ্গে ইবনু সায়িদ ছিল। তারপর কোন এক মঞ্জিলে আমরা অবতরণ করলাম। লোকেরা এদিক-সেদিক ছড়িয়ে পড়ল। কেবল আমি এবং সে থেকে গেলাম। লোকেরা ইবনু সাইয়্যাদ এর ব্যাপারে যে কথা কথোপকথন করছে, এ কারণে আমি তার প্রতি অত্যধিক ভীত ও ঘাবড়িয়ে গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, ইবনু সাইয়্যাদ তার দ্রব্য-সামগ্ৰী আমার সাথে এনে রাখল। আমি বললাম, গরম খুব বেশী মনে হচ্ছে। তুমি যদি তোমার দ্রব্য-সামগ্ৰী ঐ গাছের নীচে রাখতে তবে ভালো হতো। এ কথা শুনে সে তা-ই করল। তারপর আমাদের জন্য কতগুলো বকরী নিয়ে আসা হলো। এ দেখে ইবনু সাইয়্যাদ সেখানে গেল এবং এক পাত্র দুধ নিয়ে এলো। এরপর সে আমাকে বলল, হে আবু সাঈদ! তুমি দুধ পান করে নাও। আমি বললাম, গরম খুব বেশী। দুধও গরম। আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেন, তার হাতে দুধ পান করা বা তার হাত হতে দুধ গ্রহণ করা আমি পছন্দ করিনি। এ দেখে ইবনু সাইয়্যাদ বলল, হে আবু সাঈদ! লোকেরা আমার ব্যাপারে যে সব কথাবার্তা বলছে, এখন আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি একটি রশি নিয়ে সেটা গাছে লটকিয়ে ফাঁসি দিয়ে মরে যাই এবং তাথেকে পরিত্রাণ লাভ করি। তারপর সে বলল, হে আবু সাঈদ! তোমাদের আনসার সম্প্রদায়ের চেয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস আর কারো কাছে অজানা নেই? তুমি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস সম্বন্ধে সবচেয়ে বেশী জ্ঞাত নও? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, সে ব্যক্তি (দাজ্জাল) কাফির হবে? অথচ আমি মুসলিম। তিনি কি বলেননি যে, দাজ্জাল নিঃসন্তান? আর তার কোন সন্তান হবে না? অথচ মাদীনায় আমি আমার সন্তান রেখে এসেছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, দাজ্জাল মাক্কাহ-মাদীনাহ প্রবেশ করতে পারবে না? অথচ আমি মাদীনাহ থেকে এসেছি এবং মাক্কাহ যাবার ইচ্ছা করছি। আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেন, তার কথায় আমি তাকে বিশ্বাস করার কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিলাম। অতঃপর ইবনু সাইয়্যাদ বললঃ আল্লাহর শপথ আমি তাকে (দাজ্জালকে) চিনি, তার জন্মস্থান চিনি এবং এখন সে কোথায় অবস্থান করছে, তাও আমি জানি। এ কথা শুনে আমি বললাম, তোমার সারাটা দিন ধ্বংস হোক, অকল্যাণকর হোক। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৮৬, ইসলামিক সেন্টার)
নাসর ইবনু আলী আল জাহযামী (রহঃ) ..... আবূ সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু সায়িদকে প্রশ্ন করেছেন, জান্নাতের মাটি কিরূপ হবে? সে বলল, হে আবুল কাসিম! জান্নাতের মাটি ময়দার মতো সাদা এবং খাটি মিশকের ন্যায় সুগন্ধিযুক্ত হবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, তুমি সত্য বলেছ। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০৮৭, ইসলামিক সেন্টার)
গ্রন্থভিত্তিক হাদিসের মান
সহিহ বুখারি৪৫১
সহিহ মুসলিম৪৬৪
সুনানে আবু দাউদ১৫১
জামে তিরমিযি৩৩৮
সুনানে নাসাঈ৫০
সুনানে ইবনে মাজাহ৪৩৭
মুয়াত্তা মালিক৮
আল-মুসতাদরাক (হাকিম)৬২৭
মুসনাদে আহমাদ৭১৬
সুনানে দারিমি২১
কিতাবুল ফিতান (নুআইম ইবনে হাম্মাদ)১,৯৮৮
সহিহহাসানযঈফ (দুর্বল)মান নির্ধারিত নয়
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের সকল হাদিস শর্তহীনভাবে সহিহ। অন্যান্য গ্রন্থের ক্ষেত্রে শায়খ আলবানীর তাহকীক এবং যেখানে তাঁর তাহকীক নেই সেখানে জুবায়ের আলী যাঈর তাহকীক অনুসরণ করা হয়েছে। প্রতিটি হাদিস কার্ডেই বিস্তারিত তাহকীক দেওয়া আছে।