সিহাহ সিত্তাহ ও মুয়াত্তা থেকে ১,৮৯৯টি হাদিস, আল-মুসতাদরাক, মুসনাদে আহমাদ ও সুনানে দারিমি থেকে আরও ১,৩৬৪টি, এবং কিতাবুল ফিতান থেকে ১,৯৮৮টি বর্ণনা। ডিফল্টভাবে কেবল সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হচ্ছে; দুর্বল বা অন্যান্য বর্ণনা দেখতে চাইলে ফিল্টার ব্যবহার করতে পারেন।
কোন বিষয়ে কোন কিতাবে হাদিস আছে
▾
বিষয় ও হাদিসগ্রন্থ অনুযায়ী সহিহ ও হাসান হাদিসের সংখ্যা। হাদিসগুলো পড়তে যেকোনো ঘরে ক্লিক করুন। কিতাবুল ফিতানের বর্ণনা দেখতে 'দুর্বল বর্ণনা' ফিল্টার চালু করুন।
আবূ মূসা আল-আশ‘আরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় বিপদ আসতে থাকবে। তখন সকালবেলা যে ঈমানদার ছিলো, সন্ধ্যাকালে সে কাফির হয়ে যাবে। আর সন্ধ্যাবেলা যে ঈমানদার ছিলো, সে সকালবেলা কাফির হয়ে যাবে। তখন দাঁড়ানো ব্যক্তির চাইতে বসা ব্যক্তি এবং হেঁটে চলার লোক দৌঁড়ে চলা লোকের চাইতে উত্তম হবে। তখন তোমরা তোমাদের ধনুকগুলো ভেঙ্গে চুরমার করে ফেলো, ধনুকের ছিলাগুলো কেটে ফেলো এবং তরবারিগুলো পাথরে আঘাত করে চূর্ণ-বিচূর্ণ করো। তবুও যদি তোমাদের কারো কারো নিকট কেউ এসে পড়ে, তবে যেন সে আদম (আঃ)-এর দু‘পুত্রের মধ্যে উত্তমটির (হাবীলের) মতো হয়।[1] সহীহ।
আবূ যার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসাূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আবূ যার! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সৌভাগ্যময় সাহচর্যে উপস্থিত। অতঃপর বর্ণনাকারী হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন এক সঙ্গে বহু লোক মারা যাবে এবং একটি ঘর অর্থাৎ একটি কবর একটি গোলামের মূল্যের সমান হবে, তখন তুমি কি করবে? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত অথবা তিনি বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এ ব্যাপারে আমার জন্য যা কল্যাণকর মনে করেন। তিনি বললেন, তখন তোমার ধৈর্য ধারণ করা উচিত অথবা তিনি বলেন, তুমি ধৈর্য ধারণ করবে। পুনরায় তিনি আমাকে ডেকে বলেন, হে আবূ যার! আমি বললাম, আমি বললাম, আমি আপনার কল্যাণময় সাহচর্যে উপস্থিত। তিনি বললেনঃ তুমি কি করবে যখন দেখবে যে, ‘আহজারুয-যায়িত’ নামক জায়গাটি রক্তে ডুবে যাচ্ছে। আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমার জন্য এ বিষয়ে যা উত্তম মনে করেন। তিনি বললেন, তুমি তোমার সমমনা লোকদের নিকট চলে যাবে। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তখন আমার কাঁধে তরবারি ধারণ করবো না? তিনি বললেন, তাহলে তো তুমি তাদের সঙ্গী হয়ে যাবে! তিনি বলেন, তুমি তোমার ঘরে আশ্রয় নিবে। তিনি বলেন, আমি বললাম, যদি সেই বিপদ আমার ঘরে প্রবেশ করে? তিনি বললেন, তুমি যদি আশঙ্কা করো যে, তরবারি ঝলকে তোমাকে ঝলসিয়ে দিবে, তবে তোমার মুখমন্ডল কাপড়ে ঢেকে ফেলো। তাতে সে হত্যাকারী তোমার গুনাহ ও তার গুনাহ নিয়ে ফিরে যাবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, হাম্মাদ ইবনু যায়িদ ছাড়া কেউ এ হাদীসে বর্ণনাকারী ‘মুশা‘আস-এর নাম উল্লেখ করেননি।[1] সহীহ।
আবূ কাবশাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ মূসা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তোমাদের সামনে অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় একের পর এক বিপদ আসতে থাকবে। সেই বিপদের সময় সকালবেলা যে ব্যক্তি ঈমানদার ছিলো, বিকেলবেলা সে কাফির হয়ে যাবে, আর সন্ধ্যাবেলা যে লোকটি ঈমানদার ছিলো, সকালে সে কাফির হয়ে যাবে। সে সময়ের বসে থাকা ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির চাইতে উত্তম হবে এবং দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি হেঁটে চলা ব্যক্তির চাইতে উত্তম এবং হেঁটে চলা ব্যক্তি দৌড়ে চলা ব্যক্তির চাইতে উত্তম হবে। লোকজন বললো, আপনি আমাদের কি করতে আদেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের ঘরের পর্দার ন্যায় হয়ে যাও (বের হয়ো না)।[1] সহীহ।
আল-মিকদাম ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি ফিতনা থেকে দূরে থাকবে, সেই সৌভাগ্যবান; যে লোক ফিতনা থেকে দূরে থাকবে সেই সৌভাগ্যবান; যে ফিতনা থেকে দূরে থাকবে সেই সৌভাগ্যবান। আর যে ব্যক্তি ফিতনায় পড়ে ধৈর্য ধারণ করবে, তার জন্য কতই না মঙ্গল![1] সহীহ।
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অচিরেই বকরীই হবে মুসলিমদের উত্তম সম্পদ। তা নিয়ে তারা পাহাড়ের চূড়ায় ও বৃষ্টির পানি এলাকায় চলে যাবে, তাদের দীনকে ফিতনা থেকে রক্ষার জন্য পালাবে।[1] সহীহ।
আল-আহনাফ ইবনু কাইস সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যুদ্ধে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলাম। আবূ বাকরাহ (রাঃ) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, তুমি ফিরে যাও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ দু’ মুসলিম তরবারি নিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হলে হত্যাকারী ও নিহত উভয়ই জাহান্নামে যাবে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! হত্যাকারী তো জাহান্নামে যাবেই তবে নিহত ব্যক্তি কেন যাবে? তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই সেও তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা করতে সংকল্পবদ্ধ।[1] সহীহ।
খালিদ ইবনু দিহকান (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ‘যালকিয়া’ নামক স্থানে কনস্টান্টিনোপল যুদ্ধে লিপ্ত ছিলাম। তখন ফিলিস্তিনবাসী হানী ইবনু কুলসুম ইবনু শারীক আল-কিনানী নামক জনৈক সম্মানিত ও উত্তম ব্যক্তি এসে আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ যাকারিয়াকে সালাম দিলেন, যার মর্যাদা সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন। খালিদ আমাদের বললেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ যাকারিয়া বর্ণনা করেছেন, আমি উম্মু দারদাকে বলতে শুনেছি, আমি আবূ দারদা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি রসাূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ সব গুনাহই ক্ষমা করবেন; কিন্তু মুশরিক অবস্থায় কেউ মারা গেলে অথবা কোনো ঈমানদার ব্যক্তি অপর কোনো ঈমানদারকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলে (তা ক্ষমা করবেন না)। অতঃপর হানী ইবনু কুলসূম বলেন, আমি মাহমূদ ইবনুল রবী‘কে উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো ঈমানদারকে হত্যা করলো এবং এতে আনন্দিত হলো, আল্লাহ তার কোনো ফরয বা নফল ইবাদাত কবুল করবেন না। খালিদ আমাদের বলেন যে, ইবনু আবূ যাকারিয়া পর্যায়ক্রমে উম্মু দারদা ও আবূ দারদার সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, তিনি বলেছেনঃ ঈমানদার ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো হারাম রক্তপাত না ঘটাবে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সৎ ও হালকা পিঠবিশিষ্ট গণ্য হবে। যখন সে কোনো হারাম রক্তপাত ঘটাবে তখন দুর্বল হয়ে পড়বে। আর হানী ইবনু কূলসুম (রহঃ) মাহমূদ ইবনু রবী‘ এবং উবাদাহ ইবনুস সামিতের সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1] সহীহ।
সাদাকাহ ইবনু খালিদ বা অন্য কারো সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, খালিদ ইবনু দিহকান বলেছেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া আল-গাসসানীকে বললাম, তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীঃ ‘‘ইগ্তাবাতা বিকাত্লিহি’’ এর অর্থ কি? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা ফিতনায় পতিত হয়ে পরস্পর যুদ্ধ করবে। অতঃপর কাউকে হত্যার পর দেখতে পাবে, নিহত ব্যক্তি হিদায়াতের উপর ছিলো। আর সে এজন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে না। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, তিনি বলেছেন, ‘‘ফা‘তাবাতা’ এর অর্থ সে অধিক রক্তপাত ঘটিয়েছে।[1] সহীহ মাকতু।
সাঈদ ইবনু যুবায়র (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে উপরোক্ত আয়াত সম্পর্কে বললাম। তিনি বলেন, সূরা ফুরকানের এই আয়াত যখন নাযিল হলো, ‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কিছুকে ইলাহ বলে ডাকে না এবং যে আত্মাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করে না; কিন্তু সত্য বা শাস্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তা করে।’’ তখন মক্কার মুশরিকরা বললো, আমরাই তো আল্লাহর নিষিদ্ধ করা আত্মা হত্যা করেছি এবং আল্লাহর সঙ্গে অন্য ইলাহকে ডেকেছি ও ব্যভিচার করেছি। মহান আল্লাহ তখন অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘কিন্তু যারা তাওবা করবে ও ঈমান এনে সৎ কাজ করবে, আল্লাহ তাদের অন্যায়গুলো পরিবর্তন করে নেকি দিবেন।’’ আর এ আয়াত তাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, সূরা আন নিসার এ আয়াত সম্পর্কে ‘‘যে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ঈমানদারকে হত্যা করবে, তার পরিণাম হবে জাহান্নাম’’ (৪ঃ ৬৮)। তিনি বলেছেন, লোকটি যখন ইসলামী শারীয়াতের পরিচয় পাওয়ার পর কোনো ঈমানদারকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তার পরিণাম জাহান্নাম। তার কোনো তাওবা কবূল হবে না। এ কথা মুজাহিদের নিকট বর্ণনা করায় তিনি বলেন, কিন্তু যে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়ে তাওবা করবে, তার তাওবা গ্রহণ হবে।[1] সহীহ।
دসুনানে আবু দাউদহাদীস নং ৪২৭৪সহিহবর্ণনাকারী: উক্ত ঘটনা প্রসঙ্গে ইবনু আব্বাস (রাঃ)سنن أبي داودرقم ٤٢٧٤
উক্ত ঘটনা প্রসঙ্গে ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এ আয়াত ‘‘যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না’’- মুশরিকদের পরে নও-মুসলিমদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, আরো নাযিল হয়েছে ‘‘হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর সীমালঙ্ঘন করেছে; তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’’[1] সহীহ।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، سَلاَّمُ بْنُ سُلَيْمٍ عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ فِتْنَةً فَعَظَّمَ أَمْرَهَا فَقُلْنَا أَوْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَئِنْ أَدْرَكَتْنَا هَذِهِ لَتُهْلِكَنَّا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَلاَّ إِنَّ بِحَسْبِكُمُ الْقَتْلُ " . قَالَ سَعِيدٌ فَرَأَيْتُ إِخْوَانِي قُتِلُوا .
সাঈদ ইবনু যায়িদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তিনি ফিতনা ও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তখন আমরা বললাম, অথবা লোকেরা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এই ফিতনাহ যদি আমাদের পেয়ে বসে, তবে তো ধ্বংস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কখনো নয়, বরং তখন নিহত হলে তো তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবে। সাঈদ (রাঃ) বলেন, পরে আমি দেখতে পেলাম, আমার ভাইয়েরা ফিতনায় নিহত হয়েছে।[1] সহীহ।
আবূ মূসা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার এ উম্মত দয়াপ্রাপ্ত, পরকালে এদের কোনো শাস্তি হবে না, আর ইহকালে তাদের শাস্তি হলো ফিত্বনাসমূহ, ভূমিকম্প ও যুদ্ধ বিগ্রহ।[1] সহীহ।
دসুনানে আবু দাউদহাদীস নং ৪২৭৯সহিহবর্ণনাকারী: জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)سنن أبي داودرقم ٤٢٧٩
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي خَالِدٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَزَالُ هَذَا الدِّينُ قَائِمًا حَتَّى يَكُونَ عَلَيْكُمُ اثْنَا عَشَرَ خَلِيفَةً كُلُّهُمْ تَجْتَمِعُ عَلَيْهِ الأُمَّةُ " . فَسَمِعْتُ كَلاَمًا مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ أَفْهَمْهُ قُلْتُ لأَبِي مَا يَقُولُ قَالَ " كُلُّهُمْ مِنْ قُرَيْشٍ " .
জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এ দ্বীন ততদিন প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যতদিন তোমাদের শাসকরূপে বারজন প্রতিনিধি আবির্ভাব না হবে। তাদের প্রত্যেক উম্মতকে তার পাশে একত্র করবে। অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আর একটি কথা শুনলাম, তবে তা বুঝতে পারিনি। পরে আমার পিতাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করায় তিনি বললেন, তিনি বলেছেনঃ তাদের সবাই কুরাইশ বংশদ্ভূত হবে।[1] সহীহ।
জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ এ দ্বীন (ইসলাম) বারজন প্রতিনিধি আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত অটুট অবস্থায় বিজয়ী থাকবে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথা শুনে উপস্থিত লোকেরা অবাক হয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিলো এবং চিৎকার করে উঠলো। অতঃপর তিনি নিম্নস্বরে একটি কথা বললেন। আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি বলেছেন? তিনি বললেন যে, তিনি বলেছেনঃ তাদের সবাই কুরাইশ বংশদ্ভুত হবে।
জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে উপরের বর্ণিত হাদীস বর্ণিত। তবে এ বর্ণনায় আছেঃ পরে যখন তিনি তার ঘরে ফিরে যান, কুরাইশদের কয়েকজন এসে তাকে প্রশ্ন করলো, তারপরে কি হবে? তিনি বললেনঃ অতঃপর বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।[1] সহীহ, তবে এ কথাটি বাদেঃ ‘‘পরে যখন তিনি তাঁর ঘরে ফিরে যান...’’। এর পূর্বেরটি দেখুন।
আব্দুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি দুনিয়ার মাত্র একদিনও অবশিষ্ট থাকে তবে আল্লাহ সেই দিনকে অত্যন্ত দীর্ঘায়িত করবেন এবং আমার থেকে অথবা আমার পরিজন থেকে একজন লোক আবির্ভূত করবেন, যার নাম ও তার পিতার নাম আমার ও আমার পিতার নামের সঙ্গে হুবহু মিল হবে। সে পৃথিবীকে ইনসাফে পরিপূর্ণ করবে যেরূপ তা যুলুমে পরিপূর্ণ ছিলো। আর সুফিয়ান বর্ণিত হাদীসে বলেন, ততদিন দুনিয়া ধ্বংস হবে না, যতদিন পর্যন্ত আমার পরিবারের এক ব্যক্তি আরবে রাজত্ব না করবে, তার নাম হুবহু আমার নামই হবে।[1] হাসান সহীহ।
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا فِطْرٌ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي بَزَّةَ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله تعالى عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْ لَمْ يَبْقَ مِنَ الدَّهْرِ إِلاَّ يَوْمٌ لَبَعَثَ اللَّهُ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يَمْلأُهَا عَدْلاً كَمَا مُلِئَتْ جَوْرًا " .
আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি দুনিয়ার একদিনও অবশিষ্ট থাকে তবুও আল্লাহ আমার পরিজন থেকে অবশ্যই এক ব্যক্তিকে পাঠাবেন। তখনকার দুনিয়া যেরূপে অত্যাচারে ভরে যাবে, সে সেরূপেই তা ন্যায়-ইনসাফে ভরে দিবে।[1] সহীহ।
উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ মাহদী অমার পরিজন থেকে ফাতিমাহর সন্তানদের বংশ থেকে আবির্ভূত হবে। আব্দুল্লাহ ইবনু জা‘ফার বলেন, আমি আবুল মালীহকে আলী ইবনু নুফাইলের প্রশংসা করতে এবং তার গুণাবলী বর্ণনা করতে শুনেছি।[1] সহীহ।
উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধ্বসে যাওয়া সে বাহিনীর ঘটনা প্রসঙ্গে বর্ণনা করলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও অংশগ্রহণ করতে বাধ্য হবে, তাদের কি হবে? তিনি বললেনঃ তাদেরও ধ্বসিয়ে দেয়া হবে; কিন্তু তারা তাদের নিয়্যাত অনুযায়ী কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবে।[1] সহীহ।
গ্রন্থভিত্তিক হাদিসের মান
সহিহ বুখারি৪৫১
সহিহ মুসলিম৪৬৪
সুনানে আবু দাউদ১৫১
জামে তিরমিযি৩৩৮
সুনানে নাসাঈ৫০
সুনানে ইবনে মাজাহ৪৩৭
মুয়াত্তা মালিক৮
আল-মুসতাদরাক (হাকিম)৬২৭
মুসনাদে আহমাদ৭১৬
সুনানে দারিমি২১
কিতাবুল ফিতান (নুআইম ইবনে হাম্মাদ)১,৯৮৮
সহিহহাসানযঈফ (দুর্বল)মান নির্ধারিত নয়
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের সকল হাদিস শর্তহীনভাবে সহিহ। অন্যান্য গ্রন্থের ক্ষেত্রে শায়খ আলবানীর তাহকীক এবং যেখানে তাঁর তাহকীক নেই সেখানে জুবায়ের আলী যাঈর তাহকীক অনুসরণ করা হয়েছে। প্রতিটি হাদিস কার্ডেই বিস্তারিত তাহকীক দেওয়া আছে।