সিহাহ সিত্তাহ ও মুয়াত্তা থেকে ১,৮৯৯টি হাদিস, আল-মুসতাদরাক, মুসনাদে আহমাদ ও সুনানে দারিমি থেকে আরও ১,৩৬৪টি, এবং কিতাবুল ফিতান থেকে ১,৯৮৮টি বর্ণনা। ডিফল্টভাবে কেবল সহিহ ও হাসান হাদিস দেখানো হচ্ছে; দুর্বল বা অন্যান্য বর্ণনা দেখতে চাইলে ফিল্টার ব্যবহার করতে পারেন।
কোন বিষয়ে কোন কিতাবে হাদিস আছে
▾
বিষয় ও হাদিসগ্রন্থ অনুযায়ী সহিহ ও হাসান হাদিসের সংখ্যা। হাদিসগুলো পড়তে যেকোনো ঘরে ক্লিক করুন। কিতাবুল ফিতানের বর্ণনা দেখতে 'দুর্বল বর্ণনা' ফিল্টার চালু করুন।
(…/…) মুহাম্মাদ ইবনুল মুসন্ন আল আনায়ী (রহঃ) ..... কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে এ সূত্রে অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনিكُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حَلاَلٌ অর্থাৎ "আমি বান্দাকে যে সম্পদ দিয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ" কথাটি বর্ণনা করেননি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৪, ইসলামিক সেন্টার)
(…/...) আবদুর রহমান ইবনু বিশর আল আবদী (রহঃ) ..... ইয়ায ইবনু হিমার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ দিলেন। তারপর তিনি পুরো হাদীসটি বর্ণনা করলেন এবং শেষ ভাগে বলেছেন, কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি মুতারিফকে বলতে শুনেছি। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৫, ইসলামিক সেন্টার)
مসহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৮৬৫dসহিহবর্ণনাকারী: বানী মুজাশি’ এর ভাই ইয়ায ইবনু হিমার (রাযিঃ)صحيح مسلمرقم ٢٨٦٥d
আবু আম্মার হুসায়ন ইবনু হুরায়স (রহঃ) ..... বানী মুজাশি’ এর ভাই ইয়ায ইবনু হিমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাষণ প্রদানকালে আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা আমাকে আদেশ দিয়েছেন। তারপর তিনি কাতাদাহ্ (রহঃ) হতে হিশাম এর সানাদে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এ কথা বর্ধিত উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তা’আলা আমার প্রতি ওয়াহী নাযিল করেছেন যে, তোমরা বিনয়ী হও, কারো উপর কেউ যেন গর্ব না করে এবং কারো প্রতি যেন কেউ যুলম না করে। এ হাদীসে এটাও রয়েছে যে, তারা তোমাদের এমন অনুগামী যে, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ সন্ধান করে না। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আবু আবদুল্লাহ! এমনটি কি হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। জাহিলিয়াতের যুগে আমি তাদেরকে পেয়েছি। আর এরূপ এক গোত্রে কোন এক লোক ছিল। সে বকর চরাতো। দাসী ছাড়া সেখানে তার কাছে কেউ যেত না। তার সাথেই সে সহবাস করত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৬, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কোন লোকের মৃত্যুর পর সকাল-সন্ধ্যা তার সম্মুখে তার (পরকালীন) ঠিকানা পেশ করা হয়। যদি সে জান্নাতবাসী হয় তবে জান্নাতবাসীদের থেকে আর যদি জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নামীদের থেকে। আর তাকে বলা হয়, এটাই তোমার বাসস্থান। কিয়ামতে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৭, ইসলামিক সেন্টার)
(…) আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... ইবনু উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তখন সকাল-সন্ধ্যা তার কাছে তার (পরকালীন) ঠিকানা পেশ করা হয়। যদি সে জান্নাতবাসী হয় তবে জান্নাত আর যদি জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নাম। তারপর তাকে বলা হয়, এটাই তোমার ঐ বাসস্থান যেখানে তোমাকে কিয়ামতের দিন পাঠানো হবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৮, ইসলামিক সেন্টার)
ইয়াহইয়া ইবনু আইয়্যুব ও আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ..... যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) এর সূত্রে আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত ছিলাম না, বরং আমাকে যায়দ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাজ্জার গোত্রের একটি প্রাচীর ঘেরা বাগানে তার একটি খচ্চরের উপর আরোহী ছিলেন। এ সময় আমরা তার সাথে ছিলাম। অকস্মাৎ তা লাফিয়ে উঠল এবং তাকে ফেলে দেয়ার উপক্রম করল। দেখা গেল, সেখানে ছয়টি কিংবা পাঁচটি অথবা চারটি কবর রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, জুরাইরী এমনটিই বর্ণনা করতেন। অতঃপর তিনি প্রশ্ন করলেন, এ কবরবাসীদেরকে কে চিনে? তখন এক ব্যক্তি বললেন, আমি চিনি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তারা কখন মৃত্যুবরণ করেছে? তিনি বললেন, তারা শিরকের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ উম্মাতকে তাদের কবরের মধ্যে পরীক্ষা করা হবে। তোমরা মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা বর্জন করবে, এ আশঙ্কা না হলে আমি আল্লাহর নিকট দু’আ করতাম যেন তিনি তোমাদেরকেও কবরের আযাব শুনান যা আমি শুনতে পাচ্ছি। তারপর তিনি আমাদের প্রতি মনোনিবেশ করে বললেন, তোমরা সবাই জাহান্নামের আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। সহাবাগণ বললেন, জাহান্নামের শাস্তি হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তারপর তিনি বললেন, তোমরা সকলে কবরের শাস্তি হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। সহাবাগণ বললেন, কবরের আযাব হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার ফিতনাহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। তারা বললেন, প্রকাশ্য ও গোপন সকল প্রকার ফিতনাহ্ হতে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তিনি আবারো বললেন, তোমরা দাজ্জালের ফিতনাহ হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। সহাবাগণ বললেন, দাজ্জালের ফিতনাহ হতে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৪৯, ইসলামিক সেন্টার)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْلاَ أَنْ لاَ تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ " .
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা মৃতদেরকে দাফন করা বর্জন করবে এ ভয় না থাকলে আমি আল্লাহর কাছে দুআ করতাম যেন তিনি তোমাদেরকে কবরের কিছু আযাব শুনিয়ে দেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫০, ইসলামিক সেন্টার)
مসহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৮৬৯সহিহবর্ণনাকারী: আবু আইয়্যুব (রাযিঃ)صحيح مسلمرقم ٢٨٦٩
আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ্, উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশশার, যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... আবু আইয়্যুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যাস্ত হওয়ার পর বের হলেন। এমন সময় তিনি একটি শব্দ শুনতে পেয়ে বললেন, ইয়াহুদী লোকেদেরকে তাদের কবরের মধ্যে আযাব দেয়া হচ্ছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫১, ইসলামিক সেন্টার)
আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরের মধ্যে রেখে তার সঙ্গী-সাথীরা সেখান থেকে ফিরে আসে এবং সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায় তখন তার কাছে দু’জন ফেরেশতা এসে তাকে উঠিয়ে বসান। তারপর তাকে তারা জিজ্ঞেস করে, এ লোকটির ব্যাপারে তুমি কি বলতে? মু’মিন বান্দা তখন বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তার রসূল। তখন তাকে বলা হয়, জাহান্নামে তুমি তোমার আসন দেখে নাও। আল্লাহ তা’আলা তোমার এ আসনকে জান্নাতের আসনের দ্বারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তখন সে তার উভয় আসন অবলোকন করে নেয়। বর্ণনাকারী কাতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতঃপর তার কবরকে (দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে) সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেয়া হয় এবং সবুজ শ্যামল গাছের দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেয়া হয় কিয়ামত পর্যন্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫২, ইসলামিক সেন্টার)
মুহাম্মাদ ইবনু মিনহাল আয যারীর (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃতদেরকে যখন তার কবরে রাখা হয় তখন সে তার সঙ্গীসাথীদের ফিরে আসার সময় তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৩, ইসলামিক সেন্টার)
‘আমর ইবনু যুরারাহ্ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বান্দাকে যখন তার কবরে রেখে তার সঙ্গী-সাথীগণ প্রত্যাবর্তন করে। অতঃপর সাঈদ (রহঃ) শাইবান এর সানাদে কাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৪, ইসলামিক সেন্টার)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارِ بْنِ عُثْمَانَ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " { يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ} قَالَ " نَزَلَتْ فِي عَذَابِ الْقَبْرِ فَيُقَالُ لَهُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ وَنَبِيِّيَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم . فَذَلِكَ قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ { يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ} " .
মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার ইবনু উসমান আল আবদী (রহঃ) ..... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণীঃ "যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন" সম্পর্কে বলেন, এ আয়াত কবরের আযাব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। কবরে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তোমার রব কে? সে বলে, আমার রব আল্লাহ এবং আমার নবী মুহাম্মাদ। এটাই আল্লাহর নিম্নবর্ণিত বাণীর মর্ম, "যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন"। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৫, ইসলামিক সেন্টার)
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও আবু বকর ইবনু নাফি (রহঃ) ...... বারা ইবনু আযিব (রাযিঃ) হতে আল্লাহর বাণীঃ "যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন"- (সূরা ইবরাহীম ১৪ঃ ২৭) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, এ আয়াতটি কবরের শাস্তির ব্যাপারে নাযিল হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৬, ইসলামিক সেন্টার)
مসহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৮৭২সহিহবর্ণনাকারী: আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ)صحيح مسلمرقم ٢٨٧٢
উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার আল কাওয়ারীরী (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুমিন লোকের রূহু কবয করার পর দু’জন ফেরেশতা এসে তার রূহ আকাশের দিকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এখানে ঐ রূহের সুগন্ধি এবং মিশকের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আকাশের বাসিন্দারা বলতে থাকে, এক পবিত্ৰ আত্মা পৃথিবী হতে আগমন করেছে। আল্লাহ তোমার প্রতি এবং তোমার আবাদকৃত শরীরের প্রতি করুণা বর্ষণ করুন। তারপর তাকে তার প্রতিপালকের নিকট নিয়ে যায়। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আর যখন কোন কাফির লোকের রূহ বের হয়- বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) এখানে তার দুর্গন্ধ এবং তার প্রতি অভিসম্পাতের কথা উল্লেখ করেছেন। তখন আকাশমণ্ডলীর অধিবাসীরা বলতে থাকে, এক অপবিত্র আত্মা দুনিয়া হতে এসেছে। অতঃপর বলা হয়, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আবু হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) বলেন, এ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়ে জড়ানো একটি পাতলা কাপড় দ্বারা নিজের নাকটি এভাবে ধরলেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৭, ইসলামিক সেন্টার)
ইসহাক ইবনু উমার ইবনু সালীত আল হুযালী, শাইবান ইবনু ফারুরূখ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) এর সাথে একদা আমরা মাক্কাহ ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থানে ছিলাম। তখন আমরা চাঁদ দেখছিলাম। আমি তীক্ষ দৃষ্টিসম্পন্ন ছিলাম, তাই আমি চাঁদ দেখে ফেললাম। আমি ব্যতীত কেউ বলেনি যে, সে চাঁদ দেখেছে। তিনি বলেন, আমি ‘উমার (রাযিঃ) কে বলছিলাম, আপনি কি চাঁদ দেখছেন না? এ-ই তো চাঁদ। কিন্তু তিনি দেখছিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন উমর (রাযিঃ) বলছিলেন, আমি আমার বিছানায় শুয়ে থেকেই তা দেখতে পাব। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট বাদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কাফিরদের (নিহত হবার) ঘটনার অবস্থা বর্ণনা করতে শুরু করলেন। বললেন, গতকাল বাদর যোদ্ধাদের ধরাশায়ী হবার স্থান রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে (পূর্ব থেকেই) দেখাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় এটা অমুকের ধরাশয়ী হবার স্থান। বর্ণনাকারী বলেন, উমর (রাযিঃ) বলেছেন, শপথ সে সত্তার! যিনি তাকে সত্য বাণী সহ পাঠিয়েছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সীমারেখা বলে দিয়েছেন, তারা সে সীমারেখা একটুও অতিক্রম করেনি। তারপর তাদেরকে একটি কুপে একজনের উপর অপরজনকে নিক্ষেপ করা হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে গিয়ে বললেন, হে অমুকের ছেলে অমুক, হে অমুকের ছেলে অমুক। আল্লাহ ও তার রসূল যে ওয়া’দা তোমাদের সঙ্গে করেছেন তোমরা কি তা বাস্তবে পেয়েছ? আমার প্রতিপালক আমার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছেন আমি তা বাস্তবে সঠিক পেয়েছি। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যেসব দেহে প্রাণ নেই, আপনি তাদের সাথে কিভাবে কথা বলছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি যা বলছি, তা তোমরা তাদের চেয়ে অধিক শুনছ না। তবে তারা এ কথার প্রত্যুত্তর দিতে অক্ষম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৮, ইসলামিক সেন্টার)
হাদ্দাব ইবনু খালিদ (রহঃ) ..... আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাদর যুদ্ধে নিহত লোকদেরকে তিন দিন পর্যন্ত এভাবেই রেখে দিয়েছিলেন। তারপর তিনি তাদের কাছে এসে তাদের লাশের সামনে দাঁড়ালেন এবং তাদেরকে উচ্চ আওয়াজে বললেন, হে হিশামের পুত্র আবু জাহল! হে উমাইয়া ইবনু খালাফ, হে উতবাহ ইবনু রাবী’আহ, হে শাইবাহ ইবনু রাবী’আহ! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের সঙ্গে যা ওয়াদা করেছেন তোমরা কি তা বাস্তবে পাওনি? আমার প্রতিপালক আমার সাথে যা ওয়াদা করেছেন আমি তা বাস্তবে পেয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ কথা উমর (রাযিঃ) শুনে বললেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তারা তো মৃত। কিভাবে তারা শুনবে এবং কিভাবে তারা উত্তর দিবে? তিনি বললেন, আমি তাদেরকে যা বলছি এ কথা তাদের থেকে তোমরা বেশি শুনছ না। তবে তারা প্রত্যুত্তর দিতে অক্ষম। অতঃপর তিনি তাদের সম্বন্ধে আদেশ দিলে তাদেরকে হেঁচড়িয়ে নিয়ে বদরের কূপে নিক্ষেপ করা হলো।* (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৯, ইসলামিক সেন্টার)
مসহিহ মুসলিমহাদীস নং ২৮৭৫সহিহবর্ণনাকারী: আবু তালহাহ (রাযিঃ)صحيح مسلمرقم ٢٨٧٥
ইউসুফ ইবনু হাম্মাদ আল মা'নী ও মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) ..... আবু তালহাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাদর যুদ্ধের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাফিরদের উপর বিজয়ী হলেন, তখন তিনি বিশের অধিক কুরায়শ নেতৃবৃন্দ, অপর হাদীসে রাওহ (রাযিঃ) বলেন, চব্বিশ জন কুরায়শ নেতৃবৃন্দ সম্বন্ধে আদেশ দিলেন। তারপর তাদের লাশ বাদর প্রান্তে এক নোংরা আবর্জনাপূর্ণ কুয়ায় নিক্ষেপ করা হলো। অতঃপর তিনি আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত সাবিত এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৬০, ইসলামিক সেন্টার)
আবু বকর ইবনু আবূ শাইবাহ ও আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কিয়ামতের দিন যার হিসাব (কষাকষিভাবে) করা হবে তার শাস্তি নিশ্চিত। আমি জিজ্ঞাসা করলাম আল্লাহ তা-আলা কি বলেননি فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا "তার হিসাব-নিকাশ সহজেই নেয়া হবে"। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ এ তো হিসাব নয় বরং এটা তো কেবল নামে মাত্র পেশ করা। কারণ কিয়ামতের দিন যার হিসাব (কঠিনভাবে) নেয়া হবে তার শাস্তি নিশ্চিত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৬১, ইসলামিক সেন্টার)
আবদুর রহমান ইবনু বিশর ইবনুল হাকাম আল আব্দী (রহঃ) ..... আয়িশাহ্ (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যারই হিসাব (কঠিনভাবে) নেয়া হবে তার ধ্বংস অনিবার্য। এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ কি সহজ হিসাবের কথা বলেননি? তিনি বললেন, এ তো কেবল নামে মাত্র পেশ করা। কারণ যার হিসাবে কষাকষি করা হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৬৩, ইসলামিক সেন্টার)
গ্রন্থভিত্তিক হাদিসের মান
সহিহ বুখারি৪৫১
সহিহ মুসলিম৪৬৪
সুনানে আবু দাউদ১৫১
জামে তিরমিযি৩৩৮
সুনানে নাসাঈ৫০
সুনানে ইবনে মাজাহ৪৩৭
মুয়াত্তা মালিক৮
আল-মুসতাদরাক (হাকিম)৬২৭
মুসনাদে আহমাদ৭১৬
সুনানে দারিমি২১
কিতাবুল ফিতান (নুআইম ইবনে হাম্মাদ)১,৯৮৮
সহিহহাসানযঈফ (দুর্বল)মান নির্ধারিত নয়
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের সকল হাদিস শর্তহীনভাবে সহিহ। অন্যান্য গ্রন্থের ক্ষেত্রে শায়খ আলবানীর তাহকীক এবং যেখানে তাঁর তাহকীক নেই সেখানে জুবায়ের আলী যাঈর তাহকীক অনুসরণ করা হয়েছে। প্রতিটি হাদিস কার্ডেই বিস্তারিত তাহকীক দেওয়া আছে।