সিহাহ সিত্তাহ ও মুয়াত্তা থেকে ১,৮৯৯টি হাদিস, আল-মুসতাদরাক, মুসনাদে আহমাদ ও সুনানে দারিমি থেকে আরও ১,৩৬৪টি, এবং কিতাবুল ফিতান থেকে ১,৯৮৮টি বর্ণনা। ডিফল্টভাবে কেবল সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হচ্ছে; দুর্বল বা অন্যান্য বর্ণনা দেখতে চাইলে ফিল্টার ব্যবহার করতে পারেন।
কোন বিষয়ে কোন কিতাবে হাদিস আছে
▾
বিষয় ও হাদিসগ্রন্থ অনুযায়ী সহিহ ও হাসান হাদিসের সংখ্যা। হাদিসগুলো পড়তে যেকোনো ঘরে ক্লিক করুন। কিতাবুল ফিতানের বর্ণনা দেখতে 'দুর্বল বর্ণনা' ফিল্টার চালু করুন।
আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ (হিশামের বর্ণনায়) জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে অথবা (শুবাহুর বর্ণনায়) যে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কোন প্ৰভু নেই) বলেছে তাকে বের করে আন তার অন্তরে যবের দানা পরিমাণ ঈমান থাকলেও। আর যে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' বলেছে এবং তার অন্তরে যদি গমের দানা পরিমাণও ঈমান থাকে তবে তাকেও জাহান্নাম হতে বের করে আন। যে “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ' বলেছে এবং তার অন্তরে যদি অণু পরিমাণও (শুবাহুর বর্ণনায় আছে, একটি হালকা জোয়ারদানা পরিমাণ) ঈমান থাকে তবে তাকেও জাহান্নাম থেকে বের করে আন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪৩১২), বুখারী ও মুসলিম। জাবির, আবূ সাঈদ ও ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক সবার শেষে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে, আমি তাকে জানি। সে নিতম্বের উপর ভর দিয়ে (জাহান্নাম থেকে) হেঁচড়িয়ে বের হয়ে আসবে। সে বলবে, হে প্ৰভু! জান্নাতের জায়গাগুলে তো মানুষজন দখল করে নিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাকে বল হবে, তুমি জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও এবং তাতে প্রবেশ কর। তখন সে জান্নাতে প্রবেশের উদ্দেশে অগ্রসর হবে এবং দেখতে পাবে যে, সম্পূর্ণ জায়গা মানুষজন দখল করে নিয়েছে। সে ফিরে এসে বলবে, হে প্ৰভু! সমস্ত জায়গা তো মানুষজন দখল করে নিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাকে বলা হবে, সে সময়ের কথা স্মরণ আছে কি যাতে তুমি অবস্থান করছিলে? সে বলবে, হ্যাঁ স্মরণ আছে। বলা হবে, তুমি আকাঙ্ক্ষা কর। সে তখন আকাঙ্ক্ষা পেশ করবে। বলা হবে, তুমি যা আকাজক্ষা করেছে তা দেয়া হল তদুপারি দুনিয়ার দশ গুণ দেয়া হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এ কথা শোনার পর সে বলবে, আপনি বাদশাহ হয়ে আমার সাথে উপহাস করছেন? ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, এ কথা বলার পর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাসতে দেখলাম, এমনকি তার মুখের দাঁত প্রকাশিত হল। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪৩৩৯), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
تজামে তিরমিযিহাদীস নং ২৫৯৬সহিহবর্ণনাকারী: আবূ যার (রাযিঃ)جامع الترمذيرقم ٢٥٩٦
আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সবার শেষে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে এবং সবার শেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে আমি অবশ্যই তাকে চিনি। তাকে হাযির করা হলে আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ তোমরা ছোটখাটো গুনাহ প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন কর এবং মারাত্মক গুনাহগুলো গোপন রাখো। সে মোতাবিক তাকে প্রশ্ন করা হবে, অমুক অমুক দিন তুমি এই এই গুনাহ করেছো, অমুক অমুক দিন এই এই গুনাহ করেছো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর তাকে বলা হবে, কিন্তু আজ প্রতিটি গুনাহর বিনিময়ে তোমাকে সাওয়াব দান করা হচ্ছে। সে বলবে, হে প্ৰভু! আমি তো এগুলো ব্যতীত আরো অনেক গুনাহ করেছি, কিন্তু এখানে সেগুলো দেখতে পাচ্ছি না। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমনভাবে হাসতে দেখলাম যে, তার মুখের দাঁত পর্যন্ত প্রকাশিত হয়ে যায়। সহীহঃ মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিছু তাওহীদবাদী লোককেও জাহান্নামের শাস্তি প্রদান করা হবে। এমনকি তারা তাতে পুড়তে পুড়তে কয়লার মতো হয়ে যাবে। তারপর আল্লাহ তা'আলার রহমতে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং জান্নাতের দরজায় নিক্ষেপ করা হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতে বসবাসকারীরা তাদের উপর পানি ছিটিয়ে দিবে। যার ফলে তারা সজীব হয়ে যাবে যেমনটি বন্যার স্রোত চলে যাবার পর মাটিতে উদ্ভিদ গজায়। তারপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। সহীহঃ সহীহাহ (২৪৫১) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। জাবির (রাযিঃ) হতে এটি ভিন্ন সনদসূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তির অন্তরে অনু পরিমাণ ঈমানও রয়েছে সে ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হবে। আবূ সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, কারো এ ব্যাপারে সন্দেহ হলে সে এ আয়াতটি তিলাওয়াত করুকঃ “আল্লাহ তা'আলা অণু পরিমাণও যুলুম করেন না”— (সূরা নিসাঃ ৪০)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার আবেদনের কারণে আমার উম্মাতের এক দল জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। তাদের নাম হবে জাহান্নামী। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪৩১৫), বুখারী আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ রাজা আল-উতারিদীর নাম ইমরান ইবনু তাইম, মতান্তরে ইবনু মিলহান।
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মি'রাজের রাতে) আমি জাহান্নামে উঁকি দিয়ে দেখলাম যে, এর বেশিরভাগ অধিবাসীই মহিলা এবং জান্নাতে উঁকি দিয়ে দেখলাম যে, এর বেশিরভাগ অধিবাসীই গারীব। সহীহঃ দেখুন পূর্বের হাদীস আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ রাজা (রহঃ) হতে তিনি ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) সূত্রে আওফ (রাহঃ) এবং আবূ রাজা (রাহঃ) হতে তিনি ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রেও ‘আওফ (রহঃ) একই রকম বর্ণনা করেছেন। এই দু’টাে হাদীসের ব্যাপারে কোন মতানৈক্য নেই। সম্ভবতঃ আবূ রাজা উভয় সাহাবীর নিকট হতেই হাদীস শ্রবণ করেছেন। আবূ রাজা ইমরান (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে আওফ (রাহঃ) ব্যতীত অন্যরাও উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন।
নুমান ইবনু বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে জাহান্নামীদের মধ্যে সবচাইতে কম শাস্তি প্রদান করা হবে তার পায়ের তালুর নীচে দুটি জ্বলন্ত অঙ্গার রাখা হবে। তাতে তার মগজ পর্যন্ত টগবগ করে ফুটতে থাকবে। সহীহঃ সহীহাহ (১৬৮০), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ সাঈদ, আল-আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
হারিসা ইবনু ওয়াহব আল-খুজাঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দিব না যে, কারা জান্নাতী হবে? জান্নাতী তারা হবে যারা দুর্বল, অসহায় এবং যেসব ব্যক্তিকে দুর্বল মনে করা হয়। তারা আল্লাহ তা'আলার নামে (কোন বিষয়ে) শপথ করলে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তা পূরণ করেন। আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দিব না যে, কোন সব ব্যক্তি জাহান্নামী হবে? প্রত্যেক অবাধ্য, আহাম্মক ও অহংকারী (জাহান্নামী হবে)। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৪১১৬), বুখারী ও মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়ামার (রহঃ) হতে বর্ণিত, তাকদীর মতবাদের ব্যাপারে সর্বপ্রথম মা'বাদ আল-জুহানীই কথা বলেন। কোন এক সময় আমি ও হুমাইদ ইবনু আব্দুর রাহমান আল-হিময়ারী মাদীনায় আসলাম এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলাম, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন সাহাবীর সাক্ষাৎ পেলে এসব লোকেরা যে নতুন কথা বের করেছে সেই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করতাম। আমরা আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর দেখা পেলাম। তিনি মাসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। আমি ও আমার সাথী গিয়ে তার পাশে পাশে চললাম। আমি মনে করলাম আমার সঙ্গী আমার উপরি কথা বলার দায়িত্ব দিবেন। তাই আমি বললাম, হে আবূ আব্দুর রাহমান! কিছু সংখ্যক লোক কুরআন তিলাওয়াত করে, জ্ঞানও অন্বেষণ করে, কিন্তু তাদের ধারণায় তাকূদীর বলতে কিছু নেই, যা কিছু হচ্ছে তা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটে। ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেন, তাদের সাথে তোমার দেখা হলে বলবে, তাদের সাথে আমার কোন সম্পক নেই এবং তারাও আমার হতে সম্পর্ক মুক্ত। তারপর ইবনু উমর (রাযিঃ) আল্লাহ তা'আলার নামে শপথ করে বলেন, তাদের কেউ উহুদ পাহাড় সমান স্বর্ণ দান-খাইরাত করলেও তা গ্রহণ করা হবে না, তাকদীিরের ভাল-মন্দের উপর যে পর্যন্ত না সে ঈমান আনবে। তারপর তিনি বললেন, "উমার ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) বলেছেন, কোন এক সময় আমরা রাসূলুল্লাহ -এর সামনে বসে ছিলাম। এমন সময় সাদা ধবধবে জামা পরা এবং কালো কুচকুচে চুলধারী এক লোক এসে উপস্থিত। তার মধ্যে সফরের কোন চিহ্নও ছিল না এবং আমাদের মধ্যে কেউই তাকে চিনতে পারলো না। তারপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে এসে তার হাটুদ্বয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাটুদ্বয়ের সাথে মিলিয়ে বসলেন। অতঃপর তিনি প্রশ্ন করেন, হে মুহাম্মাদ! ঈমান কি? তিনি বললেনঃ ঈমান হলো-তুমি আল্লাহ, তার ফেরেশতাকুলে, কিতাবসমূহে, রাসূলগণে, পরকালে এবং তাকদীিরের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস স্থাপন কর। আগন্তুক প্রশ্ন করলেন, ইসলাম কি? তিনি বললেনঃ এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত আর কোন প্ৰভু নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দাহ ও তার রাসূল, নামায প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হাজ্জ্ব আদায় করা এবং রামাযানের রোযা রাখা। তিনি আবার প্রশ্ন করেন, ইহসান কি? তিনি বললেনঃ তুমি (এমনভাবে) আল্লাহ তা'আলার ইবাদাত করবে যেন তুমি তাকে দেখছো। তুমি যদি তাকে না দেখ তাহলে অবশ্যই তিনি তোমাকে দেখেন। বর্ণনাকারী বলেন, প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরেই তিনি বলতেন, আপনি সত্যই বলেছেন। তার এই আচরণে আমরা অবাক হলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করছেন আবার তিনিই তা সমর্থন করছেন। তিনি আবার প্রশ্ন করেন, কখন কিয়ামত সংঘটিত হবে? তিনি এবার বললেনঃ জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি এই ব্যাপারে প্রশ্নকারীর চাইতে বেশি কিছু জানে না। তিনি আবার প্রশ্ন করেন, এর নিদর্শনগুলো কি কি? তিনি বললেনঃ যখন দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে এবং খোলা পা, উলঙ্গ শরীরের অভাবী মেষপালক রাখালগণকে বিশাল দালান-কোঠার প্রতিযোগিতায় গর্ব করতে দেখবে। উমর (রাযিঃ) বলেন, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনদিন পর আমার সাক্ষাৎ পেয়ে প্রশ্ন করেনঃ হে উমার! তুমি কি জানো, ঐ প্রশ্নকারী কে ছিলেন? তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ), তোমাদেরকে ধর্মীয় অনুশাসন শিখাতে এসেছিলেন। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৬৩), মুসলিম। উক্ত মৰ্মে আহমাদ ইবনু মুহাম্মদ-ইবনুল মুবারাক হতে, তিনি কাহমাস ইবনুল হাসান (রহঃ) সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না-মুআয ইবনু হিশাম-কাহমাস (রাযিঃ) সূত্রে উক্ত মর্মে একই রকম বর্ণনা করেছেন। তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ, আনাস ইবনু মালিক ও আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি একাধিকসূত্রে উমার (রাযিঃ) হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীসটি বর্ণিত হলেও সঠিক সনদসূত্র হলো ইবনু উমার-উমার (রাযিঃ)-এর বরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অপরিচিত অবস্থায় ইসলামের সূচনা হয়েছে এবং যে অবস্থায় তার সূচনা হয়েছিল আবার সে রকম অপরিচিত অবস্থায় ফিরে আসবে। সুতরাং অপরিচিতদের জন্যই সু-সংবাদ। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৩৯৮৮), মুসলিম। সাদ, ইবনু উমার, জাবির, আনাস ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, ইবনু মাসউদ (রাযিঃ)-এর বর্ণনা হিসেবে গারীব। আমরা এ হাদীস শুধুমাত্র হাফস ইবনু গিয়াস হতে আমাশের সূত্রেই জেনেছি। আবূল আহওয়াসের নাম ‘আওফ ইবনু মালিক ইবনু নাযলা আল-জুশামী। হাফস এ হাদীসটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (শেষ যামানায়) আল্লাহ তা'আলা মানুষের নিকট হতে একটানে ইলম উঠিয়ে নিবেন না, বরং আলিমদেরকে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নিবেন। অবশেষে যখন তিনি কোন আলিমই অবশিষ্ট রাখবেন না, তখন মানুষেরা অজ্ঞ জাহিলদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তারপর বিভিন্ন বিষয়ে তাদের নিকট প্রশ্ন করা হবে, আর তারা ইলম ছাড়াই ফাতাওয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যকেও পথভ্রষ্ট করবে। সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (৫২), বুখারী ও মুসলিম। আয়িশাহ ও যিয়াদ ইবনু লাবীদ (রাযিঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। যুহরী (রহঃ) এ হাদীস উরওয়াহ হতে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ)-এর বরাতে এবং উরওয়াহ হতে, ‘আয়িশাহ (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, উভয় সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন।
জারহাদ আল-আসলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের মধ্যে জারহাদের পাশ দিয়ে গেলেন। সে সময় তার উরুদেশ উলঙ্গ অবস্থায় ছিল। তিনি বললেনঃ উরুদেশও আভরণীয় অঙ্গ। সহীহঃ ইরওয়াহ (১/২৯৭-২৯৮), মিশকাত (৩১১৪)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমার মতে এর সনদসূত্র মুত্তাসিল (পরস্পর সংযুক্ত) নয়।
আবূ গালিব (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ উমামা (রাযিঃ) দামিশকের সিড়ির উপর (খারিজীদের) কতগুলো মুণ্ড পড়ে থাকতে দেখলেন। আবূ উমামা (রাযিঃ) বললেন, এগুলো জাহান্নামের কুকুর এবং আসমানের চামড়ার (ছাদের) নিচে নিকৃষ্টতম নিহত এরা। আর এরা যাদেরকে হত্যা করেছে তারা উত্তম লোক। তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন (অনুবাদ) “সেদিন কিছু মুখ উজ্জল হবে এবং কিছু মুখ কালো হবে। যাদের মুখ কালো হবে তাদের বলা হবে, তোমরা ঈমান আনার পরও কি কুফর করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর”— (সূরা আ-লি 'ইমরান ১০৬)। আবূ গালিব (রাহঃ) বলেন, আমি আবূ উমামাহ (রাযিঃ)-কে বললাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এটা শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি যদি এটা এক, দুই, তিন, চার, এমনকি সাতবার পর্যন্ত না শুনতাম, তাহলে তোমাদের নিকট তা বর্ণনা করতাম না। হাসান সহীহঃ ইবনু মা-জাহ (১৭৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আবূ গালিবের নাম হাযাওওয়ার এবং আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাযিঃ)-এর নাম সুদাই ইবনু আজলান, তিনি বাহিলা গোত্রের নেতা।
আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকরাহ (রাহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি কি সবচাইতে মারাত্মক কাবীরা গুনাহগুলো প্রসঙ্গে তোমাদেরকে অবহিত করবো না? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা'আলার সাথে অংশীদার স্থাপন, বাবা-মার অবাধ্য হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন, এবার উঠে সোজা হয়ে বসে বললেন; মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া, অথবা বলেছেনঃ মিথ্যা কথা বলা। আবূ বাকর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটি বারবার বলে যাচ্ছিলেন। এমনকি আমরা বললাম, আহা! তিনি যদি চুপ হতেন। সহীহঃ প্রাগুক্ত, বুখারী, মুসলিম। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
আবূ সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার বাণী “অথবা তোমার প্রতিপালকের কোন নিদর্শন আসবে” (সূরা আন’আম ১৫৮) প্রসঙ্গে বলেন, তা হচ্ছে পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্যোদয়। সহীহঃ মুসলিম (১/৯৫), আবূ হুরাইরাহ হতে আরো পূর্ণাঙ্গ রূপে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কেউ কেউ এটিকে বর্ণনা করেছেন তবে তা মারফু' হিসেবে নয়।
আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি নিদর্শন যখন প্রকাশিত হবে “তখন কারো ঈমান আনয়ন তার কোন উপকারে আসবে না-যারা ইতিপূর্বে ঈমান আনেনি বা যারা নিজেদের ঈমান মতো নেক আমল করেনি” (সূরা আন’আম ১৫৮)। সেই তিনটি নিদর্শন হল দাজ্জাল, দাব্বাতুল আরয ও পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্যোদয়। সহীহঃ মুসলিম (১/৯৫-৯৬)। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ হাযিম, তিনি হলেন আল-আশযাঈ আল-কুফী তার নাম সালমান, তিনি আযযাহ আল-আশ জাঈয়্যার মুক্তদাস।
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। চলার পথে তিনি ও তার সাহাবীগণ আগে-পিছে হয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সূরা হজ্জের প্রথম) এ দু'টি আয়াতের মাধ্যমে নিজের আওয়াজ বড় করলেনঃ “হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়াবহ ব্যাপার... বস্তুত আল্লাহ তা'আলার শাস্তি বড় কঠিন"- (সূরা হাজ্জ ১-২)। তার সাহাবীগণ এই ডাক শুনতে পেয়ে নিজেদের জন্তুযানের গতি দ্রুত করলেন এবং জেনে নিলেন যে, তিনি কিছু বলবেন। (সাহাবীগণ তার নিকট পৌছলে) তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান সেই দিন কোনটি? তারা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসূলই বেশী ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটা সেই দিন, যেদিন আল্লাহ তা'আলা আদম (আঃ)-কে ডেকে বলবেনঃ হে আদম! দোযখের ফৌজ তৈরি কর। তিনি বলবেন, হে আমার প্রতিপালক! দোযখের ফৌজ কারা এবং তাদের সংখ্যা কত? তিনি বলবেনঃ প্রতি হাজারে নয় শত নিরানব্বই জন দোযখে যাবে এবং একজন জান্নাতে যাবে। সাহাবীগণ একথা শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। তখন কারো মুখে হাসি ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের এই অবস্থা দেখে বললেনঃ কাজ করতে থাক এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন! তোমরা দুটি জীবের সাক্ষাৎ পাবে। তাদের সাথে যাদের সাক্ষাৎ হবে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি হবে। এ দুটি জীব হল ইয়া'যুজ ও মাযুজ এবং আদম সন্তান ও ইবলীসের সন্তানদের মধ্যে যারা মরে গেছে তারা। বর্ণনাকারী বলেন, এতে লোকদের চিন্তা ও বিষন্নতা কিছুটা দূর হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কাজ কর এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! (অন্যান্য জাতির তুলনায়) তোমাদের দৃষ্টান্ত হল, উটের পার্শ্বদেশের তিলক অথবা চতুষ্পদ জন্তুর বাহুর দাগের মত। সহীহঃ বুখারী (৪৭৪১), মুসলিম (১/১৩৯)। আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
تজামে তিরমিযিহাদীস নং ৩২২৭সহিহবর্ণনাকারী: আবূ যার (রাযিঃ)جامع الترمذيرقم ٣٢٢٧
আবূ যার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সূর্য ডুবার সময় আমি মসজিদে ঢুকলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন (মসজিদে) বসা ছিলেন। তিনি বললেনঃ হে আবূ যার! তুমি কি জান, এটা (সূর্য) কোথায় যায়? বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটা গিয়ে সিজদার অনুমতি প্রার্থনা করে। তাকে সিজদার অনুমতি দেয়া হয়। এমন এক দিন আসবে যখন তাকে বলা হবে, তুমি যেখানে এসেছ সেখান হতে উদিত হও। অতএব তা অস্ত যাওয়ার স্থান হতে উদিত হবে। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি পড়েনঃ “এটাই তার একমাত্র আশ্রয়স্থল"- (সূরা ইয়াসীন ৩৮)। বর্ণনাকারী বলেন, এটা আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের কিরআত। সহীহঃ বুখারী, এটি (২১৮৬) নং হাদীসের পুনরাবৃত্তি। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক লোক 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ)-এর নিকট এসে বলল, কোন এক বক্তা বলছে যে, যামীন হতে একটি ধোয়া বের হবে। তা কাফিরদের কান বধির করে দিবে এবং মু'মিনদের সর্দিতে আক্রান্ত করবে। মাসরূকু (রাহঃ) বলেন, এতে 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) রাগান্বিত হন। তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, এবার সোজা হয়ে বসলেন, তারপর বললেন, তোমাদের কাউকে তার জ্ঞাত (বিষয়) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সে যেন তার উত্তর দেয় বা সেই প্রসঙ্গে অবহিত করে। আর তাকে তার না জানা বিষয় প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সে যেন বলে, আল্লাহ তা'আলাই ভাল জানেন। কেননা এটাও লোকের জ্ঞানের কথা যে, তাকে এমন কোন ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলো যা সে জানে না, সে বলবে যে, আল্লাহ তা'আলাই ভাল জানেন। কেননা আল্লাহ তা'আলা তার নবীকে বলেছেনঃ “আপনি বলুন, আমি তোমাদের নিকট এর জন্য (হিদায়াতের বিনিময়ে) কোন পরিশ্রমিক চাই না এবং আমি কৃত্রিমতা প্রদর্শনকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই”- (সূরা দুখান ৮৬)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখতে পেলেন যে, কুরাইশরা তার অবাধ্যতা ও বিরোধিতায় চরম পরাকাষ্ঠা দেখাচ্ছে, তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ ইউসুফ (আঃ)-এর সময়কার সাত বছরের দুর্ভিক্ষের মত এদেরকেও সাত বছর দুর্ভিক্ষে নিক্ষেপ করে আমাকে সাহায্য করুন। তারপর তাদের উপর দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টি নেমে এলো এবং সব কিছু নিঃশেষ হয়ে গেল। এমনকি তারা চামড়া, হাড় ও মৃত জীব ভক্ষণ করতে লাগল। আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, এ সময় মাটি হতে ধোয়ার মত এক পদার্থ বের হতে লাগল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবূ সুফইয়ান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলেন, আপনার জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং তাদের জন্য আল্লাহ তা'আলার দরবারে দু’আ করুন। 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, এটাই আল্লাহ তা'আলার এই বাণীর “যেদিন স্পষ্টই ধোয়াচ্ছন্ন হবে এবং তা মানবজাতিকে গ্রাস করে ফেলবে, এটা হবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি” তাৎপর্য- (সূরা দুখান ১০-১১)। মানসূর (রাহঃ) বলেন, এটাই নিম্নোক্ত আয়াতের তাৎপর্যঃ “হে আমাদের রব! আমাদের উপর হতে শাস্তি দূরীভূত কর নিশ্চয় আমরা মুমিন”- (সূরা দুখান ১২)। আখিরাতের শাস্তি দূরীভূত করা হবে কি? আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, ধরপাকড়, কঠিন বিপদ ও ধোঁয়া সবই অতিবাহিত হয়েছে। আ'মাশ ও মানসূরের মধ্যে একজন বলেন, চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনা অতিক্রান্ত হয়েছে এবং অপরজন বলেন, রোম বিজয়ের ঘটনা (অতিবাহিত হয়েছে)। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম আবূ ঈসা (রাহঃ) বলেন, লিযাম বলতে সেই হত্যা বুঝানো হয়েছে যা বদরের দিন সংঘটিত হয়েছে। এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
গ্রন্থভিত্তিক হাদিসের মান
সহিহ বুখারি৪৫১
সহিহ মুসলিম৪৬৪
সুনানে আবু দাউদ১৫১
জামে তিরমিযি৩৩৮
সুনানে নাসাঈ৫০
সুনানে ইবনে মাজাহ৪৩৭
মুয়াত্তা মালিক৮
আল-মুসতাদরাক (হাকিম)৬২৭
মুসনাদে আহমাদ৭১৬
সুনানে দারিমি২১
কিতাবুল ফিতান (নুআইম ইবনে হাম্মাদ)১,৯৮৮
সহিহহাসানযঈফ (দুর্বল)মান নির্ধারিত নয়
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের সকল হাদিস শর্তহীনভাবে সহিহ। অন্যান্য গ্রন্থের ক্ষেত্রে শায়খ আলবানীর তাহকীক এবং যেখানে তাঁর তাহকীক নেই সেখানে জুবায়ের আলী যাঈর তাহকীক অনুসরণ করা হয়েছে। প্রতিটি হাদিস কার্ডেই বিস্তারিত তাহকীক দেওয়া আছে।